IT সেক্টরে চাকরি পাওয়ার চাবিকাঠি : পিপল এন টেক
ওয়াহেদ হোসেনী: ১২ই জুলাই ২০১৫। এই কয়েক দিন আগে স্থানীয় WTOP রেডিওতে একটা সংবাদ শুনলাম, “millions of” মানুষ বেকার আছেন বটে, তবে সেই সঙ্গে লক্ষ লক্ষ চাকরি খালি পড়ে রয়েছে। এই সব চাকরির জন্য কলেজ ডিগ্রীর প্রয়োজন নেই, বেতনও ভালো – বাৎসরিক ৬০ থেকে ৭০ হাজার ডলারে শুরু। তবে অবশ্য প্রয়োজন হোল চাকরির উপযুক্ত জ্ঞান (Knowledge – Academic and Industrial), দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং কর্পোরেট জগতের সঙ্গে পরিচিতি (Acquaintance with Corporate Environment)। বর্তমানে সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রে কম্পিউটার সফটওয়্যার টেস্টিং এর ৬২,০০০ শুণ্য পদ রয়েছে, ডাটাবেজ এ্যাডমিনিষ্ট্রেশন এর ২৮,০০০ এবং একমাত্র ভার্জিনিয়াতে রয়েছে সাইবার সিকিউরিটি জনিত ৪৬,000 চাকুরীর শুন্য পদ। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের সর্বত্র কয়েক লক্ষ মেডিক্যাল টেকনিশিয়ান, ইলেক্ট্রিশিয়ান ও ডাটাবেজ এ্যাডমিনিষ্ট্রেশন ইত্যাদি পেশাদারী চাকুরির চাহিদা রয়েছে। এসব চাকুরির কোনটারই জন্য কলেজ ডিগ্রীর প্রয়োজন নেই, অবশ্য-প্রয়োজন রয়েছে উপযুক্ত ব্যবহারিক জ্ঞান, দক্ষতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কর্ম অভিজ্ঞতা।
বেশ কিছুদিন আগে শুনেছিলাম বাংলাদেশ বংশদ্ভুত জনৈক ব্যক্তি কম্পুটার সফটওয়ার টেস্টিং, ডেটাবেজ এডমিনিস্ট্রেশন শিক্ষা দিয়ে চার সহাস্রাধিক ব্যক্তির চাকরির সংস্থান করেছেন। তাঁকে ফোন করে সময় ঠিক করে নিয়ে গেলাম তাঁর সঙ্গে দেখা করতে, কথা বলতে, জানতে ঘটনাটা কি। ভদ্রলোকের
নাম আবুবকর হানিপ, PeopleNTech Institute of Information Technology (PIIT) নামের প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং CEO । এই তরুণ উদ্যমী উদ্যোক্তার কথা গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনছিলাম। তাঁর কথায়, একজন মানুষ শিক্ষাজীবন শেষ করে, জীবিকা অর্জনের পেছনে জীবনের প্রায় পুরো সময়টা কাটিয়ে শেষ বয়সে শক্তি ও সামর্থ অনুযায়ী মানব সেবায় আত্মনিয়োগ করে থাকেন। তাঁর দর্শনতত্ব হোল, একজন মানুষ যদি নিজের জীবিকা অর্জনের পাশাপাশি মানব কল্যাণে নিজেকে নিয়োগ করে তবে সে জীবনের দীর্ঘ সময় মানব সেবায় ব্যবহার করতে পারে। অর্থাৎ আবুবকর হানিপ “survival and philanthropy’ কর্মকান্ড একই সঙ্গে চালানোর দর্শনে বিশ্বাসী। এই পরিশ্রমী, মেধাবী, প্রকৌশলী, সমাজসেবক, চিন্তাবিদ তাঁর দর্শন শুধু মুখের কথায় সীমিত রাখেননি, প্রধানত বাংলাদেশীসহ আমেরিকা ও অন্যান্য জায়গায় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আর এই সব লোকেরা শুধু সম্মানজনক ভাবে জীবিকা অর্জনই করেননা, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উনয়নে এরা বড় রকমের সহায়ক।
আবু হানিপের জন্ম কুমিল্লার লাঙ্গলকোটে। চট্টগ্রাম থেকে হাইস্কুল ও পরে Chittagong University of Engineering and Technology থেকে
ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে ডিগ্রী অর্জন করেন। আমেরিকা এসে NYIT থেকে কম্পুটার সায়ন্স বিষয়ে মাষ্টার্স ডিগ্রী নিয়ে চাকরি বাজারে নামেন। তাঁর ধারনা ছিল শিক্ষাগত যোগ্যতার গুনে চাকরি পাওয়া সহজই হবে।
নানান জায়গায় চাকরির আবেদন পাঠাতে থাকেন। দিন যায় চাকরি আর হয় না। হানিপ সাহেবের মুখে ক্রমে চিন্তার রেখা দেখা দিতে শুরু করে। বেশীর ভাগ আবেদনেরই উত্তর আসে না। যেগুলোর আসে, তাও নেতি বাচক। কিন্তু হতাশার কাছে আত্মসমর্পন না করে আবু হানিপ, কম্পুটার বিষয়ে আরো কিছু সার্টিফিকেট অর্জন করে, জনাব এনাম সাহেবের কাছে software testing বিষয়ে industrial ধারনা নিয়ে চাকুরির চেষ্টা অব্যাহত রাখেন। তবু তার চাকরি হয় না দেখে গবেষণা করতে শুরু করলেন, চাকরি হচ্ছে না কেন? লেখা পড়া আছে, ইংরেজি জানেন তবে চাকরি হচ্ছে না কেন? যতই তিনি গবেষণা করতে থাকেন, ততই তাঁর কাছে পরিষ্কার হোয়ে আসতে থাকে চাকুরিদাতারা চাকুরিপ্রার্থীর কাছে কি প্রত্যাশা করেন। তাঁর কাছে পরিষ্কার হোয়ে উঠলো চাকুরিদাতারা চাকুরিপ্রার্থীর কাছে চারটা জিনিষ প্রত্যাশা করেন। তারা জানতে চান চাকুরি প্রার্থীর চাকুরির প্রয়োজনীয় Knowledge বা জ্ঞান আছে কি না, দ্বিতীয় যে
জিনিষ তারা খোঁজেন সেটি হোল চাকুরিপ্রার্থীর প্রয়োজনীয় skill বা দক্ষতা আছে কি না। তৃতীয় যে জিনিষটা তারা খোঁজেন তা হোল প্রার্থীর উপযুক্ত experience বা অভিজ্ঞতা আছে কি না এবং সর্বশেষ তারা খোঁজেন চাকুরিপ্রার্থীর চাকুরিজগৎ বা ব্যবসাজগৎ সম্পর্কে পরিচিতি আছে কি না। হানিপ সাহেব দেখলেন যে চাকরি তিনি খুঁজছেন সে সম্পর্কে তাঁর যথেষ্ট জ্ঞান থাকা স্বত্বেও তিনটি প্রয়োজনীয় গুনের অভাবে তাঁর চাকরি হচ্ছেনা। তাই তিনি নিজেকে প্রস্তুত করেন skill, experience এবং Corporate environment সম্পর্কে। কাজটি খুব সহজ না হোলেও নিজেকে প্রস্তুত করে নিয়ে আবু হানিপ আবার নামলেন চাকরি খোজার কাজে।
কাজে লাগলো তাঁর গবেষণা, পরিশ্রমের সুফল তিনি পেলেন। হোয়ে গেল চাকরি। প্রথম চাকরি হল FDICতে। অর্জিত শিক্ষার সঙ্গে তিনি skill, experience এবং familiarity with corporate environment কাজে লাগিয়ে উন্নতির সোপান বেয়ে বেয়ে ওপরের দিকে উঠতে থাকেন। একে একে তিনি বিভিন্ন কোম্পানীতে IT Consultant/Analyst IT পদে চাকরি করেন। নামীদামী এই কোম্পানী ও সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম হল IRS, IBM, Department of Defense, Northrop Grumman, Oracle Corporation, FDIC.
সাধারণ লোক হোলে সুখে স্বাচ্ছান্দে কর্মজীবন কাটিয়ে জীবনের শেষ কটা দিন নামতেন জনসেবার কাজে। আবুবকর হানিপ এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। তাঁর স্বপ্ন ভিন্ন। তিনি একাধারে Thinker এবং Doer। তিনি চিন্তা করতে থাকেন তাঁর অর্জিত এই অমূল্য অভিজ্ঞতা কিভাবে ছড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশীদের IT ক্ষেত্রে আনা যায়। আরও অধিক সংখ্যক মানুষের বিশেষ করে বাংলাদেশীদের উপকার করা যায়। বিভিন্ন নামীদামী প্রতিষ্ঠানে চাকুরিকালিন সময়ে তিনি তাঁর শিক্ষা, মেধা, প্রতিভা ও গবেষণালব্ধ জ্ঞান এবং কর্ম ক্ষেত্রের ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা ও প্রায়গিক দক্ষতার সম্মিলন ঘটিয়ে চাকুরি প্রাপ্তির জন্য এক যুগান্তকারী কর্মকৌশল উদ্ভাবন করেন যা যেকোন যোগ্য চাকুরি প্রার্থীর জন্য কার্য্যকর ও উৎকৃষ্ট পন্থা হিসাবে কাজে লাগতে পারে।
প্রথমেই তাঁর মনে পড়লো নিউইউর্কের এক সহপাঠীর কথা। কম্পুটার বিষয়ে ডিগ্রী অর্জন করেও, যোগ্য কোন চাকরী না পেয়ে বাঁচার জন্য ট্যাক্সী চালাতে শুরু করেছে। পয়সা খুব একটা খারাপ রোজগার করছিল না, তবে মনের গ্লানিতে ভুগছিল সে। আবু হানিপ সেই সহপাঠীকে বোঝালেন তুমি
আমার এখানে এসো, আমি তোমাকে শেখাবো কি করে চাকরি জোগাড় করতে হয়। আবু হানিপ তখন বসবাস করেন ওয়াশিংটনের অদূরে ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে। বন্ধু আসলেন, Academic knowledge এর সঙ্গে আবু হানিপের কাছ থেকে তিনি skill, experience এবং industrial knowledge এর ওপর প্রশিক্ষণ নিতে থাকেন। কয়েক মাস প্রশিক্ষণের পর তাঁর দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস এমন মাত্রায় উন্নিত হোল যে তিনি আবার চাকুরির সন্ধানে আত্মনিয়োগ করেন। অতি সহজেই তাঁর চাকরি হোয়ে গেল।
এতে বন্ধু যত না খুশী হোলেন তার চাইতে বেশী উৎসাহিত, উদপীপ্ত ও উপকৃত হোলেন যিনি তিনি হোলেন আবুবকর হানিপ নিজে। হানিপ মনে মনে ভাবলেন, তাঁর এই পরীক্ষামূলক কর্ম কৌশলটি চাকুরীপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বেশ কার্য্যকরী ও ফলপ্রসু ভূমিকা পালনে সক্ষম। নিজের শিক্ষা, মেধা, অভিজ্ঞতা, পরিশ্রমলব্ধ জ্ঞান ও গবেষণা দ্বারা এই উদ্ভাবিত পদ্ধতিটির সফলতা তাঁকে ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত ও উৎসাহিত করে। তিনি তখন খুঁজে খুঁজে বার করতে থাকেন চাকুরির সন্ধানে ঘুরে বেড়ানো মানুষদের, যাদের কাছে চাকুরি সোনার হরিণের মত ধরা ছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে।
আমেরিকার বিভিন্ন ষ্টেট থেকে তিনি তাদের আমন্ত্রন করে নিয়ে আসেন নিজের বাড়িতে। সপ্তাহান্তের দিনগুলোতে (শনিবার, রবিবার) চলতে থাকে প্রশিক্ষণ। আর তাঁর স্ত্রী ফারহানা হানিপ ছিলেন ঐসব শিক্ষার্থীদের সার্বিক সহযোগিতায়। এভাবে শুরু হয় আবু হানিপের নতুন কর্মশালা। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জ্ঞান থাকলেও চাকুরী প্রাপ্তির জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতার অভাব ছিল। কিন্তু আবু হানিপের কাছ থেকে Software Testing এর Academic and Industrial knowledge, Skill, Experience এবং corporate world এর বিষয়ে সম্যক ধারনা লাভ করে তারা পরিণত হন এক এক জন দক্ষ কর্মী হিসাবে। আত্মবলিয়ান হয়ে তারা নেমে পড়েন চাকুরি জগতে। বেশীর ভাগেরই চাকুরি হয়ে যায়। যাদের হয়না, তারা আবার নতুন উদ্যমে জনাব হানিপের কাছে প্রশিক্ষণ নিতে থাকেন এবং একপর্যায়ে তাদেরও চাকরি হয়ে যায়।
জনাব আবু হানিপ এক জায়গায় বসে থাকার মানুষ নন। তিনি যখন দেখলেন, তাঁর অভিজ্ঞতা ও উদ্ভাবনী কর্মকৌশল প্রয়োগ করে চাকুরি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে মানুষের উপকার হচ্ছে, তখন তিনি তাঁর অভিজ্ঞতাকে ঘরোয়া পরিবেশে সীমিত না রেখে একে পেশাগত রূপ দিতে মনস্থির করলেন। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তিনি বাস্তবসন্মত প্রশিক্ষণের ক্যারীকুলাম তৈরী করলেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি ২০০৪ সনে ভার্জিনিয়ায় অফিস ও স্কুল উদ্ধোধন করলেন। নাম দিলেন PeopleNTech Institute of Information Technology
(PIIT)। যেটি State Council of Higher Education for Virginia থেকে Training Institute হিসেবে এবং New York City Department of Consumer Affairs থেকে Employment Agency হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।
প্রশিক্ষনের পরপরই চাকুরি পাওয়ার সুবাদে প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত ছাত্র ছাত্রীরাই হয়ে উঠলো তাঁর প্রতিষ্ঠানের জীবন্ত বিজ্ঞাপন। ধীরে ধীরে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পেতে লাগলো। তারা যে সবাই বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত তা নয়। PeopleNTech-এ এসে জড়ো হতে থাকল আমেরিকায় বসবাসকারী এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, পূর্ব ইউরোপ, দক্ষিনপূর্ব এশিয়া সহ সব দেশের মানুষ। এদের সবার কম্পিউটার বিষয়ে পুরোপুরি জ্ঞান না থাকা সত্বেও PeopleNTech এদের হাতে কলমে কম্পিউটার সফটওয়্যার টেষ্টিং বিষয়ে প্রশিক্ষন দিতে থাকে। বাস্তব জগতে কিভাবে সফটওয়্যার টেস্ট করা হয়, কিভাবে তার ডিজাইন করতে হয়, সেই ডিজাইন কিভাবে Execute করতে হয়, তা শেখানো হয়। জ্ঞান ও দক্ষতার পর তাদের অভিজ্ঞতার জন্য তৈরী করা হয়। এছাড়াও Database Administration, Project Management Professional এর উপর Real-Time Project এর মাধ্যমে প্রশিক্ষন দেয়া হয়।
তিনি তাদের শেখান অর্জিত জ্ঞানকে কিভাবে ব্যবহার করে অভিজ্ঞতা অর্জন করবে তার জন্য তাদের নতুন আসা ছাত্রছাত্রীদের মেন্টর হিসাবে কাজ করতে দেন। এতে জ্যেষ্ঠরা যেমন অভিজ্ঞতা অর্জন করে, নবীনরাও তেমনি শিক্ষা অর্জনের সুযোগ পায়। তারপর জ্যেষ্ঠদের নিয়ে বসা হয় কর্পোরেট জগৎ সম্পর্কে আলোচনা করতে। যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য Boot Camp Party এর মাধ্যমে দেয়া হয় এই Real-Time Project. যারা পারদর্শীতার সাথে প্রজেক্ট শেষ করতে পারে, কেবল তাদেরই পাঠানো হয় চাকুরির ইন্টারভিউতে। এ জন্য PeopleNTech-এ শনি ও রবিবার উইকএন্ড ব্যাচ এবং মঙ্গলবার ও বুধবার উইকডে ব্যাচে পালাক্রমে আনুষ্ঠানিক ক্লাস পরিচালিত হয়। আর বাকি দিন গুলো ছাত্রছাত্রীরা তাদের সুবিধাজনক সময়ে এসে নিজে নিজে অনুশীলন করতে পারে। এইভাবে ছাত্রছাত্রীদের IT চাকুরীর জন্য প্রস্তুত করা হয়।
PeopleNTech এর সাথে বহু কর্পোরেশনের যোগাযোগ রয়েছে। তাদের সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয়। যে যোগ্যতার জন্য কোম্পানি গুলো মানুষ খুঁজছে, তা পেয়ে তারা ভালো বেতনে চাকরি দেয়। তারা মোটেও তোয়াক্কা করে না যে এই সব চাকরিপ্রার্থীর কলেজ ডিগ্রি আছে কিনা, চাকুরিপ্রার্থী কাজ করতে পারবে কিনা সেটাই তাদের কাছে বড় কথা। চাকুরি দাতারা চাকুরিপ্রার্থীর প্রয়োজনীয় দক্ষতা যাচাই করে নিশ্চিত হয়ে চাকরি নিশ্চিত করে। মনে পড়ে গেল WTPO রেডিও তে শোনা সেই সংবাদের কথা। উচ্চ বেতনের চাকরির বহু পদ খালি পড়ে রয়েছে, কিন্তু এ জন্য প্রয়োজন দক্ষ জনশক্তি। আবু হানিপ বলেন : ‘‘আমেরিকায় এসে যারা বার্গার বানানোর কাজ শুরু করে, ট্যাক্সী চালায়, গ্যাস ষ্টেশনে কাজ শুরু করে সামনে এগোবার পথ না পেয়ে হতাশায় ভুগতে থাকে, কিংবা যারা এদেশে পড়াশুনা করেও চাকুরী পাচ্ছেনা তাদের সকলকেই তিনি সঠিক প্রশিক্ষন ও দিকনির্দেশনা প্রদান করে সন্মানজনক চাকুরি ও মর্যাদাশীল জীবন যাপনের পথ প্রদর্শনে আন্তরিকভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
PeopleNTech এর প্রধান অফিস ভার্জিনিয়ার টাইসন্স কর্নারের কাছে Spring Hill Road-এ অবস্থিত। এছাড়াও নিউইউর্কের এষ্টোরিয়া ও ব্রুকলীনে দুটি, নিউজার্সির আটলান্টিক সিটিতে একটি করে অফিস ও স্কুল রয়েছে। বাংলাদেশে এবং ভারতেও এর শাখা রয়েছে। এছাড়া পৃথিবীর যে কোন স্থান থেকে PeopleNTech এর Job Oriented কোর্সগুলো Live Online Class এর মাধ্যমে শিখে নিয়ে চাকরি যোগাড় করা যায়।
আবু হানিপ কথা প্রসঙ্গে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী কমিউনিটির জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বছরে দুই মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের স্কলারশীপ প্রকল্প চালু করেছেন। অর্থাৎ প্রতিবছর আমেরিকার প্রতিটি বাংলাদেশী সংগঠন থেকে একজন করে মোট ৫০০ জন বাংলাদেশীকে স্কলারশীপ প্রদানের মাধ্যমে প্রশিক্ষন দিয়ে IT সেক্টরে চাকরি দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে
এই চমৎকার মহতী উদ্যোগকে সকলের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা ছাড়াও জনাব আবুবকর হানিপ ব্যক্তিগতভাবে সামাজিক অনুষ্ঠান সহ বিভিন্ন দেশীয় মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও সকলকে আহবান জানিয়ে আসছেন। এই স্কলারশীপ প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যেই বেশকিছু ছাত্র ছাত্রী সফলতার সাথে প্রশিক্ষন শেষে আকর্ষনীয় বেতনে কর্মরত আছেন। স্কলারশীপ প্রকল্পের বাইরেও বাংলাদেশী নারী এবং সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য বিনা খরচে বেসিক কম্পিউটার কোর্সের উপর প্রশিক্ষন প্রদান করছে PeopleNTech যাতে করে তারা তাদের সন্তানদের লেখাপড়ায় সহায়তা সহ উন্নত জীবন নির্মানে কাজ করতে পারেন এবং প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ পান।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী তরুণ প্রকৌশলী আবু হানিপ এক নতুন স্বপ্ন নিয়ে যান তার জন্মভূমি প্রিয় বাংলাদেশের উন্নয়নে অংশগ্রহনের লক্ষ্যে। সাহসী এই তরুণ মানুষটি নিজস্ব অর্থায়নে রাজধানী ঢাকায় শুধু একটি পূর্নাঙ্গ ক্যাম্পাসই চালু করেননি-তিনি প্রথম পর্যায়ে ১০ হাজার বাংলাদেশীকে IT Specialist হিসেবে বিশ্ববাজারে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে মোট ১০ মিলিয়ন ডলারের স্কলারশীপ প্রকল্প হাতে নিয়েছেন এবং প্রতি ব্যাচে তরুণ মেধাবী কিন্তু আর্থিকভাবে অসচ্ছল বাংলাদেশীদের স্কলারশীপের মাধ্যমে ইতিমধ্যে প্রশিক্ষন প্রদান শুরু করেছেন।
বাংলাদেশে PeopleNTech এর শাখায়-পেশাদারী শিক্ষার সাথে সাথে ইংরেজি শেখারও ব্যবস্থা আছে। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রাপ্তির মাধ্যমে, যারা যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছেন-তারা যুক্তরাষ্ট্রে আসার আগেই বাংলাদেশ থেকে PeopleNTechএর কোর্সগুলো সম্পন্ন করে, যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর স্বল্প সময়ের মধ্যেই আইটি সেক্টরে অনায়াসে কাংখিত চাকুরি লাভের সুবর্ণ সুযোগ গ্রহন করতে পারেন এবং নিজেদেরকে অড জবের অভিশাপ থেকে মুক্ত রাখতে সক্ষম হবেন। আরা যারা আসতে চান না অথবা আসতে পারেন না, তারা দেশে বসেই আমেরিকা সহ বিভিন্ন দেশের কাজ করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেতে পারেন।
আবু হানিপ মনে করেন, এই ভাবে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করতে পারে এবং বস্ত্র শিল্প এবং বিদেশে শ্রমিকদের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার চাইতে IT দক্ষ পেশাদাররা আরও বেশী উপার্জন করতে পারবেন । এতে বাংলাদেশেরও বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার অধিকহারে পূর্ণ হবে। আর তাছাড়া দক্ষতার গুনে যেকেউ আমেরিকা আসার জন্য ‘H1B’ ভিসা পেতে পারেন, সেক্ষেত্রেও PeopleNTech বাংলাদেশে Mobile Application Development, ERP, ORACLE, JAVA, BIG DATA HADOOP জাতীয় কোর্সগুলোতে দক্ষ করিয়ে স্পন্সর করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে আসার সুযোগ করে দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন-‘‘আমার খুব ভাল লাগে এই ভেবে যে, আমি অতি অল্প সময়ের মধ্যে চার হাজারেরও বেশী মানুষকে এই যুক্তরাষ্ট্রের আইটি কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছি- যারা বছরে প্রায় ৮০,০০০ থেকে ১৫০,০০০ ডলার আয় করছেন। আমি জীবনের সাফল্যকে দেখি-আমার নিজের জীবিকা অর্জনের সাথে সাথে বেশ কিছু মানুষ তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে উন্নততর জীবনের স্বাদ গ্রহন করতে পারছে এবং অড জবের করাল গ্রাস থেকে মুক্ত হয়ে দেশ-প্রবাসের মূল ধারায় অবদান রাখতে পারছে্।’’
প্রকৌশলী আবুবকর হানিপ এমন দেশহিতৈশী মানুষ-যিনি একদিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের কল্যাণের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন, অন্যদিকে প্রবাসে বসেও IT কে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি তাঁর কর্মের স্বীকৃতি স্বরূপ U.S. Ambassador to Bangladesh Dan Mozena, Nobel Laureate Professor Dr. Muhammad Yunus, AABEA, FOBANA, ABC, NABC, BACC, BCCDI, NRB TAROKA AWARD, Poet Jashim Uddin Award, Honorable Congressman Hanson Hashem Clarke, The Council of New York City সহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে সম্মাননা ও পুরস্কার লাভ করেন।
আলোচনার শেষ প্রান্তে এসে আমি ভাবছিলাম, “শুধু কথায় নয়, সত্যিকারের কাজের বড় মানুষের সাক্ষাত পেয়েছি।” আলাপচারিতার শেষ প্রান্তে এসে স্বাপ্নিক আবুবকর হানিপ বলেন-নিজেকে তার “সবচেয়ে সুখী ও স্বার্থক” মনে হয় তখনই-যখন তিনি দেখেন যে, তার উদ্ভাবিত পন্থায় ও প্রদর্শিত পথে প্রদানকৃত শিক্ষাপদ্ধতি, পরামর্শ ও সহযোগিতা কোন মানুষের জীবনমান পরিবর্তনে এবং উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে এবং তাদের পরিবারকে স্বচ্ছল করে গড়ে তুলতে সাহায্য করছে। **PeopleNTech সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন : www.piit.us, www.peoplentech.com
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!