কানাডায় বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি সিনহার অবৈধ প্রবেশ এবং রাজনৈতিক আশ্রয়ে জটিলতা
সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল: কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা গত ৪ জুলাই পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়াই স্ত্রীসহ অবৈধভাবে সড়কপথে আমেরিকা থেকে কানাডায় প্রবেশ করেছেন। সীমান্ত অতিক্রম করেই ‘অ্যাসাইলাম’ (রাজনৈতিক আশ্রয়) এর আবেদন করেন।

উল্লেখ্য, এর আগে তিনি আমেরিকাতেও রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন। গত ২৭ জুলাই বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এই সত্যতা স্বীকার করেন। কিন্তু একসঙ্গে দুই দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়া ইমিগ্রেশন আইনে গ্রহণযোগ্য নয়। মিডিয়ার কাছে দেয়া সিনহার এক বক্তব্যের সঙ্গে আরেক বক্তব্য অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
তার ২৩ জুলাই কোরিয়েরে কানাডিস, ২৬ জুলাই দৈনিক টরন্টো স্টার এবং ২৭ জুলাই বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এই অসামঞ্জস্যপূর্ণতা লক্ষণীয়!
অবৈধভাবে কানাডায় অনুপ্রবেশের বিষয়টি কোরিয়েরে কানাডিস এবং টরন্টো স্টারে উল্লেখ করেননি তিনি। আবার দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে মামলা করেছেন এ অভিযোগ উল্লেখ করেছেন। এর প্রেক্ষিতে দ্য স্টার জানিয়েছে, এসব অভিযোগের ব্যাপারে দুদকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা সাড়া দেয়নি। কিন্তু এই বিষয়টি অন্য গণমাধ্যমে উল্লেখ করেননি। অপরদিকে, পাসপোর্টহীন কানাডায় প্রবেশের বিষয়টি কিছু মিডিয়ার কাছে এড়িয়ে গেছেন।
এ সম্পর্কে তিনি বিবিসিকে বলেছেন, ‘আমার ভিসা ছিলো কুটনৈতিক পাসপোর্টে। তা কন্স্যুলার অফিসে জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের আবেদন করি। কিন্তু তারা দেড় বছরেও নতুন পাসপোর্ট দেয়নি। আমি কোন বিকল্প না দেখে চিন্তা করলাম বর্ডার দিয়ে পার হয়ে যাই। কারণ আকাশপথে যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে গেলে আমাকে ওখানে আটকাতো।’
আত্মজীবনীমূলক বই ‘এ ব্রোকেন ড্রিম’ লেখা, পাসপোর্টহীন নাগরিক হয়ে অবৈধভাবে কানাডায় প্রবেশ, দেশে তাকে গৃহবন্দি করে রাখা, বাধ্যতামূলক পদত্যাগ করা, হিন্দু হিসেবে তার গ্রামের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া, তার বিরুদ্ধে মামলা, এরকম একাধিক কারণে তার শরণার্থীর আবেদন দ্রুত গ্রহণ হবে বলে সিনহা মনে করেন। বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি আমি। আমার দাবিগুলোর প্রমাণ রয়েছে। এসব যথেষ্ট আমার রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণ করার জন্য।’
সিনহা বিবিসিকে আরও জানিয়েছেন, এক পর্যায়ে তার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘আমার যেহেতু কোন স্ট্যাটাস ছিল না, আমার কোন ইনস্যুরেন্স ছিল না। ফাইনান্সিয়াল সাপোর্ট কিছু বন্ধু বান্ধবরা করতো। বই এর কিছু রয়্যালটি পেয়েছিলাম, এটা দিয়ে চিকিৎসা করছিলাম। এই কারণে অনেক ভেবেচিন্তে কানাডায় চলে এলাম।’
তিনি আশা প্রকাশ করে আরও জানিয়েছেন, কানাডায় কর্তৃপক্ষ তাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়ার ব্যাপারে কাগজপত্র তৈরি থেকে সবকিছুতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘এখানে আসার পরে আমূল পরিবর্তন যেটা পেলাম, কানাডা সরকার স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসে আমার ইন্টারভিউ নিচ্ছে। তারা বলছে স্যার আপনি কোন চিন্তা করবেন না। আমরা আপনার পাশে আছি। থাকার ব্যবস্থা সবকিছু তারা অ্যারেঞ্জ করে দিচ্ছে।’
কিন্তু তার রাজনৈতিক আশ্রয় এক্সেপ্ট হওয়ার ব্যাপারে রয়েছে একটি মারাত্মক জটিলতা। সে সম্পর্কে বিচারপতি সিনহা জানিয়েছেন, কোন একটি দেশে (আমেরিকা) রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থণা করার পর, কানাডায় আশ্রয় চাওয়া যায় না বলে দেশটির আইনে একটি বিধান রয়েছে।
কানাডার সংবাদ মাধ্যমকে সিনহা বলেছেন, দেশে তার জন্য নানামুখী হুমকি রয়েছে। আবার বিবিসিকে ভবিষ্যতে তিনি বাংলাদেশে ফিরতে চান এবং ফিরে তিনি দাতব্য কাজে নিজেকে যুক্ত করতে চান বলে জানিয়েছেন।
ফলে পর্যলোচনা করলে দেখা যায়, মিডিয়ায় দেয়া তার বক্তব্য অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এলোমেলো!
- DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE
- নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার
- UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution
- বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং
- New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests