মেয়ের অসম্মতিতে বিয়ের চেষ্টা: বৃটিশ-বাংলাদেশী দম্পতি দোষী সাব্যস্ত
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক : বৃটেনে এক বাংলাদেশী-বংশোদ্ভূত দম্পতিকে নিজ মেয়েকে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছে দেশটির একটি আদালত। অভিযোগ ছিল, তারা তাদের ১৯ বছর বয়সী মেয়েকে বাংলাদেশে এনে তার কাজিনের সঙ্গে জোরপূর্বক বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। ভুক্তভোগী মেয়েটি বলেছে, এই অভিজ্ঞতা তাকে প্রায় আত্মহত্যার কাছাকাছি পৌঁছে দিয়েছিল। তার দাবি, তাকে শারীরিক নির্যাতনও করা হয়েছে। এমনকি ওই ছেলের সন্তান ধারণেরও চাপ দেন পিতামাতা। মঙ্গলবার লিডস ক্রাউন কোর্টে ১২ সদস্যের জুরিবোর্ডের উপস্থিতিতে এই মামলার শুনানি হয়েছে।
জুরিবোর্ড ভুক্তভোগী মেয়ের পিতামাতাকে দোষী সাব্যস্ত করে। এই খবর দিয়েছে ইয়াহু নিউজ। খবরে বলা হয়, তিন সপ্তাহের বিচার প্রক্রিয়া শেষে ওই দম্পতির বিরুদ্ধে সহিংসতা, হুমকি ও বলপ্রয়োগ করে নিজ মেয়েকে বিয়েতে বাধ্য করার অভিযোগ প্রমাণিত বলে সাব্যস্ত করে আদালত। এক সপ্তাহ আগে নিজ মেয়েকে পাকিস্তানে জোর করে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগে এক নারীকে সাড়ে ৪ বছরের কারাদ- দেয় বার্মিংহ্যাম ক্রাউন কোর্ট। সেটি ছিল এই ধরণের সাজা প্রদানের প্রথম নজির। তবে বাংলাদেশী দম্পতির ক্ষেত্রে আদালতের শুনানিতে বলা হয়, বাংলাদেশে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে ঈদ কাটানোর কথা বলে ৬ সপ্তাহের ছুটিতে মেয়েকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। এটি ২০১৬ সালের জুলাই মাসের ঘটনা। ৩রা জুলাই বাংলাদেশে পৌঁছানোর কয়েকদিনের মধ্যে তার পিতা তাকে জানান যে, তার জন্য বর খুঁজে পেয়েছেন তিনি। তিনি মেয়েকে বলেন, ‘আমি অনেক বছর ধরে এই পরিকল্পনা করেছি। ছেলেটি সত্যিই উপযুক্ত। আমি তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য অর্থ দিয়েছি। সে সত্যিই বেশ আকর্ষণীয় ছেলে।’ ভুক্তভোগী মেয়ের ভাষ্য, ‘তিনি আমাকে হ্যাঁ বলানোর চেষ্টা করছিলেন। তবে কোনো পর্যায়েই আমি সম্মতি দিই নি। আমার কাছে বিষয়টি বেশ বিচ্ছিরি মনে হয়েছিল। কারণ বর ছিল আমার কাজিন।’
কিশোরী ওই মেয়ে আরও জানায়, তাকে বলা হয়েছিল এই ছেলেকে বিয়ে করলে ‘রাণীর হালে’ থাকা যাবে। আর এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে পরিবারের সম্মানহানি হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘যত দিন যাচ্ছিল, ততই মৌখিক নির্যাতন শারীরিক নির্যাতনে পরিণত হয়। আমার বাবা একদিন আমাকে মাথায় আঘাত করে বসেন। এটা এত ভয়াবহ ছিল যে, আমি তখন চারদিকে শুধু অন্ধকার দেখছিলাম।’ তার ভাষ্য, তার মা তার পিতাকে ফের আঘাত করতে বাধ্য করেন। তাদের ধারণা ছিল এভাবে তার মত পরিবর্তন করা সম্ভব হবে।
ঘটনার সময় মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়ছিল ওই কিশোরী। এ সময় তিনি তার মাকে জানিয়ে দেয়, তাকে যদি জোর করে বিয়ে দেওয়াও হয়, তাহলে বৃটেনে ফিরে গিয়ে কর্তৃপক্ষকে সব খুলে বলবেন তিনি। কিন্তু তার মা তাকে বলেন, অমনটা হওয়ার সম্ভাবনা নেই, কারণ এখানে তাকে এক বছরে জন্য ফেলে যাওয়া হবে। যাতে করে ওই সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে আর তার স্বামী যেন ভিসা পেয়ে যায়।
তবে নিজের ছোটবোনের সাহায্যে ভুক্তভোগী মেয়ে বাংলাদেশে অবস্থিত বৃটিশ হাই কমিশনে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়। বৃটিশ হাই কমিশন কর্তৃপক্ষ বিয়ের কয়েকদিন আগে তাকে উদ্ধার করে। মেয়েটি তার বয়ফ্রেন্ডকেও বিষয়টি জানায়। ফলে সে-ও বৃটিশ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করে রাখে।
১৮ই জুন তার পিতামাতার দ- ঘোষণা করা হবে। তাদেরকে দোষী সাব্যস্ত করার পর, কৌঁসুলি দলের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, মেয়েটির পিতা তার গলা জবাই করা ও কেটে টুকরো টুকরো করার হুমকিও দিয়েছিল। ভুক্তভোগীর সাহসের প্রশংসা করে কৌঁসুলি মাইকেল কুইন বলেন, কর্তৃপক্ষের কাছে সাহায্যের জন্য যোগাযোগ করার মাধ্যমে তিনি সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। এছাড়া এই অভিযোগের তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় মূল্যবান ভূমিকা রেখেছেন। মাইকেল কুইন আরও বলেন, ‘এই মামলার সফল পরিণতি এই বার্তা দিচ্ছে যে, বলপূর্বক বিয়ে খুবই গুরুতর একটি অপরাধ। এই অপরাধে যারাই জড়িত থাকবেন, তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা হবে।’ মানবজমিন
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!