আটলান্টায় নদীতে ডুবে বাংলাদেশি কিশোর আদিলের মর্মান্তিক মৃত্যু
রুমী কবিরঃ কতই বা বয়েস হয়েছিল কিশোর আদিল চৌধুরীর ! চলতি বছরে ম্যাগনেট গ্রুপের মেধাবী ছাত্র হিসেবে সবেমাত্র হাই স্কুল গ্রেজুয়েশন শেষ করেছে শ্যাম্বলী চার্টার হাই স্কুল থেকে। অথচ আঠারো বছরের এই হাস্যোজ্জ্বল অমায়িক স্বভাবের বন্ধুবৎসল তরুণটি বন্ধুদের নিয়ে সাঁতার কাটতে গিয়ে জীবনের সব পাট চুকিয়ে চিরবিদায় নিয়ে নিল (ইন্নালি…রাজেউন)।
এ যেন এক অবিশ্বাস্য ঘটনা ! আকস্মিক ও মর্মান্তিক এই মৃত্যুকে কিভাবে মেনে নেয়া যায় ? আদিলের বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু, আপনজন- এরা কিভাবেই বা সইতে পারছেন এই হৃদয়-ছেঁড়া মর্মস্পর্শী কঠিন শোকের পাহাড়কে ? আমাদের সমবেদনা জানানোর কোন ভাষা নেই আজ। তবে আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ইচ্ছাতেই হয়তো একটা ভালো কিছুর গন্তব্যে পৌঁছতে তাকে পৃথিবীর অধ্যায়কে এতটাই সংক্ষিপ্ত করে ফিরে যেতে হয়েছে। মুসলমানদের পবিত্র রমজান মাসে তরতাজা এই সম্ভাবনাময়ী তরুণের এইভাবে সহসা চলে যাওয়াকে আর কিই বা বলা যেতে পারে! বিনিময়ে বুকছেঁড়া হাহাকার আর দুঃসহ কষ্টকে ধারণ করতে হয়েছে বেঁচে থাকা বাবা- মা, পরিবার, বন্ধু ও সজনদের।
আদিলের শোক সন্তপ্ত পরিবারের সকলের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালার কাছে দুই হাত তুলে প্রার্থনা করি এই নিস্পাপ কিশোরের বেহেস্ত নসিবের জন্যে।
যার জীবনের চলার পথচলা কেবল শুরু হয়েছিল, হাঁটি হাঁটি পা পা করে বাবা-মার আদরে-যত্নে বেড়ে উঠে যে ছেলেটি একটি সুন্দর আগামী নির্মাণের সিঁড়িতে পা দিয়েছিল মাত্র, আর সেই প্রারম্ভকালেই তার এই অকাল জীবনাবসানে শুধু বাবা-মা কিংবা আপনজনই নন, আজ আটলান্টার সকল বাংলাদেশিকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছে অকাতরে।
প্রয়াত আদিল চৌধুরী আটলান্টার শ্যাম্বলী শহরে বসবাসকারী মোহাম্মদ আলী চৌধুরী শেখব ও মা নানমতি চৌধুরীর একমাত্র তনয়। আদিলের একটি মাত্র ছোট বোন রয়েছে, নাম ইয়াসমিন। বাবা মা আর এক ভাই এক বোনের ছিমছাম ছোট্র পরিবার থেকে আদিলকে চলে যেতে হল এইভাবে সকলকে কষ্টের সাগরে ভাসিয়ে।
গত ২২ জুন বুধবার আদিল বন্ধুদের নিয়ে সামারের সবচাইতে আনন্দের জায়গা চ্যাটটাহুসি নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়েছিলো। আর সেই আনন্দই যেন ছিল তার পৃথিবীর শেষ আনন্দ। সহসা গভীর পানিতে নিজেকে নিরাপদ অবস্থানে আনতে পারছিলনা। বন্ধুরা সাঁতরে নদী পার হলেও আদিল মাঝ নদীতে ডুবে যায় বলে জানা গেছে। তীরে এসে আদিলকে পানিতে দেখতে না পেয়ে বন্ধুরা তাৎক্ষনিকভাবে নাইন ওয়ান ওয়ান কল করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী দল প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা করে দিনের শেষে ১৬ ফুট পানির নিচ থেকে আদিলকে উদ্ধার করে। ততক্ষণে তার জীবন-প্রদীপ নিভে গেছে। আদিল প্রতিদিনের মতো সেদিনও রোজা পালন করছিলো বলে জানা গেছে।
প্রয়াত আদিলের মরদেহ পরে Tom M. Wages Funeral Services, Lawrenceville সংরক্ষণ করা হয়। মরহুমের নামাজে জানাজা আজ শুক্রবার জুম্মা নামাজ শেষে লরেন্সভিলস্থ জর্জিয়া ইসলামিক সেন্টার মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সেখানকার গোরস্থানেই মরদেহ সমাধিস্থ করা হয়।
আমার জানামতে বাবা-মা ছাড়াও আদিলের বেশ কয়েকজন নিকট আত্মীয় আটলান্টায় বাস করছেন। এর মধ্যে তিন দম্পতি হলেনঃ মিসেস মুনিরা হক (ফুপু) ও মোহাম্মদ শহীদ হক (ফুপা), সৈয়দা শুভ্রতা হুসেন তুলি (ফুপু) ও আবু লিয়াকত হোসেন (ফুপা), রাজিয়া জুলফিকার (ফুপু) ও নুর জিন্নাহ মণি (ফুপা)। এই ঘনিস্ট আত্মীয়গণ ইতোমধ্যেই সামাজিক মিডিয়ায় তাদের ভাজিজার এই অকাল মৃত্যুতে সকল প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে মরহুমের বিদেহী আত্মার জন্যে দোওয়া কামনা করেছেন। আদিলের পৈত্রিক জন্মভুমি বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেট জেলায়।
- নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান
- জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর
- নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত
- নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ
- New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners
- এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ
- নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া