এমডিজি অর্জনে বাংলাদেশ রোল মডেল হবে জাতিসংঘে
![]() |
নিউইয়র্ক: জাতিসংঘে এবারের সাধারণ অধিবেশনে এমডিজি অর্জনে রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপিত হবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সাফল্যগাঁথা তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনিই হবেন বক্তা যা শুনবেন বিশ্বের সেইসব দেশের নেতারা যারা এখনো এই অর্জন থেকে অনেক বেশি পিছিয়ে।
সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি নিয়ে নিউইয়র্কে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. একে আবদুল মোমেন।
ড. মোমেন বলেন, প্রায় দেড় দশক আগে বিশ্ব নেতারা গোটা বিশ্বের জন্য যে সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলো, সময়সীমা পার হওয়ার আগেই তার অধিকাংশই অর্জনে সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। তবে অনেক দেশই এখনো তাদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ। কোনো কোনো দেশের অর্জন প্রায় শুন্যের কোটায়। ওইসব দেশের নেতারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে শুনবেন বাংলাদেশের অর্জনের কথা।
বিশেষ করে শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার কমিয়ে আনা, প্রাথমিক শিক্ষাসহ বিভিন্ন জটিল জটিল বিষয়ে এমডিজি অর্জনে বাংলাদেশ গোটা বিশ্বে সবচেয়ে এগিয়ে, বলেন ড. একে আবদুল মোমেন।
এমডিজি অর্জনের সাফল্য-ব্যর্থতা পর্যালোচনা হলেও এবারের সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য থাকবে আগামী ১৫/২০ বছর বিশ্বটি কিভাবে চলবে তা নির্ধারণ করা। ভবিষ্যতের জন্য মঞ্চ প্রস্তুতেই কাজ করবেন বিশ্ব নেতারা।
এবারের সাধারণ অধিবেশনের মূল স্লোগান ‘পোস্ট ২০১৫ এজেন্ডা: সেটিং দ্য স্টেজ ফর ফিউচার’।
এই এজেন্ডা সেটিংয়েও বাংলাদেশ সতর্কভাবে ভূমিকা রাখবে যাতে ভবিষ্যতের বিশ্ব অগ্রাধিকারে বাংলাদেশও গুরুত্ব পায়, বলেন ড. মোমেন।
তিনি বলেন, জলবায়ূ পরিবর্তন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীসহ যেসব বিষয়ে জাতীয় অগ্রাধিকার রয়েছে সেগুলো এবারের অধিবেশনে বার বার উচ্চারণ করবে বাংলাদেশ।
এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নিজস্ব এজেন্ডা শান্তির সংস্কৃতি, জনগণের ক্ষমতায়ন নিয়েও কথা বলবেন জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে।
ড. মোমেন জানান, প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ততা শুরু হবে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে। ওই দিন চারটি ইভেন্টে অংশ নেবেন তিনি। সকালেই ব্রেকফাস্ট মিটিং। হোস্ট সাধারণ অধিবেশনের সভাপতি জন অ্যাশ। সকাল ৯টায় সাধারণ অধিবেশনের উদ্বোধনী। অধিবেশন কক্ষে বিশ্বের অন্তত ১৩০ টি দেশের সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানরা অংশ নেবেন।
২৪ সেপ্টেম্বরের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হচ্ছে, জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের মধ্যাহ্নভোজ। এতেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর সন্ধ্যায় থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও মিশেল ওবামার সংবর্ধনা। বিশ্বের দেড় শতাধিক সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান প্রেসিডেন্ট ওবামার আতিথেয়তা গ্রহণ করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই দুটি কর্মসূচিতেই অংশ নেবেন।
এবারের সাধারণ অধিবেশনে বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হবে ‘অসমাপ্ত কাজগুলো সামলানো ও এমডিজি ত্বরান্বিত করা’র ওপর আলোচনা। এতে প্রধান বক্তা থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মহাসচিব বান কি মুন, ইউএনডিপি’র প্রধান প্রশাসক হেলেন ক্লার্কসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বরা থাকবেন এই আলোচনায়।
ড. মোমেন বলেন, আশা করছি প্রধানমন্ত্রীর এই আলোচনায় গুরুত্ব দেবেন বিশ্ব নেতারা। কারণ এমডিজি অর্জনে বাংলাদেশের অর্জন একটি উদাহরণ। প্রধানমন্ত্রী বক্তৃতায় এমডিজি অর্জনে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করবেন।
এছাড়া হাইলেভেল পলিটিক্যাল ফোরামে অংশ নেবে বিশ্ব নেতারা। এখানেই ভবিষ্যতের বিশ্বটিকে নেতারা কেমন দেখতে চান তা নিয়ে কথা বলবেন।
গোটা বিশ্বে উন্নয়ন হয়েছে অনেক। তবে একই সঙ্গে বিশ্বে দ্বন্দ্ব সংঘাত লেগেই রয়েছে। বিপুল সংখ্যক মানুষ এখনো এক বেলা না খেয়ে ঘুমাতে যায়। এর বিপরীতে কি করণীয় রয়েছে বিশ্ব নেতাদের তা নিয়ে আলোচনা হবে। এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় পিপলস এমপাওয়ারমেন্ট, শিক্ষা-প্রশিক্ষণ, বৈষম্যহীনতা, সন্ত্রাস দূরীকরণ, বেকারত্বের হার কমানো, রাষ্ট্রব্যবস্থায় জনগণের আরো অংশগ্রহণসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলবেন।
মানবতার পক্ষে বিশ্বের আরও দৃঢ় অঙ্গীকার আদায়ের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তার অবস্থান তুলে ধরবেন বলেও জানান ড. একে আবদুল মোমেন।
২০১৫ সালের পরবর্তী সময়ের জন্য এজেন্ডা সেটিংয়ে এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম হাই লেভেল পলিটিকাল ফোরাম, বলেন তিনি।
এছাড়াও গ্লোবাল এডুকেশন ফার্স্ট ইনিশিয়েটিভ শিরোনামে একটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে শিক্ষা খাতে বাংলাদেশের অগ্রগতির উদাহরণ বিশ্ব নেতাদের কাছে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। গর্ডন ব্রাউন, আর্চ বিশপ ডেসমন্ড টুটু, পাকিস্তানের কিশোরী মানবাধিকার কর্মী মালালা ইউসুফ জাইসহ অনেকেই এই ফোরামে উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশ নেবে।
২৬ সেপ্টেম্বর বিশ্বের ৮৩তম রাষ্ট্র হিসেবে অস্ত্র বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশ্বব্যাপী অবৈধ ও অবাধ অস্ত্র বাণিজ্য বন্ধের লক্ষেই এই চুক্তিতে সই করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
এছাড়াও দক্ষিণ এশিয়াকে পরমানু অস্ত্রমুক্ত একটি জোন করতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে একটি প্লেনারিতে বক্তব্য রাখবেন শেখ হাসিনা।
২৭ সেপ্টম্বর বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে বক্তব্য রাখবেন। ২৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে দেওয়া একটি সংবর্ধনায় যোগ দেবেন। ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে ঢাকার উদ্দেশে নিউইয়র্ক ছাড়বেন।
পরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ড. একে আবদুল মোমেন বলেন, বিরোধী দলীয় কোনো নেতার এবারের জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে নিমন্ত্রিত হওয়ার খবরটি সঠিক নয়। ঢাকার বিভিন্ন দৈনিকে খবরটি প্রকাশিত হওয়ার বিষয়ে স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, এ বিষয়ে জাতিসংঘে কথা বলে জেনেছি বিরোধী দলের কাউকেই এই অধিবেশনে আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তবে বিরোধী দলীয় কোনো নেতা যদি আসতে চান তাকে কোনো বাধা নেই বলে মনে করেন একে আবদুল মোমেন।মাহমুদ মেনন ও শিহাবউদ্দীন কিসলু
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
- যুক্তরাষ্ট্রে ঈদুল ফিতর ২০ মার্চ শুক্রবার
- নারীর ক্ষমতায়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ : ড. খলিলুর রহমান
- নিইউয়র্কে টাইমস স্কয়ারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় যোগ দিচ্ছেন ম্যানহাটান বরো প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড হোয়েলম্যান
- নিউইয়র্কে স্ট্রিট ভেন্ডরদের জন্য নতুন আইন কার্যকর; জেল শাস্তি বাতিল, আরোপ করা হবে জরিমানা
- New York Attorney General James Leads Bipartisan Coalition Suing Predatory Lender OneMain for Scheme to Trap Consumers in Debt
- নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট হাউসে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন ২৩ মার্চ : আহ্বায়ক কমিটি গঠন
- বাংলাদেশে আওয়ামীলীগসহ সকল রাজনৈতিক দলের স্বাভাবিক রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টি করার দাবি নিউজার্সি স্টেট আওয়ামী লীগের
- নিউইয়র্কে ‘অল কাউন্টি হেলথকেয়ার গ্রুপ’র বার্ষিক ইন্টারফেইথ ইফতার পার্টি









