Saturday, 24 October 2026 |
শিরোনাম
ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের
সব ক্যাটাগরি

স্মরনীয় বিদেশ ভ্রমন : ৭৩ বছর বয়সেও দাদু ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 103 বার

প্রকাশিত: January 29, 2020 | 7:52 AM

ফারহিন হায়দার পরমা : বিকেলবেলা রুমে বসে বইয়ের পাতা উল্টে যাচ্ছিলাম। এমন সময় আমার বাবা এসে বললো তোমার দাদুরা ৩ বোন মালেশিয়া বেড়াতে যাবে। তুমি কি উনাদের সাথে যাবে? যেতে চাইলে দাদুর সাথে আলাপ কর। যেই কথা সেই কাজ, দাদুকে ফোন দিতেই দাদু বলে তুমি গেলে তো খুবই ভালো হয়। ভিসার জন্য যা যা দরকার প্রসেসিং তা শুরু করে দাও।  আমার ভিসা হয়ে গেলো ৫ জানুয়ারি সকালে ১১.৩০ এ Malindo Airlines ফ্লাইট।

৫ তারিখ মালেয়শিয়া পৌঁছাতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। হোটেলে চেক-ইন করে কিছুক্ষণ বিশ্রাম করেই বেরিয়ে পড়ি রাতের খাবারের উদ্দেশ্য করে। হোটেলের পাশেই ইন্ডিয়ান একটি রেস্টুরেন্টে রাতের খাবার খেয়ে সেদিনের মতো ঘুমিয়ে পড়ি। ৬ জানুয়ারি সকাল ৭ টা মালেয়শিয়ার সময়ে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা করে বেরিয়ে পড়ি । যেহেতু আমার দাদুর বয়স ৭৩ বছর দাদুর জন্য ভ্রমণটা যতটা আরামদায়ক করা যায় তাই ট্যাক্সি আমরা আগেই ঠিক করে নিয়েছিলাম। প্রথমেই আমরা টুইন-টাওয়ার যাই, বাইরে থেকে দেখে টিকেট কেটে নেই। টিকেট পাই ৮ তারিখ ১.১৫ মিনিটের। টিকেট কেটে আমরা চলে যাই মালেয়শিয়ার জাতীয় মসজিদে, পুরানা রেল স্টেশন, শহরটা ঘুরাঘুরি শেষ করে দুপুরের খাবার খেয়ে নেই একটি বাংলা হোটেল থেকে। তারপর চলে যাই হোটেলে।

দাদু হোটেলে থেকে যান বিশ্রাম নেয়ার জন্য আর আমি বেরিয়ে পড়ি শপিং আর মালেশিয়ার অলিগলি চেষে বেড়ানোর জন্য।মালেয়শিয়াকে বাংলাদেশিদের জন্য সেকেন্ড হোম বলা হয়। প্রতি ১০০ জনে ১ জন বাংগালীর দেখা মিলবে মালেয়শিয়াতে। ইংরেজি না জানলেও মালেয়শিয়া তে চলার জন্য কোন সমস্যা হবে বলে মনে হয় না। প্রচুর বাংলাদেশী, পাকিস্তানি এবং ইন্ডিয়ান এখানে কাজ করে। বাংলাদেশিরা বেশিরভাগই মালেয়শিয়াতে ভালো অবস্থায় রয়েছে আমার দেখা মতে। সুপারমল থেকে শুরু করে রেস্টুরেন্ট সব জায়গাতেই বাংলাদেশী আমি পেয়ে গিয়েছি।

সকাল ৬ টা ৭ জানুয়ারি আজ আমরা যাবো Batu Caves যা মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিট উত্তরে অবস্থিত একটি চুনাপাথরের পাহাড় যা গোম্বাক জেলার পুরাতন গুহা মন্দিরে যেখানে রয়েছে পর্যাক্রমকি গুহা। বাটু নদী থেকে এর নাম নেয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। ভারতের বাইরে পরিচিত হিন্দু মন্দির গুলোর মধ্যে এটি একটি যা শ্বর মুরুগানের প্রতি নিবেদিত।

বাটু কেভসের বয়স আনুমানিক ৪০ কোটি বছর। দক্ষিণ ভারতীয় ব্যবসায়ী কে.থাম্বুস্বামী পিল্লাই এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা। বাটু কেভসের মূল আকরসন গুহা। ভূমি থেকে ১০০ মিটার উচ্চতায় গুহাগুলো অবস্থিত। তিনটি বৃহদাকারের এবং বেশ কয়েকটি ক্ষুদ্রাকারের গুহা রয়েছে। সবচেয়ে বড়োটির নাম মন্দির গুহা। এর রয়েছে ১০০ মিটার উঁচু সিলিং। আমাকে মন্দিরে পৌঁছাতে ২৭২টি সিড়ি বেয়ে উঠতে হয়। দাদুর পক্ষে সিড়ি বেয়ে উপরে যাওয়া সম্ভব ছিলো না বলে দাদু গাড়িতে আমার জন্য অপেক্ষা করে আশপাশের জায়গা ঘুরে দেখে আর আমি উপরে যাই। প্রকৃতির অসম্ভব মায়া দিয়ে গুহাটি তৈরি আমার দেখা সবচেয়ে সুন্দর গুহা।

বাটু গুহা দেখার পর আমরা চলে যাই Genetic Sky Way এর দিকে। ক্যাবলকারে ঘুরে আমরা হোটেলে ফিরে আসি। সন্ধ্যার পর মালেয়শিয়ার রাস্তার পাশে দেখতে পাই ওপেন কনসার্ট চলছে। সেখানে কিছুক্ষণ গান শুনি। হোটেলে ফিরার পথে একজন চিত্রশিল্পীর পেছনে দাড়িয়ে যাই যিনি মোম রং দিয়ে কত সুনিপুণ ভাবে অবিকল শিল্পীর সামনে বাসা মানুষেটার অবয়ব ক্যানভাসে তুলে যাচ্ছেন।

ঝকঝকে আকাশ, বাংলাদেশ যেখানে শীতের কনকনে হাওয়া সেখানে মালেয়শিয়ার আবহাওয়া উষ্ণ। ৮ জানুয়ারি সকালের নাস্তা করে বেরিয়ে পড়ি ।প্রথমে যাই King Palace সোনালী রাজ প্রাসাদটি ঘুরে আমরা রওয়ানা দেই Petronas Twin Tower এর উদ্দেশ্যে। উচ্চতার দিক থেকে বর্তমানে ১৬ নম্বরে রয়েছে মালয়েশিয়ার ‘পেট্রোনাস টাওয়ার’। পেট্রোনাস টাওয়ার’ হচ্ছে মালয়েশিয়ার সরকার কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত তেল কোম্পানি পেট্রোনাসের সদর দফতর। ৮৮ তলা বিশিষ্ট এই টাওয়ারটি কুয়ালালামপুরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত।

কুয়ালালামপুর শহরের যে স্থানে পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার অবস্থিত তার নাম কেএলসিসি বা কুয়ালালামপুর সিটি সেন্টার।পর্যটকদের জন্য স্কাই ব্রিজ হচ্ছে সেরা আকর্ষণ। আমার জন্য সেখানে উঠতে পারাটা জীবনের এক বিশাল অভিজ্ঞতা আর তাই কেউই কুয়ালালামপুরে এসে স্কাই ব্রিজ না ঘুরে যায় না।

৯ জানুয়ারি আমার বাংলাদেশ ফিরে আসার সময়। এই ছোট ভ্রমণে আমি একটি বিষয় খুব ভালোভাবে উপলব্ধি করেছি ভ্রমণের কোন বয়স নেই। ৭৩ বছর বয়সেও আমার দাদু ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন। আমাদের উচিৎ আমাদের দাদু নানুদেরকে সঙ্গ দেয়া।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ