আবৃত্তির ভুবনে অনন্যা মুমু
মনজুর আহমদ :
মাতিয়ে দিলেন মুমু আবার কবিতাপ্রেমীদের। আবার বললাম এই জন্য যে এর আগেও মুমু দু’বার একক পরিবেশনায় মঞ্চে এসেছেন তার সুনির্বাচিত কবিতার সম্ভার নিয়ে। মুমু তার এক নিজস্ব ভুবন তৈরি করে নিয়েছেন আবৃত্তি পরিবেশনার। এ ভুবনের নাম তিনি দিয়েছেন ‘প্রাঙ্গণে মোর’। গত রোববার নভেম্বরের শেষ দিনটিতে তিনি মঞ্চে এসেছিলেন ‘প্রাঙ্গণে মোর’-এর তৃতীয় পরিবেশনা নিয়ে। ক্লাব সনমের মঞ্চে তার এই একক পরিবেশনা ছিল ছোট্ট একটু বিরতি বাদে পুরো তিন ঘন্টার। এ সন্ধ্যার পরিবেশনার স্লোগান ছিল ’আগামী তোমার হাতে আমার কবিতা যেন থাকে দুধে-ভাতে’।
তিন ঘন্টার এই পরিবেশনায় তিনি মাতিয়ে দিলেন দর্শকদের। দর্শকে পূর্ণ ছিল পুরো মিলনায়তন। অতিরিক্ত চেয়ার দিয়েও সবার বসার ব্যবস্থা করা যায়নি। অনেককেই দাঁড়িয়ে উপভোগ করতে হয়েছে অনুষ্ঠান। আগে থেকে ধারণা করা যায়নি এমনই দর্শক সমাগম ঘটেছিল মুমু আনসারীর এদিনের অনুষ্ঠানে। এবং নির্দ্বিধায় বলব শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মুমু সবাইকে মুগ্ধ করে রেখেছিলেন তার আবৃত্তির অসাধারণ পরিবেশনা দিয়ে।
মুমুর আবৃত্তি অসাধারণ এ কথা আজ অনস্বীকার্য। কিন্তু এটুকুতেই শেষ নয়। তার এবারের পরিবেশনা শুনে এবং দেখে এই ধারণা নিয়েই ফিরেছি যে মুমু আবৃত্তি শিল্পকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছেন। আবৃত্তির এক নতুন শিখরে মুমুর উত্তরণ ঘটেছে। আবৃত্তিকে তিনি শুধু আর কন্ঠের কারুকার্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি, তিনি এর সঙ্গে সমন্নয় ঘটিয়েছেন শরীরি ভাষার ছন্দময়তা, অভিব্যক্তির নান্দনিকতা, কবিতা পাঠের নাটকীয়তা। সন্নিবেশ ঘটিয়েছেন সঙ্গীত, নৃত্য, যন্ত্র অনুসঙ্গের। আবারও বলি মুমু শুধু কবিতাই পাঠ করেননি, তিনি একই সাথে নাটক করেছেন, কন্ঠমাধুর্যে কবিতার অন্তর্নিহিত বাণীকে বাক্সময় করে তুলেছেন। এম আর আখতার মুকুলের ‘চরমপত্রের’ নিরেট গদ্যকেও তিনি ছন্দে-তালে কাব্যিক করে তুলেছেন। সাঁওতালী ও আঞ্চলিক উচ্চারণের আবৃত্তিতে মুমু চমৎকার। সব মিলিয়ে ‘প্রাঙ্গণে মোর-৩’ ছিল সার্বিকভাবে উপভোগ্য একটি উঁচু মানের অনুষ্ঠান। শেষ কবিতায় সজীব মোদকের তবলা লহরির সাথে মুমুর প্রাণবন্ত আলাপে বাস্তবিকই মেতে উঠেছিলেন শ্রোতৃমন্ডলী। তবলার তালে তালে মুমু যখন হাতে তালি বাজিয়ে আবৃত্তিকে এক ভিন্ন আঙ্গিকে নিয়ে গেলেন তখন দর্শকরাও সাড়া না দিয়ে পারেননি। তারাও তালে তাল দিয়ে একাত্ম হয়ে গেলেন মুমুর পরিবেশনার সাথে। তার এবারের সূচনা পর্বটিও নতুনত্ব ও বৈশিষ্ট্যের দাবী রাখে। ‘বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি’ দিয়ে শুরু করে হিন্দু ধর্মের স্তোত্র, খ্রীষ্ট ও ইসলাম ধর্মের ঐশী বাণী উচ্চারণের মধ্য দিয়ে মানবতার জয়গান দিয়ে শুরু করেছিলেন মুমু তার এবারের আবৃত্তি অনুষ্ঠান।
স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, আবৃত্তির এই বৈচিত্র্যময় পরিবেশনা আমার অভিজ্ঞতায় এই প্রথম। এখানেই মনে হয়েছে মুমু আবৃত্তিকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছেন। কবিতার বাণীকে তিনি পৌঁছে দিয়েছেন প্রতিটি দর্শকের হৃদয়ে। সৈয়দ শামসুল হকের আটটি কবিতা নিয়ে একটি পর্ব করেছেন মুমু। এই পর্বে কবিতাগুলির সাথে সঙ্গীতাংশে ছিলেন শান্তনীল ধর। শান্তনীলের কন্ঠে রবীন্দ্র সঙ্গীত শুনতেই অভ্যস্ত ছিলাম। রাগ সঙ্গীতেও তাকে অনেক অগ্রসরমান শিল্পী বলে জানি। কিন্তু বাউল-পল্লীগীতি কিংবা বয়াতীদের দেহতত্ত্বের গানেও যে তিনি এত পারঙ্গম জানা ছিল না। যদিও ‘মন আমার দেহ ঘড়ি’র মতো জনপ্রিয় গানের যে ধরনের পরিবেশনার সাথে আমরা পরিচিত শান্তনীল সে পথে যাননি। বয়াতীদের মতো চুল ঝাকিয়ে শরীরি ভাষায় নয়, তিনি গানটি গেয়েছেন শান্ত সৌম্যভাবে মঞ্চে বসে। চমৎকার গাওয়া কিন্তু তবু মনে হচ্ছিল যেন মানাচ্ছে না।
মুমু দ্রুত লয়ের ছড়া আবৃত্তিতে অনবদ্য এ কথা আমি আগে লিখেছি। তবে এবারে তিনি নজরুলের ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু’র মতো সিরিয়াস ও রাজনৈতিক কবিতাকে তিনি ছড়ার ছন্দে পরিবেশন করলেন কেন বুঝলাম না। এতে কবিতাটির আবেদন ক্ষুন্ন হয়েছে বলেই আমার মনে হয়েছে। আরো একটি সিরিয়াস কবিতা, সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ‘মে দিনের কবিতা’-কেও তিনি ছড়ার ছন্দে নিয়ে গেছেন। এ দুটি কি হালকা আবহে পরিবেশনের মতো উপযুক্ত কবিতা?
সূচনায় মানবতার আহবানের পর মুমুর পরিবেশনায় প্রথম কবিতা ছিল রবীন্দ্রনাথের ‘অন্তর মম বিকশিত কর’। এ ছাড়া প্রথম পর্বে তার বাছাই করা কবিদের মধ্যে ছিলেন, জীবনানন্দ দাশ, ডি এল রায়, শামসুর রাহমান, সিকান্দার আবু জাফর, শহীদ কাদরী, সৈয়দ শামসুল হক, নির্মলেন্দু গুণ, পূর্ণেন্দু পত্রী, মল্লিকা সেনগুপ্ত, সুবোধ সরকার, সুকুমার বড়ুয়া, সৈকত কুন্ডু, আনিসুল হক, মনজুর কাদের, ফকীর সেলিম, ইয়াসিনুর রহমান প্রমুখ।
মঞ্চ সজ্জা, আলোকসম্পাত শব্দ নিয়ন্ত্রণ সবই ছিল ত্রুটিমুক্ত। মঞ্চের পেছনের ব্যানারে মুমুর প্রতিকৃতিটির শিল্পী ছিলেন তাজুল ইমাম।
সবশেষে অনুষ্ঠানের নামকরণ নিয়ে দু’টি কথা। অনুষ্ঠানের শিরোনাম কোনটি হওয়া বাঞ্ছনীয়, ‘মুমুর একক কবিতা সন্ধ্যাঃ প্রাঙ্গণে মোর-৩’ নাকি ‘মুমুর একক কবিতা সন্ধ্যা-৩ ঃ প্রাঙ্গণে মোর’। আর অনুষ্ঠানটি কি ’কবিতা সন্ধ্যা’ না ’আবৃত্তি সন্ধ্যা’।
- ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা
- চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান
- New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার
- ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি
- New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections
- Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity