জাতিসংঘের সামনে স্লোগান ‘মুক্তচিন্তার মানুষ বাঁচাও-বাংলাদেশ বাঁচাও’
এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক : ‘বাঁচাও সংখ্যালঘু-বাঁচাও বাংলাদেশ’ স্লোগানে প্রকম্পিত হলো জাতিসংঘ সদর দফতর সংলগ্ন এলাকা। এ সময় আরো উচ্চারিত হলো, ‘একাত্তরের হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার’, মুজিবের বাংলায় রাজাকারের ঠাঁই নেই’, ‘মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত বাংলায় জঙ্গিবাদের ঠাঁই নেই’, ‘জাগো জাগো বাঙালি জাগো’ ইত্যাদি।
‘সংখ্যালঘু বাঁচাও-মুক্তচিন্তার মানুষ বাঁচাও-দেশ বাঁচাও এবং জঙ্গিবাদ-মৌলবাদ জামাত-শিবির রুখে দাও’ ব্যানার হাতে ২৬ জুন রোববার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরের সামনে এ বিক্ষোভ-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলদেশ মাইনোরিটি রাইটস মুভমেন্ট, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, গণজাগরণ মঞ্চ, সম্প্রীতি মঞ্চ, শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র সৎসঙ্গ, প্রজন্ম-৭১, পজেটিভ জেনারেশন সোসাইটির সম্মিলিত উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশের ঘোষণাপত্রে অভিযোগ করা হয় যে, ‘বাংলাদেশের মানচিত্রকে প্রতিনিয়ত রক্তাক্ত করা হচ্ছে। দেশে এখন ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মুক্তিযুদ্ধের অর্জনকে ধ্বংস, অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে হত্যা, মুক্তবুদ্ধির দেশকে নিশ্চিহ্ন ও প্রগতির চাকাকে স্তব্ধ করে দেয়ার জন্যই একের পর এক ঘাতকেরা হত্যার হোলি খেলছে।কিন্তু এসব হত্যাকান্ডের স্বরুপ উন্মোচন করা হচ্ছে না। ফলে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল।’
উপস্থিত সকলের সম্মতিতে গৃহিত এ ঘোষণাপত্রে আরো বলা হয়, ‘গত বছরের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ১০ জুন পর্যন্ত দেড় বছরে এহেন হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে ৪৯টি। ভিকটিমদের মধ্যে সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান যেমন রয়েছে, তেমনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধন্য অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকী, সমকামি অধিকারকর্মী জুলহাজ ও নাট্যকর্মী মাহবুব তনয়ও রয়েছেন। সন্ত্রাসের শিকারদের মধ্যে জাপান ও ইটালির দুই নাগরিক, লেখক-প্রকাশক, ব্লগার, পীর, ফকির, সাধু, পুরোহিত, বৌদ্ধভিক্ষু, খ্রিস্টান ধর্মযাজক, শিয়া, লালনভক্ত, পীরের অনুসারিও আছেন।’ ঘোষণাপত্র পাঠ করেন বাংলদেশ মাইনোরিটি রাইটস মুভমেন্ট’র সংগঠক শুভ রায়।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নেতা মিথুন আহমেদের পরিচালনায় এ সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি নব্যেন্দু বিকাশ দত্ত, সাবেক সেক্রেটারি সুশীল সাহা, জাস্টিস ফর হিন্দুজ’র সভাপতি ভিনসেন্ট ব্রুনো, ইন্ডিয়ান ইন্টেলেক্ট ফোরামের সভাপতি আরিশ সাহানী, গণজাগরণ মঞ্চের গোপাল সান্যাল, পার্বত্য চট্টগ্রাম ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা কৃষ্ণ চাকমা, অনুকূল ঠাকুর সৎসঙ্গের কৃষ্ণেন্দু রুদ্র, ঝুলন চৌধুরী প্রমুখ।
সমাবেশের সমাপনী বক্তব্যে বাংলদেশ মাইনোরিটি রাইটস মুভমেন্টের অন্যতম সংগঠক শিতাংশু গুহ বলেন, ‘সরকার জঙ্গিবাদ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ দেখানোর কথা বললেও প্রকৃতপক্ষে এখন পর্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য কিছু হচ্ছে না। একটি খুনের ঘটনা ঘটছে, গণমাধ্যমে তা নিয়ে হৈচৈ হচ্ছে, পুলিশ প্রশাসন তথা সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হচ্ছে যে, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না, রেহাই দেয়া হবে না-কিন্তু বাস্তবে খুন বন্ধ হচ্ছে না। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই খুনীরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। মানুষ কথায় নয়, কাজে আস্থা রাখতে চায়। মানুষ দেখতে চায়, জঙ্গি আর সন্ত্রাস দমনের যৌথ অভিযান যেন সফল হয়। এসব বর্বর হত্যাকান্ড এখনই বন্ধ করা না গেলে খুব তাড়াতাড়ি সংখ্যালঘু শুন্য হয়ে পড়বে বাংলাদেশ।’
সমাবেশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেলের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী সমীপে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হবে উইকেন্ডের পর।
- A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History
- নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং
- Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency
- New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes
- নিউইয়র্কে নতুন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘হৃদয় বীণা সংগীতালয়’র যাত্রা শুরু
- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে নিউইয়র্কে ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’র দোয়া মাহফিল
- জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বিজয়
- নিউইয়র্কে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পরিবার নিউইয়র্ক সিটি’র উদ্যোগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী পালন