জার্মানিতে জীবিকার তাগিদে বাংলাদেশিদের অন্য জীবন, জীবিকার তাগিদে হচ্ছেন ‘টোকাই’!
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক রিপোর্ট : নানা ঘাট পেরিয়ে ইউরোপের অন্যতম উন্নত দেশ জার্মানিতে এসে ভিড় করছেন বাংলাদেশিরা। কিন্তু শুরুতে ভাষাগত সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। এ কারণে ইচ্ছা থাকলেও রেস্টুরেন্ট বা অন্য কোনো ছোট কাজ করতে পারেন না তারা। ফলে অনেকটা বাধ্য হয়ে জার্মানিতে জীবিকার তাগিদে তারা ‘টোকাই’ হয়ে যাচ্ছেন। জার্মানির বন-এর বিভিন্ন এলাকায় এসব বাংলাদেশি টোকাই-এর দেখা মেলে। তবে নাম-পরিচয় প্রকাশ পেলে পরিবারের সদস্যদের কাছে ছোট হয়ে যাবেন এমন শঙ্কায় নাম-ঠিকানা প্রকাশ না করার অনুরোধ করেছেন তারা। সরজমিন দেখা যায়, কয়েক জন বাংলাদেশি তরুণ বিয়ারের ক্যান, মদ বা কোকের বোতল সংগ্রহ করছেন। রীতিমতো প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এসব বোতল বা ক্যান সংগ্রহ করছেন তারা। এসব বাংলাদেশি জানান, ব্যবহৃত এসব বোতল সুপারশপে জমা দিলেই মিলছে কড়কড়া ইউরো। একেকটি প্লাটিকের খালি বোতল জমা দিলে ২৫ সেন্ট (বাংলাদেশি টাকায় ২৩ টাকা) ও কাগজের বোতল জমা দিলে ৮ সেন্ট (বাংলাদেশি টাকায় ১০ টাকা) করে দেয়া হয়। সুপারশপে বোতলগুলো মেশিনের মাধ্যমে জমা করতে হয়। এরপর হিসাব অনুযায়ী রসিদের মাধ্যমে নগদ অর্থ বা সমমূল্যের জিনিসপত্র কিনতে পারেন জমাদানকারীরা। এরপর সুপারশপের মালিক কমিশনভিত্তিতে বোতল জমা দিয়ে অর্থ পেয়ে থাকেন। বনের এক সুপারশপ সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ নিয়ে জার্মানির বন-এর স্থানীয় প্রশাসন যথেষ্ট সচেতন। এ কারণে ব্যবহৃত বোতলের বিনিময়ে অর্থ সহায়তা দেন তারা। ওই দেশের স্থানীয় প্রশাসন মনে করে এর মাধ্যমে পরিবেশ ভালো রাখা সম্ভব হয়। বাংলাদেশের মুন্সীগঞ্জের এক তরুণের সঙ্গে বন শহরের ‘রাইন’ নদীর তীরে কথা হয়। তিনি মানবজমিনকে জানান, সরাসরি ভিসা নিয়ে তিনি জার্মানিতে পৌঁছাননি। ভিন্ন পথ দিয়ে তাকে দেশটিতে ঢুকতে হয়েছে। এ কারণে ভাষা সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে বোতল টোকানোর কাজ করতে হচ্ছে তাকে। এতে মাসে ৪০০-৫০০ ইউরো (প্রায় ৫০ হাজার টাকা) আয় হয় তার। এ আয় দিয়ে চলাফেরা করা কষ্টকর হয় তার। তিনি জানান, দেশের বাড়িতে মনে করে ইউরোপে থাকি তাই কত ইনকাম? কিন্তু এখানে কি করি তা লজ্জায় বলতে পারি না। কষ্ট করে হলেও বাড়িতে মাসে ১০-১৫ হাজার টাকা পাঠানোর চেষ্টা করি। ভাষা শেখার চেষ্টা করছি। তখন সমস্যা হবে না। রেস্টুরেন্টে কাজ করতে পারবো। বন সেন্ট্রাল ট্রেন স্টেশনের পাশে একটি টার্কিশ রেস্টুরেন্টে কাজ করেন বাংলাদেশি তরুণ মিরাজ ইসলাম। তিনি জানান, শনিবার ও রোববার রেস্টুরেন্টে কাজ শেষে বিয়ারের বোতল টোকানোর কাজ করি। কারণ ওই দুইদিন বিয়ার ও মদের বোতলের বন্যা বয়ে যায়। বন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ এবং কয়েকটি পরিচিত অলিগলি থেকে বোতল টোকানোর কাজ করি আমরা। শুধু আমরা নই প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের লোকজনও বোতল টোকানোর এসব কাজ করেন। কয়েক জন বাংলাদেশি তরুণের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, অর্ধ শতাধিক বাংলাদেশি এসব বোতল টোকানোর কাজ করে। তবে শরণার্থী হিসেবে জার্মানিতে আশ্রয় নেয়া সিরিয়া, ইরাকসহ কয়েকটি দেশের নাগরিকরাও বোতল টোকানোর এসব কাজে নেমে পড়েছেন। মানবজমিন
- দুই তরুণী রোগীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ; নিউইয়র্কে বাংলাদেশি-আমেরিকান চিকিৎসক ডা. ফজলুল ইউসুফ গ্রেপ্তার, জামিনে মুক্ত
- বাংলাদেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধার প্রতিবাদ, ‘শিখা অনির্বাণ’ প্রজ্জ্বলিত রাখার দাবি নিউইয়র্কে
- শান্তি প্রতিষ্ঠায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সব পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ জরুরি: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির প্রচার সম্পাদক রিজুর পিতার ইন্তেকাল
- যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারি ফের স্থগিত, নিম্ন আদালতের আদেশে আপিল আদালতের বাধা
- যুক্তরাষ্ট্রে ডেলাইট সেভিং টাইমের অবসান, ১ নভেম্বর ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছাবে
- নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান
- জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর