ভিয়েতনাম যুদ্ধের হিরো সিনেটর জন ম্যাককেইনের মৃত্যুতে শোক, শ্রদ্ধা
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক : ভিয়েতনাম যুদ্ধের হিরো সিনেটর জন ম্যাককেইনের মৃত্যুতে শোকের ছায়া বিরাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রে। শনিবার স্থানীয় সময় বিকাল ৪টা ২৮ মিনিটে তিনি ব্রেন ক্যান্সারে আরিজোনার সোডোনাতে হিডেন ভ্যালিতে নিজ বাড়িতে মারা যান। এ খবরে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, বিল ক্লিনটন ও বিভিন্ন সারির নেতারা। টুইটে এক শোকবার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লিখেছেন, সিনেটর জন ম্যাককেইনের পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা ও শ্রদ্ধা। আমাদের হৃদয় ও প্রার্থনা থাকবে আপনাদের প্রতি।
স্পষ্টত এই শোকবার্তায় জন ম্যাককেইনের প্রতি শ্রদ্ধার কথা বলা হয় নি। তিনি এক সময় জন ম্যাককেইনের যুদ্ধ-রেকর্ড নিয়ে তিরস্কার করেছিলেন। জন ম্যাককেইনও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতির ছিলেন কড়া সমালোচক। হয়তো সে জন্যই ম্যাককেইনের প্রতি ব্যক্তিগতভাবে শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন নি ট্রাম্প। জন ম্যাককেইন রিপাবলিকান দলের প্রভাবশালী সিনেটর। তিনি তার দল থেকে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে পদে পদে সমালোচনায় বিদ্ধ করেছিলেন। ট্রাম্পকে তিনি অহমিকা বোধ সম্পন্ন মানুষ ও স্বৈরশাসকদের প্রতি সহানুভূতিশীল বলে অভিযুুক্ত করেছিলেন। গত বছর সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার স্বাস্থ্য বীমা বিষয়ক ওবামাকেয়ার বাতিলের যে উদ্যোগ নেয় রিপাবলিকানরা। তাকে হত্যা করার জন্য যে ভোট হয় তাতে অগ্রণী ভূমিকা ছিল ম্যাককেইনের। এ জন্য তাকে ক্ষমা করেন নি ট্রাম্প। ম্যাককেইন ছিলেন ঝাঁঝালো কণ্ঠের রাজনীতিক। তিনি কাউকে ছেড়ে কথা বলতেন না। এ জন্য তার অনুসারী অনেক রাজনীতিকের সঙ্গে মতের পার্থক্য দেখা দিয়েছে। কিন্তু তিনি নিজের নীতির কাছে মাথা নত করেন নি। তাই তিনি আমেরিকার রাজনীতির ইতিহাসে বড় একটি স্থান করে নিয়েছেন।
এ জন্য তার প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি বলেছেন, জন ম্যাককেইন আমাদেরকে ঋণী করে গেলেন। আমাদের সব রকম মতপার্থক্যের জন্য আমরা আমাদের উচু মানের কোনো কিছুর সঙ্গে আমাদের মতকে শেয়ার করতাম। সেই উঁচু মানের জিনিস হলো আইডিয়া। যার জন্য আমেরিকার প্রজন্মগুলো এবং অভিবাসীরা একইরকমভাবে লড়াই করছেন, ত্যাগ স্বীকার করছেন। উল্লেখ্য, জন ম্যাককেইন রিপাবলিকান দল থেকে ২০০৮ সালে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করে বারাক ওবামার বিরুদ্ধে এবং তিনি হেরে যান।
ম্যাককেইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। তিনি বলেছেন, অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ঘন ঘনই তাদের মধ্যে যোগাযোগ হতো। অন্যদিকে বিল ক্লিনটনের সময়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোর বলেছেন, তিনি সব সময়ই সিনেটর ম্যাককেইনকে শ্রদ্ধা করতেন। তিনি কিভাবে যত কঠিনই হোক একটি বিষয়ের অভিন্ন সমাধানের জন্য কাজ করতেন সেটা ভেবে তিনি তার প্রতি শ্রদ্ধা পোষণ করেন।
সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ শ্রদ্ধা প্রকাশ করে বলেছেন, জন ম্যাককেইন একজন গভীর বিশ্বাসের মানুষ এবং উচু মানের একজন দেশপ্রেমিক। ২০০০ সালে এই বুশের কাছেই মনোনয়ন যুদ্ধে পরাজিত হন ম্যাককেইন।
ক্যাপিটল হিলে সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ও সাবেক সিনেটর জো লিবারম্যানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল জন ম্যাককেইনের। এ তিনজনকে তাই ‘থ্রি আমিগোস’ নামে অভিহিত করা হতো। ম্যাককেইনের মৃত্যৃতে সেই থ্রি-আমিগোস তার ড্রাইভিং শক্তি বা পরিচালনা শক্তি হারিয়েছে। লিন্ডসে গ্রাহাম লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বোত্তম চ্যাম্পিয়নদের একজনকে হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার স্বাধীনতা। আর আমি হারিয়েছি আমার সবচেয়ে কাছের একজন বন্ধুকে। আমার রাজনৈতিক পথ প্রদর্শককে।
শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন ডেমোক্রেট দলের শীর্ষ সিনেটর চাক শুমার। তিনি বলেছেন, ম্যাককেইন ছিলেন সত্যবাদী। তিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ও এর সামরিক বাহিনীর জন্য আত্মনিবেদিত। তার নামে সিনেটের একটি ভবনের নামকরণের আহ্বান জানিয়েছেন চাক শুমার।
ওদিকে হোয়াইট হাউজে জাতীয় পতাকা রাখা হয়েছে অর্ধনমিত।
- New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners
- এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ
- নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া
- নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব
- Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone
- যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা, আদালতের নির্দেশের পরও কাটেনি জট
- Human Rights Must Be at the Heart of Economic Governance and Policies: Ambassador Irene Khan