Friday, 12 June 2026 |
শিরোনাম
Bangladesh Calls for Stronger UNDP Support on Climate Finance and Smooth LDC Graduation জলবায়ু অর্থায়ন ও এলডিসি উত্তরণে ইউএনডিপি’র অধিকতর সহায়তার আহ্বান বাংলাদেশের নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে কমার্শিয়াল পার্কিং প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আবু সাইদ আহমদ কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি মনোনীত নিউইয়র্ক সিটির কমিউনিটি অ্যাকশন বোর্ড এর প্রতিনিধি নির্বাচিত আব্দুস শহীদ Low-Income, Rural Students Face Higher Dropout Risk Due to English Gaps and Cultural Shock, BUBT Study Finds বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ওয়াহিদ ও সাধারণ সম্পাদক কামালকে অব্যাহতি; ব্যারিষ্টার আকমাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শাবু ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
সব ক্যাটাগরি

মহানবি (সা.)’র বিদায় হজ এবং ঐতিহাসিক ভাষণ

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 31 বার

প্রকাশিত: August 10, 2019 | 1:39 PM

আমিন মুনশি : মহানবি হজরত মুহাম্মদ (সা.) কতবার হজ পালন করেছেন? ওমরাই বা পালন করেছেন কতবার? উত্তর হলো, রাসুল (সা.) হজ ফরজ হওয়ার পর একবার হজ করেছেন। আর ওমরা করেছেন মোট চারবার। হজরত কাতাদা (রা.) বলেন, আমি আনাস বিন মালিককে জিজ্ঞেস করলাম, রাসুলুল্লাহ (সা.) কতবার হজ করেছেন? তিনি বললেন, ‘একবার। আর ওমরা করেছেন চারবার। জিলকদ মাসে একবার। হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় একবার। হজের সঙ্গে একবার। আর জিরানার সময় একবার, যখন তিনি হুনাইন যুদ্ধের গনিমতের মাল বণ্টন করেছেন।’ (তিরমিজি : ৮১৫; সুনানে দারামি : ১৮২৮)

রাসুল (সা.) জীবনে একবারই হজ পালন করেছেন। যাকে বিদায় হজ বলে অভিহিত করা হয়েছে। এই হজে নবীজি মুসলিম জাতির উদ্দেশে যে বক্তব্য রাখেন ইসলামের সামগ্রিক ইতিহাসের বিচারে তা ছিল খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। ইসলাম ধর্ম যে ধাপে ধাপে ও পর্যায়ক্রমে পূর্ণতা পেয়েছিল, তারই চূড়ান্ত ঘোষণা ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.) এর এই ভাষণ। এই ভাষণ প্রদানের সময় কোরআনে এই আয়াত অবতীর্ণ হয়, ‘আজ আমি তোমাদের ধর্মকে পরিপূর্ণ করে দিলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহকারীকে সুসম্পন্ন করলাম, আর ইসলামকে তোমাদের ধর্ম হিসেবে মনোনীত করলাম।’ (সূরা মায়িদা : ৩)।

নবম জিলহজ আরাফাতের ময়দানে জাবালে রহমতে দাঁড়িয়ে প্রদত্ত বিদায় হজের সেই ভাষণে ইসলামের মর্মবাণী চমৎকাররূপে ফুটে ওঠে। কেয়ামত পর্যন্ত মুসলিম জাতির সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে মুসলমানদের করণীয় দিকনির্দেশনা ছিল তাতে। আজ মানবজাতিকে তার চরম সংকট ও দৈন্যদশা থেকে মুক্তি পেতে বিদায় হজের ভাষণের শিক্ষা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিতে হবে। এর বিকল্প নেই। এটি শুধু একটি ভাষণ ছিল না, এটি ছিল কেয়ামত পর্যন্ত মুসলিম জাতির শৌর্য ও বিজয়ের নববি মন্ত্র। পাঠকের সুবিধার্থে পুরো ভাষণটি হুবহু দেওয়া হলো-

‘উপস্থিত জনমণ্ডলী! আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনো। হয়তো আমি আর কখনও এখানে তোমাদের সঙ্গে একত্রিত হতে পারব না। হে জনমণ্ডলী! আজকের এই দিন (জুমার দিন), এই মাস (জিলহজ মাস) ও এই শহর (মক্কা) যেমন পবিত্র; তোমাদের জানমাল, ইজ্জত-আব্রু, মান-সম্মান কেয়ামত পর্যন্ত এমনই পবিত্র। কারও কাছে যদি কোনো আমানত রক্ষিত থাকে, তাহলে সে যেন তা আমানতকারীর কাছে পৌঁছে দেয়। আজ থেকে সব ধরনের সুদ রহিত করা হলো। তোমাদের শুধু মূলধনের ওপর অধিকার রইল। তোমরা অন্যের ওপর অত্যাচার করবে না, নিজেরাও অত্যাচারিত হবে না। সর্বপ্রথম আমি হজরত আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিবের সুদ রহিত করছি। অন্ধকার যুগের সব কৌলীন্য বিলুপ্ত করা হলো। শুধু কাবাঘরের তত্ত্বাবধান ও হাজীদের পানি পান করানো ছাড়া। আজকের পর তোমাদের ভূখণ্ডে শয়তানের উপাসনার ব্যাপারে সে নিরাশ হয়ে গেছে। কিন্তু কিছু ব্যাপার, যেগুলোকে তোমরা বড় পাপ মনেই করো না। তার অনুসরণ করলে শয়তান খুশি হবে।

জনমণ্ডলী! তোমাদের নিজ স্ত্রীদের ওপর যেমন তোমাদের অধিকার রয়েছে, তদ্রুপ তাদেরও তোমাদের ওপর অধিকার রয়েছে। স্ত্রীদের ওপর তোমাদের অধিকার হচ্ছে, তারা যেন নিজ স্বামী ছাড়া পরপুরুষের সঙ্গে ভোগে লিপ্ত না হয়। যদি তারা তা করে তাহলে আল্লাহ তায়ালা তোমাদের তাদের প্রতি কঠোরতা করার অনুমতি দিয়েছেন। এমতাবস্থায় তোমরা তাদের শয্যা পৃথক করে দেবে। এবং মৃদু প্রহার করবে। তাতে তারা বিরত হলে নিয়মমাফিক তাদের ভরণ-পোষণের প্রতি লক্ষ রাখবে। স্ত্রীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবে। তারা তোমাদের সাহায্যকারিণী। তোমরা তাদের আল্লাহর নির্ধারিত কালেমা বাক্যের (ইজাব-কবুল) মাধ্যমে নিজেদের জন্য হালাল করেছ। সুতরাং তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো। হে জনমণ্ডলী! সব মোমিন পরস্পর ভাই ভাই। কারও জন্য অন্যের সম্পদ বৈধ নয়। তবে যদি কেউ স্বেচ্ছায় কাউকে কিছু দেয়, তাহলে সেটা স্বতন্ত্র ব্যাপার। আমার পর তোমরা কুফরিতে ফিরে যেও না। পরস্পর খুনাখুনি করো না। আমি তোমাদের মাঝে এমন দুটি জিনিস রেখে গেলাম, তোমরা তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরলে কখনও বিভ্রান্ত হবে না। তা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব (পবিত্র কোরআন) ও তাঁর রাসুলের হাদিস।

জনমণ্ডলী! তোমাদের প্রভু একজন। তোমাদের পিতাও একজন। তোমরা সবাই আদম থেকে আর আদম মাটি থেকে সৃষ্টি। তোমাদের মাঝে যারা সর্বাধিক মুত্তাকি, খোদাভীরু তারাই আল্লাহর কাছে সর্বাধিক মর্যাদাবান। তাকওয়া ছাড়া কোনো অনারবের ওপর কোনো আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই। জনমণ্ডলী, আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক উত্তরাধিকারীর অংশ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। উত্তরাধিকারীর জন্য কোনো অসিয়ত প্রযোজ্য নয়। অন্যদের জন্য এক-তৃতীয়াংশের অধিক অসিয়ত করা বৈধ নয়। আমাদের কেয়ামত দিবসে জিজ্ঞাসা করা হবে। তোমাদেরও জিজ্ঞাসা করা হবে। তখন তোমরা আমার ব্যাপারে কী বলবে? আমি কি তোমাদের কাছে আল্লাহর দ্বীন পৌঁছে দিয়েছি? উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম উত্তর দিলেন, আমরা সাক্ষ্য দেব যে, আপনি আপনার দায়িত্ব পৌঁছে দিয়েছেন। হিত কামনা করেছেন। অতঃপর রাসুল (সা.) আকাশের দিকে হাত তুলে তিনবার বললেন, আল্লাহ আপনি সাক্ষী থাকুন। তারপর বললেন, তোমরা এখানে যারা উপস্থিত আছ তারা অনুপস্থিতদের কাছে (কথাগুলো) পৌঁছে দেবে।’ (মুসলিম : ১৫৯)। আমাদেরসময়.কম

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV