“টেলিভাই মাইকেল জ্যাকসনের মত একটা চরিত্রে অভিনয় করবেন বলে টেলিরাজ নাম দিয়ে একটা স্কিপ্ট নিজেই লিখে ফেললেন”
খান শওকত : ১৯৮৫ সালের কথা। টেলিসমাদের জনপ্রিয়তা তখন তুঙ্গে। বিন্দু ছায়া ছবির অফিস ছিল ৬৬ কাকরাইল ব্লিডিংয়ে। আমি সেখানে প্রথমে Accountant হিসাবে চাকরীতে অংশগ্রহণ করি। পরের বছর বিন্দু ছায়া ছবির Manager হিসাবে দায়িত্ব পাই। ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত আমি বিন্দু ছায়া ছবির Manager ছিলাম। তখন টেলিভাইয়ের সাথে প্রতিদিন কাজ করেছি।
আমাদের একটি মাত্র ছবি ছিল “মনা-পাগলা”। তখন সারা বাংলাদেশে সাড়ে আটশর মত সিনেমা হল ছিল। তার মধ্যে প্রায় সাড়ে তিনশ ছিনেমা হলে মনাপাগলা ছবিটিচালিয়ে ছিলাম। টেলিভাই আর আমি যখন বিভিন্ন জেলায় জেলায় যেতাম, উনি আর আমি একসাথে হোটেলে থাকতাম। আর খুলনাতে গেলে শাহিন হোটেলে থাকতাম।টেলিভাই খুলনায় আমাদের বাড়িতেও বেড়াতে গিয়েছিলেন। উনার সাথে আমার অনেক স্মৃতি জড়িত আছে। উনার দুই মেয়ে,এক ছেলে। ৫৮/এইচ পশ্চিম রাজাবাজারসিরামীক ইট দিয়ে বানানো উনার সুন্দর দোতলা বাড়ি। সেখানে ১ ছেলে, আর ২ মেয়ে নিয়ে থাকতেন।
টেলিভাই “মনাপাগলা”ছবির নায়ক চরিত্রে অভিনয় করার পর আর কমেডি চরিত্রে অভিনয় করতে চাইতেন না। ঠিক ওইসময় সারা বিশ্বে মাইকেল জ্যাকসনের জনপ্রিয়তাছিল তুঙ্গে। টেলিভাই মাইকেল জ্যাকসনের মত একটা চরিত্রে অভিনয় করবেন বলে “টেলিরাজ” নাম দিয়ে একটা স্কিপ্ট নিজেই লিখে ফেললেন। উনি ভাল লেখক ছিলেন,ভাল গীতিকার, সঙ্গীত শিল্পী, কমেডিয়ান এবং ভাল চিত্রশিল্পীও (আর্ট কলেজ থেকে পাশ করা) ছিলেন। উনার বড় মেয়ে কাকলী-ও তখন আর্ট কলেজে পড়তো । ছোট মেয়েবিন্দু, তার নামেই ছিল চলচ্চিত্র অফিসটি।
৬ এপ্রিল শনিবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে রাজধানরীর স্কয়ার হাসপাতালে ঢাকাই চলচ্চিত্রের অত্যন্ত শক্তিশালী ও জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা টেলি সামাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগকরেন। তিনি ১৯৭৩ সালে ‘কার বউ’ সিনেমা দিয়ে চলচ্চিত্রে পা রাখেন। চার দশকে প্রায় ৬০০ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই নানা অসুখে ভুগছিলেনবরেণ্য এই অভিনেতা। সম্প্রতি শরীর বেশি খারাপ হলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তার খাদ্য নালীতে সমস্যা ছিলো। শুধু তাই নয় বুকে ইনফেকশন ছিল। দীর্ঘদিনধরে ভুগছিলেন ডায়াবেটিসেও। শেষ দিকে রক্তের প্লাটিলেটও কমে যাচ্ছিলো। গেল বছর থেকেই হাসপাতালে আসা যাওয়া নিয়মিত কাজে পরিনত হয়েছিলো। তবে শেষ রক্ষাহলো না টেলি সামদের। শনিবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন গুণী এই অভিনেতা। টেলিসামাদ ১৯৪৫ সালের ৮ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানউপজেলার নয়াগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন। তার বড় ভাই চারুশিল্পী আব্দুল হাই।
উনি প্রচন্ড চমৎকার একজন ভাল মানুষ। আকর্ষিক ভাবে এই মানুষটি আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন। তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। তাঁর শোকন্তপত পরিবারেরপ্রতি সমবেদনা প্রকাশ করছি। দোয়া করি আল্লাহ টেলিভাইকে বেহশত নসীব করুন। আমীন।
- নারীর ক্ষমতায়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ : ড. খলিলুর রহমান
- নিইউয়র্কে টাইমস স্কয়ারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় যোগ দিচ্ছেন ম্যানহাটান বরো প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড হোয়েলম্যান
- নিউইয়র্কে স্ট্রিট ভেন্ডরদের জন্য নতুন আইন কার্যকর; জেল শাস্তি বাতিল, আরোপ করা হবে জরিমানা
- New York Attorney General James Leads Bipartisan Coalition Suing Predatory Lender OneMain for Scheme to Trap Consumers in Debt
- নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট হাউসে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন ২৩ মার্চ : আহ্বায়ক কমিটি গঠন
- বাংলাদেশে আওয়ামীলীগসহ সকল রাজনৈতিক দলের স্বাভাবিক রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টি করার দাবি নিউজার্সি স্টেট আওয়ামী লীগের
- নিউইয়র্কে ‘অল কাউন্টি হেলথকেয়ার গ্রুপ’র বার্ষিক ইন্টারফেইথ ইফতার পার্টি
- HUSBAND CHARGED WITH MURDER AND DISMEMBERMENT OF WIFE WHOSE REMAINS WERE FOUND IN SEPARATE LOCATIONS ALONG BROOKVILLE BLVD AND CROSS BAY BLVD








