ইফতারের ফযীলত
মুফতী লুৎফুর রহমান ক্বাসিমী : রোজায় ইফতার। নিজের আত্মার পরিচর্যায় দিনভর উপোস। রিপুর তাড়না থেকে নিজেকে শুদ্ধর এ মহাপ্রয়াস রোজাদারকে বানায় ত্যাগী। স্রষ্ঠার আদেশ পালনে নিমগ্ন হয়ে বান্দা বেচে থাকে সকল নিষিদ্ধ কাজ থেকে। সূর্যাস্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করে এ সময় মুনাজাতে নিমগ্ন হয় রোজাদাররা। তখন আল্লাহ তার এ সম্মানিত বান্দাদের দেখে গর্ব করতে থাকেন। ইফতারে ঢেলে দেন অজস্র বরকত। দোয়া কবুল করে মহিমাময় আল্লাহ তার ওয়াদা পূর্ণ করেন। বান্দা আনত নয়নে অপেক্ষা করে রোযা পূর্ণের মাহেন্দ্রক্ষণের। মুয়াজ্জিনের আল্লাহু আকবার বলার সাথে সাথেই মুখে তুলে নেয় বরকতী ইফতার। খেজুর, পানি খেয়ে জানান দেয় আল্লাহর বিধান পালনের। স্রষ্ঠা খুশী হন। রোজাদররা আনন্দে উদ্বেলিত হয় ভক্ষণ করে ইফতার।
মুসলিম সমাজে ইফতার এক অনিন্দ্য আয়োজন। ধনী গরীব একাকার হয়ে যাওয়া একই দস্তরখানে। কোনও ভেদাভেদ নেই। কোনও অহম নেই। সবাই একনিষ্ঠ হয়ে আহার করে আল্লাহর নেয়ামত। তাইতো পেয়ারে হাবীব রাসূল (সা.) ইফতারের ফযীলত বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, কোনও রোজাদারকে যদি কেউ ইফতার করায়। তাহলে আল্লাহ তায়ালা সেই মেজবান ব্যক্তিকে একটি কবুল রোজার সাওয়াব দান করেন। আর এ সাওয়াব আল্লাহ নিজে তার পক্ষ থেকে দান করেন।
এখানে একটা বিষয় জেনে রাখা উচিৎ, আমাদের সমাজে একটি ভুল কথা প্রচলিত আছে তাহলো, মানুষ বলে মেজবান ব্যক্তি সে সাওয়াব পায় রোজাদারের রোজা থেকে। অর্থাৎ রোজাদারের রোজা থেকে নাকি এ সাওয়াব কাটা হয়। না! আসলে বিষয়টি তা নয়। বরং রোজাদার তো তার সাওয়াব পূর্ণই পায় তার রোজা পালনে। অন্যদিকে মেজবান ব্যক্তিকে আল্লাহ নিজে তার পক্ষ থেকে দয়া করে একটি রোজার সাওয়াব দান করেন। আর রোজাদারকে মেহমানদারির কারনে পায় ভিন্ন সাওয়াব।
ইফতারের এ বরকমতয় আয়োজন বিধর্মীদের কাছে মুসলমানদের জন্য একটি দাওয়াতের মাধ্যমও। এ সময় তারা পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন ধর্মের মানুষের কাছে ইফতার পাঠানোর মাধ্যমে ইসলামের দাওয়াতও পৌঁছাতে পারে। উন্নত বিশ্বের মুসলমানরা এ কাজটা করছে হরদম। সেখানকার ধার্মিক মুসলিম অধিবাসীরা প্রায়শই তাদের প্রতিবেশী নানান ধর্মের মানুষের কাছে ইফতার পাঠাচ্ছে। তারাও সাদরে গ্রহণ করছে এ মহান নেয়ামত। এর দ্বারা দূর হচ্ছে মুসলমানদের সাথে তাদের দূরত্ব। আল্লাহর রহমতে কেউকেউ ইসলাম ধর্মও গ্রহণ করছে। যেমন, আমেরিকাতে মুসলমানদের ‘আসসাফা ইসলামিক সেন্টার ‘আছে। সেখান থেকে তারা তাদের এ্যারিয়ায় প্রায় সব মানুষের কাছেই ইফতার পাঠায়। তেমনিভাবে আমাদের দেশেও রমজানে প্রায় সবদিনই কোথাওনা কোথাও ইফতার পার্টি হচ্ছে। আমরাও চাইলে এ বরকতপূর্ণ ইফতারকে মানুষের মাঝে বিতরণ করতে পারি। কারণ সাধারণত দেখা যায় ইফতার পার্টিগুলোতে প্রচুর খাবার নষ্ট হয়। এ ক্ষেত্রে আমাদের করণীয় হলো: ইফতার পার্টিতে অত ধুমধাম আয়োজন না করে প্রয়োজনমত রেখে বাকীটা গরীব মুসলিম এবং অনাহারী লোকদের মাঝে বিতরণ করে দেয়া। এর দ্বারা অবশ্যই আরো বহুগুণ সাওয়াব আল্লাহ তায়ালা দিবেন আমরা আশাকরি।
রোজাদারকে ইফতার করানোর সওয়াব সম্পর্কে হাদিসে আছে, হযরত সালমান ফারসি রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলে পাক সা. এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি হালাল খাদ্য কিংবা পানি দ্বারা কোনো মুসলমানকে রোজার ইফতার করালো, ফেরেশতাগণ মাহে রমজানের এসময়ে তার জন্য ইস্তিগফার করেন। আর হযরত জিবরাইল আ. শবে কদরে তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থণা করেন। (তাবরানী আল মু’জামুল কবীর, ৬ষ্ঠ খণ্ড, হাদিস-৬১৬২)।
আরেক হাদিসে আছে, রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি রোজাদারকে পানি পান করাবে আল্লাহ তা’আলা তাকে পান করাবেন। সে জান্নাতে প্রবেশ করা পর্যন্ত কখনও পিপাসার্ত হবে না। (কানযুল উম্মাল, ৮ম খণ্ড, হাদিস- ২৩৬৫৩)।
অন্য এক হাদিসে আছে, হযরত সালমান ফারসি রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সা. বলেন, যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে তার গোনাহ মাফ হয়ে যাবে, সে জাহান্নাম থেকে মুক্তিলাভ করবে। ওই রোজাদারের সওয়াবের সমপরিমাণ সওয়াব সে লাভ করবে। তবে ওই রোজাদারের সওয়াবে কোনো কম করা হবে না। এভাবে ইফতার করানোর সওয়াব বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না।
ইফতারের আগে কিংবা পরে দোয়া পড়া উত্তম
দোয়াটি হলো- আল্লাহুম্মা ইন্নি লাকা ছুমতু ওয়া বিকা আ’মানতু ওয়া আলাইকা তাওয়াক্কালতু ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু।(ফতোয়ায়ে আলমগীরী)।
রোজার এ ইফতারের মাধ্যমে মুসলমানরা ইকোনোমিকলিও অবদান রাখছে পুরো বিশ্বে। হিসেব মতে সারা পৃথিবীতে ১.৭ বিলিয়ন মুসলমান উপোস থেকে রোজা রাখে। দীর্ঘ সময় তাদের এ উপোস থাকা আল্লাহর রহমত ছাড়া আর কি’ইবা হতে পারে!
মুফতী লুৎফুর রহমান ক্বাসিমী, প্রেসিডেনট, ইউনাইটেড উলামা কাউন্সিল অফ ইউএসএ ইনক । নিউইয়র্ক, আমেরিকা ।
২১২-২০৩-৮৬৯৫
www.
Email : unitedulamacouncilusa@gmail.
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!