বঙ্গবন্ধুর ৯৯তম জন্মদিনে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের আলোচনা সভা
স্বীকৃতি বড়ুয়া, নিউইয়র্ক : যথাযোগ্য মর্যাদায় যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের উদ্যোগে পালিত হল সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর ৯৯তম জন্মদিন। গত ১৮ই মার্চ সোমবার নিউইয়র্কের জ্যামাইকার এক রেস্তোরাঁয় এই অনুষ্টানের আয়োজন করা হয় এবং এতে সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ডঃ নুরুন নবী।

শুরুতেই বঙ্গবন্ধুর আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া এবং কেক কেটে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। এরপর কবিতা আবৃত্তি, বঙ্গবন্ধুর জীবন ও আদর্শ এবং নিউইয়র্কে সর্বজন শ্রদ্ধেয়, বিটিভির সাবেক প্রযোজক বেলাল বেগ-এর পরিচালনায় ‘কল্পনায় বঙ্গবন্ধুকে কেমন দেখি’ শীর্ষক আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন উপস্থিত নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধু পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ডঃ নুরুন নবী বলেন বঙ্গবন্ধুকে আমি দেখেছি একজন আদর্শিক পিতা হিসেবে। তিনি বলেন একাধিকবার আমার সৌভাগ্য হয়েছে বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্যে আসার এবং তখনকার সারে সাত কোটি বাঙালীর মধ্যে আমি নগণ্য একজনকে বঙ্গবন্ধু যে স্নেহ দিয়েছেন একজন সত্যিকার জাতির পিতার পক্ষেই এটা সম্ভব। তিনি আরও বলেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে তারই সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে সোনার বাংলায় রূপান্তরিত করার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। সাপ্তাহিক বাঙালী পত্রিকার সম্পাদক কৌশিক আহমেদ বলেন আমি বঙ্গবন্ধুকে দেখি সাদা পায়জামা পাঞ্জাবি পরা, পাঞ্জাবির উপরে কুচকুচে কালো মুজিব কোট, সুঠাম দেহের ধবধবে ফর্সা মানুষটি আমার সাথে এসে করমর্দন করলেন, উনার নরম তুলতুলে হাতের সেই স্পর্শ আমি এখনো অনুভব করি। ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুকে দেখার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অধ্যাপিকা হোসনে আরা আবেগাফ্লুত হয়ে পরেন এবং বলেন বঙ্গবন্ধু আমাদের অভিধান, যে অভিধানকে ধারণ করেই আমাদের আগামীর পথ চলতে হবে। বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা খান মিরাজ বলেন গোপাল গঞ্জের সন্তান হয়ে আজ আমি গর্বিত কারণ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালির জন্মও সেই একই গোপাল গঞ্জের মাটিতে। উনি বলেন একবার সাক্ষাতে পরিচয় দিতে গিয়ে আমি যখন জাতির পিতাকে বলেছিলাম আমি গোপাল গঞ্জের বঙ্গবন্ধু কলেজের ছাত্র লীগের জি এস – বঙ্গবন্ধু আকাশ পানে তাকিয়ে দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে বলেছিলেন ‘বন্ধু’ একদিন থাকবেনারে কিন্তু ‘বঙ্গ’ থাকবে তাই ‘বঙ্গ’ জননীর সেবা করবি সারা জীবন। দেশের প্রতি উনার কি ভালবাসা – তা ভাষায় প্রকাশ করা যায়না। বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তৎকালীন সামরিক কর্মকর্তা রুহুল আমিন ভুঁইয়া বলেন – সেনাবাহিনীতে চাকরির সুবাধে বহুবার বঙ্গবন্ধুকে দেখার সুযোগ আমার হয়েছিল। আমি বঙ্গবন্ধুকে একবার দেখেছি দুই তিন জন যুবককে তিরস্কার করতে, কারণ তারা একজন বয়স্ক রিকশা চালককে চাচা সম্বোধন না করে ‘এই রিকশা যাবেন’ বলেছিল। এমন মহৎ হৃদয়ের নেতা ছিলেন বঙ্গবন্ধু। তবে সবচেয়ে হৃদয়বিদারক যে দৃশ্যটি আমি দেখেছি ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টে – ঘটনার পরে যখন তদন্তের জন্য আরও কিছু মিলিটারি পুলিশের সাথে আমিও সেখানে গিয়েছি, আমি দেখেছি লুঙ্গী পাঞ্জাবি পরা উনার নিতর দেহ সিরিতে পরে থাকতে। কিন্তু তখন যাদের অনেককেই স্বচক্ষে দেখেছি আনন্দিত হতে, তাদের অনেকেই পরবর্তীতে আবার দেশের বড় বড় নেতাও হয়েছিলেন – এটাই সবচেয়ে দুঃখের বিষয়।
শহীদ পরিবারের সন্তান ফাহিম রেজা নূর আলোচনায় বঙ্গবন্ধুর সাথে বাবা শহীদ সিরাজ উদ্দিনের সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্নেহ, বিশ্বাস ও বন্ধুসুলভ আচরণের কথা উল্লখে করেন। অধ্যাপিকা তাহমিনা শহিদ বলেন আমি জেগে জেগে প্রতিনিয়ত বঙ্গবন্ধুকে স্বপ্ন দেখি – বঙ্গবন্ধু তার ৯৯তম জন্মদিনে বসেন আছেন, আর সবাই এসে বঙ্গবন্ধুকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। ইউএস কমিটি ফর সেকুলার এন্ড ডেমোক্রেটিক বাংলাদেশ-এর সাধারণ সম্পাদক ও নিউইয়র্কের পরিচিত মুখ জাকারিয়া চৌধুরী তার আলোচনায় বলেন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কোন পক্ষ বিপক্ষ বা বিতর্ক থাকতে পারে না, তিনি কোন দলের বা গোষ্ঠীর নয়, তিনি বাংলার, বাঙালীর এবং সারা বিশ্বের। অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন নিউইয়র্কের জনপ্রিয় বাচিক শিল্পী মুমু আনসারী।
আলোচনায় অন্যান্যদের মাঝে অংশগ্রহণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা যথাক্রমে ডঃ জিনাত নবী, সুব্রত বিশ্বাস, মোঃ মনির হোসেন,, শরাফ সরকার, আব্দুল লতিফ বিশ্বাস ও মোঃ শহিদুল ইসলাম, মূলধারার রাজনীতিবিদ মোরশেদ আলম, সাংবাদিক নিনি ওয়াহেদ ও শীতাংশু গুহ, অধ্যাপক শাহদাত হাসান, একুশে চেতনা পরিষদের আহ্বায়ক ওবায়দুল্লাহ মামুন, তফাজ্জল করিম, শাহ আলম বেবি, শাহিদ রেজা নুর, শুভ রায়, ইসমাইল হোসেন স্বপন, প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রাফায়েত চৌধুরী এবং সঞ্চালনায় ছিলেন যুগ্মসাধারণ সম্পাদক স্বীকৃতি বড়ুয়া। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য ফাহিম রেজা নূর উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
- New York Attorney General James Announces Election Protection Hotline Ahead of November General Election
- ASAAL’s 19th Annual Convention Draws Nearly 500, Calls for Stronger Civic Engagement and Workers’ Rights
- নিউইয়র্কে ট্রাফিক এজেন্ট ইউনিয়নের সভায় দুই বাংলাদেশি নেতাকে ঘিরে সংঘর্ষ, আসন্ন নির্বাচন ঘিরে নেতৃত্বের বিরোধ প্রকাশ্যে
- দেহের মেহরাবে অনন্তের দীপ
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে ব্রঙ্কসে ‘সেলিম-আলী’ পরিষদের সমাবেশ; মামলার কারণে আর্থিক ক্ষতি ও ভোটাধিকার ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ
- নিউইয়র্কে আ্যসালের ১৯তম বার্ষিক কনভেনশন অনুষ্ঠিত; শ্রমিক অধিকার, নাগরিক ক্ষমতায়ন ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের অঙ্গীকার
- নিউইয়র্কে আদালতের নিষেধাজ্ঞায় স্থগিত বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন; ওসমান চৌধুরীর সদস্যপদ প্রত্যাখ্যান নিয়ে মামলা, ৫ নভেম্বর পরবর্তী শুনানি; সংবাদ সম্মেলনে আইনি পরিস্থিতি তুলে ধরল নির্বাচন কমিশন
- হানি ট্র্যাপে হত্যার অভিযোগ, সাগরের মামলা পিবিআইতে দেওয়ার দাবি পরিবারের; প্রধান আসামির জামিনে উদ্বেগ, দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান