জানাযার নামায আগে পড়তে হবে? না ফরজ নামাযের পরবর্তী সুন্নাতে রাতেবা/মুওয়াক্কাদা পড়তে হবে?
মুফতী লুৎফুর রহমান ক্বাসিমী :
জানাযার নামায আগে পড়তে হবে? না ফরজ নামাযের পরবর্তী সুন্নাতে রাতেবা/মুওয়াক্কাদা পড়তে হবে?
জবাবঃ
بسم الله الرحمن الرحيم.
الحمد لله والصلاة والسلام علي رسول الله وعلي آله وصحبه ومن والاه. اما بعد.
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, দরূদ ও শান্তি বর্ষিত হোক তার পরিবারবর্গ, সাথী ও উত্তরসূরীগণের উপর।
হামদ ও সালাতের পর-
এটি উলামায়ে কেরামের নিকট একটি চিন্তা ও গবেষণামুলক মাসআলা।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ এমত পোষন করেন যে, সালাতুল জানাযা আগে পড়া উত্তম।
অতএব, যদি জানাযা এবং সুন্নাতে রাতেবা একত্রিত হয়ে যায় তাহলে উত্তম হল- সুন্নাতের পূর্বে জানাযা আদায় করে নেয়া। কেননা, নবী করীম সা. জানাযা তাড়াতাড়ি আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়াও রাতেবার সময়ের মধ্যে প্রশস্ততা আছে এবং অনেক ফক্বীহের মতে তা ক্বাযা করার বৈধতা আছে। (আমানাতুল ফাতওয়া, দারুল ইফতা মিসর।)
এমর্মে সেই বিভাগে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, যদি জানাযার সাথে সুন্নাত একত্রিত হয়ে যায় তাহলে কোনটি অগ্রগণ্য হবে?
তখন এভাবে জবাব দেয়া হয়েছিল যে, যদি সুন্নাতের সাথে জানাযা একত্রিত হয়ে যায় তাহলে উত্তম হল, জানাযাকে আগে আদায় করা।
আল্লামা হাসকাফী দুররুল মুখতার কিতাবে বলেছেন, মুনাসিব হল- জানাযা এবং সালাতুল কুসুফকে পূর্বে নিয়ে আসা এমনকি যদি কোন ফরজের ওয়াক্তের মধ্যে সংকীর্ণতা না থাকে তার পূর্বেও। (অর্থাৎ আগে জানাযা আদায় করে নেয়া।)
ইমাম ইবনুল আবেদীন রদ্দুল মুহতারে (১৬৭/২) অনুরূপ বলেছেন।
আল-আশবাহ কিতাবের ইবারতঃ “যদি জানাযা এং সুন্নাত একত্রিত হয়ে যায় তাহলে জানাযাকে আগে নিয়ে আসা হবে। অতএব; যদি কুসুফ, জুমুআ’ কিংবা কোন ওয়াক্তের ফরজ এসে যায় তাহলে তা আমার দৃষ্টির অধীন নয়। (অর্থাৎ এক্ষেত্রে সেটি আমার অভিমত নয়।) আর যদি ওয়াক্ত সংকীর্ণ হয় তাহলে ফরজকে আগে নিয়ে আসা উচিৎ। নতুবা কুসুফের নামাযকে। কেননা, দ্বিপ্রহর আসার কারণে তা ছুটে যাওয়ার আশংকা আছে। আর যদি ঈদ, কুসুফ এবং জানাযা একত্রিত হয়ে যায় তাহলে জানাযাকে পূর্বে আনা উচিৎ। অনুরূভাবে যদি অন্য কোন ফরজ এবং জুমুআ’র সাথে একত্রিত হয়ে যায়। আর ওয়াক্ত চলে যাওয়ার আশংকা না থাকে।”
ইমাম নববী রাহ. المجموع شرح المهذب- (৫৬/৫)তে বলেছেন, যদি জানাযা, কুসুফ অথবা জুমুআ’ একত্রিত হয়ে যায় তাহলে জানাযাকে আগে নিয়ে আসা হবে। কেননা, তা পরিবর্তন তথা বিগলিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
আমাদের ইমামগণ বলেছেন, ইমাম তারপরে অন্য নামাযে মশগুল /ব্রত হয়ে যাবে এবং তা ঘোষণা করবেনা বরং অন্য ব্যক্তি ঘোষণা করবে। আর যদি জানাযা উপস্থিত না হয়। অথবা তার ওয়ালী/অভিভাবক উপস্থিত না থাকে তাহলে ইমাম সেই জামাত আলাদাভাবে শুরু করে দেবে যার অপেক্ষায় লোকগণ অপেক্ষমাণ। ইমাম এবং লোকগণ অন্য নামাযে ব্যস্ত হয়ে যাবে। আর যদি জানাযা এবং জুমুআ’ উপস্থিত হয়ে যায় এবং সময়ের সংকীর্ণতা না থাকে তাহলে জানাযাকে আগে আদায় করতে হবে। তাতে কোন মতভেদ নেই।
আর ফিক্বহে হানাফী রদ্দুল মুহতারে আছে যে, যদি ঈদ, কুসুফ এবং জুমুআ’ একত্রিত হয়ে যায় তাহলে ওয়াক্ত চলে যাওয়ার আশংকা না থাকলে জানাযাকে মুক্বাদ্দাম করতে হবে। অনুরূপভাবে যদি অন্য কোন ফরজ এবং জুমুআ’র সাথে একত্রিত হয়ে যায় আর ওয়াক্ত চলে যাওয়ার ভয় না থাকে। এমনকি তাও বলা হয়েছে যে, যদি কুসুফ এবং জানাযা উপস্থিত হয়ে যায় তাহলে জানাযা আগে শুরু করতে হবে। কেননা, এটি ফরজ এবং মায়্যিত বিবর্তিত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
হানাফীদের বড় একজন ফক্বীহ আল্লামা ইবনে নুজাইম রাহ. বলেছেন। মতভেদের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে, যদি মায়্যিত বিবর্তনের আশংকা না থাকে। অতএব, যদি এর আশংকা থাকে তাহলে সর্বসম্মতিক্রমে জানাযার নামায আগে পড়া হবে। কেননা, মায়্যিতকে দ্রুত দাফন করা সুন্নাত রাতেবার উপর আবশ্যিকভাবে অগ্রগণ্য। এবং এজন্যও যে, সুন্নাতে রাতেবা ওয়াজিব নয়। অথচ সুন্নাতের উপর ওয়াজাব মুক্বাদ্দাম অগ্রগণ্য হয়ে থাকে।
সংকলনে : মুফতী লুৎফুর রহমান ক্বাসিমী, প্রধান মুফতী, মাদানী একাডেমী, নিউইয়র্ক।
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!