শ্বেতশুভ্রা বীণাপানি সরস্বতী দেবীর আরাধনায় গ্রেটার ওয়াশিংটনবাসী সনাতন ধর্মাবলম্বীরা
লোটাস রায় : “সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে বিশ্বরূপে বিশালাক্ষী বিদ্যাংদেহী নমোহস্তুতে” মন্ত্রজ্ঞানের মধ্য দিয়ে বাগদেবীর মঙ্গলালোকে, মাঘমাসের শুক্লাপঞ্চমী, গাদা, পলাশ ফুল, খাগের কলম, দোয়াত আর পঞ্চ প্রদীপের শুভ্র শিখা, ধূপ ধুনোর সুগন্ধি, কাসর, ঢোল আর শঙ্খধ্বনিতে মেতে উঠে গ্রেটার ওয়াশিংটনে বসবাসরত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্য্য এবং ব্যাপক আনন্দ আয়োজনের মধ্য দিয়ে অত্র এলাকার অন্যতম সুপরিচিত সংগঠন “গ্রেটার ওয়াশিংটন হিন্দু সোসাইটি” সপ্তম বারের মত আরভিং মিডল স্কুল মিলনায়তনে দেবী সরস্বতী পূজার আয়োজন করেছিল গত ৯ই ফেব্রুয়ারী, ২০১৯।
শীতের হাওয়ায় দোলা লাগিয়ে বসন্তের আগমন। রঙ্গীন বসন্তের দাগ গায়ে লাগিয়ে প্রকৃতি আরো রঙ্গীন। সেই রঙ্গীন প্রকৃতির দেবী বরন, মাতা সরস্বতী, বাকদেবী, জ্ঞান দাত্রী, দেবীর একহাতে বীনা, আর এক হাতে বরাভয়। শুভ্রাবরনা দেবী সরস্বতী হংসবসনা। শুক্লা পঞ্চমী তিথির সকাল থেকেই ভক্তবৃন্দ হলুদ, বাসন্তি, সাদা, লাল রঙের পোশাকে সজ্জিত হয়ে পূজার ডালি হাতে আসতে শুরু করে পূজামন্ডপে। ধূপ ধুনোর গন্ধ ও কাসির বারিতে মুখরিত হয়ে অঠে পূজামন্ডপের চারিদিক। সকল ভক্তবৃন্দ যেন বাকদেবীর আরাধনায় মত্ত হয়ে ওঠে। শুভ্রবরনা দেবীর পূজা অর্চনা, পূষ্পাঞ্জলি প্রদান, হাতে খড়ি, প্রসাদ বিতরন, মধ্যাহ্ন ভোজ, সান্ধ্য ভোজ, এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালা দি্যে সাজানো হয়েছিল সারাদিনব্যাপী এই পূজা অর্চনাকে। পুজার পৌরহিত্য করেন মহাদেব ঘটক।
অত্র এলাকায় বসবাসরত বাঙ্গালী ভবিষ্যত প্রজন্মকে বাংলার কৃষ্টি, সংস্কৃতি, রীতি নীতি সম্পর্কে অবহিত করবার লক্ষ্যে বেলা চারটায় শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। ক্ষুদে শিল্পিদের সরস্বতী দেবীর মন্ত্র উচ্চারনের মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্টানের পর্দা তোলা হয়। এ পর্বে ক্ষুদে শিল্পিরা রবীন্দ্রনাথের কাগজের নৌকা আবৃত্তিসহ সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা করেন।
দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয় রবীন্দ্রনাথের “বরিষ ধারা মাঝে শান্তির বারী” সমবেত সংগীতের মধ্য দিয়ে। গ্রেটার ওয়াশিংটন হিন্দু সোসাইটির শিল্পীরা উপস্থাপন করেন একক ও দলীয় সংগীত, একক ও দলীয় নৃত্য। সংগীতের সুর লহরী আর নুপূরের ঝংকারে মেতে অঠে দর্শকবৃন্দ। অনুষ্ঠানের তৃতীয় পর্বে ছিল অত্র একালার সুনামধন্য সংগঠন “হৃদয়বীনার” পরিবেশনায় “হৃদয়ের একুল ওকুল” অন্যতম সংগঠক আবু রূমী আর তার দলের পরিবেশনায় ছিল আধুনিক ও মাটির গান। গায়ক নাসের চৌধুরীর কীর্তন শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষন ছিল ব্যান্ড “শ্যডো ড্রিমসের” ভিন্ন ভিন্ন গানের চমৎকার মিশ্রন যা কিনা শ্রোতাদের এ প্রবাসের মাটিতে মাতিয়ে তোলে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পুরো সময় জুড়ে যন্ত্রানুসঙ্গে সঙ্গত করেছেন তবলায়- আশীষ বড়ুয়া, কীবোর্ড – আবু রুমি, হারমোনিয়ামে- সীমা দাস, রাজদীপ ভাদুরী, বাঁশি- মোঃ মজিদ, মন্দিরা-জয় দত্ত, জিপসী- সঞ্জয় বড়ুয়া, শব্দ নিয়ন্ত্রণ: শিশির, স্টেজ লাইট: প্রান্তিক।সাবলীল সঞ্চালনায় পুরো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটির পরিচালনা করেন- মিঠুন দস্তিদার, শর্মিলা বনিক, কৃষ্ণা দত্ত, ও লোটাস রায়।
দেবীর অনন্ত রূপ, চেতনার অনন্ত রূপেরই আধার, তাঁর আরাধনায় সিদ্ধ হয় পার্থিব জীবনের সমগ্র জ্ঞান আরোহন। মানব লাভ করে চেতনা। যাত্রা শুরু হয় অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে জ্ঞানের আলোকে। শুভ্রবরনা দেবীর আরাধনায় সন্ধ্যা আরতীর মাংগলিক ছোয়া মানব জাতির মধ্যে শান্তির মোহিনীর সুর বেজে ওঠে। আর সাথে অত্র এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বী সহ বিভিন্ন ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সুশীল সমাজের ব্যাক্তিবর্গের বিপুল সংখ্যক উপস্থিতি গ্রেটার ওয়াশিংটন হিন্দু সোসাইটি (GWHS)। এই সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠানটিকে যেন আরো মাধুর্য্যমন্ডিত ও সার্থক করে তোলে। পরিপূর্নতা পায় এই পূজা অর্চনা।
- অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান
- নিউইয়র্কে হিউম্যান সাপোর্টের বিনামূল্যে ফ্লু টিকাদান কর্মসূচি
- New York Attorney General James Announces Election Protection Hotline Ahead of November General Election
- ASAAL’s 19th Annual Convention Draws Nearly 500, Calls for Stronger Civic Engagement and Workers’ Rights
- নিউইয়র্কে ট্রাফিক এজেন্ট ইউনিয়নের সভায় দুই বাংলাদেশি নেতাকে ঘিরে সংঘর্ষ, আসন্ন নির্বাচন ঘিরে নেতৃত্বের বিরোধ প্রকাশ্যে
- দেহের মেহরাবে অনন্তের দীপ
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে ব্রঙ্কসে ‘সেলিম-আলী’ পরিষদের সমাবেশ; মামলার কারণে আর্থিক ক্ষতি ও ভোটাধিকার ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ
- নিউইয়র্কে আ্যসালের ১৯তম বার্ষিক কনভেনশন অনুষ্ঠিত; শ্রমিক অধিকার, নাগরিক ক্ষমতায়ন ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের অঙ্গীকার