ঘুষ দিয়ে মামলা উঠিয়ে নেয়ার চাপ সৃষ্টির অভিযোগে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির সেক্রেটারি রুহুল গ্রেফতার, জামিনে মুক্তি
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : ঘুষ দিয়ে মামলা উঠিয়ে নেয়ার চাপ সৃষ্টির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকী (৪৬) । মামলার নম্বর সিআর ০২২২৮৪-১৮ কিউএন এবং গ্রেফতার নম্বর-কিউ ১৮৬২৫৪৪৯। একদিন জেলে থাকার পর ২১ জুন বৃহস্পতিবার রাতে জামিনে মুক্তি পেলেও ২ জুলাই তাকে কুইন্স ক্রিমিনাল কোর্টে হাজির হতে বলা হয়েছে। রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে মামলার বিচারকার্যে বিঘœ ঘটানোর অভিযোগ এবং সাক্ষীকে নগদ অর্থ ঘুষ প্রদানের গুরুতর অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
কুইন্স ক্রিমিনাল কোর্ট থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঈদের দিন নিউইয়র্ক সিটির উডসাইডে রুহুল আমিনের বাসা সংলগ্ন এক বাড়িতে দাওয়াত খেতে এসেছিলেন জহুরুল ইসলাম মিঠু। মিঠুর বাড়ি বিক্রমপুরে এবং উবার চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। খাওয়া শেষে ঐ বাড়ির সামনে পার্ক করা ট্যাক্সিতে উঠেন। ট্যাক্সি রাস্তায় বের করার সময় পেছনে এক মহিলাকে দেখতে পান বিটু। বিটু সতর্ক না থাকলে বড় ধরনের একটি দুর্ঘটনার আশংকা ছিল বলে উল্লেখ করেন ঐ মহিলার উদ্দেশ্যে। মহিলার নাম নাজমা ইসলাম। সাথে স্বামী শফিক শাকিলও ছিলেন। এক পর্যায়ে মামুলি এই বাক-বিতন্ডা মারপিটে পরিণত হয়। নাজমা ইসলাম রক্তাক্ত হন বলে প্রতক্ষদর্শীরা উল্লেখ করেন। এ অবস্থায় টহল পুলিশ এসে বিটুকে গ্রেফতার করে। পুলিশ ও এ্যাম্বুলেন্সের শব্দ পেয়ে বাসা থেকে বের হন রুহুল আমিন। কারণ, শফিক শাকিল এবং নামজা দম্পতি তার বাসাতেই আসছিলেন ঈদ-শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্যে। রুহুল আমিন ইয়েলো ট্যাক্সি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন এবং তার দিনের শিফটের পার্টনার হচ্ছেন নোয়াখালীর সন্তান শফিক শাকিল। মামুলি বিষয়ে মারপিটে লিপ্ত হবার সংবাদে রুহুল আমিন বিচলিতবোধ করেন।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ১১টায় জেল থেকে জামিনে মুক্তি লাভের পর টেলিফোনে এ সংবাদদাতাকে রুহুল আমিন আরো বলেন, ‘যেহেতু উভয় পক্ষই আমার পরিচিত, তাই প্রস্তাব দিয়েছিলাম কোর্টের ঝামেলায় না গিয়ে আপস-মিমাংসার। মামলা উঠিয়ে নেয়ার শর্তে নাজমা ইসলাম মোটা অর্থ দাবি করলে বিটু ২০ হাজার ডলার দিতে সম্মত হন। সে অনুযায়ী একটি চেক দেয়া হয় আমার সামনে। ঐ সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী ২০ জুন কুইন্স ক্রিমিনাল কোর্টে হাজির হন উভয় পক্ষ। কিন্তু নাজমা ইসলাম মাননীয় আদালতকে অবহিত করেন যে, আমি নাকি তাকে চাপ দিয়েছি মামলা উঠিয়ে নিতে। বিনিময়ে নগদ অর্থও দিয়েছি ঘুষ হিসেবে। এরপরই মাননীয় আদালতের নির্দেশে আমাকে গ্রেফতার করা হয়।’
রুহুল আমিন সিদ্দিকী উল্লেখ করেন, ‘নিবাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে সকল বাংলাদেশীর কল্যাণে আমাকে কাজ করতে হয়। সে আলোকেই আদালতের ঝামেলায় না গিয়ে ঐ মামলা নিষ্পত্তির চেষ্টা করেছিলাম।’ ‘উল্টো বিপদে পড়লাম’-বলেন রুহুল।
ক্রিমিনাল কোর্টের এটর্নীরা এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘মামলা নিষ্পত্তির একটি রীতি আছে। সেটি অনুসরণ না করায় বিপদ ডেকে এসেছেন রুহুল আমিন। এথেকে রেহাই পাওয়া মুষ্কিল হয়ে পড়বে।’ ঘটনাটি কম্যুনিটিতে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। এ অবস্থায় কেউই আর মামলা-মোকদ্দমা নিষ্পত্তির সহজ পথে পা বাড়াবেন বলে মনে হয় না। তবে রুহুল আমিন মর্মাহত এবং বলেন, ‘মানুষের মঙ্গল করতে গিয়ে এমন পরিস্থিতির শিকার হবো জীবনে কল্পনাও করিনি।’ এনআরবি নিউজ
- যুক্তরাষ্ট্রে ঈদুল ফিতর ২০ মার্চ শুক্রবার
- নারীর ক্ষমতায়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ : ড. খলিলুর রহমান
- নিইউয়র্কে টাইমস স্কয়ারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় যোগ দিচ্ছেন ম্যানহাটান বরো প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড হোয়েলম্যান
- নিউইয়র্কে স্ট্রিট ভেন্ডরদের জন্য নতুন আইন কার্যকর; জেল শাস্তি বাতিল, আরোপ করা হবে জরিমানা
- New York Attorney General James Leads Bipartisan Coalition Suing Predatory Lender OneMain for Scheme to Trap Consumers in Debt
- নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট হাউসে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন ২৩ মার্চ : আহ্বায়ক কমিটি গঠন
- বাংলাদেশে আওয়ামীলীগসহ সকল রাজনৈতিক দলের স্বাভাবিক রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টি করার দাবি নিউজার্সি স্টেট আওয়ামী লীগের
- নিউইয়র্কে ‘অল কাউন্টি হেলথকেয়ার গ্রুপ’র বার্ষিক ইন্টারফেইথ ইফতার পার্টি








