নিউইয়র্কে ডা. রেজা চৌধুরীর ইন্তেকাল : কমিউনিটিতে শোকের ছায়া
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : যুক্তরার্ষ্টের নিউইয়র্কে বাঙালী কমিউনিটিতে চিকিৎসা সেবায় অনন্য ভূমিকা পালনকারী ডা. রেজা চৌধুরী, এমডি আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাহী রাজিউন)। তিনি ৮ এপ্রিল বুধবার রাত ১১.৩০ মিনিটে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তিনি নিউইর্কের লং আইল্যান্ডের নর্থ শোর ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিলো ৫৭ বছর। তিনি স্ত্রী, এক পুত্র ও এক কন্যা সহ বহু আতœীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে যান। কমিউনিটি লীডার ডা. মাসুদুল হাসান এবং নারী নেত্রী জোবেদা হোসেন রোজি ইউএসএনিউজঅনলাইন.কমকে কিছুক্ষণ পুর্বে এ সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন। তারা বলেন, ডা. রেজা চৌধুরী দীর্ঘ দিন যাবত বিভিন্ন ভাবে আমাদের কমিনিটিকে সেবা দিয়ে আসছিলেন। তারা বলেন, তিনি ছিলেন ব্রঙ্কস বাংলাদেশী কমিউনিটির একজন সেরা ডাক্তার এবং কমিউনিটি লিডার। তাঁর মৃত্যু কমিউনিটির জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি। মহান আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব দান করেন। আমিন।

ডা. রেজা শাহ চৌধুরী বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির যুব ও স্বেচ্ছাসেবক বিভাগের প্রাক্তন পরিচালক এস এম আহম্মদ তুহিনের বোন জামাই। ডা. রেজার চেম্বার ‘ওয়েস্ট চেস্টার মেডিক্যাল হেলথ কেয়ার’ ছিল নিউইয়র্কে বাংলাদেশী অধ্যুষিত ব্রঙ্কসে পার্কচেস্টার সাবওয়ে সংলগ্ন ১৯৫৭ ওয়েস্টচেস্টার এভিনিউতে। জানা গেছে ডা. রেজা চৌধুরী এই দূর্যোগের সময়ও চেম্বারে নিয়মিত তার রোগীদের সেবা দিতেন। তাঁর কোন রোগী থেকেই তিনি করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হন।
এদিকে, বাংলাদেশী কমিউনিটির প্রিয়মুখ ডা. রেজা চৌধুরীর মৃত্যুতে নিউইয়র্কে বাঙালী কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পক্ষ থেকে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছে। এবং তার শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে ডা. রেজা চৌধুরীর ইন্তেকালের পর অনুজ ডা. সিনহা মনসুর তার ফেসবুকে ‘কেউ কথা রাখেনি!’ শিরোনামে লেখা একটি পোস্টে এ বিষয়ে তুলে ধরেন। তার ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো;

‘নর্থ শোর জিউইস হসপিটাল, লং আইল্যানড, নিউইয়র্ক। এখানেই শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন অগ্রজ ডা. রেজা চৌধুরী। আমাদের ‘রেজা ভাই’! করোনা তার প্রাণ কেড়ে নিয়েছে!
শেষবার আমার বাসায় এসেছিলে তার সদ্য কেনা টেসলা গাড়িটি হাঁকিয়ে। খুব সৌখিন ছিলেন। ছিলেন সাহিত্য প্রেমিকও!
আমরা একই চিকিৎসকা মহাবিদ্যালয়ে পডেছি, নিউইর্য়কে এসেছি একই সময়ে। একসাথে টঝগখঊ পরীক্ষার জন্য পড়াশুনা করেছি। একসাথে পরীক্ষা দিয়েছি। এক কাপ কফি ও সিগারট ভাগাভাগি করে খেয়েছি। ম্যানহাটানের ক্যাপলান সেন্টারে আমরা পড়াশুনা করতাম। ছুটির দিনে চলে যেতাম তার উডসাইডের বাসায়। ঘন্টার পর ঘন্টা পড়াশুনা করেছি। এক সময় ক্লান্ত হয়ে হাইওয়ের পাশে ছোট্ট পার্কটাতে গিয়ে বসতাম।
রেজা ভাই সিগারট ধরিয়েছেন।
হাইওয়ে ধরে সা সা করে বেরিয়ে যেত গাড়িগুলো। রেজা ভাই বিড় বিড় করে আবৃত্তি করতেন সুনীলের ‘কেউ কথা রাখেনি’।
আমি আবৃত্তি করতাম:
‘আমি কীরকম ভাবে বেঁচে আছি তুই এসে দেখে যা নিখিলেশ
এই কি মানুষজন্ম?
নাকি শেষ
পুরোহিত কঙ্কালের পাশা খেলা’!
রেজা ভাই আমার সিনিয়র ছিলেন।
ছিলেন বন্ধুও!
কত কথা, কত স্মৃতি!
চোখ ঝাপসা হয়ে আসে!
নিয়তির শঠতায়!
রেজা ভাই, এভাবে অসময়ে যাওয়ার তো কথা ছিল না! কথা ছিল আমরা একসাথে শেষ পুরোহিত কঙ্কালের পাশা খেলা দেখবো!
দেখা হলো না!
আসলে ‘কেউ কথা রাখেনি!
কেউ কথা রাখে না’!
রেজা ভাই ও আপনিও কথা রাখতে পারেন নি!’
- ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা
- চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান
- New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার
- ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি
- New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections
- Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity