Sunday, 25 October 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে আদালতের নিষেধাজ্ঞায় স্থগিত বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন; ওসমান চৌধুরীর সদস্যপদ প্রত্যাখ্যান নিয়ে মামলা, ৫ নভেম্বর পরবর্তী শুনানি; সংবাদ সম্মেলনে আইনি পরিস্থিতি তুলে ধরল নির্বাচন কমিশন হানি ট্র্যাপে হত্যার অভিযোগ, সাগরের মামলা পিবিআইতে দেওয়ার দাবি পরিবারের; প্রধান আসামির জামিনে উদ্বেগ, দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity
সব ক্যাটাগরি

যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন কেন্দ্রিক নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 26 বার

প্রকাশিত: July 1, 2019 | 4:35 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার পররাষ্ট্রনীতিতে রাশিয়া এবং চীনকে খুবই গুরুত্ব দিচ্ছেন। একইসঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব স্বার্থের অগ্রাধিকার দেয়াও তার প্রশাসনের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এই সকল পদক্ষেপের মাধ্যমে ট্রাম্প এই তিন দেশ কেন্দ্রিক এক বিশ্ব ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপনের প্রাথমিক কৌশলী হিসেবে কাজ করছেন। এমনটাই মনে করেন বিশ্বের ডক্টর মাইকেল ইভানোভিচ। যা তিনি মার্কিন গণমাধ্যমে লেখা এক কলামে ব্যাখ্যা করেছেন। সূত্র : সিএনবিসি।

ডক্টর মাইকেল ইভানোভিচ একজন শীর্ষ রাজনৈতিক অর্থনীতি এবং বিনিয়োগ কৌশল বিশেষজ্ঞ। তিনি প্যারিসভিত্তিক ওইসিডি জোটের একজন শীর্ষ অর্থনীতিবিদ। এছাড়াও, ফেডারেল রিজার্ভের আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদ হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত কলম্বিয়া বিজনেস স্কুলেও শিক্ষকতা করেন।

সিএনবিসি নিউজে প্রকাশিত কলামে তিনি লেখেন, সদ্য সমাপ্ত জি-২০ সম্মেলনে ট্রাম্প একথা নিশ্চিত করেছেন, দিনশেষে তিনি রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সহযোগিতামূলক বিশ্ব ব্যবস্থা কায়েমের পক্ষে। গত শুক্রবার ওসাকা সম্মেলনে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে এক অন্তরঙ্গ বৈঠকে অংশ নেন। এসময় তারা, বিশ্ব এবং আঞ্চলিক অর্থনীতি নিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তারা নিয়মিত আলোচনায় অংশ নেবে এই বিষয়ে ঐক্যমত্য পোষণ করেন। এছাড়াও, দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্কের উন্নয়নের পথ খুঁজে বের করার বিষয়ে তারা আলোচনা করেছেন।

এরপরেই শনিবার বাণিজ্যযুদ্ধ নিরসন নিয়ে চীনা রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করেন ট্রাম্প। বৈঠকের আগে জি-২০ জোটের নীতি-নির্ধারক সভায় শি জিনপিং বহুত্ববাদি বৈশ্বিক ক্ষমতাকেন্দ্রের গুরুত্ব তুলে ধরে, সা¤প্রতিক মার্কিন পদক্ষেপগুলোর কার্যত সমালোচনাই করেছেন। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সংরক্ষনবাদি নীতি নিয়ে নিজের অসন্তোষ খুলেই প্রকাশ করেন শি জিনপিং। এসময় তিনি জানান, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার স¤পর্ক চায়, সংঘর্ষ এবং উত্তেজনার সম্পর্ক নয়।

এরপরেই শি-ট্রাম্প বৈঠকে ৩০ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্য আমদানিতে প্রস্তাবিত শুল্কারোপের প্রক্রিয়া স্থগিত করেন ট্রাম্প। আরো অতিরিক্ত শুল্কারোপের বিষয়টিও আলোচনার স্বার্থে মুলতবী করেন ট্রাম্প। এবং একইসঙ্গে, উভয় রাষ্ট্রপতি বাণিজ্য আলোচনায় ইতিপূর্বে যতখানি অগ্রগতি এসেছিলো ঠিক সেখান থেকেই আলোচনা শুরুর ঘোষণা দেন।

তবে এই বৈঠকের সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, সেখানে শি জিনপিং চীনের কতটা ক্ষমতা প্রদর্শনের সুযোগ পেয়েছেন। ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় তিনি, চীনে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে মার্কিন কোম্পানিগুলো যে সকল বাঁধার মুখে পড়ে, সেসব অভিযোগ আমলে না নিয়ে পাল্টা যুক্তরাষ্ট্রে চীনা কোনপানিগুলোর ব্যবসা পরিচালনায় মার্কিন সরকারের ন্যায্য সহায়তা কামনা করেন। এই প্রেক্ষিতে ট্রাম্প মার্কিন কোম্পানিগুলোকে চীনা কো¤পানি হুয়াওয়ের কাছে প্রযুক্তিপণ্য বিক্রয় অব্যাহত রাখার অনুমতি দেয়ার অঙ্গীকার করেন। অর্থাৎ, চীনের চাপের মুখে ট্রাম্প নতি স্বীকার করে, পাল্টা দ্বিপাক্ষিক সহায়তা উন্মোচনে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। তবে একইসঙ্গে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এমন প্রযুক্তি বিক্রি করার ক্ষেত্রেই এই অঙ্গীকার কার্যকর হবে।

ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক কার্যাবলী তার তড়িৎমতি রাজনীতির অংশ মনে করা হলেও, এটা খুবই পরিকল্পিত । বিশেষ করে এর মাধ্যমে ট্রা¤প তার আগাম নির্বাচনী প্রচারণার কাজ শুরু করেছেন। কারণ, ট্রাম্পের পুনঃনির্বাচিত হওয়ার পথে চীন এবং রাশিয়ার সঙ্গে যে কোন ধরনের সরাসরি উত্তেজনা তার রাজনৈতিক প্রচারণা মোকাবেলায় বিরোধী পক্ষকে শক্তিশালী করবে। স্বাভাবিকভাবেই ট্রা¤প এই ঝুঁকি নিতে চান না। আর এই বিষয়টি শি বা পুতিন দুজনের কারোরই অজ্ঞাত নয়।

ট্রা¤েপর বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের ভিড় যত বেড়েছে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়েই পররাষ্ট্রনীতির জাল বিছিয়ে চলেছেন ট্রাম্প। বিশ্ব দরবারে তার জনপ্রিয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব তুলে ধরতে পারলে বিরোধীদের মুখ বন্ধ করা তার পক্ষে সহজ হবে, ট্রাম্প তা ভালোই অনুধাবন করেন। একইসঙ্গে, বিশ্ব রাজনীতিতে তিনি একজন সফল আলোচক, মার্কিন জনগণকে এমন ধারনাও দিতে চান তিনি। এতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ বা প্রাধান্য যদি সাময়িক বিসর্জিত হয়, তাতেও ট্রাম্পের ব্যক্তিগত কোন ক্ষতি নেই।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ