জাতিসংঘ মহাসচিবের নিকট স্মারকলিপি : ৫ই ফেব্রুয়ারী ‘আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং নিরাপত্তা দিবস’ ঘোষণার দাবী
নিউইয়র্ক : গতবছর ৫ই ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘বাংলাদেশ ব্যাংক’ থেকে বিপুল পরিমান টাকা পাচার হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে বিশ্বের ‘বৃহত্তম ব্যাংক ডাকাতি’ উল্লেখ করে এই ঘটনার বছরপূর্তি উপলক্ষে দিনটিকে জাতিসংঘের উদ্যোগে ‘আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং নিরাপত্তা দিবস’ ঘোষণার দাবী জানিয়েছে নিউইয়র্কস্থ বিশ্বব্যাপী টাকা পাচার ও অর্থনৈতিক অপরাধের বিরুদ্ধ্বে কর্মরত বেসরকারী সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল কমিটি এগেইনস্ট ফিনান্সিয়াল ক্রাইমস (আইসিএএফসি).. দাবীর সমর্থনে গতকাল সংস্থাটির পক্ষে থেকে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্টোনিও গুটেরেস বরাবরে ৫ই ফেব্রুয়ারী ২০১৬ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সংগঠিত এ পর্যন্ত ইতিহাসের সর্ববৃহৎ টাকা পাচারের ঘটনার ধরণ, ঘটনা তদন্তে বাংদেশ সরকার কর্তৃক নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক দুটি আইটি প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই কর্তৃক তদন্তের পর মিডিয়াকে প্রদত্ত বক্তব্য, নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের ব্যাখ্যা, জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথা আইনী ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে যে কোনো সময় এ ধরণের আরও সাইবার হামলার আশংকা রয়েছে বলে ব্যাংকিং নিরাপত্তা বিষয়ক প্রযুক্তি সংস্থা সুইফটের বক্তব্যসহ এ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক পাচারকৃত টাকা উদ্ধারে গৃহীত সকল পদক্ষেপের বর্ণনা দিয়ে ১৫ পৃষ্ঠার একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। স্মারকলিপিতে পাচারকৃত টাকা উদ্ধারে বাংলাদেশ সরকারের অসহায়ত্ব ও ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে যথাযথ সহযোগীতা প্রদানের আহ্বান জানানো হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব বরাবরে স্মারকলিপি দাখিলের পরপর গতকাল নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে আইসিএএফসি’র পক্ষ থেকে বাংলাভাষী মিডিয়ার জন্য আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
আইসিএএফসিএ’র প্রেসিডেন্ট সৈয়দ ওয়ালিউল আলম এবং নির্বাহী পরিচালক ইমরান আনসারীর উপস্থিতিতে সমবেত মিডিয়াকে ব্রিফিং করেন সংস্থাটির অন্যতম পরিচালক ও মুখপাত্র কাউসার মুমিন।
কাউসার মুমিন বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে ব্যাংকিং বিনিময়ের নিরাপত্তা বিধানে নিযুক্ত প্রযুক্তি সংস্থা সুইফট কর্তৃক মিডিয়াকে প্রদত্ত বক্তব্য থেকে জানা যায় যে, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দুর্বল প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতর কর্মরত কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীর সাথে আন্তর্জাতিক হ্যাকারদের যোগসাজশে বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা পাচার হয়েছে ৫ই ফেব্রুয়ারীর আগেও কয়েকবার। সংশ্লিষ্ট সংস্থার গবেষকরা বলেন, আন্তর্জাতিক হ্যাকাররা যে উপায়ে বেশ কয়েকবার বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরাপত্তা দেওয়াকে ভেঙে ফেলেছে-সেরকম পরিস্থিতি বজায় থাকলে ভবিষ্যতে এ ধরণের আরও হামলার হুমকি থেকেই যাচ্ছে।’ এমতাবস্থায় আইসিএএফসি’র পক্ষ থেকে দাখিলকৃত স্মারকলিপিতে জাতিসংঘ কর্তৃক বাংলাদেশের মতো প্রযুক্তিগতভাবে অনুন্নত দেশগুলোকে কিভাবে উন্নত প্রযুক্তি দিয়ে সাহায্য করা যায় সে বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবকে উপযুক্ত মেকানিজম তৈরীর উদ্যোগ নেওয়ার আহবান জানানো হয়েছে।
‘বাংলাদেশ থেকে যে পরিমান টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে বলে সমালোচকরা বলছেন, প্রকৃত অর্থে পাচার হওয়া টাকার পরিমান তা নয়’ বলে সম্প্রতি বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী যে মন্তব্য করেছেন তাঁর সমালোচনা করে কাউসার মুমিন বলেন, গ্লোবাল ফিনান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি’র মতো আন্তর্জাতিক মুদ্রাপাচার গবেষণাকারী সংস্থাগুলো বলছে বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর যে পরিমান টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে তাঁর সর্বনিম্ন পরিমান হবে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার। এই সংখ্যা বাস্তব পরিমানের চেয়ে অনেক কম, কারণ বাস্তবে আরও অনেক উপায়ের মানি লন্ডারিং রয়েছে যে গুলোর উপযুক্ত দলিল এখনো তাদের হাতে নেই। ব্রিফিংয়ে বলা হয়, এফবিআই বাংলাদেশের ৫ই ফেব্রুয়ারীর টাকা পাচার সম্পর্কে তদন্ত শেষে মিডিয়াকে স্পষ্ট ভাবে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা এতে জড়িত এবং তাঁকে সহযোগীতা করেছেন আরও বেশ কয়েকজন যার প্রমান তারা পেয়েছেন। এছাড়াও সরকারের নিজস্ব তদন্ত প্রতিবেদন এখন পর্যন্ত প্রকাশ পায়নি-এরপরও বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচারের পরিমাণ সম্পর্কে অর্থমন্ত্রীর আলোচনা আমাদেরকে অসহায় করে তোলে।
এক প্রশ্নের জবাবে আইসিএএফসি’র প্রেসিডেন্ট সৈয়দ ওয়ালিউল আলম মিডিয়াকে বলেন, জাতিসংঘের নিয়ম মোতাবেক কোনো দিবস ঘোষণার প্রস্তাব যে কোনো সদস্য রাষ্ট্র কর্তৃক উত্থাপিত হতে হয়. আমরা এ বিষয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত নর্ডিক অঞ্চলের কয়েকটি দেশ এবং পূর্ব ইউরোপের কিছু দেশের সাথে যোগাযোগ রাখছি। তিনি বলেন, এমনকি বাংলাদেশ সরকারের উচিত নিজের স্বার্থেই জাতিসংঘে এরকম একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা. কারণ ব্যাংকিং নিরাপত্তা দিবস ঘোষণার মাধ্যমে জাতিসংঘ সারাবিশ্বে ব্যাংকিং বিনিময়ে নিরাপত্তা বিধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হবে এবং এর ফলে বাংলাদেশ প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার দিক থেকে লাভবান হবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ ওয়ালী বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিবকে প্রদত্ত স্মারকলিপিটি অনুলিপি একই সাথে জাতিসংঘে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশের জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিধির অফিসেও পাঠানো হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে যোগ দিয়ে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি এগেইনস্ট ফিনান্সিয়াল ক্রাইমস-এর নির্বাহী পরিচালক নিজের বক্তব্যে বলেন, আমাদের সংগঠনটির মূল উদ্দেশ্য হলো মানিলন্ডারিং এবং অর্থনৈতিক অপরাধের বিষয়গুলো মানুষের সামনে তুলে ধরা এবং এ বিষয়গুলোর বিরুদ্ধে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা. আর সচেতন করার কাজটি অত্যন্ত স্বার্থকভাবে করতে পারে জাতিসংঘ। তাই আমাদের সংঠনের পক্ষ থেকে আমরা ৫ই ফেব্রয়ারীকে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং নিরাপত্তা দিবস ঘোষণার দাবী জানিয়েছি। বিষয়টি একটি দীর্ঘ মেয়াদী প্রক্রিয়া -তাই আমরা এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারসহ সকলের সহযোগীতা চাই.’
- শান্তি প্রতিষ্ঠায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সব পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ জরুরি: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির প্রচার সম্পাদক রিজুর পিতার ইন্তেকাল
- যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারি ফের স্থগিত, নিম্ন আদালতের আদেশে আপিল আদালতের বাধা
- যুক্তরাষ্ট্রে ডেলাইট সেভিং টাইমের অবসান, ১ নভেম্বর ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছাবে
- নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান
- জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর
- নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত
- নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ