Thursday, 29 October 2026 |
শিরোনাম
নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা, আদালতের নির্দেশের পরও কাটেনি জট Human Rights Must Be at the Heart of Economic Governance and Policies: Ambassador Irene Khan
সব ক্যাটাগরি

মারাত্মক মনোদৈহিক ক্ষতি করছে ভার্চুয়াল ভাইরাস : নিউইর্য়কে কোয়ান্টাম সাপ্তাহিক সেমিনারে আলোচনা

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 11 বার

প্রকাশিত: March 12, 2018 | 9:56 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : প্রযুক্তির অভিশাপ ভার্চুয়াল ভাইরাস নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো কোয়ান্টাম সেমিনার। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় মামুন টিউটোরিয়ালে কোয়ান্টাম মেডিটেশন সোসাইটি, জ্যাকসন হাইটস আয়োজিত সাপ্তাহিক এ সেমিনারে এবারের আলোচনার বিষয় ছিলো ‌‌’স্মাটফোন অপশক্তির ছোট বাক্স’। এতে মূল আলোচক ছিলেন কোয়ান্টাম মেডিটেশন সোসাইটি জ্যাকসন হাইটসের আহ্বায়ক অধ্যাপক ইমাম উদ্দিন চৌধুরী।

আলোচনায় উঠে আসে স্মাটফোন, ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউবসহ সোস্যাল মিডিয়ার মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার। সেমিনারে বলা হয়, সোস্যাল মিডিয়া আমাদের সামাজিক করছে না। বরং দিন দিন করে তুলছে অসামাজিক। আমাদের মনের প্রশান্তি কমাচ্ছে। বাড়িয়ে দিচ্ছে হতাশা। পরিবারে ভুল বোঝাবুঝি বাড়ছে। ভার্চুয়াল ভাইরাসের সবচেয়ে বড় শিকার আমাদের সন্তানরা। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম। যারা প্রযুক্তি আবিস্কার করেছেন এমন সব খ্যাতনামা প্রযুক্তিবিদ ১৮ বছরের কম বয়সী নিজ সন্তানকে তাদের প্রযুক্তি পণ্য ব্যবহারের অনুমতি দেননি। তাই আমাদেরও উচিৎ সন্তানের বয়স ১৮ না হলে তাদের হাতে স্মাট ফোন তুলে না দেয়া। এবং সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহারে তাদের সচেতন করে তোলা।

সেমিনারে আলোচনা ছাড়াও মেডিটেশন, রোগগ্রস্থ, সমস্যা পীড়িতদের জন্য হিলিং, সচেতনামূল ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। পরে শারিরিক, মানসিক, পেশাগত, আর্থিক ও আত্মিকসহ সব ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আয়োজন করা হয় ফ্রি কাউন্সিসেলিং এর।

উল্লেখ্য, প্রতি শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় জ্যাকসন হাইটসের মামুন টিউটোরিয়ালে জীবনের বিভিন্ন সমস্যা, সাফল্য ও সম্ভাবনা নিয়ে সেমিনার ও মেডিটেশনের আয়োজন করে কোয়ান্টাম। রোগকে সুস্থতায়, অশান্তিকে প্রশান্তিতে, অভাবকে প্রাচুর্যে এবং ব্যার্থতাকে কিভাবে সাফল্যে রুপান্তর করা যায় এ অনুষ্ঠানে পাওয়া যায় তার সঠিক ধারনা। সুখী পরিবার গড়তে সবাইকে কোয়ান্টাম মেডিটেশন চর্চায় এগিয়ে আসতে হবে। কোয়ান্টামের এ ফ্রি সেমিনারে অংশ নিতে নিচের দুটি নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। ৬৪৬-৭২৭-৮৯৭৮ (ইমাম উদ্দিন) ৬৪৬-২৪৯-৫১২৯ (শামীম আহমেদ) 

সেমিনারের আলোচক অধ্যাপক ইমাম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, স্মার্টফোন, টিভি কোনোকিছুই খারাপ না। আমরা কিন্তু প্রযুক্তির বিপক্ষে নই, আমরা প্রযুক্তি অপব্যবহারের বিপক্ষে। প্রযুক্তির সবচেয়ে বেশি অপব্যবহার হচ্ছে আমাদের হাতের মুঠোয় থাকা স্মার্টফোনের মাধ্যমে। স্মার্টফোন আমাদের মধ্যে আসক্তি সৃষ্টি করছে। আর এই ভার্চুয়াল ভাইরাসে আসক্তি আমাদের সোশ্যাল করছে না। আমাদের সমাজ বিচ্ছিন্ন করছে। বৈজ্ঞানিক গবেষণা রিপোর্ট হচ্ছে-যারা সোশ্যাল মিডিয়ার সাথে সংযুক্ত তারা নিঃসঙ্গ একাকী হয়ে যাচ্ছে। আর যত আমরা নিঃসঙ্গ হবো আমাদের প্রশান্তি তত কমতে থাকবে, হতাশা তত বাড়তে থাকবে।

ভার্চুয়াল ভাইরাস হচ্ছে একটি অসুস্থ বিনোদন। স্মার্টফোনের মাধ্যমে অপসংস্কৃতি এমনভাবে আমাদের মাঝে ঢুকে গেছে যে, মা-বাবারা সন্তানদের নৈতিকতা, মূল্যবোধ, আদর্শ মানুষের যে গুণাবলি, তা শেখাতে ব্যর্থ হচ্ছেন। আর অসুস্থ বিনোদন আমাদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন প্রযুক্তি মাফিয়ারা। তারা খুব সুন্দরভাবেই তরুণ প্রজন্ম এবং আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে ধ্বংসের জন্যে এই প্রযুক্তির জাল বুনেছেন। বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট শন পার্কার সম্প্রতি বলেছেন, এই প্লাটফর্ম আসক্তিপূর্ণ করে বানানো হয়েছে। ঈশ্বরই জানেন আমরা পৃথিবীর শিশুদের মস্তিস্কে কি ক্ষতিকর জিনিষ পৌচ্ছে দিচ্ছি। ফেসবুকের সাবেক নির্বাহী চামাথ পালিহাপেতিয়া বলেছেন, ওসব আবর্জনা আমার সন্তানদের জন্য নিষিদ্ধ। আসলে আমাদের প্রযুক্তির আলো নিয়ে উপকৃত হওয়ার পরিবর্তে ক্রমাগত প্রযুক্তির আঁধারের দিকে আমাদের ঠেলে দিচ্ছেন। অথচ নিজেরা ঠিকই সচেতন থাকছেন এর ব্যবহার বিষয়ে। এমনকি যে প্রযুক্তি তারা আবিষ্কার করেছেন সেই প্রযুক্তি তারা তাদের সন্তানদের ব্যবহার করতে দেন নি। বিল গেটস এবং স্টিভ জবস, তারা যে পণ্য সব মানুষের হাতে তুলে দিয়েছেন, সব বাচ্চাদের হাতে তুলে দিয়েছেন, সে পণ্য কি তারা তাদের বাচ্চাদের হাতে তুলে দিয়েছেন? দেন নি। দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকায়

৬ অক্টোবর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন হচ্ছে-বিল গেটস তার সন্তানদের বয়স ১৪ হওয়ার আগে মোবাইল ফোন কিনে দেন নি এবং কম্পিউটারও ব্যবহার করতে দিতেন দিনে ৪৫ মিনিটের জন্যে। আর স্টিভ জবস তো নিজের উদ্ভাবিত আইপ্যাডই কখনো ব্যবহার করতে দেন নি সন্তানদের। এ সতর্কতা অবলম্বনের কারণ তারা ঠিকই জানেন, আইপ্যাড-আইফোন জাতীয় প্রযুক্তিপণ্য মানুষকে অতিমাত্রায় আসক্ত করে তোলে। তাই মুনাফার লোভে অপরের ঘরে অশান্তির কাঁচামাল যোগান দিলেও নিজের ঘর তারা আগলে রেখেছেন ঠিকই। শুধু বিল গেটস বা স্টিভ জবস নন, সিকিলন ভ্যালির বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নামকরা সব ব্যক্তিদের মাঝেই রয়েছে এই প্রবণতা। তারা নিজেদেরসন্তানদেরকে এই প্রযুক্তি থেকে কেন দূরে রেখেছেন?

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ