Wednesday, 24 June 2026 |
শিরোনাম
Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত! Bangladesh Calls for Stronger Humanitarian Action and Women’s Leadership in Peacebuilding at UN Forum নিউইয়র্কে জাতিসংঘ ফোরামে মানবিক সহায়তা জোরদার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর নেতৃত্ব বৃদ্ধির আহ্বান বাংলাদেশের
সব ক্যাটাগরি

ইউনেস্কোর ‘প্রামান্য ঐতিহ্য’-ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের উপর আলোচনা : জাতির পিতার এই ভাষণ বিশ্বব্যাপী বঞ্চিত মানুষের দাবী আদায়ে অনুপ্রেরণাদানকারী দলিল

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 75 বার

প্রকাশিত: March 8, 2018 | 6:13 AM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম, নিউইয়র্ক : ৭ মার্চ জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন ও নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল -এর যৌথ উদ্যোগে কনস্যুলেট জেনারেলের মিলয়াতনে ইউনেস্কোর ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃত সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষনের উপর একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

  
সম্মিলিত কন্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। এরপর জাতির পিতা ও তাঁর পরিবারের সদস্যসহ মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানস্থলে রক্ষিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন ও কনস্যুলেট জেনারেল এর কর্মকর্তা-কর্মচারিগণ এবং যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। দিবসটি উপলক্ষে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতির বাণী পাঠ করেন বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি তারেক মো: আরিফুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের ডেপুটি কনসাল জেনারেল মো: সাহেদুল ইসলাম। জাতির পিতার ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের উপর নির্মিত প্রামাণ্য ভিডিও চিত্র প্রদর্শণ ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম একটি আকর্ষণ।
সভায় আমন্ত্রিত অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কোর ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান একটি বিরল সম্মান উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বলেন, “এই ভাষণ আর বাংলাদেশের ভূখন্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি এখন সারা পৃথিবীর মানুষের অনুপ্রেরণাদানকারী একটি দলিলে পরিণত হয়েছে যা মানুষকে জাগ্রত রাখবে তাদের দাবী আদায়ের ঈপ্সিত লক্ষ্যে পৌঁছতে”।


তিনি বলেন, “প্রকৃতপক্ষে ৭ই মার্চের ভাষণের পরই চুড়ান্তভাবে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি। জাতির পিতা ঘোষণা ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, জয়বাংলা’-তে উদ্বুদ্ধ হয়ে ছাত্র-যুবক, কৃষক-শ্রমিক, কুলি-মজুরসহ সর্বস্তরের মানুষ সশস্ত্র প্রশিক্ষণ শুরু করে। বঙ্গবন্ধুর ডাকে দেশের মানুষ প্রতিরোধ গড়ে তোলে। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১ এর ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতি চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে”।
রাষ্ট্রদূত মাসুদ বর্তমান সরকারের গতিশীল নেতৃত্বে সমুদ্র বিজয়, পদ্মা সেতু নির্মাণ, পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপেন, এমডিজি বাস্তবায়ন, এসডিজি বাস্তবায়নে অগ্রগতিসহ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে নি¤œ-মধ্যম আয়ের দেশে উপনীত হওয়ার মত সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আসুন, আমরা সকলে হৃদয়ে লাল-সবুজের পতাকা ধারণ করে, জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে কাজ করি। বাংলাদেশকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাই”।
নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল এর কনসাল জেনারেল শামীম আহসান, এনডিসি জাতীয় জীবনে ৭ মার্চের ভাষণের সুদূর প্রসারী প্রভাবের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন “৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের সকল নিপিড়ীত, নির্যাতিত ও বঞ্চিত মানুষের জন্য একটি স¦ীকৃতি। শুধু বাঙালি জাতি নয় বিশ্বের সকল নিপিড়ীত স্বাধীনতাকামী মানুষের কাজে ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের আবেদন কখনই শেষ হবে না”।
কনসাল জেনারেল বাংলাদেশের অব্যাহত উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রবাসী বান্ধব সরকার। ডিজিটাল বাংলাদেশের ভাবনায় তিনি সব সময়ই প্রবাসীদের কল্যাণকে অক্ষুন্ন রেখেছেন”।
কনসাল জেনারেল শামীম আহসান আশা প্রকাশ করে বলেন, “দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় প্রবাসীরা সবসময়ই ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন”।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “৭ মার্চের ভাষণ না হলে মুক্তিযুদ্ধ হতো না, বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। আজ দেশে-বিদেশে আমরা সবাই ৭ মার্চের ভাষণের সুফল পাচ্ছি”।


বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের এই দিনে ড. সিদ্দিকুর রহমান দল-মত নির্বিশেষে সকলের প্রতি আহ্বান জানান, বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ যেন জাতির পিতাকে তাদের মনে সর্বোচ্চ স্থান দেন এবং কেউ যেন জাতির পিতাকে নিয়ে কখনই কোন বিরূপ মন্তব্য না করেন।
অনুষ্ঠানে আলোচনা পর্বে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, যুক্তরাষ্ট্র কমান্ডের কমান্ডার আব্দুল মুকিত চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, শহীদ পরিবারের সন্তান ফাহিম রেজা নুর। বক্তাগণ ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে আজ বিশ্ব সম্পদে পরিণত হয়েছে যা প্রতিটি বাঙালির জন্য অত্যন্ত গৌরবের বলে উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, গত ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রমনার রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতার দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণকে ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ‘ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি অব দ্যা ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার’-এ অন্তর্ভুক্ত করে।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV