বাংলাদেশী কমিউনিটি নেতৃর্বৃন্দের প্রেস ব্রিফিং : জ্যামাইকায় স্থায়ী শহীদ মিনার নয়, স্থাপিত হচ্ছে কমেমোরেটিভ গার্ডেন অ্যান্ড প্ল্যাক : শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : নিউইয়র্কের জ্যামাইকা এলাকায় স্থায়ী শহীদ মিনার নয়, স্থাপিত হচ্ছে কমেমোরেটিভ গার্ডেন অ্যান্ড প্ল্যাক। গত ১৯ ফেব্রুয়ারী সোমবার বিকেল সাড়ে ৩ টায় ১৬৫-২৩ হিলসাইড এভিনিউর স্মার্ট একাডেমিয়াতে মূলধারার রাজনীতিক ও বাংলাদেশী কমিউনিটি নের্তৃবৃন্দ স্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপন বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। নের্তৃবৃন্দ বলেন, শহীদ মিনারের যে স্বপ্ন এত দিন আমরা দেখছি তা আসলে এটি নয়, এ কাজ এখনও অনেক বাকি। স্থায়ী শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠায় সকলকে আরো ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে।
বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলমের সঞ্চালনায় প্রেস ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অ্যালায়েন্স অব সাউথ এশিয়ান আমেরিকান লেবার-অ্যাসাল’র প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট মাফ মিসবাহ উদ্দিন। মঞ্চে উপবিষ্ট থেকে আরো বক্তব্য রাখেন মূলধারার রাজনীতিক মোর্শেদ আলম, দিলীপ নাথ এবং বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমেদ।
নিউজ ব্রিফিংয়ের লিখিত বক্তব্যে মাফ মিসবাহ উদ্দিন বলেন, প্রবাসে বাঙালি চেতনার প্রতীক পবিত্র শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠার দাবি ও প্রচেষ্টা দীর্ঘ্য দিনের। বিশেষ করে জ্যামাইকা এলাকায় একটি স্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপনের বিষয়টি নিয়ে গত বেশ ক’বছর যাবত আমরা সকলেই বিভিন্নভাবে প্রচেষ্টা ও দাবী জানিয়ে আসছি। এ দাবী আপামর জনতার। আজ সেই দাবির ফল হিসেবে আমরা এই নিউজ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করেছি। এর মূল কারণ এ বিষয়ে আপানাদের বিস্তারিত জানানো। তবে আমরা যতদূর জেনেছি তা বরো প্রেসিডেন্টের অফিস থেকে জানা। তার অফিস থেকে জানানো হয়েছে, এটি হবে “Commemorative Garden and Plaque” Not a ‘Monument’।
লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, আপনারা জানেন যে, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাঙালী জাতি বার বার প্রমাণ করতে সমর্থ হয়েছে যে, “আমাদের ভাষা, আমাদের মা”। আমাদের সকলের অক্লান্ত পরিশ্রম ও দাবীর প্রেক্ষিতে আজ সারা পৃথিবীতে ২১ ফেব্রুয়ারি “ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাংগুয়েজ ডে” হিসেবে পালিত হচ্ছে। ভালো মন নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে অগ্রসর হলে আমরা যে কোন অসাধ্য সাধন করতে পারি।
নিউজ ব্রিফিংয়ের বলা হয়, আমাদের সকলের প্রত্যাশা অনুযায়ী পার্কের খোলা জায়গার একদিন শহীদ মিনার স্থাপিত হবে। যেখানে ২১ ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করতে পারবো। নিজ ভাষার জন্য যে বাঙালী জীবন দিয়েছে সেটি প্রবাস প্রজন্ম জানতে পারবে। শহীদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে প্রবাসে চিরজাগ্রত রাখতে সচেষ্ট হবে বাঙালি সংস্কৃতিকে।
নিউজ ব্রিফিংয়ের বলা হয়, আসুন প্রবাসে সবাই মিলে বাঙালি চেতনার প্রতীক পবিত্র শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগ করি। এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করে যেতে হবে সকলকে। ঐক্যদ্ধভাবে কুইন্স বরো ও সিটি প্রশাসনের কাছে দাবী জানাতে হবে আরো জোরালভাবে। প্রবাসের বুকে একটি স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করতেই হবে।
বক্তারা বলেন, জ্যামাইকার ক্যাপ্টেন টিলি পার্কে প্রবাসীদের দাবী অনুযায়ী ‘স্থায়ী শহীদ মিনার’ নির্মাণ না হয়ে ‘কমেমোরেটিভ গার্ডেন এন্ড প্ল্যাক’ নির্মাণের খবরে কমিউনিটিতে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলেন, ক্যাপটেন টিলি পার্কে যে প্রকল্প হাতে সেখানে কোনো শহীদ মিনার নির্মাণের কথা উল্লেখ নেই। যার জন্য বাংলাদেশী কমিউনিটিতে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।
এ ছাড়াও নিউজ ব্রিফিংয়ে আরও বক্তব্য রাখেন মূলধারার নারী নেত্রী মাজেদা উদ্দিন, সাপ্তাহিক আজকালের প্রধান সম্পাদক জাকারিয়া মাসুদ জিকো, বাংলাদেশ সোসাইটর সাবেক সহ সভাপতি কাজী আজহারুল হক মিলন, সিনিয়র সহ সভাপতি আব্দুর রহীম হাওলাদার, সাংস্কৃতিক সম্পাদিকা মনিকা রায়, জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারী মনজুর আহমেদ চৌধুরী, মূলধারার রাজনীতিক শাহানা বেগম, সাবুল উদ্দীন, ওমর ফারুক খসরু, শাহ আহমেদ, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট আহসান হাবীব, শাহ ফরিদ, এ এফ মিসবাহউজ্জামান, সাইফুল্লাহ ভূঁইয়া, স্বীকৃতি বড়–য়া, বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর আনোয়ার হোসেন, জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির সভাপতি শেখ হায়দার আলী ও যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট কামরুজ্জামান বাবু প্রমুখ।
প্রেস ব্রিফিংয়ে কমিউনিটির উল্লেখযোগ্য নের্তৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক কবীর আনোয়ার, জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির প্রধান উপদেষ্টা এবিএম ওসমান গনি, উপদেষ্টা হুসনে আরা বেগম, আসালের কুইন্স চ্যাপ্টার প্রেসিডেন্ট মনিরুল ইসলাম, এক্সেকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট নুরুল হক, ইমিগ্রেশান ডিরেক্টর রুবাইয়া রহমান এবং ন্যাশনাল করেসপন্ডিং সেক্রেটারী জেড মেটালন, কমিউনিটি নেতা একেএম সফিকুল ইসলাম, বাপাফ’র সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট সালেহা আলম, রোকেয়া আক্তার প্রমুখ।
পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন আয়োজকবৃন্দ। স্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপন বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নœ করেন সাপ্তাহিক বাঙালী সম্পাদক কৌশিক আহমেদ, টাইম টিভি ও সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা সম্পাদক আবু তাহের, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ খান, ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম এবং সাপ্তাহিক জনতার কন্ঠ’র সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সেলিম প্রমুখ।
এসময় সাপ্তাহিক বাঙালী সম্পাদক কৌশিক আহমেদ বলেন, আজকের প্রেস ব্রিফিং থেকে এটি পরিষ্কার যে, শহীদ মিনারের যে স্বপ্ন আমরা দেখছি আসলে এটি তা নয়। এখনও অনেক কাজ বাকি, আপনারা তা বাস্তবায়িত করা পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাবার জন্য তৈরী আছেন? উত্তরে আয়োজকদের তরফ বলা হয় সেই জন্যই আজকের এ মিটিং এবং আমাদের এ কাজ আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী কমিউনিটি নের্তৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এক সময় প্রেস ব্রিফিংটি সমাবেশে রূপ নেয়।
উল্লেখ্য, জ্যামাইকার ক্যাপটেন টিলি পার্কে প্রস্তাবিত ‘কমেমোরেটিভ গার্ডেন এন্ড প্ল্যাক’ নির্মাণের জন্য সিটি প্রশাসন ১.৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে।
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!