Saturday, 6 June 2026 |
শিরোনাম
SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয় A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes নিউইয়র্কে নতুন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘হৃদয় বীণা সংগীতালয়’র যাত্রা শুরু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে নিউইয়র্কে ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’র দোয়া মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

কোটার কোটারি রহস্য নিয়ে কথা

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 53 বার

প্রকাশিত: May 26, 2018 | 2:01 PM

আহমেদ মূসা : কোটা সংস্কার আন্দোলন ২০১৩ সালে একবার শুরু হয়েও থেমে গিয়েছিল নির্বাচনের কারণে। চলতি-পর্বে আন্দোলন শুরু হয় মধ্য-ফেব্রুয়ারি থেকে। আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ ও সরকারী দলের ক্যাডারদের যৌথ জুলুমের কারণে আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করলে ১১ মে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে সংস্কারের পরিবর্তে কোটা বাতিলের ঘাষণা দেন। সংস্কারের স্থলে বাতিলের ঘোষণা খাপছাড়া হলেও প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় আস্থা রেখে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের রাশ টানেন। তারা তাদের আন্দোলনকে কোটা সংস্কারের আন্দোলন হিসেবেই অভিহিত করতে থাকেন। অন্যদিকে কিছু প্রচারমাধ্যম ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কিছু লোক একে ‘কোটা বিরোধী আন্দোলন’ হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টায় লিপ্ত হন। বিভ্রান্তির চেষ্টাটা শুরু হয় এখান থেকেই। প্রধানমন্ত্রী ‘বাতিল’ শব্দটি বলেছেন নিজ দায়িত্বে-সিদ্ধান্তে; আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বাতিল শব্দের কোনো সংযোগ নেই। ঘোষণার পর সংস্কার বা বাতিলের দায় এসে পড়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘাড়ে। আন্দোলনকারীরা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার বাস্তবায়ন সাপেক্ষে প্রজ্ঞাপন দাবি করতে থাকেন। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরপরই মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘কোটা বিরোধী’ আন্দোলনকারীরা “রাজাকারের বাচ্চা।”
এইচ টি ইমাম বলেন, ‘কোটা বিরোধী’ আন্দোলনের নেতারা “ছাত্র শিবির।”
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কোটা বিরোধী’ আন্দোলনকারীরা “পাকিস্তানীদের দোসর।”
কতিপয় ‘সুশীল-দলান্ধ’ও তাদেও সঙ্গে কন্ঠ মেলান।
আন্দোলনকারীদের ‘ছবি তুলে রাখা হয়েছে’ বলে ভয় দেখানোর চেষ্টাও করা হয়।
এসব ঘটনায় সঙ্গতভাবেই সন্দেহ সৃষ্টি হয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার ভবিষ্যত নিয়ে।
প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দেওয়ার পরও তার আশ-পাশের লোকেরা আন্দোলনরত ছেলেমেয়েগুলোকে রাজাকার, রাজাকারদের ছেলেমেয়ে, শিবির ইত্যাদি বলে বিরামহীন প্রচারণা চালাতে থাকায় লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। বাংলাদেশের নিকৃষ্টতম গালি হচ্ছে রাজাকার গালি। এই গালি কোনো দেশপ্রেমিকে দেওয়া হলে আঘাতটা কোথায় গিয়ে লাগে তারা সেটা মোটেও ভেবে দেখেননি? এই উষ্কানী বন্ধের চেষ্টা কেউ করলেন না। মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের একবার শিক্ষার্থীদেরকে প্রধানমন্ত্রীর ওপর ধৈর্যের সঙ্গে আস্থা রাখার আহবান জানালেন। তিনি এবং আরো কতিপয় ধৈর্যের আহবান জানালেন অল্পবয়সী ছেলেমেয়েদেও কাছে। কিন্তু যে-বয়সে মানুষ চোখে একটু কম দেখেন এবং কানে কিঞ্চিত কম শোনেন, সেই বৃদ্ধদের ধৈর্য ধরতে বলার গরজ কেউ অনুভব করলেন না।
এসবের পাশাপাশি চলল নেতাদের চোখ বেঁধে তুলে নেওয়া, মারধর, চরিত্র হনন, ভীতি প্রদর্শন প্রভৃতি। কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ এর যুগ্ম-আহ্বায়ক নুরুল হক নূরু এবং যুগ্ম-আহ্বায়ক রাশেদ খানকে ১৫ মে পিস্তল নিয়ে এসে হত্যার হুমকি দেন ছাত্রলীগ নেতারা। রাত দেড়টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসীন হলে ১১৯ নম্বর রুমে এই ঘটনা ঘটে। অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। কুমিল্লাতে ঘটে ব্যাপক সংঘর্ষ। প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী, কুমিল্লাা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বহনকারী বাসে অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় নগরের পুলিশ লাইনস এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে এক শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগের কর্মীরা মারধর করেন। ওই শিক্ষার্থী হল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এ ছাড়া আরও কয়েকটি স্থানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নানাভাবে হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। পরিশেষে আন্দোলনের অন্যতম নেতা এ পি এম সুহেলকে ছাত্রলীগের ক্যাডাররা প্রচন্ডভাবে মারধর করেন। তিনি এখন হাসপাতালে। তার চরিত্র হননের জন্যও লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে একদলকে। আন্দোলনকারীদের ফেসবুক গ্রুপে সদস্য সংখ্যা তেইশ লাখ ছাড়াবার পর সেটি হ্যাক করা হয়। ওরা আরেকটি গ্রুপ খোলার পর সেটিরও পেছনে লাগে। অনেকের পোস্টের মন্তব্যেও ঘরে কুৎসিত মন্তব্য এবং নোংরা ছবি দিতেও রুচিতে বাধেনি আন্দোলন-বিরোধীদের।
এসবের পাশাপাশি আবার ওবায়দুল কাদের ও জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ সরকারী কর্মকর্তরাও আলোচনা করেন নেতাদের সাথে।
ক্যাম্পাস থেকে শিক্ষার্থীদের বের হতে বাধা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সরকার কালক্ষেপণের কৌশল নিয়ে কোটা আন্দোলন বন্ধ করতে চায়। রোজা শুরু হলে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাবে। তখন ক্যাম্পাসে আন্দোলন করার কেউ থাকবেন না।
সরকারের কিছু লোক আন্দোলনকারীদের রাজাকার-শিবির প্রভৃতি বললেও বাস্তব ঘটনা ভিন্ন। এটা একেবারেই দল-নিরপেক্ষ অথবা সর্বদলীয় আন্দোলন। আন্দোলনকারীদের মধ্যে মাঠ-পর্যায়ের অনেক ছাত্রলীগ ও বাম-ঘরানার নেতাকর্মীও আছেন। প্রথম সারির কয়েকজন নেতাও ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত। এ ব্যাপারে আন্দোলনের অন্যতম নেতারা একুশে টেলিভিশন ও দৈনিক মানবজমিনের সঙ্গে সাক্ষাৎকরে বিষয়টি তুলে ধরেন। বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ- এর যুগ্ম-আহ্বায়ক নুরুল হক নূরু বলেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে উঠা আন্দোলনে প্রথম সারিতে থেকে আমরা যে চারজন নেতৃত্ব দিয়েছি- আমি, রাশেদ, ফারুক, মামুন। চারজনই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। মামুন আমাদের আহবায়ক। বর্তমানে মামুন মহসীন হল ছাত্রলীগের সহসভাপতি। আমি মহসীন হল ছাত্রলীগের গত কমিটিতে মানব-সম্পদবিষয়ক উপ-সম্পাদক ছিলাম । ফারুক এস এম হলের আন্তর্জাতিক সম্পাদক ছিল। রাশেদ দরিদ্র পরিবারের সন্তান। সে কখনো সক্রিয় ভাবে রাজনীতি না করলেও, ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচীতে তাকে অংশ নিতে দেখা গেছে। এটা তো অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই, এখন হলে থাকতে হলে ছাত্রলীগ করেই থাকতে হয়।
শুধু ছাত্রলীগ নয়, বহু মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তান পোষ্য-কোটা সংস্কারের পক্ষে। কারণ, তারা নিজেদের যোগ্যতা দিয়েই সমাজে স্থান করে নিয়েছেন। তা ছাড়া অনেকে বিব্রতও বোধ করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা এ নিয়ে আন্দোলন করায়। তাদের অনেকেরই অভিমত, মুক্তিযোদ্ধারা কোটা-সিনিয়রিটির জন্য যুদ্ধ করেননি, যুদ্ধ করেছেন দেশ-মাতৃকার মুক্তির জন্য। কিছু চিহ্নিত বেঈমান ছাড়া গোটা জাতি মুক্তিযুদ্ধ করেছে। প্রশ্ন উঠেছে তাদের পরবর্তী বংশধরদের কোটা নিয়ে। এই প্রশ্নবোধক চিহ্নের সঙ্গে ফয়সালা না করে রাষ্ট্রের পক্ষে আগানো কঠিন।
অনেকে আশঙ্কা করছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের বিতর্কিত, কোনঠাসা ও অসম্মান করার ধূর্ত উদ্দেশ্য কারো থাকতে পারে। এ জন্য মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারগুলিকে সাধারণ মানুষের মুখোমুখি দাঁড় করানোর অপচেষ্টা চলছে। একটি জনপ্রিয় আন্দোলন থেকেও ওৎ পেতে থাকা অপশক্তি কী ভাবে ফায়দা নেয় তার নজিরও আমাদের নিকট-অতীতে রয়েছে। ১৯৮১ সালে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃত্বে জামায়াত বিরোধী আন্দোলনের সময় সেনাবাহিনীতে মুক্তিযোদ্ধা বনাম পাকিস্তান প্রত্যাগতদের দ্বন্দ্ব কাজে লাগিয়ে এরশাদ কী করে ক্ষমতা দখল করেন সবাই দেখেছেন। জিয়া ও মঞ্জুরসহ বহু উজ্জ্বল মুক্তিযোদ্ধার প্রাণ গেছে। ফাঁসি দেওয়া হয়েছে ১২ জন মুক্তিযোদ্ধাকে। সেই রক্তের পথ বেয়ে এরশাদ পাকিস্তান-প্রত্যাগতদের অতি ডানপন্থী অংশকে নিয়ে ক্ষমতা দখল করে বাংলাদেশকে আরো পেছনের দিকে নিয়ে যান। এরশাদপন্থীরা একঢিলে অনেক পাখি শিকার করেন।
এখনো ঘটনাকে যদি মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পোষ্যদের সাথে সাধারণ মানুষকে মুখোমুখি করাবার দিকে নিয়ে যাওয়া হয় পরিণতি ভালো না হওয়ারই কথা। একাশির ঘটনা আমি দেখেছি আরো কাছে থেকে। আমি তখন সেই আন্দোলনের প্রধান নেতা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চেয়ারম্যান কর্নেল নূর উজ্জামানের সম্পাদিত সাপ্তাহিক নয়া পদধ্বনির নির্বাহী সম্পাদক। নয়া পদধ্বনি ছিল বলতে গেলে সেই আন্দোলনের মুখপত্র। একই সঙ্গে শেষের দিকে আমি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষে বক্তৃতা-বিবৃতিগুলি লিখতাম, যা আগে লিখতেন শাহরিয়ার কবির । সেই সুবাদে কাছে থেকে দেখা। ঘটনাকে কেউ সেদিকে নিয়ে যায় কীনা সে ব্যাপারেও সন্দেহ অমুলক নয়। তবে, আর কেউ না হলেও প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে সচেতন বলেই পরিলক্ষিত হয়েছিল ১১ মে। তার পরের অবস্থান আন্দাজ করা যাচ্ছে না।
কেউ কেউ বলছেন, কোটা কাগজে-পত্রে থাকলেও বাস্তবে নেই কিংবা এক/দুই পার্সেন্টের বেশি নেই। কিন্তু কোটাই যদি না থাকে তাহলে কাগজে-পত্রে রাখা হচ্ছে কেন ? যা নেই তা নিয়ে আন্দোলনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে কেন।
প্রায় ২৮ লাখ শিক্ষিত বেকারসহ সব ধরনের ৪ কোটি ৮২ লাখ কর্মহীন মানুষের দেশে ৫৬ ভাগ কোটা মহার্ঘ বিলাসিতা। এই আন্দোলন ঘরে-ঘরের আন্দোলন। এমন কি ছাত্রলীগের অল্প-ব্যতিক্রম ছাড়া সবাই আন্দোলনে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে – যদি আওয়ামী লীগ রাজপথের ভাষা পড়তে ভুলে গিয়ে থাকে। আমি আগেও লিখেছি যে, কোটা একেবারে তুলে দেওয়া যাবে না । সব ধরনের কোটা মিলিয়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা কঠিন নয়।

এক সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন দেশের কোটা পদ্ধতির উদাহরণ দিয়ে ড. সা’দত হোসেন বলেছেন, ভারত তো কোটাকে একটা সুন্দর পর্যায়ে নিয়ে গেছে। সেখানে কোটা আছে, তবে তা উপার্জনের ভিত্তিতে। উচ্চ আয়ের মানুষরা কোটা পায় না। এক্ষেত্রে তারা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকেও ছাড় দেয় না। একবার যে কোটার সুবিধা পাবে, সে আর কখনও কোটার সুবিধা পাবে না। অর্থাৎ বাবা যদি কোটা সুবিধা পায় তার সন্তানরা কোনো কোটা সুবিধা পাবে না। কেউ যদি কোটা দিয়ে কলেজে ভর্তি হয়, তাহলে সে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে কোটা সুবিধা পাবে না। আর যে বিশ্ববিদ্যালয়ে কাটায় ভর্তি হয়েছে, সে কখনও চাকরিতে কোটা সুবিধা পাবে না।
প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ছাড়া এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কেউ যদি ভেবে থাকেন নানা রকম কায়দা-নির্যাতন করে সমস্যাটি পাশ কাটিয়ে যাওয়া যাবে, তাহলে তারা ভুল করবেন। আন্দোলনের ন্যায্যতা প্রবল। এ ধরনের ইস্যুর আন্দোলনের বিজয় নিশ্চিত। সংগ্রাম এবং দমন-চক্রান্ত পাশাপাশি চললেও সংগ্রাম ীমানুষেরই বিজয় ঘটে। ষড়যন্ত্র ন্যায়ের সংগ্রামকে আরো বেগবান ও সৃজনশীল করে। চক্রান্ত প্রতিহত এবং এর মূলোৎপাটনের কায়দা ও ক্ষমতা ছাত্র সমাজের করায়ত্বে অতীতে ছিল, এখন আছে, ভবিষতেও থাকবে।
অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে বাংলাদেশের অনেকগুলি প্রচারমাধ্যম প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার দিকে তাকিয়ে আছে। ন্যায্য আন্দোলনে প্রচার মাধ্যম বড় ভূমিকা রাখলেও কোনো কারণে ভূমিকা রাখতে না পারলে আন্দোলন ব্যর্থ হয় না। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় ক্ষুদ্র ব্যতিক্রম ছাড়া সবগুলি প্রভাবশালী দৈনিক ও সাপ্তাহিকের মালিককে মন্ত্রীত্ব, কূটনৈকিত চাকরি ও ব্যবসা দিয়ে এরশাদ পক্ষে রেখেছিলেন। ট্রাস্টের প্রভাবশালী পত্রিকাগুলিতো ছিলই। এমন কি কায়দা-কানুন করে হকার সমিতিকে দিয়ে বহুদিন সংবাদপত্র প্রকাশ বন্ধ রাখার নজিরবিহিীন ঘটনা ঘটিয়েও গদি রক্ষা করতে পারেননি এরশাদ। গুটিকয়েক দৈনিক ও কয়েকটি সাপ্তাহিক এরশাদের বিরুদ্ধে জনগণের পক্ষে ছিল।
ইরানে শাহ-বিরোধী আন্দোলনের সময় সবগুলি প্রচারমাধ্যম শাহের করায়ত্বে ছিল। ফ্রান্সে থাকা আয়াতুল্লাহ খোমেনির মূল নেতৃত্বে শাহের পতন ঘটে। বড় ভূমিকা ছিল বামপন্থীদেরও। খোমেনি তার সমর্থকদের বলেছিলেন, প্রচারমাধ্যম নেইতো কী হয়েছে, আমাদের প্রতিটি কর্মীর মুখ হবে একেকটি মুখপত্র।
আর আজ? সবার হাতে কলম, সবার হাতে ক্যামেরা। জোরদার হচ্ছে সোস্যাল মিডিয়া। বাংলাদেশের মূলধারার কিছু প্রচারমাধ্যমকে এটাও উপলব্ধি করতে হবে যে, পয়সা দিয়ে কেউ গোলামের বুলি কেনে না। যে প্রচারমাধ্যম মানুষের পাশে থাকে, ন্যায়ের পক্ষে তাকে, সেটিই লাভ করে গণমাধ্যমের সম্মান।
নিই ইয়র্ক, ২৫ মে, ২০১৮।
লেখক-সাংবাদিক-নাট্যকার আহমেদ মূসা সাপ্তাহিক বর্ণমালার উপদেষ্টা সম্পাদক।

[email protected]

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
Situs Streaming JAV