ঘন ঘন চাকরি বদল ঠিক নয়
অনেকে এক কাজে বেশিদিন স্থায়ী হন না। প্রতিনিয়ত চাকরি বদল করেন। এ স্বভাবটি ক্যারিয়ারের জন্য ক্ষতিকর। এ বিষয় নিয়েই আজকের এ প্রতিবেদন_ কোনো কাজই পছন্দ হচ্ছে না? আজ সেল্স ভালো লাগে তো, ছ’মাস পরে মনে হলো শিক্ষকতাই ভালো ছিল! ঘন ঘন চাকরি বদলের এই সিদ্ধান্ত আপনার ক্যারিয়ারে কি ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা তুলে ধরা হলো- আমাদের দেশে অনেকেই আছেন ছয় মাস কি একবছরও একই প্রতিষ্ঠানে বা একই ধরনের কাজে টানা লেগে থাকতে পারেন না। তাদের কাছে একঘেয়েমি চলে আসে, বৈচিত্র্য চায়। ফলে চাকরি ছেড়ে দেওয়া, আবার নতুন চাকরি খোঁজা- এভাবে তারা চাকরি বদলে চলেন এবং বিচিত্রসব কাজে অল্প অল্প করে অভিজ্ঞ হন। কিন্তু একসময় দেখা যায়, তাদের আবেদনের সঙ্গে বায়োডাটা পাঠানোর পর চাকরির জন্য সাক্ষাৎকারে ডাক আসছে না। বায়োডাটায় কাজের অভিজ্ঞতায় বিভিন্ন পেশার নাম আর চাকরি ক্ষণস্থায়ী ও বদলানোর সংখ্যা দেখে চাকরিদাতা বুঝতে পারেন প্রার্থী অস্থিরমতি। তার প্রতিষ্ঠানেও সে বেশিদিন থাকবে না। এই অস্থিরতারও কারণ রয়েছে, রয়েছে জটিল মানসিক সমস্যা। এসব সমস্যা কাটিয়ে ওঠার উপায় নিয়েই রইলো কিছু পরামর্শ-
নাম : তানভির উদ্দিন, বয়স : ২৬ বছর। শিক্ষাগত যোগ্যতা : এম এ (ইংরেজি)। কাজের অভিজ্ঞতা : মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভ (দু’বছর), পাবলিক রিলেশন অফিসার (এক বছর), অ্যাড মেকিং (ছ’মাস), কল সেন্টার এঙ্িিকউটিভ (চার মাস), শিক্ষকতা (বর্তমান)। বায়োডাটার এই পর্যন্ত পড়েই চোখ আটকে গেল একটি হক ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. নুরুল হকের। প্রার্থীর কাজের অভিজ্ঞতা থেকেই বোঝা যায়, তানভির মানসিকভাবে খুব অস্থির। অনেক কাজই সে করছে; কিন্তু কোনোটিই মন দিয়ে নয়। শুধু তাই নয়, কোনো পেশার প্রতি ভালোবাসাও তার নেই। সুতরাং, এই কাজটিও যে সে মন দিয়ে করবে সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। অতএব, হক সাহেবের বিচারে তানভিরের বায়োডাটা বাতিল! পুরো ঘটনাটিই কাল্পনিক। তবে অবাস্তব বললে ভুল হবে। বর্তমানে তানভিরের মতো অনেক ছেলেমেয়েই এ কারণে বাতিল হয়ে যাচ্ছে লোভনীয় চাকরির সুযোগ থেকে। তারা কোনো চাকরিতেই মানসিক শান্তি খুঁজে পায় না। আজ এটা তো কাল ওটা, কোনো ক্ষেত্রেই তাদের মন বসে না। মনে হয়, এর চেয়ে ওখানেই বোধ হয় ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। ভুলে যায় যে, সব ক্ষেত্রেই প্রথম সারির চাকরি ভালো এবং একইভাবে কোনো চাকরিতেই মনের মতো সুযোগ-সুবিধা বা বেতন পাওয়া যায় না।
কেন এমন হয় : ঠিক এই প্রশ্নটিই করা হয়েছিল প্রখ্যাত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোহিত কামালকে। তিনি বলেন, ব্যক্তিত্বের অভাবে এরকম হয়ে থাকে। কারণ ব্যক্তিত্ব হলো মানুষের সব বৈশিষ্ট্যের সমাহার। এ সমাহারে কোনো ঘাটতি থাকলে এ সমস্যা হয়। তা ছাড়া ছোট বেলা থেকে বাবা-মায়েরা আজকাল নিজেদের ইচ্ছা-অনিচ্ছা চাপিয়ে দিচ্ছেন তাদের সন্তানের ওপর। ফলে ছেলেমেয়েরা স্বাধীনভাবে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে পারছে না। তারাই বড় হয়ে প্রথম চাকরি পেলে নিজেদের ইচ্ছাগুলো খুঁজতে থাকে তার কাজের মাধ্যমে। সে কারণেই এক কাজ ছেড়ে অন্য কাজ।
কী করবেন : ছেলেবেলা থেকে নিজের আগ্রহ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। যাতে প্রথম অর্থ রোজগার শুরু করেই এমনটা মনে না হয় যে, হাতে চাঁদ পেলাম, এবার নিজের মর্জিমতো নিয়ম ভেঙে চলবো। প্রথম থেকেই যুক্তিবাদী হন। নিজে ভবিষ্যতে যা করতে চান, তাই নিয়েই প্রথম থেকে মাথা ঘামান। প্রথমদিকে যদি সন্তুষ্ট নাও হন, চেষ্টা চালিয়ে যান। হাল ছাড়বেন না। কেউ প্রথমেই শীর্ষে পেঁৗছতে পারে না। তার জন্য দরকার কাজের প্রতি নিষ্ঠা। হঠকারিতা ভালো নয়। ঘন ঘন যাতে চাকরি পরিবর্তন না করতে হয় সে জন্য নিজের মধ্যে পরিবর্তন আনা জরুরি।বাংলাদেশ প্রতিদিন
- যুক্তরাষ্ট্রে ঈদুল ফিতর ২০ মার্চ শুক্রবার
- নারীর ক্ষমতায়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ : ড. খলিলুর রহমান
- নিইউয়র্কে টাইমস স্কয়ারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় যোগ দিচ্ছেন ম্যানহাটান বরো প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড হোয়েলম্যান
- নিউইয়র্কে স্ট্রিট ভেন্ডরদের জন্য নতুন আইন কার্যকর; জেল শাস্তি বাতিল, আরোপ করা হবে জরিমানা
- New York Attorney General James Leads Bipartisan Coalition Suing Predatory Lender OneMain for Scheme to Trap Consumers in Debt
- নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট হাউসে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন ২৩ মার্চ : আহ্বায়ক কমিটি গঠন
- বাংলাদেশে আওয়ামীলীগসহ সকল রাজনৈতিক দলের স্বাভাবিক রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টি করার দাবি নিউজার্সি স্টেট আওয়ামী লীগের
- নিউইয়র্কে ‘অল কাউন্টি হেলথকেয়ার গ্রুপ’র বার্ষিক ইন্টারফেইথ ইফতার পার্টি








