অবৈধ অভিবাসীদের ঢালাওভাবে গ্রেফতারের পথ সুগম করতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে বিল পাশ
নিউইয়র্ক : অবৈধ অভিবাসীদের ঢালাওভাবে গ্রেফতারের পথ সুগম করতে আরেকটি বিল পাশ হলো মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে। ২২৮-১৯৫ ভোটে ২৯ জুন বৃহস্পতিবার এই বিল ছিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসন বিরোধী নির্বাহী আদেশের পরিপূরক। জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহনের পরই ট্রাম্প অভিবাসনের মর্যাদা নেই-এমন অবৈধদের গ্রেফতারের নির্বাহী আদেশ জারি করলেও নিউইয়র্ক, ফিলাডেলফিয়া, লসএঞ্জেলেস, সাক্রামেন্টো, বস্টনসহ ৩ শতাধিক সিটির মেয়র ঐ আদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধের পরিপন্থি হিসেবে অভিহিত করেন। তারা ট্রাম্পের ঐ নির্দেশ প্রতিপালন থেকে বিরত থাকার ঘোষণাও দেন ‘স্যাঙ্কচুয়ারি সিটি’র প্রশাসক হিসেবে।
গত কয়েকমাসে তারা একজন অবৈধ অভিবাসীকেও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এজেন্ট কিংবা ইমিগ্রেশন এ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) এর এজেন্টের কাছে সোপর্দ করেননি। শুধু তাই নয়, প্রচলিত রীতি অনুযায়ী অন্য কোন অভিযোগে গ্রেফতারকৃত অবৈধ অভিবাসীদেরকেও আইসের কাছে হস্তান্তর করেননি। এ অবস্থায় ট্রাম্প প্রশাসন বিব্রতবোধ করে ঐসব সিটির ফেডারেল অনুদান বন্ধের সার্কুলারও জারি করেছে। তাতেও কোন লাভ হয়নি। এজন্যেই প্রতিনিধি পরিষদে এই বিল পাশ করলেন রিপাবলিকানরা। যদিও তা সিনেটে পাশ হবে বলে কেউই মনে করছেন না। সিনেটের অনুমোদন ব্যতিত এই বিল আইনে পরিণত হবে না। সিনেটে কমপক্ষে ৬০ ভোট লাগবে এটি আইনে পরিণত করার জন্যে প্রেসিডেন্টের টেবিলে পৌঁছাতে। এ ধরনের একটি বিল এর আগেও উত্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু সিনেটের সমর্থন পায়নি।
একইসাথে পাশ হওয়া দুটি বিলের একটির শিরোনাম হচ্ছে ‘ক্যাট ল’ । দু’বছর আগে ক্যাট স্টেইনলি নামক এক যুবতী ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সানফ্রান্সিসকো সিটির ব্যস্তততম একটি রাস্তা অতিক্রমের সময় খুন হন। খুনী ছিল অবৈধ অভিবাসী এবং তাকে অভিবাসনের মর্যাদা লংঘনের দায়ে কয়েক দফা যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছিল। বারবারই সে সীমান্ত পথে বেআইনীভাবে ঢুকে পড়ে এবং নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়। এমন গুরুতর অপরাধীদের ঢালাওভাবে গ্রেফতার করেই নিজ নিজ দেশে পাঠিয়ে দেয়ার এ বিল পাশ হয় ২৫৭-১৬৭ ভোটে। অপরদিকে, স্যাঙ্কচুয়ারি সিটির দোহাই দিয়ে অপরাধী-অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় প্রদানকারি সিটিসমূহের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থনৈতিক অবরোধ রচনার অভিপ্রায়ে ‘নো স্যাঙ্কচুয়ারি ফর ক্রিমিনালস এ্যাক্ট’ শীর্ষক বিলটি পাশ হয় ২২৮-১৯৫ ভোটে।
ডেমক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের এধরনের মনোভাবের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, স্থানীয় পর্যায়ে সন্ত্রস্ত অবস্থা তৈরীর ফলে সামগ্রিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে। অর্থাৎ অভিবাসী অধ্যুষিত সিটিসমূহ পুলিশী রাষ্ট্রে পরিণত হলে কেউই অপরাধীদের কোন তথ্য পুলিশকে দিতে স্বাচ্ছন্দবোধ করবে না। এই বিল অনুযায়ী, বেআইনীভাবে সীমান্ত অতিক্রমকারি অভিবাসীদের পাশাপাশি অপরাধে লিপ্ত অবৈধ অভিবাসীদের ঢালাওভাবে গ্রেফতার অভিযান শুরু হবে। এ শ্রেণীর অবৈধরা কোন ধরনের সুযোগ পাবে না স্থায়ীভাবে বসতি গড়ার।এনআরবি নিউজ
- দুই তরুণী রোগীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ; নিউইয়র্কে বাংলাদেশি-আমেরিকান চিকিৎসক ডা. ফজলুল ইউসুফ গ্রেপ্তার, জামিনে মুক্ত
- বাংলাদেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধার প্রতিবাদ, ‘শিখা অনির্বাণ’ প্রজ্জ্বলিত রাখার দাবি নিউইয়র্কে
- শান্তি প্রতিষ্ঠায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সব পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ জরুরি: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির প্রচার সম্পাদক রিজুর পিতার ইন্তেকাল
- যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারি ফের স্থগিত, নিম্ন আদালতের আদেশে আপিল আদালতের বাধা
- যুক্তরাষ্ট্রে ডেলাইট সেভিং টাইমের অবসান, ১ নভেম্বর ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছাবে
- নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান
- জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর