Saturday, 14 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে আমেরিকান ট্রাভেল এজেন্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY” নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial
সব ক্যাটাগরি

নিউইয়র্কে ট্রাফিক ইউনিয়ন চলে গেছে অবাঙ্গালীদের দখলে : এরপর কি আসছে?

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 141 বার

প্রকাশিত: November 6, 2019 | 11:38 PM

খান শওকত : মূলধারায় ট্রাাফিক এজেন্টদের ইউনিয়ন লোকাল ১১৮২ এর সভাপতি সাঈদ রহিম দুদু (৬৩) নানান অভিযোগে সাসপেন্ডেড। তার বিরুদ্ধে মিস গেইল রামরূপ এর আনিত ৬ লাখ ডলারের যৌন হয়রানীর মামলা এখন ম্যানহাটানের ফেডারেল কোর্টে। ৩৭টা অর্থ বিষয়ক অনিয়মের শুনানী এখন সি.ডবি¬উ.এ-র হাতে। আত্মপক্ষ সমর্থনে রহিম বর্নমালা, Daily News, weekly Chief Leader, বাংলাদেশ প্রতিদিন, দৈনিক সমকাল, আওয়াজ বিডি সহ বিভিন্ন পত্রিকায় বলেছেন, It’s a setup case. হয়তো তাই। এই setup টা তার Executive Board এর অবাঙ্গালী Friend রা করে তাকে বিপদে ফেলেছেন। আমিও সেটাই বিশ্বাস করি। প্রশ্ন হলো: নানান কৌশলে বাঙ্গালীদেরকে বাদ দিয়ে যেসব অবাঙ্গালীকে অতি আপন ভেবে পয়সা কড়ি খরচ করে তিনি নির্বাচনে জিতিয়ে আনলেন, তারা কেন তাকে ইউনিয়ন থেকে বের করে দিলেন?

এই ইউনিয়নে ২০১৩ সালের কমিটিতে ছিলাম আমি (Exicutive Vice President), সাঈদ রহিম (Vice President) এবং মো: শাহ্জাহান (Delegate)। নীরব বর্নবিদ্বেষ এখানেও আছে। তাই ৩ ভাই মিলেমিশে থাকতে চাচ্ছিলাম ঐক্যবদ্ধ ভাবে। কিন্তু আমার এই ২জন দেশী ভাইয়ের মধ্যে দেখলাম কে কাকে ল্যাং মেরে উপরে উঠবে সেই প্রতিযোগিতায় তারা দু’জনই ব্যস্ত।
একদিন এই ২ ভাইকে ডেকে বললাম, নোংরা রাজনীতিতে আমাদের ক্ষতি হবে। যদি ৩ ভাই এক থাকতে পারি, রিটায়ারমেন্ট পর্যন্ত আমরা ৩ জনই ইউনিয়নে থাকতে পারবো। আর যদি গুতোগুতি করি, তাহলে আগামী ২০১৫ এর নির্বাচনে দেখবেন ৩ জন থেকে ১ জন বাদ হয়ে গেছেন, ২০১৮ এর নির্বাচনে দেখবেন আরও ১জন বাদ হয়ে যাবেন, এবং ২০২০ এর নির্বাচনে অবশিষ্ট জনও বাদ পড়ে যাবেন। আর ইউনিয়নের নেতৃত্ব আমাদের বাইরে চলে যাবে। তারা ২ জন আমার কথা শুনলেন না। তারা যা করার করেই চললেন।
ঐক্য ধরে রাখার শেষ চেষ্টা হিসেবে ২০১৫ এর নির্বাচনে বেশী ক্ষমতার ২টি পদ: সভাপতি এবং সেক্রেটারী-ট্রেজারার পদ ২টি ওদেরকে দিয়ে বললাম: নির্বাচনে আপনারা বড় পদ দুটিই নিন, কিন্তু আমাদের ঐক্য ধরে রাখুন। কোন বাঙ্গালীকে হারানোর জন্য আপনারা কেউ যেন আর নোংরা রাজনীতি না করেন। তারা কথা দিয়েও কথা রাখলোনা। ২০১৫ এর প্রাথমিক নির্বাচনে আমি বিজয়ী হলেও রানঅফ নির্বাচনে ওদের ২জনের নোংরামির কাছে আমি হেরে গেলাম। আমার পদে ওরা একজন নাইজেরিয়ানকে জেতালো, এবং ওরা ২জন ইউনিয়নে রয়ে গেলো। ওরা ভুলে গেল এদেশে বর্নবৈষম্য আছে এবং বিপদ আসছে।
অবাক কান্ড, ২০১৮-র নির্বাচনের আগে ওরা ২ বাঙ্গালীই একে অপরের শত্রু হয়ে গেলো। একে অন্যের বিরুদ্ধে ন্যাশনাল কমিটির কাছে প্রমাণসহ অভিযোগ দাখিল করলো। বুঝতে পারলাম আমি যা আশংকা করেছি তাইই ঘটতে যাচ্ছে। হলোও তাই। ঠিক আমার মত ঘটনা।
২০১৮-র প্রাইমারীতে শাহ্জাহান জিতলেও রানঅফ নির্বাচনে সে হেরে গেল। একজন গায়েনীজ মহিলাকে জেতাতে এবং শাহজাহানকে হারানোর জন্য রহিম যেমন অগ্রনী ভূমিকা পালন করলেন, তার সাথে আরও ভূমিকা পালন করলেন ২জন বিদেশী! যে ২জনকে শাহজাহান ইউনিয়নে ঢুকিয়েছিল এবং একজনকে তো আমার পদে বসিয়েছিল। সেই ২জনই সর্বত্র প্রচার করলো শাহজাহানের দুর্নীতির দুর্নাম। কারন তারা চাচ্ছে বাঙ্গালীদেরকে এক এক করে বের করে দিয়ে ক্ষমতা তাদের হাতে নেবে। শাহজাহান হেরে গেল। এখানেই শেষ নয়।
শাহজাহানকে বিদায় দিয়েও তারা থামলেন না। ভবিষ্যতেও যেন শাহজাহান আর ফিরতে না পারে এজন্য রহিম ২০১৮ এর মার্চ মাসে প্রমাণসহ ৬টা অভিযোগ পাঠায় কেন্দ্রে। কেন্দ্র তদন্ত করে ৫টিতে দোষী করে লিখিত রিপোর্ট দেয়। ২০১৯ এর জুন মাসে জুরীবোর্ডের শুনানীতে ৫টির মধ্যে ২টি তে দোষী হয় শাহজাহান। শাহজাহান জুরীবোর্ডের সামনে অঝোরে কাঁদলো। বুঝলো আমাদের ঐক্য নষ্ট করার ফল। এখানেই শেষ নয়।
ইউনিয়নের অফিসার পদ থেকে বাংগালীদেরকে বের করে দিয়ে রহিম যেসকল বিদেশীকে ঢুকিয়েছিল, তারা এখন আরো পদ চায়, আরও ক্ষমতা চায়, এখন তারা ঐক্যবদ্ধ। রহিম অসহায়। ৫টি অফিসার পদের মধ্যে ৩টিতে অবাঙ্গালীরা। এখন তাঁরাই মেজরিটি। তাহলে প্রেসিডেন্ট হতে ২০২০-র নির্বাচন পর্যন্ত দেরী করার কি দরকার? তারা এক হয়ে গেল রহিমের বিরুদ্ধে। প্রমাণসহ ৩৭টি অর্থ বিষয়ক অনিয়ম, সেসাথে যৌন হয়রানি এবং সহকর্মীদের সাথে রূক্ষ ব্যবহারের কড়েকড়ে অভিযোগ। কেউ কেউ বলেন এদের নেপথ্যে নাকি শাহজাহানও আছে। যদি তা সত্যিও হয়, সেটাই কি স্বাভাবিক নয়?
আর্থিক দুর্নীতির ৩৭টা অভিযোগের রিপোর্ট পড়লাম। ২০১৭ থেকে ২০১৯ পর্যšত অফিসার পদের অবাঙ্গালীদেরকে ঠান্ডা রাখতে অনৈতিকভাবে এতো বেশী আর্থিক সুযোগ দেয়া হয়েছে যা কল্পনার অতীত। এগুলো তারা নিয়েছেন, আবার সুযোগমতো রহিমকে ধরিয়েও দিয়েছেন। ফলাফলে সাঈদ রহিম দুদু সাসপেন্ড হলেন। ইউনিয়ন চলে গেল অবাঙ্গালীদের দখলে। অবস্থা দেখে যা মনে হচ্ছে ২০২০-র নির্বাচনের আগে উনি সম্ভবত: আর ক্ষমতায় ফিরছেন না। যৌন কলংক আর আর্থিক দুর্নীতির তিলক রয়ে গেল আমাদের নামে। যা ঘুচতে সময় লাগবে। সাফার করবে আমাদের প্রজন্ম।
আমরা ৩জন বাঙ্গালী ভাই একসময় এই ইউনিয়নে ছিলাম, এখন কেউই নাই। আল্লাহর রহমতে আমি Clean Image নিয়ে বের হতে পেরেছি, তারা তাও পারলেন না। রহিম আর শাহজাহান সেদিন যদি আমার কথা শুনতেন, হিংসা, বদনাম, বেঈমানী আর বিদেশী প্রীতি না করে যদি এক থাকতেন, আজ এই পরিনতি হতোনা। আমাদের হাতেই এই ইউনিয়ন থাকতো। আমরাই নেতৃত্ব দিতাম NYPD Traffic ডিপার্টমেন্টে। আমাদের লোকদেরকে আরও বেশী প্রোমোশান করাতে পারতাম।
রবার্ট সেজার, প্যট্রিক প্লামার এবং জেমস হান্টলী আমলের অর্থনৈতিক অনিয়মের কথা তুলে ধরে Clean Image এর বাঙ্গালীরা নেতৃত্বে এসেছিল। আমাদের অনৈক্যের জন্য সেই সুযোগ আমরা হারিয়ে ফেললাম। নেতাদের বিভক্তির কারনে সমর্থকরাও বিভক্ত আজ। যে সম্মান, ক্ষমতা আর সুযোগ হেলায় হারিয়ে ফেললাম, জানিনা আমাদের হাতে কবে তা আবার ফেরত আসবে! বর্ণবৈষম্য আর Favoritism সর্বত্র। গায়ের রং আর ইংরেজীর উচ্চারন নিয়ে আমাদেরকে দাবিয়ে রাখতে ওরা সদা সচেষ্ট। তাই ইউনিয়নে আমাদের voice দরকার। আসন্ন ২০২০-র নির্বাচনে ইউনিয়নের নেতৃত্বে যদি আমরা না আসতে পারি তখন সবাই বুঝবেন আমরা কি হারিয়ে ফেলেছি! এখন থেকেই দরকার নিজেদের মধ্যে আলোচনা। মন থেকে দোয়া করি এ বিপদ কেটে যাক।

ট্যাগ:
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV