বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ‘চমক’ দেখাতে পারেন ড. মোমেন
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক : বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে গতকাল শপথ
নিয়েছেন ড. একে আবদুল মোমেন। তিনি কূটনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ, নানা কারণে আলোচিতও। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন প্রায় অর্ধ যুগ।
সেখান থেকে সরাসরি রাজনীতিতে। মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে এবারই প্রথম জাতীয় সংসদে যাচ্ছেন তিনি। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভায় (পূর্ণ মন্ত্রী হিসাবে)। মন্ত্রী হিসাবে নাম ঘোষণার আগে থেকেই তাকে নিয়ে মাতামাতি। তিনি ‘চমক’ দেখাতে পারেন! এমন সংবাদও বেরিয়েছিল। পেশাদাররা বলছেন, সত্যিই ড. মোমেন অনেককে চমকে দিয়েছেন। তার প্রতি যে প্রধানমন্ত্রীর প্রগাঢ় আস্থা সেটি তিনি প্রমাণ করেছেন। ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচন প্রশ্নে পশ্চিমা দুনিয়ার রিজারভেশন আছে। এটি ওপেন-সিক্রেট। ঠিক তখনই পশ্চিমাদের বন্ধু হিসাবে পরিচিত ড. মোমেন দায়িত্ব নিচ্ছেন। অবশ্য পূর্বের বন্ধু রাষ্ট্রগুলো বিশেষ করে চীন-রাশিয়া এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গেও তার সুসম্পর্ক রয়েছে। ঢাকার কূটনীতিকরা বলছেন, এখন দেখার বিষয়- বাংলাদেশের বিদ্যমান পূর্বমুখী কূটনীতিকে এগিয়ে নেয়ার পাশাপাশি ড. মোমেন তার ‘গুড অফিস’ ব্যবহার করে কীভাবে পশ্চিমা বন্ধু ও উন্নয়ন সহযোগীদের বাগে আনতে পারেন?
এক নজরে ড. মোমেন: সিলেটের সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে জন্ম নেয়া ড. এ কে আবদুল মোমেনের পরিচয়ের ব্যাপ্তি সীমান্ত ছড়িয়েছে বহু আগে। ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি অর্থনীতিতে বি.এ. এবং ১৯৭১ সালে উন্নয়ন অর্থনীতিতে এম.এ. ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল থেকে এমবিএ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নর্থইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয় (ম্যাসাচুসেটসের বোস্টন) থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। আইনশাস্ত্রের ওপরও তার পড়াশোনা রয়েছে। বিদায়ী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সহোদর ড. মোমেন ২০০৯-২০১৫ পর্যন্ত জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন। তার আমলেই বাংলাদেশ জাতিসংঘে সর্বোচ্চ সংখ্যক শান্তিরক্ষী পাঠানোর মর্যাদা পায়। সেই সময়েই বাংলাদেশ শান্তিরক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ এবং নেভাল ফোর্স পাঠানো শুরু করে। বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তিতে জাতিসংঘের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন রাষ্ট্রদূত ড. মোমেন। তিনি জাতিসংঘের সাউথ-সাউথ কো-অপারেশনের উচ্চপর্যায়ের কমিটিতে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। ইউনিসেফ নির্বাহী বোর্ডের সভাপতিও ছিলেন।
৬৭তম জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে উপ-সভাপতি এবং সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জাতিসংঘে যোগ দেয়ার আগে ড. মোমেন জাতিসংঘের পিস বিল্ডিং কমিশনের চেয়ার ছিলেন। তিনি ফ্রেমিংহাম স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ব্যবসায় প্রশাসন ও অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। জাতিসংঘে যাওয়ার আগে ড. মোমেন (১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত) সৌদি আরবের অর্থ ও জাতীয় অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকল্পে অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টার, দ্য সালেম স্টেট কলেজ, মেরিম্যাক কলেজ, ক্যামব্রিজ কলেজ, কেনেডি স্কুল অব গভর্নমেন্ট, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি, ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি এবং নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ফ্যাকাল্টি মেম্বার ছিলেন।
১৯৭৮ সালে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে ফোর্ড ফাউন্ডেশন এবং মেশন ফেলো হিসেবে উচ্চশিক্ষা নেয়ার আগে তিনি ওয়াশিংটন ডিসিতে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। এ ছাড়া সময়ে সময়ে তিনি বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে নিয়োজিত ছিলেন। ড. মোমেন একজন লেখক ও কলামনিস্ট। তিনি ৪টি বই এবং ২৫০টির ওপর গবেষণাপত্র লিখেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি মুজিবনগর সরকারের সঙ্গেও কাজ করেছেন।
মানবজমিন
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!