Sunday, 15 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে ‘অল কাউন্টি হেলথকেয়ার গ্রুপ’র বার্ষিক ইন্টারফেইথ ইফতার পার্টি HUSBAND CHARGED WITH MURDER AND DISMEMBERMENT OF WIFE WHOSE REMAINS WERE FOUND IN SEPARATE LOCATIONS ALONG BROOKVILLE BLVD AND CROSS BAY BLVD নিউইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসের গ্রাফিক্স ওয়ার্ল্ডে মাসব্যাপী ইফতার আয়োজন নিউইর্য়কে এনওয়াইপিডি মুসলিম অফিসার সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ডিনার ও অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠিত নিউইয়র্কে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতার ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় পার্টির ইফতার ও দোয়া মাহফিল যুক্তরাষ্ট্র যুবদল নেতা জাকির এইচ চৌধুরীর সংবাদ সম্মেলন: রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আদালত কর্তৃক মীমাংসিত বিষয় নিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে নিউইয়র্কে জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত নিউইয়র্কে আমেরিকান ট্রাভেল এজেন্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক
সব ক্যাটাগরি

প্রিয়া সাহার বক্তব্য বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নির্যাতনের বাস্তব চিত্র : যুক্তরাষ্ট্র হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের বিবৃতি

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 161 বার

প্রকাশিত: July 27, 2019 | 12:39 AM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : সম্প্রতি প্রিয়া সাহা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় বাংলাদেশের নির্যাতিত, বিপন্ন সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের নিরাপত্তার জন্য সাহায্য চেয়েছেন; আর, এই সাহায্যটা তিনি চেয়েছেন যাতে সংখ্যালঘুদের আর দেশ ত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নিয়ে সেখানে অবৈধ ভাবে বসবাস করতে না হয় তার জন্য। এই সত্যটি প্রকাশ্যে বলায়, বাংলাদেশে তাঁর বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে’ বিচারের দাবি ওঠেছে, মামলা হয়েছে, কুরুচিপূর্ণ হুমকি দেওয়া হচ্ছে, প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু প্রিয়া সাহা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে যা বলেছেন তা সর্বাংশে সত্য। তাই, যুক্তরাষ্ট্র হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ তাঁর বক্তব্যকে অকুণ্ঠ সমর্থন জানাচ্ছে। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, সভাপতিমন্ডলী ও সাধারণ সম্পাদক, নিউইয়র্ক প্রেরিত বিবৃতিতে এ দাবী করা করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিপক্ষের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে ওয়াশিংটনে এসে আমাদের দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তো বটেই, খোদ প্রধানমন্ত্রীও যে অভিযোগ করেছেন এবং নিরাপত্তার জন্য সাহায্য প্রার্থনা করেছেন সেটা তো সুবিদিত। এর জন্য কারো রাষ্ট্রদ্রোহীতার অপরাধে বিচার হয়নি। হঠাৎ প্রিয়া সাহাকে রাষ্ট্রদ্রোহী বলে হয়রানি করা হচ্ছে কেন! প্রিয়া সাহা তো মিথ্যাচার করেন নি। দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতকদের কোন বিচার হয় না, তাই তিনি সাহায্য চেয়েছেন। নিজের মাতৃভূমিতে মানবাধিকার এবং সম-নাগরিক অধিকার নিয়ে বসবাস করার অধিকার লঙ্ঘিত হলে, ন্যয় বিচার না পেলে, সেটা বহির্বিশ্বকে অবহিত করাটাই স্বাভাবিক, যেমন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ করে থাকেন। আর, সেটা তো কোন অপরাধই নয়, রাষ্ট্রদ্রোহ বলা তো হাস্যকর ব্যাপার।
বিবৃতিদাতারা বলেন, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে বৈষম্য এবং অকথ্য নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশত্যাগে বাধ্য হওয়া মানুষের পরিসংখ্যান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে- বলা হচ্ছে এর সবই মনগড়া, মিথ্যা। প্রিয়া সাহা দেশ থেকে হারিয়ে যাওয়া সংখ্যালঘু মানুষের সংখ্যাটা সম্ভবত: ভুল করেই অনেক কম বলে ফেলেছেন। বাস্তব অবস্থা এতটাই ভয়াবহ যে, বলা হচ্ছে তিরিশ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যাবে। ১৯৪৭ সাল থেকে কত সংখ্যালঘু দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছে সে হিসাব আমরা চাইছি না; আমাদের বক্তব্য হল, ১৯৭২ সাল থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশে কিংবা পশ্চিম বঙ্গে মুসলমানদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির যে হার বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে ও সেই হারটা একই হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সেটা না হয়ে উক্ত সময়ে সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের জনসংখ্যা ৫০% কমে গেল কেন?! প্রিয়া সাহার বক্তব্য মিথ্যে বলে দাবি করার আগে হিসেব কষে উক্ত প্রশ্নের জবাব দিতে বলি।
বিবৃতিদারা আরো বলেন, উচ্চ কণ্ঠে দাবী করা হচ্ছে যে, বাংলাদেশ সামপ্রদায়িক সম্প্রীতির উদাহরণ বিশেষ। এই দাবী যারা করছেন তাঁদের কাছে আমাদের বিনীত জিজ্ঞাসা: একটি ধর্ম নিরপেক্ষ দেশে একটি বিশেষ ধর্মকে রাষ্ট্র ধর্ম ঘোষণা করা হল কেন; হাজার হাজার সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের মানুষ মিছিল করে গিয়ে সংখ্যালঘুদের গ্রামকে গ্রাম নিশ্চিহ্ন করে দেয় কেন, যেমনটা করেছে যেমন রামুতে, নাসির নগরে; আমাদের প্রশ্ন: যারা সংখ্যালঘুদের উপাসনালয় ধ্বংস করে, তাঁদের মেয়েদের ধর্ষণ করে, তাদের বিচার হয় না কেন- এমনকি জজ সাহাবুদ্দীন কমিশন তদন্ত করে যাদের সনাক্ত করে দিল তাদের পর্যন্ত বিচার হ’ল না কেন; যুদ্ধবিধ্বস্ত রমনা কালীবাড়ি ফেরৎ পেতে আমাদের কয়েক যুগ চেষ্টা করতে হল কেন; দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সকল পাকিস্তানী কালা কানুন বাতিল হল কেন কিন্তু শত্রু সম্পত্তি আইন বাতিল হল না কেন; আর, সুপ্রীম কোর্ট সেটা ১৯৭৪ সালে বাতিল করে দেওয়ার পরও সেটাকে পুনরুজ্জীবিত করে সংখ্যালঘুদের লক্ষ লক্ষ একর সম্পত্তি লুটপাট করে নেয়া হল কেন; দেশে ইসলিামিক ফাউন্ডেশন হল কিন্তু হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ফাউন্ডেশন হল না কেন; পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাসী বাঙালী দখলদার পাঠিয়ে ওদের সেখান থেকে উৎখাত করা হল কেন: এবং ১৯৯৬ সালের পার্বত্য শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন আজও হল না কেন; জনসংখ্যা অনুপাতে সংখ্যালঘুদের সেনাবাহিনীতে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ডিপ্লোমেটিক সার্ভিস সহ সর্বত্র দেখিনা কেন? আমরা জানতে চাই, কেন প্রিয়া সাহার বাড়িতে আগুন দেয়া হল; তথাকথিত ওয়াযের নামে সংখ্যালঘু মানুষকে ইতরের ভাষায় গালাগালি করা হয় কেন, কী কারণে পাঠ্য বই থেকে সংখ্যালঘু লেখকদের ঝেটিয়ে বিদায় করা হল। এগুলো কি সামপ্রদায়িক সম্প্রীতির নিদর্শন? এসব প্রশ্নের সদুত্তর দিতে না পারলে, চুপ করে থাকাই কি শ্রেয়: নয়? সত্যকে ঢেকে রাখার কোন উপায় নেই। তাই, প্রিয়া সাহাকে আপনারা অনেক কিছুই বলতে পারেন, কিন্ত উনি দেশের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করেছেন, বানোয়াট কিছু বলেছেন সেটা বলবেন না।
তারা বলেন, প্রিয়া সাহা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আরো যা বলতে পারতেন কিন্তু বলেননি, সেটা হল, ১৯৭৩ সালের ২৪শে মার্চ মাননীয় সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃক বাতিলকৃত শত্রু সম্পত্তি আইনটাকে সুপরিকল্পিতভাবে পুনরুজ্জীবিত করে কয়েক যুগ ধরে সকল রাজনৈতিক দল সমানভাবে সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি দখল করে নিয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে হিং¯্র অবাদীদের পাঠিয়ে তাঁদের হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নি সংযোগের মাধ্যমে আদিবাসীদের উচ্ছেদ করা হয়েছে; এক কথায়, ক্ষমতায় যে সরকারই থাকুক না কেন, সংখ্যালঘু নির্যাতন চলেছেই, এবং সেটা চলছে সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে বা পরোক্ষ প্রশ্রয়ে। প্রিয়া সাহা অভিযোগ করেছেন যে, সংখ্যালঘু নির্যাতকদের বিচার হয় না আর তারা রাজনৈতিক দলসমূহের কাছে অশ্রয় পায়। যদি সংখ্যালঘুরা দেশে বিচার পেত তা’হলে ওনার বিচার পাওয়ার জন্য প্রেসিডেন্টে ট্রম্পের সাহায্য প্রার্থনা করতে হত না। জজ সাহাবুদ্দীন কমিশন তদন্ত করে যে শত শত সংখালঘু নির্যাতকদের সনাক্ত করে তালিকা পেশ করলেন, তাদের বিচার এক যুগ পার হয়ে যাওয়ার পরও শুরু হচ্ছে না কেন! নির্যাতকরা শুধু ‘পলিটক্যাল শেলটার’-ই পায় না, কোন কোন রাজনৈতিক দল ওই সব ধর্ষক খুনীদের সঙ্গে পার্টনারশিপ করে ক্ষমতায়, যায় এবং তাদের মন্ত্রীত্ব দেয়। তাই, যুক্তরাষ্ট্র ঐক্য পরিষদ এই সৎসাহসী সংখ্যালঘু নেতৃত্বের বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহমত ঘোষণা করছে।
বিবৃতিদাতারা আরো বলেন, দেশে সরকার ও সরকারের বাইরে, অনেক তথাকথিত মুক্তচিন্তার দাবীদাররাও প্রিয়া সাহাকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহীতার অপরাধে’ বিচারের দাবি তুলছেন। জাতির কপাল ভাল আমাদের একজন প্রাজ্ঞ প্রধানমন্ত্রী আছেন, আর অসংখ্য বিজ্ঞ জজ ম্যাসিট্রেট আছেন। অতি উৎসাহী অজ্ঞ এবং সাম্প্রদায়িক মামলাবাজদের করা কেইসগুলো বাতিল করার জন্য আমরা মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটদের ধন্যবাদ জানাই। ‘বাংলাদেশে কারা সংখ্যালঘু নির্যাতন করে?’ প্রশ্নটির জবাবে প্রিয়া বলেছেন, ‘মৌলবাদীরা’। তাতেও প্রতিবাদ হয়েছে। কি আশ্চর্য! রামুতে যে পঁচিশ হাজারের অধিক মুসলমান একযোগে বৌদ্ধ এবং হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের তান্ডব চালিয়েছিল, বা নাসির নগরে যারা একই কাজ করেছিল ওই নর-পশুরা কারা? ওরা ফান্ডামেন্টালিস্ট ছিল বলেই তিনি তাদের কথা বলেছেন। ফান্ডামেন্টালিস্টরাই তো অমুসলমানদের পশুর চেয়ে অধম বলে নিয়মিত ওয়াজ ফরমাচ্ছে।
তারা বলেন, দেশে প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে যারা সমালোচনা ও প্রতিবাদের ঝড় তুলেছেন তাঁদের কাছে আমাদের জিজ্ঞাসা: ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা যে স্থলে দেশের জনসংখ্যার ১৯.৭, ছিল আজ সেটা ৯.৭ শতাংশে নেমে এল কেন, পশ্চিম বাংলার সংখ্যালঘুদের বেলায় চিত্রটা তো ঠিক বিপরীত! সামাজিক মাধ্যমে যারা প্রিয়া সাহাকে অশ্লীল হুমকি দিচ্ছেন, তাঁদের প্রতি আমাদের পরামর্শ হচ্ছে নিজেদের এতটা নিজে নামাবেন না, কেন না আপনারও মা-বোন-স্ত্রী রয়েছে ঘরে, আর তাছাড়া, আমরা তো আবার হাজার বছরের সভ্যতার ধারক বাহক বলে দাবী করি কি-না। অমারা স্পষ্ট ভাষায় এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের জানাতে চাই যে, প্রিয়া সাহার বক্তব্যের সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্র
ঐক্য পরিষদ অনতিবিলম্বে ওয়াশিংটন ডিসিতে শুধু প্রেসিডেন্টের আপিসেই নয়, তাঁর ক্যাম্পেইন টীম, সেনেট, কংগ্রেসসহ সকলকেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের চালচিত্র সম্পর্কে আবারো বিশদভাবে অবহিত করবে, এবং সেটা করা হবে সচিত্র দলিল দস্তাবেজ সমেত।
পরিশেষে, আমরা বলতে চাই সত্যকে অস্বীকার না করে, প্রিয়া সাহা ও তাঁর পরিবারকে হয়রানি না করে, বরং আসল সমস্যাটার সমাধান করা শ্রেয়। বিবৃতিতে সই করেছেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, সভাপতিমন্ডলী ও সাধারণ সম্পাদক, নিউইয়র্ক যথাক্রমে নবেন্দু দত্ত, টমাস দুলু রায়, রনবীর বড়–য়া, বিদ্যুৎ দাস ও ড. দ্বিজেন ভট্টাচার্য।

ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV