Sunday, 21 June 2026 |
শিরোনাম
Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত! Bangladesh Calls for Stronger Humanitarian Action and Women’s Leadership in Peacebuilding at UN Forum নিউইয়র্কে জাতিসংঘ ফোরামে মানবিক সহায়তা জোরদার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর নেতৃত্ব বৃদ্ধির আহ্বান বাংলাদেশের
সব ক্যাটাগরি

প্যারিসের আইফেল টাওয়ার : পর্যটকদের যেন হানছানি দিয়ে ডাকছে

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 144 বার

প্রকাশিত: October 17, 2018 | 11:00 AM

আহবাব চৌধুরী : ইজিজেট নামের ছোট্র প্লেনখানা আমাদেরকে নিয়ে যখন প্যারিসের সার দি গোল এয়ারপোর্টে অবতরণ করলো তখন প্যারিসের সময় সকাল ১০টা ।ইংল্যান্ডের গেট উইক এয়ারপোর্ট থেকে যাত্রা শুরু করে গন্তব্যস্থলে পৌছতে আমাদের সময় লেগেছে মাত্র এক ঘন্টা ।গত ৭ই জুলাই দুই দিনের সংক্ষিপ্ত সফরে গিয়ে ছিলাম প্যারিস ।সাথে আমার ঘনিষ্ট বন্ধু যুক্তরাজ্য প্রবাসী সজিবুর রহমান ।সিন নদীর তীরে অবস্থিত প্যারিস নগরী হচ্ছে ফ্রান্সের রাজধানী ।দুই হাজার বছরের পুরনো এই নগরীটি এখন  বিশ্বের অন্যতম বানিজ্যিক নগরী হিসাবে হিসাবে সমাদৃত হয়ে থাকে ।বিশ্বের বৃহত্তম ১০০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার মধ্যে অন্তত ১৫টির সদর দপ্তর এই প্যারিসে অবস্থিত ।তাদের সরকারের সঠিক ব্যবস্থাপনা ও দর্শনীয় স্থানের জন্য এখন বিশ্বের সবচেয়ে বেশী পর্যটকের গন্তব্যস্থল হচ্ছে প্যারিস ।প্যারিসে ঘুরে বেড়ানোর জন্য দর্শনীয অনেক স্থান রয়েছে ।আইফেল টাওয়ার, প্যারিস গেট, ফ্রান্স মিনিয়েচার,সাইন্স সিটি , ল্যুভার মিউজিয়াম,ফিউচার পার্ক, ডিজনি ওয়াল্ড ,প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ, এলিজী প্যালেস ইত্যাদি তাদের মধ্যে অন্যতম ।প্যারিসে আমার এই স্বল্পকালীম সফর কালে সেখানে বসবাসরত আমার প্রিয় এলাকাবাসী এবং সেই সাথ ফ্রান্সের বিভিন্ন পর্যায়ের কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ আমার প্রতি যে আন্তরিকতা ও আতিথিয়তা প্রদর্শন করেছেন তাতে শুধু আমার এই সফর স্মরণীয হয়ে উটেনি আমাকে চীর কৃতজ্ঞতায় আবদ্ধ  করেছে । 
এয়ারপোর্টে আমাদেরকে রিসিভ করার জন্য আগে থেকে সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্যারিসের জনপ্রিয় কমিউনিট এক্টিভিষ্ট তরুন ব্যবসায়ী জুনেদ আহমদ ।ফলে এয়ারপোর্টে নেমে আমাদেরকে কোন অহেতুক বিড়ম্বনায় পড়তে হয়নি ।জুনেদ  আহমদ প্যারিসস্থ ফেঞ্চুগন্জ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন এর সভপতি এবং স্থানীয় বিএনপির প্রাক্তন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক । বাড়ী ফেঞ্চুগন্জের গঙ্গাপুর গ্রামে ।ফোনে  কথা হলেও দেখিনি কখনো । সে আমার স্কুল জীবনের ঘনিষ্ট বন্ধু অধ্যাপক ফরিদ আহমদের ছোট ভাই ।তাদের আরেক ভাই সাইদ আহমদ এখন সিলেট জেলা বারের আইনজীবী ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক  ।তাদের দুইভাইয়ের সাথে ভালো পরিচয় থাকলেও  জুনেদের সাথে দেখা এই প্রথম । আলাপচারিতায় জানলাম প্রায় দশ বছর যাবৎ সে এখানে আছে ।তার একটি রেষ্টুরেন্ট রয়েছে ।রয়েছে  একটি গ্রোসারীসহ আরো কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্টান ।জুনেদের গাড়ীতে করে তার সাথে আলাপ করতে করতে মিটিন দশেকের মধ্যেই আমরা চলে এলাম লি ব্লান্ক মাসিল এলাকায় ।জুনেদ আহমেদের  মালিকানাধিন টেষ্ট অব ইন্ডিয়া রেষ্টুরেন্ট্র এখানে অবস্থিত ।এখানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম এবং সেই সাথে সকালের নাস্তা করে নিলাম  ।ঘুরে দেখলাম তার রেষ্টুরেন্ট এবং বাসস্থান । রেষ্টুনেন্টের পেছনেই রয়েছে তার থাকার বাস গৃহ ।পরিচয় হলো তার স্ত্রী ও পুত্র কন্যাদের সাথে ।অত্যান্ত সুন্দর এবং পরিপাটি তার সংসার এবং সেই সাথে রেষ্টুরেন্ট ।বেগ এন্ড ব্যাগেজ আগেই এয়ারপোর্টের কাছে অবস্থিত হোটেল হিলটন ড্রাবোল ট্রিতে রেখে এসেছি ।উল্লেখ্য প্যারিস অবস্থান কালে আমরা এখানেই রাত্রী যাপন করবো ।এরই মধ্যে আমরা রওয়ানা হলাম  সিটির উদ্দেশ্যে।গাড়ীতে বসে জানালা দিযে দেখছিলাম প্যারিস সিটি ।প্যারিস সিটির গল্প অনেক শুনেছি কিন্তু এবারই প্রথম দেখা ।সিটি দেখতে খুব সুন্দর ।যেমন নেই বায়ু দুষন তেমনি নেই কোন শব্দ দোষন ।পরিস্কার পরিছন্ন এই সিটি দেখতে যেনো ছবির মতো সুন্দর  ।আলাপচারিতার এক পর্য়ায়ে চলে এলাম সিটির মাক্সদরমী এলাকায় ।গাড়ী থেকে নামতেই দেখি মহসিন রাজা আরো কিছু লোক নিয়ে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছেন ।সাথে আমাদের জন্য নিয়ে এসেছে ঘরে তৈরী সকালের নাস্তাও ।মহসিনকে আগে কখনো দেখিনি ।ফেইছবুকের মাধ্যমে পরিচয় ।সাবেক ছাত্রদল নেতা ও প্রাণের ফেঞ্চুগন্জ আন্তর্জাতিক অন লাইন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ।খুব ভালো একজন সোসাল এক্টিভিষ্ট ।মহসিনকে পেয়ে আমি জুনেদকে বললাম তুমি অনেক সময় দিয়েছো ।সন্ধ্যা পর্যন্ত এখন তুমি তোমার কাজ করো ।আমি মহসিনকে নিয়েই বের হবো ।কারণ মহসিন আমাকে ফোন করে জানিয়েছিলেন আমি আসবো জেনে সে আমাকে নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর জন্য কাজ থেকে ছুটি নিয়ে রেখেছে ।
প্যারিস  সিটিতে ঘুরে বেড়ানোর জন্য সবচেয়ে সহজ যোগাযোগ মাধ্যম হচ্ছে মেট্রো ট্রেন  ।মেট্রো ট্রেন এখানকার সাবওয়ের ভিন্ন নাম ।ভুগর্বস্থ এই ট্রেন , যে গুলোকে নিউইয়র্কে আমরা বলে থাকি সাবওয়ে, লন্ডনে এটির নাম হচ্ছে আন্ডার গ্রাউন্ড,আর ফ্রান্সে মেট্রো  ।আমি মহসিনকে বললাম গাড়ীর দরকার নেই ।বরং আমরা মেট্রো দিয়েই বের হই ।প্যারিস সিটিতে দর্শনীয় যে স্থান গুলো রয়েছে আইফেল টাওয়ার তার মধ্যে অন্যতম ।প্যারিস এসে সর্বাগ্রে সবাই যে স্থানটিতে দেখতে যায় সেটি হচ্ছে আইফেল টাওয়ার  ।আমরা প্রথমেই মেট্রো ট্রেনে উটে গেলাম আইফেল টাওয়ার দেখতে ।সন্ধেহ নেই আইফেল টাওয়ার বিশ্বের বৃহত্তম  স্থাপনা গুলোর মধ্যে অন্যতম ।এটি ফ্রান্সের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্বাক্ষর বহন করে ।জানা যায় ১৮৮৯ সালে ফরাসী বিপ্লবের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে এই টাওয়ারটি তৈরী করা হয়েছিলো ।প্রতিদিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার লোক এই টাওয়ার দেখতে আসে ।ফরাসি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ওস্তাভ আইফেলের নামানুসারে এই টাওয়ারের নাম করন করা হয়েছ আইফেল টাওয়ার ।পুরো টাওয়ারটি নির্মান করতে লোহার পার্স লেগেছ ১৮ হাজার ৩৮ টন ।আইফেল টাওয়ারের মূল কাঠামো চারটি বিশাল লোহার পিলারের উপর তৈরী ।জানা যায় ২৫০ জন নির্মানকর্মী দুই বছর পাঁচ মাস কাজ করে তৈরী করেছে এই টাওয়ার ।আইফেল টাওয়ার দিনের চেয়ে রাতে দেখতে বেশী সুন্দর ।আইফেল টাওয়ারে লাগানো আছে বিভিন্ন রংয়ের অসংখ্য লাইট ।এই লাইট গুলো যখন রাতের আধারে জ্বালানো হয় তখন টাওয়ারের পুরো এলাকাকে অপূর্ব সুন্দর করে তোলে ।আইফেল টাওয়ার দুর থকে দেখতে ছোট মনে হলেও তা কতটা বিশাল কাঁচ থেকে দেখলে বুঝা যায় ।এক সংগে ছয় হাজার দর্শনার্থী আইফেল টাওয়ারের ছুড়ায় উটতে পারে ।টাওয়ারের মোট উচ্চতা এক হাজার ৮১ ফুট ৭ ইঞ্চি ।টাওয়ারের ছুড়া থেকে পুরো প্যারিস সিটির সুন্দর্য উপভোগ করা যায় । টাওয়ারের ছুড়ায় উটার জন্য রয়েছে এলিভিটর ও সিড়ি ।দেখলাম হাজার হাজার দর্শনার্থী আইফেল টাওয়ারের আশে পাশে জটলা করে রেখেছে ।কেউ মনের আনন্দে ছবি তোলছে আবার কেউ টাওয়ারের পাশ দিয়ে বহমান সেন নদী তীরে দাড়িয়ে টাওয়ারের সুন্দর্য উপভোগ করছে ।নদীতে আবার রয়েছে ক্রুজ লাইন ।এখানে পর্যটকরা নৌভ্রমনের মাধ্যমে আইফেল টাওয়ার এর সৌন্দর্য উপভোগ করে থাকে ।রাতে যখন টাওয়ার এলাকায় গেলাম তখন চোখে পড়লো এক অন্য রকমে সুন্দর্য ।পৃথিবীর অতি সামান্য দর্শনীয় স্থান গুলো কাছ থেকে দেখার সুযোগ আমার হয়েছে ।কিন্তু আইফেল টাওয়ারের রাতের সুন্দর্য দেখে মনে হলো এটি আমার এ পর্যন্ত দেখা শ্রেষ্টতম সুন্দর স্থান । দেখতে গেলাম প্যারিসের  মুসলিম ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক গ্রেট মস্ক ।এই মসজিদটি বাংলাদেশীদের কাছে  বড় মসজজিদ হিসাবে পরিচিত ।প্যারিসের আরোদিসিমেন্ট এলাকায় অবস্থিত এই মসজিদের  সুউচ্চ মিনার গুলো দেখে মনে হল এগুলো যেন মুসলিম  সভ্যতার স্বাক্ষী হয়ে এখনো প্যারিসে মাথা উচু করে দাড়িয়ে আছে ।কথিত আছে যে প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে নিহত কয়েক লক্ষ মুসলিম সৈনের স্মরণে য়ুদ্ধের পর পরই মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল ।জানা যায় ফ্রান্সে ইসলাম হচ্ছে দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম ।জেনে খুশী হলাম প্যারিসে ছোট বড় মিলিয়ে ৬০ টি মসজিদ রয়েছে  ।
প্যারিসে বাংলাদেশী অধ্যুষিত গো নর্দ সিটি যেন প্যারিসের বুকে এক খন্ড বাংলাদেশ ।বাংলাদেশী পণ্য এবং খাদ্যের স্বাদ নিতে হলে যেতে হবে গো নর্দ সিটিতে ।এখানে গেলে যেমনি দেখতে পারবেন দেশী মানুষ তেমনি দেখতে পারবেন বাংলাদেশী পণ্যের ব্যবসা প্রতিষ্টানও । বাংলাদেশী এসব প্রতিষ্টানের মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হচ্ছে  দু বেঙ্গল, শুকরিয়া তানদুরি, ক্যাফে বাংলা, রয়াল ক্যাফে,যমুনা, জাহান সুপার মার্কেট, বাংলাবাজার, এবং  ইকরা। এই সিটিতে অবস্থিত শুকরিয়া রেষ্টুরেন্টে দুপুরের খাবার খেতে গিয়ে মনে হল যেন আমি বাংলাদেশে এসেছি ।এখানে দেখা হলো খথরুভাই, মালেক, সাবেক ছাত্রনেতা জাহাঙ্গির ও জয়নাল আবেদিন খাঁন সহ অনেকের সাথে ।রেষ্টুরেন্টে খাবারের মেনু দেখে অবাক হলাম । সাদা ভাত,গরু মাংশ ভোনা, ভেগুন ভাজি, আলু ভর্তা , সুটকি ভর্তা ও বোয়াল মাছ ভাজি ।খোদ প্যারিস সিটির প্রাণ কেন্দ্রে এমন বাঙ্গালী খাবার খেয়ে এবং দেখে বুঝতে পারলাম এখানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীরা দেশকে কতটুকু ধারণ করে আছেন  ।এই বাঙ্গালী রেষ্টুরেন্টের স্বত্ত্বাধিকারী জনাব খছরুজ্জামানের বাড়ী আমার গ্রামের বাড়ীর কাছেই ।কিন্তু উনার সাথে প্রায় পচিশ বছর পর প্যারিসে দেখা ।ভালো লাগলো বাংলাদেশীরা এখানে ব্যবসা বানিজ্য নিয়ে ভালো  আছেন দেখে ।তিনি জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব ফ্রান্সের সহ সভাপতি এবং ফেঞ্চুগন্জ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনএর প্রাক্তন সভাপতি ।এখানে গিয়ে পরিচয় এবং দেখা হলো এলাকার আরো অনেকের সাথে ।সবার আতিথিয়তা ও  আন্তরিকতা কখনো ভুলে যাওয়ার নয় ।এই দিন সন্ধ্যায় আমি যোগ দান করলাম একটি মতবিনিময় সভায় ।ফেঞ্চুগন্জ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন অব ফ্রান্স আয়োজিত এই মতবিনিময় সভা অনুষ্টিত হলো ক্যাফে বাংলা রেষ্টুরেন্টে ।সংগঠনের সভাপতি জনাব জুনেদ আহমদের সভাপতিত্বে ও জাকারিয়া আহমদের পরিচালনায় আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্স বিএনপির প্রাক্তন সভাপতি সৈয়দ সাইফুর রহমান, বিশেষ অতিথি ছিলেন জালালাবাদ এসোসিয়েশন ফ্রান্সের সভাপতি হেনু মিযা, সহ সভাপতি খছরুজ্জামান জালালাবাদী ।পরিচয় হলো ফেঞ্চুগন্জ এসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক শিপলু মিয়া সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ সৈয়দ জালেজুসজ্জামান, সৈয়দ নুরুল ইসলাম, গোলাম মাহমুদ, কায়েফ আহমদ, ফরিদ আহমদ ও সাংবাদিক এনায়েত হোসেন সোহেল, মীর সাব্বির, সেলিম মিযা,কামরুল ইসলাম , ফরিদুজ্জামান,শহিদুর রহমান , ওয়ালিদ মিয়া সহ আরো অনেকের সাথে ।প্রবাসের এই ব্যস্ততার মধ্যেও যারা সময় ,শ্রম ও কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে স্বদেশ এবং সেই সাথে প্রিয় মাটি ফেঞ্চুগন্জের মান মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে যা্ছেন ।এরা সকলেই আমাদের একেক জন রাষ্ট্রদূত ।আমি আমার বক্তব্যে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালাম ।আমার মতো একজন অতি সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁদের এই আতিথিয়তা ও আন্তরিকতা প্রদর্শনের জন্য ।গোঠা প্যারিস তখন একদিকে ভাসছে আনন্দে আর অন্যদিকে উদ্বিগ্নতায়  ।পরের দিন বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে খেলবে ফ্রান্স ।হার-জিতের এই অন্তিম মুহুর্তে আমি বেড়াতে এসেছি এই ফ্রান্সে ।রাতে একটি রেষ্টুরেন্টে চায়ের দাওয়াত রাখতে গিয়ে দেখি এই রেষ্টেরেন্টেরও মালিক আমার এলাকার ।নাম এস আর আমিন ।এক সময়  তিনি ফেঞ্চুগন্জ সারখানার বাসিন্দা ছিলেন ।প্যারিসে গিয়ে এমন অনেকের সাথে দেখা হলো যারা দেশে বিভিন্ন জেলায় ছাত্রদলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন । তাদের অনেকই এখন মামলা ও নির্যাতনের ভয়ে আশ্রয়  নিয়েছেন স্বপ্নের এই ফ্রান্সে  ।গত কয়েক বছরে এই ফ্রান্সে শুধু রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছেন ২০ হাজার লোক ।সন্ধ্যায় জমে উটলো আড্ডা ।রাত যতো বাড়ছিলো আড্ডা ততো বাড়ছিলো ।যেমন আড্ডা আমি দেখেছি ইষ্ট লন্ডনের হোহাইট চাপল  এবং জেদ্দার গুলাইল সিটিতে ।রাতে দেখতে গেলাম প্যারিস গেইটি ।আমার এই প্যারিস সফর কালে কয়েকজন
মানুষের সৌজন্যতা আমাকে মুগ্ধ করেছে ।তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন রনি হাসান ,কামরুল চৌধুরী,হেনু মিয়া ও জুবায়ের আহমদ  ।রনির বাড়ী ফেঞ্চুগন্জের চত্রিশ গ্রামে ।রনির বাবা মরহুম নাজিম উদ্দীন ছিলেন ফেঞ্চুগন্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতা ।রনিকে আগে আমি কখনো দেখিনি ।কিন্তু সেই সকাল বেলা আমাকে নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর জন্য হোটেলে এসেছে ।তাকে নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছি প্যারিসের অনেক দর্শনীয় স্থান ।প্যারিস সিটি ঘুরতে গিয়ে সেইন্ট মিশেল এলাকায় চোখে পড়লো বেশ কিছু বইয়ের দোকান ।খোঁজ নিয়ে জানলাম এই সকল দোকানে কর্মরত সবাই নাকি রিটায়ার্ড পারসন ।চাকুরী থেকে অবসর নিয়ে বৃদ্ধ বয়সে তারা সময় কাঠানোর জন্য বেঁচে নিয়েছে বই বিক্রির এই পেশা ।আমাদের দেশের পানের দোকানের মতো ফুটপাতে এই স্টল গুলিতে বইয়ের পশরা সাজিযে তারা বসে আছে ।দোকান গুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় দেখে বুঝতে পারলাম ফরাসীরা কতটা বইপ্রেমি ।এরই মধ্যে কামরুল চৌধুরী আমাদেরকে নিয়ে গেলেন লা সাপেল এলাকায় একটি সাউথ ইন্ডিয়ান রেষ্টুরেন্টে ।এই সিটিত সাউথ ইন্ডিয়ান ফুড বেশ জনপ্রিয় ।খোঁজ নিয়ে জানা গেলো পুরো ফ্রান্সে ৬০ হাজারের মতো বাংলাদেশী বসবাস করে ।তাদের মধ্যে বেশীর ভাগ্য বসবাস করেন প্যারিস সিটিতে ।তাদের মধ্যে একটি উল্লেখ যোগ্য অংশ রেষ্টেরেন্ট ও খাবার দোকানে কাজ করেন ।কিছু লোক ব্যবসা বানিজ্যেও নিয়োজিত আছে ।বাংলাদেশীদের বেশীর ভাগই থাকেল সারসেল ও কেতসীমা এলাকায় ।আমি এই এলাকায় গিয়ে তাদের জীবন যাত্রা অবলোকন করার চেষ্টা করেছি ।
২২ লক্ষ বাসিন্দার এই প্যারিস নগরীর আয়তন ১০৫ বর্গ কিলোমিটার ।পুরো ফ্রান্সের মোট জনসংখ্যার ১৮ শতাংশ মানুষ বসবাস করে এই নগরীতে ।পশ্চিম ইউরোপের ইতিহাস ,ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির লালন কেন্দ্র হচ্ছে এই প্যারিস ।শহর জুড়ে রয়েছে ১৭৩টি মিউজিয়াম ।এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত মিউজিয়াম হল ল্যুভর মিউজিয়াম ।লিওনার্দো দ্য বিঞ্চির শ্রেষ্ট কীর্তি মোনালিসা চিত্রকর্মটি এখানে রক্ষিত আছে ।শুধু  মোনালিসা চিত্রকর্মই নয় এই মিউজিয়ামে রয়েছ বিশ্বের খ্যাতনামা বিভিন্ন চিত্রকরদের আরো ৩,৮০,০০০ টি চিত্রকর্ম । এই অমর কীর্তির জন্য বোধ করি প্রতি বছর সারা বিশ্ব থেকে ৯ মিলিয়নের উপরে পর্যটক আসে এই নগরীতে ।অন্যদিকে প্যারিস খুব সুশৃঙ্কল নগরী  ।কঠোর আইনের প্রয়োগ নগরীটিকে যেন স্বর্গ ভুমিতে পরিণত করে রেখেছে ।আনিন্দসুন্দর প্যারিস নগরীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে সিন নদী ।আর এই নদীর উপরে রয়েছে অনেক গুলো ব্রীজ ।এই ব্রীজ গুলো পায়ে হেঁটে পার হলে ব্রীজের রেলিংয়ে দেখতে পারবেন অসংখ্য থালা ।এই তালা গুলোকে প্যারিসের ভাষায় “লাভ প্যাডলক “ বলা হয়ে থাকে ।এই তালা গুলো নাকি প্রেমিক ও প্রেমিকারা তাদের নাম খচিত করে এই ব্রীজের রেলিংয়ে লাগিয়ে দিয়ে চাবি ফেলে দিয়েছে সিন নদীতে ।ভালোবাসা প্রকাশের এমন রীতি ও সংস্কৃতির কারণে প্যারিসকে বলা হয় ভালোবাসার শহর  ।প্যারিস নগরী দেখার জন্য দুই দিন যতেষ্ট সময় নয়
।কিন্তু এই সংক্ষিপ্ত সময় প্যারিস ঘুরে মনে হলো বিধিতা সকল সম্পদ,রুপ আর জৌলস দিয়ে গড়ে রেখেছেন স্বপ্নের এই নগরীটিকে ।এই জন্য সমগ্র পৃথিবী থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক প্রতিদিন ছুটে আসেন এই নগরীর নান্দনিকতা উপভোগ করতে ।
লেখক – কলামিষ্ট  ও সংগঠক , নিউইয়র্ক
বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV