প্রস্তাবিত প্রাদেশিক রাষ্ট্রব্যবস্থা বাংলাদেশের বিপর্যয় ঘটাবে : নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময়ে সাপ্তাহিক রানার সম্পাদক জয়নাল
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম, নিউইয়র্ক: প্রস্তাবিত প্রাদেশিক রাষ্ট্রব্যবস্থা বাংলাদেশের বিপর্যয় ঘটাবে। এমন আশঙ্কা করেছেন নিউইয়র্ক ভিত্তিক সাপ্তাহিক রানার’র সম্পাদক মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন। গত ১০ জুলাই মঙ্গলবার নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে টক অব দ্য টাউন রেস্টুরেন্টে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদক ও প্রতিনিধিদের সাথে ‘বাংলাদেশের অস্তিত্ববিরোধী এরশাদের প্রস্তাব’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এ আশংকা প্রকাশ করেন।
এ মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাপ্তাহিক বাংলাদেশ’র সম্পাদক তাসের মাহমুদ, সাপ্তাহিক জন্মভূমি’র সম্পাদক রতন তালুকদার, সাপ্তাহিক দেশকন্ঠ’র সম্পাদক দর্পন কবির, ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম এবং সাপ্তাহিক জনতার কন্ঠ’র সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, সাপ্তাহিক বর্তমান বাংলা’র সম্পাদক বেলাল আহমেদ, সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা’র বার্তা সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদ, সাপ্তাহিক আজকাল’র নির্বাহী সম্পাদক শাহাব উদ্দিন সাগর, এটিএন বাংলা এউএসএ’র বার্তা সম্পাদক কানু দত্ত, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ’র সাবেক বার্তা সম্পাদক মোমিন মজুমদার প্রমুখ।


লিখিত বক্তব্য উপস্থাপনের পর মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদের সাথে বাংলাদেশে প্রাদেশিক শাসন ব্যবস্থাসহ উপমহাদেশের বিভিন্ন বিষয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন।
সাংবাদিক মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন’র লিখিত পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য নি¤œরূপ:
সুপ্রিয় বন্ধুগণ
তীব্র গরম উপেক্ষা করে আমার আহ্বানে সাড়া দেয়ার জন্য আপনাদের কাছে আমি আন্তুরিকভাবে কৃতজ্ঞ। আমি জানি আজকের প্রসঙ্গটি একটি প্রবন্ধ করেই করা যেতো, এজন্য সাংবাদিকদের ডাকার কোন যুক্তিও নেই। বিষয়টির গুরুত্ব আমার কাছে এতো বেশি যে, আমি আপনাদের কষ্ট দেয়ার দুঃসাহসকে পরাভূত করতে পারি নি। এ প্রসঙ্গটি আমার অনুভূতিকে তাড়িয়ে বেড়ায়। আমাকে শঙ্কিত করে। সে শঙ্কার কারণগুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই।
আমেরিকায় অবস্থান করেও আমাদের সবার হৃদয়ে আমাদের জন্মভূমি বাংলাদেশ প্রতি মুহূর্তে বিরাজমান। কারণ ওটাই আমাদের প্রথম ঠিকানা।
আমাদের দেশের মতো অনন্য আরেকটি দেশ সারা পৃথিবীর কোথাও নেই। আমরা ৯৯.০৮ শতাংশ অভিন্ন জনগোষ্ঠী বাংলাভাষী। ৯২ শতাংশ অধিবাসী এক ধর্মে বিশ্বাসী, যে ধর্ম অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সহাবস্থানে সম-অধিকারে বিশ্বাস করে। আমরা প্রদেশহীন এককেন্দ্রিক স্বাধীন রাষ্ট্রের অধিকারী। আমাদের মধ্যে কোন বিষয়ে বিরোধ কিংবা রেষারেষির সুযোগ নেই। হাজারো সমস্যা চাপিয়ে দেয়ার পরেও আমরা উপমহাদেশের অনেকের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছি।
আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে রক্ত দিয়ে পাকিস্তান থেকে ভাগ হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ বানিয়েছি। এই ঐক্যই আমাদের শক্তি। আমাদের দুর্ভাগ্য আমাদের ঐক্য তথা শক্তি বিলীন করার জন্য নানাবিধ চক্রান্ত চলছে। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের নামে বাংলাদেশকে নয়টি প্রদেশে বিভক্ত করার প্রস্তাব সে চক্রান্তের অন্যতম। বাংলাদেশের নয়টি প্রদেশে বিভক্ত করার প্রস্তাবের বাহ্যিক হোতা সিরাজুল আলম খান। তার সহযোগী হোসাইন মুহাম্মদ এরশাদ। ভারতের সমর্থনে প্রেসিডেন্ট জিয়াকে হত্যা করে এরশাদ বাংলাদেশের ক্ষমতা দখলের পর সিরাজুল আলম খান হন এরশাদের স্থানীয় অভিভাবক। এরশাদ প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের নামে কেবল ১৯টি জেলার প্রতিটি মহাকুমাকেই জেলায় পরিণত করেন। নয়টি প্রদেশ গঠনের প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে নয়টি হাইকোর্ট করার ঘোষণা দেন। কিন্তু এ ঘোষণা শাসনতন্ত্রের পরিপন্থী হওয়ায় সে উদ্যোগ ভেস্তে যায়। বাংলাদেশের এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিপরিন্থী এমনকি জাতিবিরোধী এ পদক্ষেপ সিরাজুল আলম খানরকে দিয়ে জনসাধারণ্যে গ্রহণযোগ্য করার চেষ্টা করেন । সে চেষ্টা মাঠে মারা যাবার পরেও এই মহল থেমে নেই। এ প্রস্তাব তাদের নয়, এটা বাংলাদেশের অস্তিত্বে বিশ্বাসী নয় Ñ এমন বন্ধুবেশী ভারতের এজেন্ডা। এরশাদ এবং সিরাজুল আলম খানদের নেপথ্য পৃষ্ঠপোষক যে ভারত তা এখন আর গোপন বিষয় নয়।
শ্রদ্ধেয় বন্ধুগণ
প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা চালু করলেই বাংলাদেশ স্বর্গে পরিণত হবে, প্রশাসনিক সমস্যা দূরীভূত হবে এরশাদ-সিরাজুল আলম খান গংদের এমন চিন্তা মোটেই সত্যি নয়। শুধু কিছু দালান-কোটা করলেই দেশ উন্নতি হয় না। দেশের সমস্যা যায় না।
আসলে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ দাবি হলো একটি অজুহাত। এ সমস্যা সমাধানের জন্য নয়টি প্রদেশ করার দরকার নেই। এর পিছনে রয়েছে গভীর চক্রান্ত। এমনকি দরকার নেই বিভাগের। এসবের পরিবর্তে আমার মতে প্রতিটি জেলাকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিলেই এ সমস্যা অনেকটা হ্রাস পাবে। একান্ত স্পর্শকাতর এবং অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদে অন্যান্য দায়িত্ব জেলার কাছে ছেড়ে দিতে হবে যেন এরশাদের ঘর রংপুর হতে চাকরির জন্য, বদলির জন্য, টেন্ডারের জন্য ঢাকা আসতে না হয়। ঢাকাকেন্দ্রিক সরকার প্রতিটি জেলাকে নিয়ন্ত্রণ করবে, প্রয়োজনীয় অর্থায়নের উদ্যোগ নিবে। ফলে মানুষেরন ঢাকামুখি ঢল জেলামুখি হবে। এ বিষয়ে বিশদ ব্যাখ্যা দেয়ার সুযোগ এখানে নেই। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের জন্য জেলাগুলো ক্ষমতায়িত হলে তথাকথিত প্রদেশ নামক গজব বাংলাদেশের উপর চাপিয়ে দেয়ার সুযোগ থাকবে না।
প্রিয় বন্ধুগণ
নয়টি প্রদেশ করা হলে তা নয়টিতে সীমিত থাকবে না। বিভিন্ন জেলা হতে দাবি উত্থাপন করে প্রদেশের সংখ্যা আরো বাড়বো হবে। ধরে নিলাম নয়টি প্রদেশই হবে। এ নয়টি প্রদেশ দরিদ্র বাংলাদেশের উপর কী পরিমাণ আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দিবে তা কল্পনাকেও হার মানায়। নয়টা প্রদেশের জন্য নয়টি রাজধানী, নয়টি প্রাদেশিক আইনসভা ভবন এবং প্রতিটি আইনসভার স্পীকারদের জন্য নয়টি বাসভবন, অজানা সংখ্যক ডেপুটি স্পীকারদের বাসভবন, প্রাদেশিক আইন সভায় গড়ে ৫০জন করে সদস্য হলে ৪৫০জন সদস্যদের জন্য হোস্টেল/বাসস্থান, নয়টি প্রদেশের মন্ত্রীসভার নয়জন মুখ্যমন্ত্রীর জন্য মুখ্যমন্ত্রী ভবন, প্রতিটি মন্ত্রীসভায় গড়ে কমপক্ষে ২০জন করে মন্ত্রী থাকলে ১৮০জন মন্ত্রী এবং মন্ত্রীদের সাথে সংশ্লিস্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসভবন, নয়টি প্রাদেশিক সচিবাচলয় এবং সচিবালয়ের বিভিন্ন স্তরের সচিব ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসভবন, নয়টি হাইকোর্ট ভবন এবং হাইকোর্টের নয়জন প্রধান বিচারপতিসহ অন্যান্য বিচারপতি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারিদের জন্য বাসভবন নির্মাণ করতে কতো হাজার টিলিয়ন টাকা ব্যয় হবে সে অর্থ কে যোগাবে, সে অর্থ যোগান দেয়ার ক্ষমতা আমাদের আছে কি না এরশাদগংরা তা বিবেচনা করেছেন কী ? এর সাথে যোগ হবে উপরে বর্ণিত সবার বেতন, বিভিন্ন ধরনের ভাতা, অবসর ভাতা, দেশে-বিদেশে ভ্রমণ ব্যয়, তাদের জন্য কয়েক হাজার গাড়ি ক্রয় গাড়ির গ্যারেজ নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সেগুলোর জ্বালানী ব্যয় ও গাড়ি চালকদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধাদি। এদের মাসিক বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা কতো বিলিয়ন টাকা হবে? এ বিশাল ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের উপর কী ধরনের আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দেয়ার দায়িত্ব কে নিবে?
বন্ধুগণ,
এ ছাড়া উপরের বর্ণিত ব্যক্তিবর্গের জন্য ভবন এবং অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করতে আমাদের অতীব সীমিত ভূমি, বিশেষত কৃষিজমির উপর কেমন চাপ পড়বে, তা একবার ভেবে দেখুন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু আন্তজার্তিক বিমানবন্দর করতে গিয়ে বিভিন্ন এলাকার প্রতিবাদী মানুষের কেমন বাধার মুখে পড়েছেন তা অবশ্যই আপনাদের মনে আছে । শেষ পর্যন্ত তাকে সব জায়গা হতে খালি হাতে ফিরতে হয়। নয়টি প্রদেশের অবকাঠামো নির্মাণে জমি অধিগ্রহণ করতে গেলে জনগণ যে প্রতিরোধ করবে তা একেবাওেন স্পষ্ট। সরকার শক্তি প্রয়োগের উদ্যোগ নিলে বাংলাদেশে যে চরম আর্থিক ও সামাজিক বিপর্যয় নেমে আসবে তা কল্পনাও করা যায় না।
প্রিয় বন্ধুরা,
শাসনতান্ত্রিকভাবে বাংলাদেশ এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র। এখানে প্রদেশের কোন সুযোগ নেই। বাংলাদেশের ভোগোলিক অবস্থান এবং উপমহাদেশ বিভক্তির ইতিহাস বিশেষত কংগ্রেসের উপমহাদেশ পুনএকত্রীকরণের ঘোষণা মনে রেখেই বাংলাদেশের সংবিধান রচয়িতাবৃন্দ, বিশেষত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বাধীন সরকার শাসনতন্ত্রে এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা নিশ্চিত করেছেন। আমরা আমরা শাসনতান্ত্রিক বাধ্যবাধকতা থেকে সরে আসতে পারি না।
অন্যদিকে বিগত ৪৭ বছর ধরে ভারতের আচরণ বারবার প্রমাণ করেছে বাংলাদেশের জন্য এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার কোন বিকল্প নেই। ভারতীয় নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, এমনকি মন্ত্রী পরোক্ষে, এমনকি সরাসরি বলেছেন ১৯৭১ সনে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে তাদের সহযোগিতা ছিল উপমহাদেশ একত্রীকরণের প্রথম পদক্ষেপ। তারা বাংলাদেশকে ভারতে মিশে যাবার পরামর্শও দিয়েছেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান শংকর রায় চৌধুরি ২০০৯ সালে বলেছেন, বাংলাদেশকে আর ভারতীয় খপ্পরের বাইরে যেতে দেয়া হবে না। গত ফেব্রুয়ারীতে পশ্চিম বাংলার খাদ্যমন্ত্রী বলেছেন ২০ বছর পর বাংলাদেশ বলতে কিছু থাকবে না। ইতোমধ্যেই ভারত বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য তথা সীমান্ত মুছে দেয়ার চক্রান্তে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আমাদের রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, প্রশাসন সবকিছুই বাস্তবে ভারতের নিয়ন্ত্রণে। ভারত যা চাইছে সবই চাহিবামাত্র দেয়া হচ্ছে। সবকিছু পেয়েও ভারতের স্বস্তি নেই। ভারতের মূল এজেন্ডা হলো বাংলাদেশের ভোগোলিক অস্তিত্ব মুছে ফেলা। ভারতের সুদূরপ্রসারী মানচিত্রে বাংলাদেশ বলতে কিছু নেই। বাংলাদেশ ‘দুই বিঘা’ কবিতার কাহিনীর মতো: বাংলাদেশকে ভারতের চা-ই। বাংলাদেশ থাকলে ভারতের মানচিত্র নিরাপদ থাকবে না । ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এক সময় হাতছাড়া হবে।
তাই যেকোন উপায়ে বাংলাদেশের অস্তিত্ব মুছে ফেলতে হবে। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের পরিণতি তেমন কিছু Ñ বাংলাদেশকে পর্যায়ক্রমে ভারতের অংশে পরিণত করার সড়ক, যা এককেন্দ্রিক বাংলাদেশ থাকলে সম্ভব নয়। ভারত জানে ১৮কোটি মানুষের দেশ গিলে ফেলা যাবে না। ১৮ কোটি মানুষের ১০ শতাংশও যদি ভারতের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে নেয় তবে তেমন যোদ্ধাদের সংখ্যা হবে এককোটি ৮০ লাখ । এই বিশাল বাহিনীকে প্রতিহত করা ভারতের পক্ষে কখনোই সম্ভব হবে না। আমাদের বিশাল জনসংখ্যাই আমাদের দেশরক্ষার প্রধান শক্তি। এ শক্তিকে বিভক্ত করা গেলে বাংলাদেশ বলতে কিছুই থাকবে না। তাই বাংলাদেশকে ভেঙ্গে অত্যন্ত নয়টি প্রদেশ করা গেলে ভবিষ্যতে আরো প্রদেশ তৈরির দাবি উঠবে। এগুলো এক পর্যায়ে গিলে ফেলা যাবে।
নয়টি প্রদেশের কথা উঠার সাথে সাথে নোয়াখালী, কুমিল্লাসহ বহু জেলাকে প্রদেশ করার দাবি উঠেছে। ফরিদপুরের জনৈক মন্ত্রী প্রকাশ্য জনসভায় বলেছেন ফরিদপুর একদিন প্রদেশ হবে। আমার আশাংকা শেখ হাসিনা পরবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতায় আসলে ভারতের নীল-নকশা তথা প্রদেশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে পারেন। হয়তো তিনি ভাবতে পারেন এ পদক্ষেপ নিলে তিনি ইতিহাসে অমর হয়ে যাবেন । অদূরদর্শী রাজনীতিক নামক ক্ষমতা ও স্বার্থান্বেষীরা তার এমন উদ্যোগকে অন্ধভাবে স্বাগত জানাবেন। দেশের কি ক্ষতি হবে, তারা তা চিন্তা করেন না।
দেশপ্রেমিক সাংবাদিক বন্ধুগণ,
নয় ভাগ করা হলে প্রতিটি কথিত প্রদেশের আয়তন হবে গড়ে ছয়হাজার বর্গমাইল। এগুলোর কোনটিই স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে না। প্রতিটিই হবে হত-দরিদ্র। তারা অর্থের দাবি করবে তথাকথিত কেন্দ্র ঢাকার কাছে। সেসব দাবি কেন্দ্র পুরন করতে ব্যর্থ হলে শুরু হবে আন্দোলন। অবহেলা, বঞ্চনা আর আঞ্চলিক বৈষম্যের অভিযোগ উঠবে, যা এক সময় তথাকথিত স্বাধীনতার আন্দোলনে রূপ নিবে। ভারতই এ আন্দোলনের নেপথ্য থেকে ইন্ধন যোগোবে। এভাবে একেকটি কথিত প্রদেশ স্বাধীন হয়ে বাংলাদেশ নামে কিছুই থাকবে না।
অনেকগুলো প্রদেশই হবে ভূমিবেষ্টিত সমুদ্রবন্দর বিহীন ভারত-নির্ভর সিকিমের মতো। গড়ে ছয় হাজার বর্গমাইলের রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিলেট, ঢাকা,ফরিদপুর, কুমিল্লা, পার্বত্য চট্টগ্রাম যে নতুন নামেই স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে পর্যায়ক্রমে সেগুলোর প্রতিটি ঘর দখল করতে ভারতকে বেগ পেতে হবে না। সেগুলোর প্রতিটি রাজনীতিক হবেন একেকজন লেন্দুপদর্জি এবং ভারতের উপর এমন নির্ভরশীল ও অনুগত । তাদেরকে দিয়েই ভারত এক পর্যায়ে এইসব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এলাকা দখল করবে। এই দখল তাৎক্ষণিক হবে না। হবে ধীরে ধীরে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে।
উল্লেখ্য ১৯৭৫ সালে সিকিম সংসদের ৩২জন সদস্যের মধ্যে ৩১ জনই সিকিমের প্রধানমন্ত্রী লেন্দ্রুপ দর্জ্জির নেতৃত্বে সিকিমকে ভারতভুক্ত করার প্রস্তাব গ্রহণ করামাত্র ভারতীয় সেনাবাহিনী ৩০ মিনিটের মধ্যে সিকিম ও সিকিমের রাজা/চোগিয়ালকে রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ভারতীয় সেনাবাহিনীই রাজপ্রাসাদ রক্ষী সিকিমীদের পরাভূত করে রাজাকে গৃহবন্দী করে। এই ভাবে সিকিমের স্বাধীনতা চিরতরে হারিয়ে যায়। ২,৭৪০ বর্গমাইলের ক্ষুদ্র সিকিমের ’৭১ সনের আদমশুমারী অনুযায়ী লোক সংখ্যা ছিল দুইলাখ ১৮৪। এমন ক্ষুদ্রতর ভূখন্ড এবং সামান্য জনসংখ্যাই ছিল সিকিমের জন্য কাল। সিকিমের জনগণের কেউই এর বিরুদ্ধে রাস্তায় নামেন নি।
বন্ধুগণ
অনেক রক্ত ও ত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত দেশ কিছু স্বার্থান্বেষী রাজনীতিকের স্বার্থের বলি হতে পারে না। এদেশ রক্ষায় আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। আমরা আমাদের কলম ধরি। এ চক্রান্ত ব্যর্থ করতে জনগণের কাছে দেশবিরোধী প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থার সুদূরপ্রসারী চক্রান্তকারীদের মুখোশ উন্মোচন করি। এরা কারা এরা কার হয়ে কাজ করছেন তা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরি। তুলি ধরি এ অশুভ দাবি কার্যকর হলে আমাদের স্বদেশ আমাদের অস্তিত্ব কীভাবে বিলীন হবে। এমন কি সৎ উদ্দেশ্যে এসব প্রদেশের দাবি উঠলেও দরিদ্র দেশের পক্ষে এমন ব্যয়বহুল পদক্ষেপ নেয়ার সুযোগ আমাদের নেই। এইসব প্রদেশ আমাদের হাতে থাকবে না। আমাদের দেশকেই ভারত নিয়ন্ত্রণ করার দুঃসাহস দেখাচ্ছে। প্রকাশ্যে বলার সাহস পাচ্ছে না। ভারতের চক্রান্ত আমরা বুঝি। জনগণও বোঝেন। তাদেরকে আরো সচেতন সক্রিয় করতে হবে। আমাদের চোখের সামনে একটি স্বাধীন দেশ হারিয়ে যেতে পারে না।
দেশের প্রতি আমার আবেগ-ভালোবাসার কারণেই আমি এ উদ্যোগ নিয়েছি। আপনাদেরকে এ দুপুরে এখানে আসার অনুরোধ জানিয়েছি। এখানে এসে আপনারা আমাকে ধন্য করেছেন। আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ।
আপনাদের সহযোগী
মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন
সাংবাদিক ও গবেষক
সম্পাদক, সাপ্তাহিক রানার
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!