Wednesday, 24 June 2026 |
শিরোনাম
Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত! Bangladesh Calls for Stronger Humanitarian Action and Women’s Leadership in Peacebuilding at UN Forum নিউইয়র্কে জাতিসংঘ ফোরামে মানবিক সহায়তা জোরদার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর নেতৃত্ব বৃদ্ধির আহ্বান বাংলাদেশের
সব ক্যাটাগরি

নিউইয়র্কের বঙ্কসে পিঠা উৎসব : বাঙ্গালী কমিউনিটি এবং আমাদের প্রজন্ম

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 108 বার

প্রকাশিত: March 15, 2018 | 7:41 AM

আহবাব চৌধুরী খোকন : বাঙ্গালীরা উৎসব প্রিয়। কথায় আছে বারো মাসে তেরো পার্বন। ঊৎসব ও আতিথিয়তায় আমাদের কোন জুড়ী নেই। এমন একটি সময় ছিলো যখন বাঙ্গালীরা সর্বক্ষন উৎসবের মধ্যেই মেতে থাকতো । আর এসব ঊৎসবে বাঙ্গালীদের রসনাতৃপ্তিতে পিঠাই ছিলো প্রধান উপকরন। পিঠা শুধু একটি খাবারই নয়। এটা বাঙ্গালী জনপদের হাজার বছরের প্রচলিত ঐতিহ্য। কিন্তু আধুনিকতার ছোয়ায় এই ঐতিহ্য আমাদের মধ্য থেকে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। গ্রামে বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে গেলে এখনো দেখা যায় শীতকালে তাদের সকাল শুরু হয় খেজুরের রস দিয়ে। ছোট বেলা দেখেছি বৈশাখ মাসে নবান্ন ঘরে এলে পাড়ায় পাড়ায় কত হৈ হুল্লুর আর আনন্দ উচ্চাস। ঘরে ঘরে পিঠা পায়েশ তৈরীতে মা-চাচীর ব্যস্ততা আর ঢেকির ধুমধাম শব্দ। ঘরে ঘরে আনন্দ, আর কত রং ঢং। স্কিন্তু কালের বিবর্তন আর মানুষের প্রত্যাহিক ব্যস্ততা আমাদের গ্রাম বাংলার সেই আদি পরিচিত রুপকে যেন এখন কেবলই রুপকথার গল্পে পরিণত করেছে।

আবহমান কাল থেকে বাঙ্গালীদের ঘরে ঘরে পিঠা তৈরীর প্রচলন চলে আসছে। আর বিশেষ করে শীত কাল হলেতো আর কথা নেই। গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে তৈরী হয় কত বাহারি পিঠা। এই পিঠাকে আরো আকর্ষনীয় ও সুস্বাধু করতে কত রকমের সাজ সজ্জা ও রেসিপি ব্যবহৃত হতো তখন। নানা রং ও কারুকার্যে সাজিয়ে তোলা হতো একেকটি পিঠা ।কিন্তু সেই আনন্দমুখর দিন গুলি আর নেই । গ্রাম-বাংলায় ঘরে ঘরে মামা-চাচীর তৈরী সুস্বাদু এবং রকমারী পিঠার বদলে এখন স্থান করে নিয়েছে অটো মেশিনে তৈরী ফাষ্ট ফুড আর বেকারদের তৈরী রুটি বিস্কুট। ঘরের তৈরী বাপা পিঠা, পিঠা স্প্টা, নুনের সন্দেস,ঘুড়ের সন্দেশ, চৈ পিঠা, চিতল পিঠা এগুলো এখন আর খুব একটা দেখা যায় না আমাদর প্রত্যাহিক খাদ্য তালিকায়।এখন আমাদের নতুন প্রজন্মকে এই সকল রকমারি পিঠা পায়েসের সাথে পরিচিত করতে হলে বোধ ছবি একেই দেখাতে হবে।
গত ৪ঠা মার্চ সন্ধ্যায় বঙ্কসে অনুষ্টিত বর্নাঢ্য এক পিঠা উৎসবে উপস্থিত হয়ে অনেক দিন পর যেন স্বচক্ষে অবলোকন করলাম বাংলার চিরায়ত রুপ ।মনে হচ্ছিল কবি জীবনানন্দ দাসের সেই বিখ্যাত পুন্হিটি “বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি ,তাই পৃথিবীর রুপ খুঁজিতে যাই না।” নিউইয়র্কের বিশিষ্ট কমিউনিটি এক্টিভিষ্ট ও সংগঠক, বাংলাদেশী আমেরিকান কালচারাল এসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদিকা কবি মাকসুদা আহমেদ ব্রঙ্কসে আকর্ষনীয় এই পিঠা উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের শ্বাশত এবং চীর পরিচিত রুপকে যেন নিঁখুত ভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন খোদ ব্রঙ্কসের চাকচিক্যময় একটি হলরোমে। যা না দেখলে বিশ্বাস করার মতো নয় ।তার এই সুন্দর এবং অনবদ্য আয়োজন দলমত নির্বিশেষে সকল মহলে প্রশংসিত হয়েছে । বিক্রমপুরের মেয়ে মাকসুদা আহমদের উদ্যোগে এবং তারই নেতৃত্বাধীন সংগঠন বাংলাদেশী আমেরিকান কালচারাল এসোসিয়েশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং এশিয়ান ড্রাইভিং স্কুলের সহসোগীতায় এই ফ্রেন্ডস এন্ড ফ্যামেলী পিঠা উৎসবে যেন পশরা বসেছিলো বাংলাদেশের সকল জেলার হরেক রকম ও স্বাদের পিঠার। আকর্ষনীয় এই পিঠা উৎসব দেখতে নিউইয়র্কের বিভিন্ন সিটি এমনকি পাশ্ববর্তী স্টেট থেকেও অনেক ভোজন রসিক ছোটে এসেছিলেন ব্রঙ্কসের এশিয়ান ড্রাইভিং স্কুলের হলরুমে। শত শত নারী পুরুষের উপস্থিতিতে অনুষ্টিত বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার প্রায় শতাধিক পিঠার এই উৎসব সত্যিই ছিলো দেখার মতো একটি অনুষ্টান । উক্ত অনুষ্টানের উদ্বোধন করেন নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের মাননীয় কনসাল জেনারেল জনাব শামীম আহসান । আরো বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কনলাল জেনারেলের সহধর্মীনী মিসেস প্যানডোরা চৌধুরী, বালাদেশ সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমদ, সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকি, টাইম টিভি এর সিইও আবু তাহের, সাংবাদিক কিরন হায়দার, আমিনুর রহমান শাওন, সাংবাদিক মিজান রহমান, শাখওয়াত হোসেন সেলিম, মমিনা রহমান, এ বি এম সালেহ আহমদ ও শেখ আল মামুন প্রমুখ। অনুষ্টানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পিঠা উৎসবের আয়োজক মাকসুদা আহমদ এবং ব্যবস্থাপনা সংগঠনের সভাপতি আব্দুল হাসিম হাসনু। প্রধান অতিথি শামীম আহসান তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের পিঠাকে এই প্রবাসে উপস্থাপন করতে ভুমিকা রাখায় আয়োজক মাকসুদা আহমদ এবং সংশ্লিষ্ট সকলের ভূয়াসী প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন প্রবাস জীবনের এই প্রচন্ড ব্যস্ততা স্বত্ত্বেও দূর্লভ এ সকল পিঠা তৈরী এবং এর আকর্ষনীয় উপস্থাপন তাকে অভিভূত করেছে ।উৎসবে আসা নতুন প্রজন্মের এক মেয়ে যে তার অভিব্যক্তি আমার সাথে শেয়ার করে এভাবে “ এখানে না আসলে জানতে পারতাম না এত রকমের সুস্বাদু পিঠা যে আছে।” অনুষ্টানের আয়োজক বাংলাদেশী আমেরিকান কালচারাল এসোসিয়েশন এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদিকা মাকসুদা আহমদ বলেন, “বাঙ্গালীরা স্বভাবগত ভাবে অতিথি পরায়ণ। কিন্তু সময় এবং ব্যস্ততার কারণে সব সময় ঘরে পিঠা তৈরী করে অতিথি আপ্যায়ন সম্ভব হয় না। বাংলাদেশী মহিলাদের পিঠা তৈরীতে উৎসাহিত করতে মূলত এ জাতীয় একটি অনুষ্টান আয়োজনের চিন্তা তার মাথায় আসে ।যাতে সবাই বছরে অন্তত একটি দিন হলেও এরকম আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের দেশীয় ঐতিহ্যকে মনে করেন এবং তা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সক্ষম হন।“ একই সঙ্গে সংগঠনের সভাপতি আব্দুল হাসিম হাসনু বলেন “আমাদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদিকা মাকসুদা আহমদের এই আয়োজন এতোটা নন্দিত হবে ভাবিনি ।আমাদের এই ঐতিহ্যকে আরো প্রশারিত করতে আগামী বছর থেকে আমরা আরো বড় পরিসরে এই অনুষ্টান করবো।” প্রথমবারের মতো ব্যাতিক্রমী এই আয়োজন করতে পেরে তিনি সংশ্লিষ্ট সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

পিঠা উৎসবে যে সকল পিঠা প্রদর্শিত হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ভাপা পিঠা, পাটি সাপটা, নোন গড়া, ফুল পিঠা, নকশী পিঠা, ফুল ঝুড়ি, দুধ চিতই, ইলিশ চিতই, ঝাল চিতই, গোলাপ পিঠা, শামুক পিঠা, ডিম পিঠা, নারকেল পুলি,মাংস পুলি, চাপটি পিঠা, পাকন পিঠা, বিবিখানা পিঠা, কেক পিঠা, মুগ পাকন, কলার পিঠা, তেলের পিঠা, সুজির পিঠা, সেমাই পুলি, চিতই পিঠা ইত্যাদি ইত্যাদি.।বছরের সেরা এই উৎসবে যারা বাহারি পিঠার সমাহার নিয়ে এই উৎসবে অংশ নিয়েছেন তাদের মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হচ্ছেন মাকসুদা আহমেদ, আরজু, ইলা সরকার, তানিয়া, বিউটি, লিজা আক্তার, সুইটি, বিপা, ছবি পাল, নেন্সি খাতুন, নাহিদ, উইলি মুক্তি, পারভিন,রুনা, বনা, রুবি, নওরীন বর্না, কামরুন রিতা, সাকিরা রিতা, মিতু, জুলি রহমান, নাসরিন চৌধুরী, মেহের চৌধুরী, জুঁই ইসলাম, উম্মে সালমা, মিতা, অপি, মুক্তা, সুরভি,তামান্না খানম, দিলরুবা খাতুন, সুফিয়া, দিলরুবা ও নাজনিন প্রমুখ ।অংশ গ্রহণকারী সকলের মধ্য থেকে বিচারক মন্ডলীর রায়ে প্রথম,দ্বিতীয় এবং তৃতীয় এই তিনজনকে সেরা পিঠা প্রস্তুত কারকের পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় ।এ সময় বিচারক মন্ডলী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন সাংবাদিক কিরণ হায়দার,লেখক এ বি এম সালেহ উদ্দিন এবং কন্ঠশিল্পি শাহ মাহবুব। এছাড়া অনুষ্টানে আকর্ষনীয় সাজ সজ্জার জন্য তিন জন মহিলাকে বিশেষ পুরস্কারে ভূসিত করা হয় । এই পর্বে বিচারক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন জুলি রহমান,নাসরিন চৌধুরী ও রওশন হাসান।
ব্রঙ্কসের এশিয়ান ড্রাইভিং স্কুলের হল রুমে অনুষ্টিত এই অনুষ্টানের শেষার্ধে ছিলো মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্টান ।এতে নিত্য পরিবেশন করে ক্ষুদে নিত্য শিল্পী মায়া আন্জেলিকা ও সামিরা। গভীর রাত অবদি সঙ্গীত পরিবেশন করে গোঠা অনুষ্টান স্হলকে মাতিয়ে রাখেন সঙ্গীত শিল্পি রোজী তুহিন, তাহমিদা শহীদ ও শারমিন তানিয়া।অনুষ্টানের সার্বিক অঙ্গ সজ্জায় কাজ করেছেন মাকসুদা আহমেদের স্বামী মামুন রহমান, ইলা,বিউটি সরকার, মিসেস তানিয়া, কবি শাহ বদরুজ্জামন রুহেল, জে মোল্লা সানী, মোহাম্মদ সাদী মিন্টু,সাইদুর রহমান লিনকন, সংগঠনের সভাপতি আব্দুল হাসিম হাসনু এবং বাংলাদেশী আমেরিকান কালচারাল এসোসিয়েশনের সকল নেতৃবৃন্দ ।নিউইয়র্কে এ জাতীয় অনুষ্টান কালে-ভদ্রে আরো হয়েছে। কিন্তু এ গুলো ছিলো সম্পূর্ণ ব্যবসায়িক। এগুলোতে বসেছিলো পিঠার স্টল। লোকজনকে অনুষ্টানে এসে টাকা দিয়ে পিঠা কিনতে হয়েছে । কিন্তু গত ৪ঠা মার্চের এই অনুষ্টানটি ছিলো নিরেট আনন্দের। যারাই উপস্থিত হয়েছেন সবাই বীনামূল্যে পিঠা খাওয়ার সুযোগ পেযেছেন ।অনুষ্টানের পেছনে বানিজ্যিক কোন স্বার্থ ছিলো না । আমাদের বাঙ্গালী সংস্কৃতিকে বহিঃবিশ্ব তথা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এ জাতীয় অনুষ্টানের আয়োজন নিঃসংশয়ে প্রশংসনীয়। ব্রঙ্কসের এই পিঠা উৎসবে ফুটে উটেছে বাংলার শ্বাসত রুপ। এ অনুষ্টানে দেশীয় পিঠার দূর্লভ সংগ্রহ যেমন ছিলো তেমনি হলের অভ্যন্তরে ছিলো দৃষ্টি নন্দন সাজ সজ্জা। বিভিন্ন রংয়ের কাপ্ড় দিয়ে সাজানো এই হলে অবিকল ফুটিযে তোলা হয়েছে একটা গ্রামীম আবহ। এরকম সার্থক এবং সৃষ্টিশীল অনুষ্টান আমরা প্রবাসে যতো বেশী করতে পারবো ততোই কমিউনিটি এবং আমাদের প্রজন্ম উপকৃত হবে।
লেখক -সংগঠক ও কলামিষ্ট, নিউইয়র্ক।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV