নিউইয়র্কের সেমিনারে ৭১এ সংঘটিত জেনোসাইডকে গণহত্যা বলে সীমিতকরণ না করার পরমর্শ
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : আন্তর্জাতিক জেনোসাইড ও প্রতিরোধ দিবস ছিল ৯ই ডিসেম্বর। দিবসটি স্মরণে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইষ্ট্স্ এর ডাইভারসিটি প্লাজায় জেনোসাইডে নিহতদের স্বরণ, সম্মান ও শ্রদ্ধা নিবেদনের উদ্দেশ্যে মোমবাতি প্রজ্জলন, র্যালি এবং বাংলাদেশ প্লাজার কনফারেন্স রুমে “বাংলাদেশে একাওুরের জেনোসাইডের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির করণীয়” শীর্ষক সেমিনার ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে কী নোট স্পিকার ছিলেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ডঃ প্রদীপ রঞ্জন কর। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের উপ স্থায়ী প্রতিনিধি (দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত) তারেক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, নিউইয়র্ক বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা ও জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের প্রথম প্রেস সচিব নূরএলাহি মিনা। সঞ্জালকের দায়িত্বে ছিলেন-আয়োজক সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সনপাদক মঞ্জুর চৌধূরী। অনুষ্ঠানটির আয়োজক “জেনোসাইড ’৭১ ফাউণ্ডেশন, যুক্তরাষ্ট্র”।

সেমিনারে আলোচনা ও অন্যান্ন কর্মসূচীতে অংশগ্রহন ও উপস্থিত ছিলেন সৈয়দ মোহম্মদ উল্লা, হাকিকুল ইসলাম খোকন, রমেশ নাথ, মুলধারার রাজনীতিক মোশেদ আলম, মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান চৌধূরী, মুক্তিযোদ্ধা এম এ আওয়াল, মুক্তিযোদ্ধা খুরশীদ আনোয়ার বাবলু, মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্ট (অবঃ) ওয়াজিউল্ল্যা, মুক্তিযোদ্ধা অবিনাশ আচায্য, মুক্তিযোদ্ধা জাহিদুল, মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত বিশ্বাস, কমিউনিটি এ্যাটিভি ডাঃ টমাস দুলু রায়, আবদুর রহিম বাদশা, শাহ মোঃ বকতিয়ার, মোহম্মদ আলী সিদ্দিকী, শরীফ কামরুল আলম হিরা, মোঃ কায়কোবাদ খান, মিথুন আহমেদ, শাহানাজ মমতাজ, রুমানা আকতার,ওবায়দুল্লা মামুন, আল আমীন বাবু, আশরাফ আলম, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা প্রবিণী ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ার অধ্যাপক সব্যসাচি দস্তিদার, এ্যাভোকেট মোহম্মদ আলী বাবুল, এ্যাভোকেট জাকির হোসেন, জলি কর, মোঃ জামাল, খন্দকার জাহিদুল ইসলাম, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের শুভ রায়, একে চৌধূরী, প্রবিণী ফাউন্ডেশনের নির্বাহী সচিব শুভ জি দস্তিদার, মোঃ কামাল ও মিসেস কামাল ও দেলোয়ার মোল্লা।
সেমিনারে প্রধানমন্ত্রী জননেএী শেখ হাসিনার বানী পড়ে শোনান জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের উপ স্থায়ী প্রতিনিধি (দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত) তারেক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম। তিনি জেনোসাইডের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বিষয়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের পক্ষ থেকে কি কি পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে এবং কি ডিল্পোমেটিক এ্যাকশন গ্রহন করা হয়েছে বা অব্যহত কাজের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশের কনস্যাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা বলেন, তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংস্লিষ্ট বিভাগে নিজে কমরত ছিলেন, মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে যথেষ্ট তৎপর রয়েছে উল্লেখ করেন। এছাড়াও তিনি জানান আন্তর্জাতিক পয্যায়ে স্বীকৃতি আদায়ে বিভিন্ন ডিল্পোমেটিক কায্যক্রমও অব্যহত রয়েছে।
জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের প্রথম প্রেস সচিব নূরএলাহি মিনা উল্লেখ করেন ইতিমধ্যেই জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশন ও জেনোসাইড ’৭১ ফাউণ্ডেশন, যুক্তরাষ্ট্র এর যৌথ প্রচেষ্টায় জেনোসাইডের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বিষয়ে জনমত গঠনে উদ্দেশ্যে গত ২৫শে মাচে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মিশনের কর্মকতা, এ্যামবাসেডরবৃন্দ, আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন পথিতধশা ব্যক্তি ও সংস্লিষ্ট বিষয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসরদের সমন্ময়ে একটা বড় ধরনের আলোচনা অনুঠিত হয়েছে। এর ফলে জেনোসাইডের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পথ কিছুটা হলেও প্রশস্ত হবে। এ জাতীয় প্রোগ্রাম ভবিষ্যতে আরো অনুঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কী নোট পেপার উপস্থাপনায় মুক্তিযোদ্ধা ডঃ প্রদীপ রঞ্জন কর বলেন, জেনোসাইড কোনো হালকা বিষয় নয়। এর স্বীকৃতি চাওয়ার আগে ঠিক করতে হবে, কিভাবে এই স্বীকৃতি আদায় করা যায়? এই স্বীকৃতি আদায় করতে গিয়ে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে? কারন গত ৪৭ বছরে পৃথিবী বদলেছে, বদলেছে আমাদের বাংলাদেশও! হালকা উদ্যোগে একাওরের জেনোসাইডের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় কঠিন হবে।
কোনো জাতি/নৃতাত্বিক/গোএ/ধর্মীয় গোষ্ঠীকে পরিকল্পিতভাবে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস করার প্রয়াসকে জেনোসাইড বলা হয়ে থাকে। এই সংজ্ঞা ১৯৪৮ সালের ৯ ডিসেম্বর জাতিসংঘের জেনোসাইড কনভেনশনে গৃহীত হয়েছে। জেনোসাইড এখন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই সংজ্ঞায় বাংলাদেশে একাত্তোরের ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা ও ২ থেকে ৪ লাখের বেশি নারীকে নির্যাতন-ধর্ষণ, শারীরিক ও মানসিক আঘাত, জোড়পূবর্বক কম্পে আটকে রেখে পাঞ্জাবী বংশধর জন্মদানের প্রয়াস, সম্পদ লুট, ১ কোটি মানুষকে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে বিতারন এবং ধর্মীয় মাইনরীটি ক্লিলিঞ্চিং একাওোরে এ সব কিছুই হানাদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক সংগঠিত হয়েছে এবং এগুলো সবই জেনোসাইড হিসাবেই চিহ্নিত। একাওোরে পাক হানাদার বাহিনীর নিসংশতা শুধূমাএ গনহত্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। আরো অনেক বর্বরতা সংঘঠিত হয়েছে এবং এ সব কিছু মিলেই জেনোসাইড।
ডঃ প্রদীপ রঞ্জন কর আরো উল্লেখ করেন-আন্তর্জাতিক সংস্থা গুলো একাত্তরের জেনোসাইডের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দিলেও জেনোসাইড সম্পর্কে নানা সংবাদ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে এসেছিল। এমনকি টাইম ম্যাগাজিনেও ‘জেনোসাইড’ নামে মূল রচনা ছাপা হয়েছে। এছাড়াও একাত্তরের জেনোসাইড এমন ধরনের জেনোসাইড ছিল, যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বা সংবাদ সংস্থা যেমন, সেন্ট লুইস পোস্ট, নিউইয়র্ক টাইমস, সোভিয়েত সংবাদ সংস্থা তাস, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক। এমনকি জাতিসংঘের ভাষ্যেও উঠে এসেছিল। এ ছাড়া এনসাইক্লোপিডিয়া আমেরিকানা থেকে শুরু করে আমেরিকান জুরিস্ট কমিশন ১৯৭২, ১৯৭৬ সালে একাত্তরের এই হত্যাকাণ্ডকে জেনোসাইড হিসেবে চিহ্নিত করে।
এছাড়াও একাত্তরে যেসব বিদেশী সংবাদকর্মী ও বিভিন্ন বিদেশী সেবাদানকারী এখানে কাজ করেছেন, তাঁদের ভাষ্যেও জেনোসাইডের কথা উঠে এসেছে। জেনোসাইডের বিষয়টিতে উপমহাদেশের বাইরে বেশ কিছু প্রকাশনা সংস্থা উল্লেখ করেছে। গিনেস বিশ্ব রেকর্ডে বাঙালীদের বিরুদ্ধে নিষ্ঠুরতার বিষয়টিকে বিংশ শতাব্দীতে সংঘটিত পাঁচটি বৃহৎ জেনোসাইডের অন্যতমরূপে তুলে ধরা হয়।
মার্কিন সিনেটর অ্যাডওয়ার্ড কেনেডি ১৯৭১ সালের আগস্ট মাসে ভারতের শরণার্থী শিবিরগুলো পরিদর্শন করেন। তিনি পাকিস্তানি সৈন্যদের বিরুদ্ধে সরাসরি জেনোসাইড চালানোর অভিযোগ করেন।
২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘নিরাপত্তাবিষয়ক আর্কাইভ’ তাদের অবমুক্তকৃত দলিল প্রকাশ করে। এতে বাংলাদেশের নারকীয় হত্যাযজ্ঞকে “সিলেকটিভ জেনোসাইড” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
ঢাকায় অবস্থিত তৎকালীন আমেরিকান কনস্যুল জেনারেল আর্চার ব্লাড ওয়াশিংটনে ওয়াশিংটনে যে জরুরি ব্লাড টেলিগ্রাম পাঠিয়েছিলেন তার শিরোনাম ছিলো “সিলেকটিভ জেনোসাইড” আর অ্যান্থনি মাসকারেন্স এর সেই বিখ্যাত রিপোর্টটিরও শিরোনাম ছিলো ‘জেনোসাইড’.
১৯৮১ সালে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার রিপোর্টে বলা হয়, মাত্র নয় মাসে এবং যে দ্রুততায় বাংলাদেশে মানুষ হত্যা করা হয়েছে, তা বিশ্ব ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দৈনিক গড়ে ৬০০০-১২০০০ মানুষ খুন করা হয়েছে মাত্র ২৬০ দিনে। অথচ কম্বোডিয়ায় এই হার ছিল ১২০০।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত নির্মম গণহত্যার বিষয়টি ধীরে ধীরে বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো ও গবেষণা হচ্ছে। কানাডা ও আর্জেন্টিনা ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ইউনিভার্সিটি ও ডিপল ইউনিভার্সিটি, অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব ম্যাকোরি, ইউনিভার্সিটি অব হংকং ও পোল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব লজে একাওুরের জেনোসাইডের বিষয়টি পড়ানো হচ্ছে। তাই সংজ্ঞাগত ও তাত্ত্বিকভাবেই বাংলাদেশে সংঘটিত জেনোসাইডকে স্বীকৃতি না দেওয়ার কোনো কারণ নেই।
ডঃ প্রদীপ রঞ্জন কর দুঃখ প্রকাশ করে বলেন এত বড় ও ভয়াবহ জেনোসাইডের বিচার ও তার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই অনীহা ও ব্যর্থতার ফলে বিশ্বে একের পর এক জেনোসাইড অব্যাহত রয়েছে।
যার সর্বশেষ সংযোজন মিয়ানমারের সামরিক জান্তা কর্তৃক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন, হত্যা ও ধর্ষণ যা জেনোসাইড শামিল। আমরা জান্তা কর্তৃক মানবতাবিরোধী এই নিশংস কমকান্ডের তীব্র নিন্দা জানাই। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী আর যাতে নির্যাতনের শিকার না হয় সে জন্য আন্তর্জাতিক মহল আরও জোরালো উদ্যোগ নেবে এই আশা। সেই সাথে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরনাথীদের সম্মানের সাথে তাদের দেশে ফেরৎ পাঠানোর বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলের জোরালো পদক্ষেপ গ্রহনের আহবান জানানো হয়।
ডঃ প্রদীপ রঞ্জন কর আরো উল্লেখ করেন বর্তমান সরকারের অনেকগুলো পদক্ষেপ একাওুরের জেনোসাইডের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার পথে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। যেমন-
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ২৫ মার্চকে জাতীয় জেনোসাইড ডে হিসাবে স্বীকৃত দেওয়া হয়। ফলে বাংলাদেশের ’৭১ জেনোসাইড আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার পথ আরো সুগম হয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে সক্রিয় থাকার ঘোষনা দেয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন হয়েছে যুদ্ধাপরাধী বা মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের এবং বিচার চলছে ও বিচারে দণ্ডপ্রাপ্তদের শাস্তি কার্যকরের ফলে বাংলাদেশের গণহত্যার বিষয়টি আন্তর্জাতিক পরিসরে বেশি করে আলোচনায় এসেছে এবং আলোড়ন তৈরী হয়েছে।
৪৬ বছর পর, ২০১৬এর ১১ মার্চ জাতীয় সংসদে ২৫ মার্চকে জাতীয় জেনোসাইডের দিবসের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের পথ অনেকখানি প্রশস্থ হয়েছে।
একাওুরের জেনোসাইডের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রক্রিয়া প্রধানমন্ত্রী জননেএী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে শুরু করেছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে ভাষণে তিনি একাত্তরের গণহত্যাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি তোলেন এবং তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়কে এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণেরও আহ্বান জানান।
ঢাকায় ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ)গত সম্মেলনে বাংলদেশের মূল এজেন্ডা ছিল “একাওরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়”। সম্মেলনে অংশ নেওয়া আইপিইউভুক্ত ১৩২ দেশের এমপিদের সামনে একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো নৃশংস গণহত্যার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আইপিইউ সাধারণ অধিবেশনেও বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছে এবং সমাপনী সাধারণ অধিবেশনেও বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেকটাই সফল হয়েছে বিশ্বের অধিকাংশ সংসদীয় গণতান্ত্রিক দেশকে বিষয়টি জানাতে পেরে। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা দেশে ফিরে গিয়ে তাঁদের সরকার ও জনগণকে বিষয়টি জানাবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতা ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া। ’ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের এই সম্মেলনে একাওরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পথ অনেক খানি প্রশস্ত হয়েছে।
সুপারিশ:
১) একাওোরে পাকিস্তানি হানাদার সেনাবাহিনী কর্তৃক যে নারকীয়তা সংগঠিত হয়েছিল সেগুলো সবই জেনোসাইড হিসাবেই চিহ্নিত। একাওোরে পাক হানাদার বাহিনীর নিসংশতা শুধূমাএ গনহত্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। আরো অনেক বর্বরতাই সংঘঠিত হয়েছে এবং এ সব কিছু মিলেই জেনোসাইড। জেনোসাইডকে গণহত্যা বলে সীমিতকরন না করার পরমর্শ।
২) ২০১৫ সালে জাতিসংঘের ৬৯তম সাধারন পরিষদ ৯ই ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক জেনোসাইড ও প্রতিরোধ দিবস ঘোষনা করেছে এবং বিশ্বব্যাপী এই দিবসটির স্বরণ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচীও পালিত হচ্ছে। এমতবস্থায় বাংলাদেশের জাতীয় জেনোসাইড দিবস ২৫ মাচকে আন্তর্জাতিক জেনোসাইড দিবস হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়ার ঘোষনা সহজ হবে না। সুতরাং বাংলাদেশে সংঘঠিত একাওোরের সংঘঠিত নৃশংস জেনোসাইডের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে জোরালো তৎপরতা পরিচালনা করা বাঞ্চনীয়।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে করণীয়ঃ
১) আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার পথ বেশ দীর্ঘ হতে পারে। সে কারনে জেনোসাইডের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য স্বপ্ল ও দীর্ঘ মেয়াদী একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করা।
২) একাওুরের জেনোসাইডের ভয়াবহতা ও নৃশংসতা সম্পর্কে দেশে বিদেশে ব্যাপক জনমত তৈরী এবং এ উদ্দ্যেশে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সকল স্তরের পাঠ্যতে “জেনোসাইড স্টাডিজ” অন্তরভূক্ত করা।
৩) একাত্তরের জেনোসাইডের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করার উদ্দ্যেশে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়ের সহ দেশের পথিতদশা জেনোসাইড বিশেযজ্ঞদের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় লোকবল ও বাজেটসহ উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন শক্তিশালী জাতীয় কমিশন গঠন করা।
৪) দেশী ও বিদেশী বিভিন্ন উৎস হতে একাওোরের জেনোসাইডের নানাবিধ দালিলিক প্রমাণগুলো সংগ্রহের মাধ্যমে একটি ডকুমেণ্ট প্রণয়ন করা। যাতে গণহত্যার যাবতীয় যথার্থ তথ্য ও চিত্র ছাড়াও তার সঙ্গে অডিও–ভিডিও থাকবে।
৫) হলোকস্ট ডিনাইল আইনের ন্যায় দেশে একটি আইন প্রনয়ন করতে যাতে জেনোসাইডের প্রতিষ্ঠিত ফ্যাক্ট নিয়ে বির্তক তুলতে না পারে।
৬) কুটনীতিক পদক্ষেপ- প্রথমে বন্ধুপ্রতিম দেশসমুহের পার্লামেন্টে বাংলাদেশ জেনোসাইডের স্বীকৃতির আদায়। বিভিন্ন দেশের পার্লামেন্টের স্বীকৃতি আদায়ের পর সব দেশগুলো সাথে নিয়ে সম্মিলিত ভাবে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে স্বীকৃতির বিষয়টি উত্থাপিত করা।
৭) জেনোসাইডের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চাওয়ার পাশাপাশি এই জেনোসাইডের মূল নায়কদের ও ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তানি সেনাদের বিচারের আওতায় আনার ব্যবস্থা করা এবং পাকিস্থানের কাছে পাওনা ফেরৎ আনার পদক্ষেপ গ্রহন।
- Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone
- যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা, আদালতের নির্দেশের পরও কাটেনি জট
- Human Rights Must Be at the Heart of Economic Governance and Policies: Ambassador Irene Khan
- বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাস্তবায়ন উপলক্ষে নিউইয়র্কে সমাবেশ, আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার প্রত্যয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের
- অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান
- নিউইয়র্কে হিউম্যান সাপোর্টের বিনামূল্যে ফ্লু টিকাদান কর্মসূচি
- New York Attorney General James Announces Election Protection Hotline Ahead of November General Election
- ASAAL’s 19th Annual Convention Draws Nearly 500, Calls for Stronger Civic Engagement and Workers’ Rights