Thursday, 22 October 2026 |
শিরোনাম
ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের
সব ক্যাটাগরি

যুক্তরাষ্ট্রে ট্যাক্স মওসুম ২৭ জানুয়ারি থেকে : ট্যাক্স ফাইলে অনিয়ম ও দন্ডিত অর্থ পরিশোধ না করলে হারাতে পারেন পাসপোর্ট, গ্রীন কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স; আইআরএস অডিটের কবলে সহস্রাধিক বাংলাদেশি

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 5 বার

প্রকাশিত: January 24, 2020 | 8:26 PM

মনোয়ারুল ইসলাম : যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ২৭ জানুয়ারি আমেরিকায় শুরু হচ্ছে ট্যাক্স মওশুম। চলবে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত। সঠিক তথ্য প্রদান করে ট্যাক্স ফাইল অতীব জরুরী। অধিক ডলার রিফান্ড পাবার লোভে অসত্য তথ্য প্রদান বিপদ ডেকে আনতে পারে। ট্যাক্স ফাইল করার আগে নিয়মকানুন জেনে নিতে হবে। এ ব্যাপাওে দক্ষ ট্যাক্স প্রিপারার (সার্টিফাইড) কিংবা একজন সিপিএ’ এর পরামর্শ নিতে হবে।

গত বছর ট্যাক্স রিটার্ন দাখিলে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে নিউইয়র্কে এক হাজারের বেশি বাংলাদেশি আইআরএস ও স্টেটের অডিটের কবলে পড়েছেন। তাদের গুনতে হয়েছে দুই থেকে তিন গুন বেশি অর্থদন্ড। এ ছাড়া হয়রানির তো শেষ নেই। যারা ট্যাক্স ফাইল করেন অনিয়মের অভিযোগে শুধু তারাই ফাঁসছেন না, ট্যাক্স প্রিপারাররাও বিপদে পড়ছেন। গত সপ্তাহে পেনসিলভানিয়া রাজ্যের ফিলাডেলফিয়ায় দু’জন বাংলাদেশী-আমেরিকান ২ বছরের জেলসহ ৫ লাখ ডলারের অর্থদন্ডে দন্ডিত হয়েছেন।
বাংলাদেশী কমিউনিটিতে ট্যাক্স ফরম দাখিলে অনিয়ম, অসত্য তথ্য প্রদান ও বেশি রিটার্ন পাবার প্রবণতা ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ। কিছু কিছু ট্যাক্স প্রিপারারও গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করে থাকেন। তারা ভুল পরামর্শ দেন এবং লোভ দেখান বেশি রিফা-ের।

এ নিয়ে কয়েকজন ট্যাক্স বিশেষজ্ঞ জানান, ট্যাক্স ফাইলে যে কোন ধরনের অনিয়ম ও দন্ডিত অর্থ পরিশোধ না করলে যে কেউ হারাতে পারেন পাসপোর্ট, গ্রীন কার্ড এমন কি ড্রাইভিং লাইসেন্স পর্যন্ত। তাদের ওপর আসতে পারে বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা। দন্ডিত হলে রিটার্ন পাওয়া অর্থের দুই-তিন গুন বেশি মাশুল গুনতে হয়। আইআরএস এর নোটিশ ‘সিপি ৫০৮ সি’ (২০১৯)-এর তথ্যে বলা হয়েছে, আইআরএস-এর অডিটে ৫২ হাজার ডলার বা এর বেশি ফাইন হলে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা পরিশোধ না করলে পাসপোর্ট স্থগিত ও গ্রীন কার্ড বাতিল হয়ে যাওয়ার বিধান রয়েছে। স্টেট পর্যায়ে অনাদায়ীর পরিমান ৩০ হাজার ডলার হলেই ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল হয়ে যায়। ট্যাক্স পেয়ার তখন দৈনন্দিন কাজের জন্য ‘রেস্ট্রিক্টটেড’ লাইসেন্স নিতে পারেন মটর ভেহিকেল অফিস থেকে। ট্যাক্স বিশেষজ্ঞদের অনুরোধ, সময়মত ট্যাক্স ফাইল করুন, সঠিক তথ্য প্রদান করুন এবং বেশি ট্যাক্স রিটার্নের লোভে অযথা ছোটাছুটি করবেন না।
কর্নফুলি ট্যাক্স সার্ভিসেস এর কর্নধার মোহাম্মদ হাসেম, ইএ বলেন, ট্যাক্স ফাইলের সময় যতরকম ইনকাম আছে তার সব রিপোর্ট করতে হবে। যারা ক্যাশে কাজ করেছেন তার বুক রিপোর্ট রাখতে হবে। যাতে অডিট হলে দেখানো যায়। আর্নড ইনকাম ক্রেডিট পাওয়ার জন্য অসত্য তথ্য দেয়া যাবে না। যারা ট্যাক্সি ও উবার চালান তাদের অবশ্যই এক্সপেন্স বা খরচাদির রেকর্ড রাখতে হবে।
সাউথ ইস্ট ইউএসএ ইনকাম ট্যাক্স সার্ভিস এর সিইও এহতেশামুল হক বলেন, রেন্টাল বাড়িঘর থাকার পর যারা ট্যাক্স ফাইলে রিপোর্ট করেন না তাদের জন্য অশুভ সংবাদ অপেক্ষা করছে। ‘হাড’ ইন্সপেক্টররা ঘরে ঘরে গিয়ে তদন্ত করছে। বেশি ভাড়া নিয়ে কম দেখানো একটি ফেলোনি ক্রাইম। তিনি প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এবার থেকে শুধুমাত্র একটি ফরমেই ট্যাক্স ফাইল করতে হবে। তা’হলো ১০৪০। ট্যাক্স অনিয়ম, অডিটের ফাইন প্রসঙ্গে জনাব হক বলেন, নিউইয়র্ক স্টেটের ফাইন ৩০ হাজার ডলার এবং তা যথাসময়ে প্রদান না করলে ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল হয়ে যায়। আইআরএস-এর বিবেচনায় কম্বাইন্ড ফাইন (আইআরএস,স্টেট ও সিটি) ৫২ হাজার ডলার হলে তা পরিশোধ না করলে পাসপোর্ট সাসপেন্ড হয়ে যায়। গ্রীনকার্ড বাতিল হয়ে যায়। তাই সবার উচিত ট্যাক্স ফাইলে সতর্ক হওয়া।
১২ বছরের অভিজ্ঞ ট্যাক্স প্রিপারার দেবব্রত চক্রবর্তী বলেন, অধিক রিফান্ড পাবার আশায় কম ইনকাম দেখানো অপরাধ হিসাবে বিবেচিত। গত বছর হেলথ ইন্স্যুরেন্স পেনাল্টি ছিল। এবার আর হেলথ ইন্স্যুরেন্স পেনাল্টি দিতে হবে না। ছেলে মেয়ে ছাড়াও বয়স্কদের জন্যও ‘এলডারলি ডিপেনডেন্ট’ ক্রেডিট পাওয়া সম্ভব। এতে প্রত্যেক বয়স্ক ব্যক্তির জন্য ৫০০ ডলার পাওয়া সম্ভব। ৩৫শতাংশ চাইল্ড কেয়ার ক্রেডিট পাওয়া যায়। এসব ব্যাপারে অবশ্যই ট্যাক্স বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
অলস্টেট ট্যাক্স ও একাউন্টিং সলিউশনস ইনক্-এর প্রেসিডেন্ট শেখ আনিসুর রহমান বলেন, বেশি ট্যাক্স রিটার্ন পাবার লোভে দৌড়ঝাপ না করা উচিৎ। দরকার সঠিক পরামর্শ। অনেকে এসেই জানতে চান কত ডলার রিফান্ড পাওয়া যাবে। এ ধরনের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। থাকতে হবে আইন ও নিয়মের মধ্যে। জনাব রহমান বলেন, যারা ট্যাক্স প্রিপায়ার করেন অনিয়মের অভিযোগে তাদের জেল-জরিমানার মধ্যে পড়তে হয়।
সিপিএ ইয়াকুব এ খান বলেন, আগে ভাবতে হবে সঠিকভাবে ট্যাক্স ফাইল করছি কি না। ম্যাক্সিমাম কিংবা মিনিমাম রিফান্ড বলে কিছু নাই। প্রশ্নটা হচ্ছে সঠিক ফাইল হচ্ছে কিনা। অনেকে মেডিকেইড ও রিফান্ডের কথা চিন্তা করে ট্যাক্স ফাইল করেন না। অডিটের আওতায় পড়লে তারা সবই হারান।
ব্যারিস্টার সৈয়দ আফতাব আহমেদ বলেন, রিফান্ড বাড়াতে গিয়ে অনেকেই সামঞ্জস্যহীন তথ্য প্রদান করেন। পরিণতিতে তাদের অডিটের মুখোমুখি হতে হয়।
মদিনা ট্রাভেল ও ট্যাক্স সার্ভিসের কর্ণধার শেখ খুরশান বলেন, সবার উচিত সার্টিফাইড একাউনট্যান্ট কিংবা একজন সিপিএ এর মাধ্যমে ট্যাক্স ফাইল করা। নতুন নিয়ম অনুসারে কেউ সিঙ্গল ট্যাক্স ফাইল করলে তিনি ২২০০ ডলার ডিডাকশন পাবেন।
ট্যাক্স বিশেষজ্ঞ সিপিএ শ্রাবনী সিং বলেন, সবারই উচিৎ ইনকাম ও এক্সপেন্স রেকর্ড কিপিং করা। বিশেষ করে যারা ডব্লিউ-২ ছাড়া কাজ করেন, কিংবা ট্যাক্সি বা উবার চালান তাদের জন্য এটা খুবই জরুরি। আইআরএস অডিট এদের দিকেই বেশি নজর দেয়। পাসপোর্ট স্থগিত কিংবা গ্রীন কার্ড বাতিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সময় মতো ফাইন পরিশোধ না করলে আইআরএস স্টেট ডিপার্টমেন্টে পাসপোর্ট স্থগিত করার সুপারিশ পাঠায়। তবে আইআরএস চিঠি দিয়ে সময় বেঁধে দিয়ে এমনকি কিস্তিতে ফাইন পরিশোধের সুযোগ দেয়। ভয়ের তেমন কারণ নেই। তবে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
এদিকে ট্যাক্স প্রিপারার হিসেবে জালিয়াতি করতে গিয়ে ফেঁসে গেছেন দু’বাংলাদেশী। দুই ওমর ফারুক ও ওমর আলী ট্যাক্স ফাইলে সহায়তা করতেন। তাদের ব্যবসাটি ছিল পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ায়। গ্রাহকদের ৫ লাখ ডলার ট্যাক্স রিফান্ড জালিয়াতির অভিযোগে তাদের দু’জনের দু’বছরের কারাদ- দিয়েছে ফিলাডেলফিয়া ফেডারেল কোর্ট। সাথে রয়েছে প্রত্যেকের প্রায় ৫ লাখ ডলার জরিমানা। অনাদায়ে আরও বেশি সময় কারাভোগ। তাদের দেশের বাড়ী নোয়াখালি জেলার কোম্পানীগঞ্জে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফিলাডেলফিয়ায় বসবাসরত এক বাংলাদেশী বলেন, অর্থ প্রতারণার দায়ে তারা আগেও গ্রেফতার হয়েছিলেন। এফবিআই’ এর নজর ছিল তাদের ওপর। প্রায় দু’বছর তদন্ত করে তাদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করায়। গত ৮ জানুয়ারি আদালত তাদের শাস্তি প্রদান করে। আজকাল

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ