ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র : জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি
মোহাম্মদ আবদুল্লাহ মজুমদার : জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি আবদুল মোমেন বলেছেন, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত অবস্থানের দিক থেকেও তাকে খুব ব্যক্তিত্বসম্পন্ন লোক বলে কেউ মনে করছেন না। যুক্তরাষ্ট্র একটি শক্তিধর দেশ এবং এর বিচার ব্যবস্থা খুবই কঠোর, কিন্তু ট্রাম্পের কর্মকান্ডের কারণে তারা তাদের গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি একথা বলেন।
আবদুল মোমেন বলেন, গ্লোবালাইজেশনের কারণেই তারা পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করছে। কিন্তু শক্তি দিয়ে এটি বাস্তবায়ন করার ক্ষমতা তাদের নেই। এতে যদি ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক সুবিধা বন্ধ করে দেয় তাতেও তাদের কোনো সুবিধা হবে বলে মনে হয় না।
জাতিসংঘের সাবেক এই প্রতিনিধি বলেন, আমেরিকা দিন দিন একা হয়ে যাচ্ছে। কারণ জেরুসালেম নিয়ে তিনি যে খেলা শুরু করেছেন তাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আরো কঠিন পরিস্থিতি শিকার হতে হবে।
পৃথিবীর সকল দেশের সিদ্ধান্তেই নির্ধারণ হবে যে জেরুজালেম কার হবে। এটি ট্রাম্পের একার সিদ্ধান্তে হবে না-বলেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতির বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো দেশ অবস্থান নিলে তিনি তাদের দেখে নিবেন।
জেরুসালেম নগরীকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে যে স্বীকৃতি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তা প্রত্যাখ্যান করেছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ।
ওই স্বীকৃতি প্রত্যাহারের আহবান জানিয়ে সাধারণ পরিষদের জরুরী অধিবেশনে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটাভুটিতে গৃহীত প্রস্তাবটিতে বলা হয়েছে, এই নগরীর মর্যাদার বিষয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত ‘অকার্যকর’ ও ‘বাতিলযোগ্য’।
নামধাম লিখে রাখা এবং অর্থনৈতিক সহায়তা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির পরেও, ১২৮টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে, আর বিপক্ষে ভোট দিয়েছে ৯টি দেশ। ভোটদানে বিরত ছিল ৩৫টি দেশ।
প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, সৌদি আরব, জাপানসহ যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এই ভোটাভুটিতে নয়টি দেশ সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বাকি দেশগুলো হলো ইসরায়েল, গুয়েতেমালা, হন্ডুরাস, দি মার্শাল আইল্যান্ড, মাইক্রোনেশিয়া, নাউরো, পালাও ও টোগো।
যে ৩৫টি দেশ ভোট দেয়নি, তাদের মধ্যে রয়েছে ক্যানাডা, মেক্সিকো, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, ভুটানের মতো দেশ।
আর যে ১২৮টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে, তাদের মধ্যে আছে বাংলাদেশ, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, জাপান, জার্মানি, ভারত, গ্রীস,ইটালি, নেপাল, নেদারল্যান্ডস, রিপাবলিক অব কোরিয়া (দক্ষিণ কোরিয়া), সিঙ্গাপুর, স্পেন, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, পর্তুগাল, সুইৎজারল্যান্ড, সুইডেন, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, তুরস্ক ও সৌদিআরবসহ মুসলিম বিশ্বে মার্কিন সব মিত্র দেশ।
কিন্তু জাতিসংঘের ভোটের আগে এভাবে হুমকি দেওয়া উচিত হয়েছে কিনা এ ব্যাপারে মোমেন বলেন, এ ধরণের দুর্ঘটনা এর আগে কোনোদিন হয়নি। ট্রাম্প যে হুমকি দিয়েছেন এটি ফলপ্রসূ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ কার্যকরী পরিষদের ১৫ টি দেশও এ নিয়ে কখনো একমত হবে না।
তিনি বলেন একটি দেশ আরেকটি জায়গা দখল করেছে সেখানে অন্য একটি দেশ এসে দূতাবাস করবে, ঘরবাড়ি বানাবে এটি নীতিগত ও আইনগত কোনো ভাবেই ন্যায়সঙ্গত নয়, এবং কোনো নীতিতেই তা মূল্যায়ন করা যায় না। যুক্তরাষ্ট্র তাদের ক্ষমতা আছে বলেই এটি করে যাচ্ছেন।
- শান্তি প্রতিষ্ঠায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সব পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ জরুরি: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির প্রচার সম্পাদক রিজুর পিতার ইন্তেকাল
- যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারি ফের স্থগিত, নিম্ন আদালতের আদেশে আপিল আদালতের বাধা
- যুক্তরাষ্ট্রে ডেলাইট সেভিং টাইমের অবসান, ১ নভেম্বর ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছাবে
- নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান
- জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর
- নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত
- নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ