Saturday, 31 October 2026 |
শিরোনাম
শান্তি প্রতিষ্ঠায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সব পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ জরুরি: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির প্রচার সম্পাদক রিজুর পিতার ইন্তেকাল যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারি ফের স্থগিত, নিম্ন আদালতের আদেশে আপিল আদালতের বাধা যুক্তরাষ্ট্রে ডেলাইট সেভিং টাইমের অবসান, ১ নভেম্বর ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছাবে নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্‌যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো
সব ক্যাটাগরি

এক রত্মগর্ভা মা নূর ইকবাল খানম

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 140 বার

প্রকাশিত: January 25, 2017 | 3:27 PM

আমার ১২ সন্তানের জৈষ্ঠ এই ছেলের জন্ম হয়েছে ১৯৫৯ ইং সনের মাহে রবীউল আউয়ালের শেষ সোমবার। তারিখটি ছিল ২৭। ঠিক সুবহে সাদেকের সময়। তার দাদা মরহুম শাইখ রামাদান আলী খান (রাঃ) ও নানা মরহুম শাইখ আবদুল মুসাওয়ীর বদরপুরী (রাঃ) দুজনই ঐ সিলসিলার পীরে তারীকাত শয়খ সূফী আল্লামা ইয়াকুব বদরপুরীর (রাঃ) শিষ্যত্বের সুবাদে উভয়ই ছিলেন পীরভাই। নবীজীর জন্মের মাসে সোমবার এবং ঠিক সুবহে সাদকের সময় আমার ছেলের জন্ম হওয়ায় দাদা-নানা দুজনেই ছিলেন ভারী খুশি। ৭ দিনের দিন দুজনে মিলে আনন্দে আত্বহারা হয়ে করেন আক্বীকা। নাম রাখেন মুহাম্মদ আবদুল কায়্যূম। আমার প্রতিটি সন্তানকে কালেমা কালাম ও আদি সবক আমি নিজেই দিয়েছি। মাদরাসায় ভর্তি হবার আগে নাজেরা কোরান, নামাজ ও মকতবের পরিপূর্ণ শিক্ষাদান বাড়ীতেই বাবা নিজহাতে তাদেরকে দিয়েছেন। পরে বাবা ইমাম শাইখ আবদুল করীম খান নিজ তত্বাবধানেই ছেলেকে ইসলামী উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলেন।
বাল্যকাল থেকেই অত্যন্ত মেধার অধিকারী আমার এই ছেলে ক্লাশে সর্বদা প্রথম এবং বৃত্তি পেয়েই পড়াশোনা শেষ করে বাংলাদেশে আমাদের নিজ উপজেলা বিয়ানীবাজারে একটি ইসলামি কিন্ডার গার্ডেন স্কুল প্রতিষ্ঠা ও তাতে শিক্ষকতার পাশাপাশি স্বল্প সময়ের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটিকে বেশ নামি-দামি করে এলাকায় এক আলোড়ন সৃষ্টি করে তোলে। এরই এক পর্যায়ে উচ্চতর আধুনিক ইসলামী শিক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্যে ১৯৯১ সনে আগে থেকে এখানে থাকা আমার মেঝ ছেলে কাদির খানের সহায়তায় সে আমেরিকায় চলে আসে। আমেরিকা এসে ইসলাম ও মানবতার সেবায় নিয়োজিত থাকা তার বাবার প্রবল ইচ্ছা ও তার প্রতি যথারীতি আদেশও ছিল। এখানে আসার পর থেকেই বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকান্ডে তার ভূমিকা ও সুনামের কথা দেশে থেকেই আমরা শুনতাম আর গর্ববোধ করতাম। বেশ কয়েক মাস হলো আমি আমেরিকায় এসে আমার ছেলেকে শুধুমাত্র একজন ইমামের ভূমিকায় নয়, বরং পাশাপাশি তার কম্যিউনিটি একটিভিষ্ট জনিত কর্মকান্ড এবং বহির্বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত একজন সামাজিক ব্যাক্তিত্বের স্বরপ হিসেবে নিজ চোখে আবলোকন করে সত্যি আমি আনন্দিত। মোহাম্মদী সেন্টার প্রতিষ্ঠা ও এর মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী সচেতন কেন্দ্র, নিউইর্য়ক ঈদগাহ, নিউইর্য়ক কাজী অফিস, জ্যাকসন হাইটসে ঈদে মীলাদুন্নবীর প্রচলন ও ঈদে মীলাদুন্নবীতে সরকারী ছুটি মঞ্জুুরির প্রচেষ্ঠা, স্থানীয় পুলিশ প্রিসিস্কটে গেষ্ট স্পীকার হয়ে নবাগত পুলিশ অফিসারদের গাইডলাইন প্রদান, মূলধারায় তার কদর ও সম্পৃকতা আর সর্বোপরি একজন মুসলিম ইমাম হিসেবে সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মাননা জাতিসংঘের অনুষ্ঠানে প্রথম মুসলিম কীনোট স্পীকার হয়ে বক্তব্য প্রদান এক সন্তানের মা হিসেবে আমাকে যে আবেগে আপ্তুত করেছে তা ভাষায় অপ্রকাশ্য। এদিকে নিউইর্য়কে ইমাম কাজী কায়্যূম ও তার অবদানকে খুব কাছে থেকে যিনি দেখেছেন এবং নিউইর্য়ক ঈদগায় ইমামতি (২০১৬) ও জ্যাকসনহাইটসে মার্টিন লুথার কিং ডে পালন (২০১৭) সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ইমাম কাজী কায়্যূমের সাথে বিশেষ অতিথি হয়ে যোগ দিয়েছেন, বর্তমানে স্বপরিবারে আমেরিকায় সফররত বাংলাদেশের বিখ্যাত বদরপুর দরবার শরীফের পীরে তরীকত আল্লামা শাইখ সায়্যিদ ডঃ মুতাওয়াক্কিল বিল্লাহ রাব্বানী অত্যন্ত কৌতুহলী হয়েই গত রোববার, ২২শে জানুয়ারী ইমাম কাজী কায়্যূমের এলমহার্ষ্ট এপার্টমেন্টে তার মা, যাকে ইতোমধ্যেই ইমাম কাজী কায়্যূম খিদমাত ও মায়ের কদরকে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে পরিচিত করে তুলেছেন, সেই মহিয়সী মায়ের সাথে দেখা করতে গেলে মা মিসেস আলহাজ্জা এন আই খানম তাঁর সুযোগ্য ছেলের প্রশংসায় উপরোল্লিখিত কথাগুলো বলেন। ডঃ বিল্লাহ নির্দিধায় তখনি বলে উঠলেন, এমন সন্তানকে জন্ম দিয়ে আপনি সত্যি একজন রত্নগর্ভা মাতা। আপনি আরো শত বছর বেঁচে থাকুন মা। মা এমন কথা শোনে আশ্চর্য্যান্বিত হয়ে ডঃ রাব্বানীর দিকে তাকালে তিনি বললেন, শত বছর তো আপনি বাঁচবেন না সত্যি, তবে আরো শত বছর বাঁচলে আপনি মহান আল্লাহর ইবাদত বন্দেগী করে যে সাওয়াব হাসিল করতেন, মহান আল্লাহ পাক আমাদের এই দোয়ার বিনিময়ে তাঁর অফুরন্ত ভান্তার থেকে তা আপনাকে দান করে দেবেন। আনন্দে আপ্লুত মায়ের চোখ তখন অশ্রুসিক্ত দেখাচ্ছিল। দুনিয়ার সকল মায়েরা হাজার বছর বেঁচে থাকুক। আমীন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ