ক্যান্সারে আক্রান্ত ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় হারাধনকে আজীবন সম্মাননা
এনা : বাংলাদেশের খ্যাতনামা ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় শফিকুর রহমান হারাধন (৬০)কে বিশেষ সম্মান জানালো লসএঞ্জেলেস সিটির ফ্রেন্ডস কাব অব ভ্যালী। কৃতি এই খেলোয়াড় ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ২০০৫ সাল থেকে নিউইয়র্কে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভ্যালী ফ্রেন্ডস কাবের ক্রেস্ট ১২ ডিসেম্বর রাতে জ্যামাইকায় একটি নার্সিং সেন্টারে শফিকুর রহমান হারাধনকে হস্তান্তর করেন উত্তর আমেরিকাস্থ বাংলাদেশ স্পোর্টস কাউন্সিলের সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান এবং সেক্রেটারী মিসবাহ আবদিন।

এ সময় তাদের সাথে ছিলেন উত্তর আমেরিকাস্থ বাংলাদেশ আমেরিকা বিজনেস এসোসিয়েশনের সভাপতি ও জাতীয় পার্টির নেতা আলাউদ্দিন ভুলু, স্পোর্টস কাউন্সিলের সদস্য তৈয়েবুর রহমান টনি এবং শাবুল উদ্দিন। নার্সিং সেন্টারের দু’তলায় ছোট্ট একটি কে আপন মনে রাতের খাবার সারছিলেন সদা হাস্যোজ্জল খেলোয়াড় হারাধন। এমনি অবস্থায় কয়েকজন সতীর্থকে দেখতে পেয়ে যারপর নাই খুশী হলেন। খাবারে বিরতি দিয়ে নানা কথা বললেন। স্মৃতিচারণ করলেন প্রবাস জীবনের চমৎকার কয়েকটি ঘটনার। এক পর্যায়ে এলবাম বের করলেন। দুই কন্যার ছবি, নিউইয়র্কে তাদের কৃতিত্ব এবং ঢাকায় ক্রীড়াঙ্গনের বিখ্যাত ব্যক্তিদের সাথে নিজের সম্পর্কের তথ্য অবহিত করলেন। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টনে রানার্স আপ হয়েছিলেন হারাধন। ১৯৮৮ সালে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন। কানাডা এবং আমেরিকাতেও তিনি ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। প্রবাসের ক্রীড়াঙ্গনের সাথে তিনি ওৎপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। ১৯৯২ সাল থেকে ১৪ বছর কাজ করেন এমটিএ-তে। নিউমিনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর ২০০৫ সালে তার ক্যান্সার ধরা পড়ে। সেই থেকে হাসপাতাল এবং দূরারোগ্য এ ব্যাধি তাকে রেহাই দিচ্ছে না নিশ্চিত হবার পর নার্সিং হোমের অধিবাসী হয়েছেন। হারাধন বলেন, অনেক আগেই আমাকে চলে যাবার কথা। সিগারেট পান করিনি বলে বোনাস পেয়েছি কটা বছর। সিগারেট না টানলেও ক্যান্সার হয়-এর জ্বলন্ত উদাহরণ শফিকুর রহমান হারাধন। তিনি বলেন, আমি খুব খুশী হয়েছি যে চরম দুর্দিনেও কম্যুনিটির লোকজন আমাকে ভুলে যাননি। স্পোর্টস কাউন্সিলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানালেন তাকে অর্থ সহায়তার জন্যে। তিনি বলেন, বড় মেয়ে অর্থি ইউনিভার্সিটিতে পড়ছে। সে নিউইয়র্কে মিস বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় একবার শিরোপা জিতেছিল। ছোট মেয়ে অর্পা পড়ছে নবম গ্রেডে। দুই কন্যা নিয়ে আমার স্ত্রী টানাপোড়েনে দিনাতিপাত করছেন। বিজয়ের মাসে তার অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বার্তা সংস্থা এনাকে বলেন, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের মাসে আমার জন্ম। একাত্তরে রাজধানী ঢাকায় থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছি। পাক হানাদারদের যাবতীয় গতিবিধি গেরিলা ক্যাম্পে সরবরাহ করেছি। সে সব স্মৃতি জাগ্রত হলে বেশ ভাল লাগে এ শরীরেও। বাংলাদেশের ভাল কোন সংবাদ পেলে আমি আপ্লুত হই এবং দোয়া করি যেন বাংলাদেশ সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হয় এবং আমেরিকায় জন্মগ্রহণকারী আমার সন্তানেরা একদিন বাংলাদেশ নিয়ে গর্ব করতে পারে। ফ্রেন্ডস কাব অব ভ্যালীর প্রতিষ্ঠাতা শফিউল আলম ফ্রেন্ড বাবু বার্তা সংস্থা এনাকে বলেছেন, প্রতি বছরই আমরা বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে গৌরবোজ্জল ভূমিকা পালনকারী একজনকে ক্রেস্ট প্রদান করে থাকি। তারই অংশ হিসেবে এবারের ক্রেস্ট দিলাম শফিকুর রহমান হারাধনকে। স্থানীয়ভাবে আমরা ক্যারাম, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, দাবা প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকি। এ বছরও সে প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়েছে। পুরষ্কার বিতরণের অনুষ্ঠান হবে ২২ জানুয়ারি। সে সময় আরো ৩ জন খেলোয়াড়কে ক্রেস্ট প্রদান করা হবে। গত বছর ফুটবলার শামসুকে ক্রেস্ট দেয়া হয় বলেও ফ্রেন্ড বাবু উল্লেখ করেন।
- নিউইয়র্ক বাংলাদেশ কনস্যুলেটে ১ অক্টোবর থেকে কার্ডে ফি পরিশোধ বাধ্যতামূলক
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির সংশোধিত নির্বাচনী তফসিল
- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর: নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজক কন্স্যুলেট!
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ ইনকের শরৎ উৎসব ও ফ্যামিলি নাইট
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে ‘কল সেন্টার’ চালু
- নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের নয়া কমিটির বর্ণাঢ্য অভিষেক এবং ১৩তম চার্টার বার্ষিকী উদযাপন
- New York Attorney General James Warns New Yorkers About Student Loan Scams
- Justice, equality and human rights essential to building a lasting culture of peace: Irene Khan