Sunday, 7 June 2026 |
শিরোনাম
SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয় A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes নিউইয়র্কে নতুন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘হৃদয় বীণা সংগীতালয়’র যাত্রা শুরু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে নিউইয়র্কে ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’র দোয়া মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

দুই নেত্রীকে গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত আমার ছিল না – নিউইয়র্কে জেনারেল মইন উ আহমেদ

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 128 বার

প্রকাশিত: June 23, 2014 | 7:44 AM

নির্বাচন নিয়ে কারো সঙ্গে সমঝোতা করিনি * যেসব অফিসার অন্যায় করেছে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে * কিংস পার্টি করার জন্য আমি বলিনি * আমার নামে অনেকেই সুবিধা নিয়েছে * দেশকে ভালোবেসে আমি দেশছাড়া * আমার নিজ নামে বাড়ি নেই * বিডিআর বিদ্রোহের পুরো কাহিনী নিয়ে বই লিখছি * সুস্থ হয়ে উঠলে দেশে ফিরবো *
নাশরাত আর্শিয়ানা চৌধুরী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র : সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদ বলেছেন, দুই নেত্রীকে গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত আমার ছিল না। আমি নির্বাচন নিয়ে কারো সঙ্গে সমঝোতা করিনি। কেউ করে থাকলে সেটা তাদের ব্যাপার। আমার কাছে কত জন একটা টিকিট পাওয়ার চেষ্টা করেছে কিন্তু আমি কাউকে কোনো সুবিধা দিয়েছি, এটাও কেউ বলতে পারবে না। সংবিধানের কোনো জায়গায় লেখা নেই নির্বাচন ৯০ দিনে না হলে হবে না, দুই বছর সময় নেওয়া যাবে না। সেখানে ফাঁক রয়েছে।
ওয়ান ইলেভেনের সময় যারা অন্যায় করেছে ওই সব অফিসারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিংস পার্টি করার জন্য আমি কাউকে বলিনি। আমার নামে অনেকেই সুবিধা নিয়েছে। তারা কিংস পার্টিও করার চেষ্টা করে। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি কেউ আমাকে কোনো দিন উৎকোচ দিতে পারেনি। আমাকে কেউ টাকা দিয়েছে কিনাÑ এই জন্য দুদক দিয়ে আমার সম্পদের অনুসন্ধান করেছে। আসলে অনেক বদনাম দেওয়া হয়েছে, হচ্ছে। দেশকে ভালবেসে আমি দেশছাড়া। যুক্তরাষ্ট্রে আমার নিজ নামে বাড়ি নেই। তারপরও বলা হয় বাড়ি আছে। বিডিআর বিদ্রোহের পুরো কাহিনী নিয়ে বই লিখছি। এটা শিগগিরই প্রকাশ পাবে। সুস্থ হয়ে উঠলে দেশে ফিরবো। জেনারেল মইন উ আহমেদ এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই সব কথা বলেন। তার সঙ্গে ১২ জুন রাতে তার নিউ ইয়র্কের বাসায় দেখা হয়। সেখানে তিনি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অনেক কথা বলেন। তার সঙ্গে সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো। এই সময় তার স্ত্রী মিসেস নাজনীন মইন ছিলে সামনেই। তিনিও মাঝে মাঝে কথা বলছিলেন। তার মনে অনেক ক্ষোভ রয়েছে সেটাও বলছিলেন। তিনি বলেন, সবাই বলে, আমরা নাকি কোটি কোটি টাকার মালিক। এই সব টাকার খবর তারাই জানে, আমরা জানি না। কেউ বিশ্বাস করবে কিনা যে, আমরা এখানে আমার মামার বাসায় থাকি। আমাদের যদি এতই ভালো সুবিধা থাকবে, তাহলে কি মামার বাসায় থাকতাম। কতদিন একজনের বাসায় মানুষ থাকতে পারে। চার বছর ধরে এখানেই আছি। যখন নিউ ইয়র্কে এসে বিপদে পড়লাম। তখন পথঘাট কিছুই চিনতাম না, রাস্তায় রাস্তায় কাঁদতাম বাইরে বের হলে। কারণ অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। কত বিপদে দিন কাটাতে হয়েছে। সেগুলো মানুষ জানে না। অনেকেই বলে অনেক কথা। আমি জানি কীভাবে আমাকে এখানে সংসার চালাতে হচ্ছে। এটা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। একটা বাড়ির নিচ তলায় কত কষ্ট করে আছিÑ এটা যারা আমার বাসায় আসে তারা দেখেছে। তিনি বলেন, যেটা আমার জীবনেও কখনও হয়নি সেটাও হয়েছে। চার বছরে একটি লিপস্টিকও কিনিনি। তিনি বলেন, অনেকেই বলেন, আমরা নাকি শত-শত কোটি টাকা দেশ থেকে নিয়ে এসেছি। এর কোনো ভিত্তি নেই। কারণ দেশ থেকে শত-শত কোটি টাকা আনার মতো আমাদের কোনো ব্যবস্থা নেই। সবচেয়ে বড় কথাÑ এত টাকাই আমাদের নেই। আর সেখানে টাকা আনার তো প্রশ্নই আসে না। তিনি বলেন, আমার কাছে অবাক লাগে যখন মানুষ বাড়িয়ে বাড়িয়ে কথা বলে। সেগুলো আবার দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
জেনারেল মইন বলেন, আমি সাংবাদিকদের সঙ্গে এই জন্য কথা বলতে চাই না। কারণ বলবো একটা লিখবে আরেকটা। আবার দেখা গেল যেটা বললাম সেটা পুরোটা লিখলো না। লিখলো আংশিক। এতে করেও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়। আমি এই কারণে দেশে এবং বিদেশে সব জায়গায় গণমাধ্যমকে এড়িয়ে চলেছি। এখনও চলি। কথা বলি না।
তিনি বলেন, আজ অনেক দিন পর কথা বললাম এই জন্য যে, আপনার মতো একজন নিরপেক্ষ ও বিশ্বস্ত ও আস্থাশীল সাংবাদিক পাওয়া গেল। আপনি বলেই আমি কথা বলতে রাজি হলাম। এর আগে প্রথম একদিন কিছু কথা বলেছি।
শোনা যায় দেশ থেকে ৩০০-৫০০ কোটি টাকা নাকি আমেরিকায় নিয়ে এসেছেন ?
জেনারেল মইন বলেন, আমার ৩০০-৫০০ কোটি টাকা নেই। এই কারণে টাকা আনারও কোনো ব্যবস্থা নেই। আমি অত টাকার মালিক হলে নিউ ইয়র্কের মতো একটি জায়গায় আমাকে এত কষ্ট করে থাকতে হতো না। অনেক ভালো থাকতে পারতাম। তাছাড়া আমেরিকা এমন দেশ, এই দেশে এত টাকা কেউ নিয়ে এলে সেই টাকা বের করা ওয়ান-টুর ব্যাপার। আমি সবাইকেই এই ব্যাপারে চ্যালেঞ্জ করছিÑ যদি কেউ তা বের করতে পারে তাহলে তাকে সব টাকা দিয়ে দেব।
আপনি কি নিজের নামে এখানে কোনো বাড়ি কিনেছেন? আমার নিজের নামে কোনো বাড়ি নেই। আমার পরিবারের সদ্যদের বাড়ি থাকতে তো কোনো বাধা নেই। আমার নাই।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তো বেশ ভালোই আছেন ?
আপনারা তো আসলে আমার বাসায় এলেন, তাহলে দেখে কি মনে হলোÑ খুব ভালো আছি। এখানে আমার একটি গাড়ি নেই। আমাকে ডাক্তারের কাছে গেলে যেতে হয় বাসে করে। দেশের একজন সাবেক সেনাপ্রধান বাসে করে চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে যাচ্ছেÑ এটা কেউ কল্পনাও করতে পারবে না। কিন্তু এটাই সত্য। এই গত দুদিনেও ডাক্তারের কাছে গেলাম বাসে করে। কতবার বাস বদলাতে হয়।
বাজার, খাবার-দাবারের ব্যবস্থা কী ?
তিনি বলেন, প্রথম প্রথম আমার মামা শ্বশুরের বাসায়ই করতাম। কিন্তু দিনের পর দিন এটা ভালো দেখায় না। এখন নিজেরাই করছি। তবে আমিতো বাজারে যেতে পারি না। আমার স্ত্রীকেই এখন বাজার করা থেকে শুরু করে সব করতে হয়। যা তিনি কখনো করেননি।
আচ্ছা দেশে কি ফিরবেন নাকি এখানেই স্থায়ীভাবে থেকে যাবেন ?
জেনারেল মইন বলেন, এখানে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য আসিনি। একটু সুস্থ হলেই দেশে ফিরবো। সেখানে আমাকে যেতেই হবে। সেখানে যাওয়ার পর আমার স্বপ্নটাকেও বাস্তবে রূপ দিতে হবে। আমার ভীষণ ইচ্ছা ছিল এতিম মেধাবী শিশুদের জন্য একটি স্কুল করা। সেখানে তাদের শিক্ষা দেওয়া হবে। তারা লেখা-পড়া করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠিত হবে, কাজও করবে। নিজের খরচে নিজেরাই পড়বে। পড়ালেখা করার পাশাপাশি এটা করলে তারাও অন্য আর দশটা সুবিধাসম্পন্ন শিশুর মতো প্রতিষ্ঠিত হবে।
কবে নাগাদ ফিরবেন ?
এখনই বলতে পারছি না। চিকিৎসক অনুমতি দিলেই যেতে পারবো। এই গত মাসে যেমন ওমরাহ হজ পালন করে এলাম। এর বাইরে তেমন কোথাও যাওয়া হয়নি। এখন প্রতি মাসের ওষুধের জন্য তিনবার ডাক্তারের কাছে ইন্টারভিউ দিতে হয়। সেটা দেওয়ার পর তারা ঠিক করেন কোন ওষুধ আমার জন্য চলবে। সেই হিসাবে ওষুধ দেন। এছাড়াও তারা মনে করেন যে, এখনও আমি সুস্থ নই। এই কারণেই তারা আমাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। তাদের পারমিশন নিয়ে আমাকে যা করার করতে হবে।
সত্যকথা কি জানেন, আমি কোনো দিন পুরোপুরি সুস্থ হতে পারবো কিনাÑ এটাই বলতে পারবো না। কারণ যতদিন বেঁচে আছি নিয়মিত চিকিৎসার মধ্যে থাকতে হবে।
তবে এটা ঠিক, মরে গেলেও দেশে ফিরবো। সবচেয়ে অবাক লাগে দেশকে ভালবেসেও আজ আমি দেশছাড়া। কারণ বাস্তবতা আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে। আমি কোনো দিন ভাবিনি বিদেশে এসে এতদিন থাকবো। এসেছিলাম দুই মাসের জন্য ছেলের কাছে বেড়াতে। কিন্তু ওই সময় কাঁধে ব্যথা দেখা দিল। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরা ধরা পড়লো ক্যানসার। কেমো দিতে হলো। বোনমেরু ট্রান্সপ্লান্টেশন করা হলো।
আচ্ছা এবার একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি। ওয়ান ইলেভেনের নায়ক ও মহানায়করা সবাই দেশান্তরী, কেবল একজন ছাড়া। আপনার কি মনে হয় আপনারা এমন কিছু অন্যায় করেছেন যেই জন্য দেশেই থাকতে পারেননি ?
জেনারেল মইন বলেন, দেখেন বিষয়টা এমন নয়। আমি সবার কথা বলতে পারবো না। তবে যারা অন্যায় করেছে আমি যখন জানতে পেরেছি তখনই ব্যবস্থা নিয়েছি। তাদের অন্যত্র সরিয়ে দিয়েছি। আমি অন্য কারো কথা জানি না। আমিতো চিকিৎসার জন্য দেশছাড়া।
বলুনতো ওই সময়ে তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন করার নিয়ম না মেনে ওই সরকারের মেয়াদ দুই বছর করলেন কেন?
দেখুন ওই সময় ওই সরকারের মেয়াদ দুই বছর করা হয়েছিল মূলত একটি নির্ভুল ভোটার তালিকা করার জন্য। ওই সময় ভোটার তালিকা নিয়ে একটা বড় অভিযোগ ছিল। ভুয়া ভোটার ছিল। আমরা চিন্তা করেছি যে, আমাদের শেষ লক্ষ্য একটা নির্বাচন করা। সেটা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে হলে অবশ্যই একটি নির্ভুল ভোটার তালিকা করতে হবে। একটি নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরির জন্য সময় নেওয়া হয়েছে। পরে সেটা করাও হয়েছে।
ওই সরকারের মেয়াদ কি এই জন্য আপনি দুই বছর করার নির্দেশ দিয়েছিলেন ?
তিনি বলেন, এটা আমি দেইনি। ওই সময় সম্মিলিতভাবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে আমি যেটা সিদ্ধান্ত দিয়েছিলাম সেটা হচ্ছেÑ আমরা যে ভোটার তালিকা করবো ওই ভোটার তালিকা অনুসারেই ন্যাশনাল আইডি কার্ড করা হবে। সেই হিসাবে ভোটার তালিকার কার্ডটিই পরে ন্যাশনাল আইডি কার্ড হিসাবে দেওয়া হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা, সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা ও সরকারের সচিবরা যখন মিটিং করে ওই সময় আমি এই সব প্রস্তাব দেওয়ার পর আমাকে বলা হলোÑ এটা সম্ভব হবে না। এটা অসম্ভব। আমি বললামÑ এটা অসম্ভব নয়, অবশ্যই সম্ভব। আমরা সেনাবাহিনী ওই তালিকাটি করেছি বলে সেটা শুদ্ধ হয়েছে। অনেক কম টাকায় করা হয়েছে। এই জন্য বাংলাদেশ সরকারকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই ভোটার তালিকাতে ফিঙ্গার প্রিন্ট রয়েছে। এই ফিঙ্গার প্রিন্ট থাকার কারণে সহজেই অপরাধীকে ধরা সম্ভব। সেখাকার তথ্য নিয়ে এখন পাসপোর্টও করা যেতে পারে। কারণ সেখানে মানুষের ছবি ছাড়াও নাম-ঠিকানা ও আঙ্গুলের ছাপ রয়েছে। অপরাধীদের ধরার জন্য ও রাজস্ব ফাঁকি যারা দিচ্ছে তাদের আয়কর আদায়ের জন্যও এই সব তথ্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
আচ্ছা আপনিতো ছিলেন ওয়ান ইলেভেনের সময়ের কিং? আপনার নির্দেশেই সব হতো ?
দেখুন আপনি এটা ভুল বলছেন। আমি কখনোই রাজা ছিলাম না। আমার কথায় কিছুই হতো না। কেবল আমার বাহিনী ছাড়া। আমাদের যেখানে সম্পৃক্ততা ছিল সেখানে ছাড়া কাজ করতাম না। সব সরকারের উপদেষ্টারাই করতেন। প্রধান উপদেষ্টাও করতেন।
আচ্ছা দুর্নীতি দমনের নামে দুই নেত্রীকে গ্রেপ্তারের জন্য আপনি নির্দেশ দিয়েছিলেন ?
দেখুন এটা সম্পূর্ণ ভুল। কারণ দুই নেত্রীকে ধরার জন্য আমার কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। এটা করেছে তারাই যারা দুর্নীতি দমনের জন্য কাজ করছিলেন, তারাই এই কাজটি করতেন। দুর্নীতি দমনের জন্য কমিটিও ছিল। সেখানে একজন উপদেষ্টাও দায়িত্বে ছিলেন। তারাই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দুই নেত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অনেকেই বলেন, আপনারা দুই নেত্রীকে গ্রেপ্তার করার কারণেই আপনাদের সরকার ফেল করেছেÑ আপনি কি বলেন ?
দুই নেত্রীকে গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্টরা নেন। আমার কাছে সিদ্ধান্তের জন্য কোনো প্রস্তাব আসেনি। তবে আমি মনে করি ওই সময় দুর্নীতি দমন করার জন্য তারা যেটা ভালো মনে হয়েছে সেটা করেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের ওপর আমার কোনো হাত ছিল না।
আচ্ছা বলুনতোÑ দুই নেত্রীকে না ধরলে ও কারাগারে না নিলে কি এমন ক্ষতি হতো বরং দুর্নীতিবিরোধী অভিযান সফল হতো, কিন্তু পরে আপনাদের তো দুই নেত্রীর সঙ্গে সমঝোতা করতেই হলো ?
দেখুন দুর্নীতিবিরোধী অভিযান ব্যর্থ হয়েছেÑ এটা আমি বলবো না। এটা অনেকাংশেই সফল। এখন বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয় না। এর আগে প্রায় পাঁচবার টানা দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ইতিহাস রয়েছে। এখনতো সেটা হয় না। এটা আমাদেরই সাফল্য। তবে আমাদের সময়ে এই অবস্থানটা ২৭-এ এসেছিল। এখন আবার সেটাতে পরিবর্তন হচ্ছে। দুর্নীতি বন্ধ হয়নি। এটা বন্ধ করার জন্য সবাইকে কাজ করা দরকার।
আচ্ছা কী করলে দুর্নীতি বন্ধ হবে বলে মনে করেন ?
তিনি বলেন, দুর্নীতি বন্ধ করার জন্য অবশ্যই যেটা করতে হবে সেটা হলোÑ রাজনৈতিকভাবে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। দুর্র্নীতি দমন করার জন্য রাজনৈকিভাবে ঐক্যমত প্রয়োজন। না হলে হবে না।
আচ্ছা এটা বলুন তো আপনারা যখন আর পারছিলেন না তখন নিরাপদে মুক্তি পাওয়া ও বেরিয়ে যাওয়ার জন্য দুই নেত্রীর সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেন ?
দেখুন আমি দুই নেত্রীর কারো সঙ্গেই সমঝোতার জন্য কখনো যাইনি। তাই আমার সঙ্গে তাদের কোনো সমঝোতাও হয়নি। কেউ যদি সমঝোতা করে থাকে তাহলে সেটা তিনি নিজ উদ্যোগে করেছেন। আর আমার নাম বলে থাকলে সেটা তিনি বলতে পারেন তার স্বার্থ হাসিলের জন্য। সেটাতো আমি জানি না। জানার চেষ্টাই করিনি। এটা ঠিকÑ যেটা প্রয়োজন সেটাই সবসময় জানার চেষ্টা করেছি। যখন কোনো অফিসারের ব্যাপারে অভিযোগ এসেছে, দুর্র্নীতি করেছে বলে শুনেছি। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি, কাউকে ছাড় দেওয়া হয়নি। তাই বলবো আমি প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোতে খবর নিয়েছি। দুই নেত্রীর সঙ্গে কে সমঝোতা করছে, এটা খবর রাখার প্রয়োজন মনে করিনি। কারণ সেটা আমার বিষয় নয়। আমরা মনে করেছিÑ নির্বাচন হবে, নির্বাচনে জনগণ যাকে ভোট দেবে তারাই জয়ী হবে।
শোনা যায় শেখ হাসিনা আপনাদের নিরাপদ এক্সিট দিতে চেয়েছিল এই জন্য আপনারা বিএনপি সরকারের আমলে জেনারেল হয়েও তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।
তিনি বলেন, তাদের সঙ্গে আমরা কোনো বিশ্বাসঘাতকতা করিনি। কারণ আমরা যখন যে সরকার থাকে, তার কাজ করি। এই জন্য আমরা ওই সময়ের সরকারের সঙ্গে কাজ করেছি। কারো সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করিনি।
তারেক রহমানতো দেশের একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক সেনাপ্রধানের ছেলে, তাকেও মারা হয়েছে, নির্যাতন করা হয়েছেÑ এটা কেন করা হয়েছে ?
জেনারেল মইন বলেন, দেখুন তারেক রহমানকে ধরে আনা হয়েছে এটা আমাকে জানানো হয়নি। পরে যখন জানতে পারলাম তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। তাকে আনার পর টর্চার করা হয়েছেÑ এমন একটা খবর আমার কাছে এলো। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ডেকে পাঠালাম, কেন তাকে মারা হয়েছেÑ এটা জানার জন্য। তিনি তাকে মারা হয়নি বলে জানালেন। এটাও বললেন যে, তিনি ভালো আছেন।
টিভিতে দেখা গেল তিনি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছেন। এর কারণ জানতে চাইলে আমাকে জানানো হলোÑ তিনি নাকি বগুড়ায় একবার সিঁড়ি থেকে পড়ে ব্যথা পান। এই জন্য তার পায়ে ও কোমরে ব্যথা রয়েছে। এখন ব্যথা বেড়েছে তাই খুঁড়িয়ে হাঁটছেন। তাকে নির্যাতন করা হয়েছে এটা আমি যখন শুনলাম তখন ওই অফিসারকে বদলি করে দিলাম অন্যত্র।
কি লাভ হলোÑ তারেক রহমানের দুর্নীতির প্রমাণ পেলেন আপনারা ?
তিনি বলেন, দেখুন আমি আবারও বলছিÑ দুর্র্নীতি দমন করার দায়িত্ব আমার ছিল না। এই জন্য উপদেষ্টা ও কমিটিও কাজ করতো। দুদকের চেয়ারম্যানও ছিল। তারাই করেছে।
তার মানে বলতে চান আপনি কিছুই করেননি ?
আমি আমার প্রয়োজনের বাইরে কোনো কাজ করিনি। এটা খুব সোজা হিসাব। আমি নাকি তারেক রহমানকে মারতে বলেছি। এটা কখনো হয়। এটা অসম্ভব। কারণ তাকে যে নির্যাতন করেছে বলে পরে জানা গেছে তিনি ছিলেন একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল। আপনি বলুন, একজন জেনারেল কি কখনো একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেলকে কোনো নির্দেশনা দেয়। আমি বললে কি তাকে মারার জন্য লে. কর্নেলকে বলতাম। আমিতো বললে ডিজি ডিজিএফআইকে বলতাম। তাকে জিজ্ঞেস করেন, সেই বলুকÑ আমি তাকে ডেকে বলেছি কিনা তারেক রহমানকে নির্যাতন করার জন্য। এটা তিনি বলতে পারবে না।
আচ্ছা কিংস পার্টি করতে চেয়েছিলেন কেন, প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য ?
তিনি বলেন, আমি কিংস পার্টি করিনি। কাউকে করতেও বলিনি। আমার নাম দিয়ে নাকি কিংস পার্টি গঠন করার চেষ্টা হয়েছেÑ এমন খবর এলো। ঢাকায় এই জন্য মোটরসাইকেল দিয়ে শোডাউনও করা হলো। আমি যখন এটা শুনলাম সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করতে বললাম। এটাও বলাম যে, আমি কোনো পার্টি করবো না। ক্ষমতাও নেব না। সুতরাং এগুলো চলবে না। সব বন্ধ করো। এরপর আর কিংস পার্টির কোনো অনুষ্ঠান হয়নি।
শোনা যায়. ব্যর্থ হবে বলেই সেটা আর করেননি ?
দেখুন এটা ঠিক না। আমি কোনোদিন প্রেসিডেন্ট হতে চাইনি। প্রেসিডেন্ট হতে চাইলে হতে পারতাম। সেই সুযোগ ছিল। কিন্তু আমি কারো কোনো ক্ষতি চাইনি। রক্তারক্তিও পছন্দ করি না। আমি শান্তিপ্রিয় মানুষ। শান্তি চাই। এই জন্য নির্বাচন করেই আবার রাজীতিকদের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়ে এসেছি।
আপনি কি মনে করেন, আপনারা লাইনচ্যুত ট্রেনটাকে যে লাইনে তুলে দিয়ে এসেছিলেন সেটা ঠিক মতো চলছে?
তিনি বলেন, দেখুন এটা এখন আমরা বলবো না। কারণ আমার দায়িত্ব ছিল ট্রেন লাইনে ওঠানো। সেটা খাদ থেকে তুলে দিয়েছিলাম। কিন্তু সেটা এখন চালাচ্ছে অন্যরা। তারাই ভালো বলতে পারবে। তবে এটা ঠিকÑ ঠিকমতো যদি গাড়ি না চালায় তাহলে কিন্তু পার্টস হারাতে পারে, চুরি হতে পারে, গাড়ির ক্ষতি হতে পারে। গাড়ি দুর্ঘটনায়ও পড়তে পারে। এই কারণে সব আশঙ্কার দিক বিবেচনা করেই গাড়ি সঠিকভাবে চালাতে হবে।
শোনা যায়, ওয়ান ইলেভেন করার সময় আপনাদের ৬ জনের একটি কোর কমিটি ছিল। ওই কমিটির ভেতরেই অল্প দিনের মধ্যে অবিশ্বাস ঢুকে যাওয়ার কারণে আপনাদের ব্যাকআপের সরকারের জনপ্রিয়তা কমতে থাকে, আপনাদের সরকার ব্যর্থ হতে থাকে ?
দেখুন আমরা ব্যর্থÑ এটা বলবো। লক্ষ্য ছিল সুষ্ঠু নির্বাচন করা। সেটা করেছি। আমরা ব্যর্থ এটা এমনভাবে বলবো না। কারণ আমরা চেষ্টা করেছি সফল হতে। সরকারকে সহায়তা করেছি। আর বিশ্বাস-অবিশ্বাসের কথা বলছেনÑ সেটা কারো কারো ব্যাপারে হতে পারে। তবে আমি চেষ্টা করেছি কোনো ব্যক্তিগত লোভ-লালসা কিংবা স্বার্থের কারণে যাতে মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত না হয়।
আপনি কি জেনারেল মাসুদের কথা বলতে চাইছেন ?
দেখুন আমি তার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট করে কিছুই বলতে চাই না। তবে এটা বলবো যে, তিনি আগের মতো করে কাজ করতে পারলেন না। কি কারণে তাকে সরে যেতে হলোÑ এটা তিনি ভালো করেই জানেন। আমি তা বলতে চাই না। তবে আমি মনে করি না, যা করেছি তা শতভাগ সঠিক করেছি। তবে চেষ্টা করেছি। আমারও ভুল-ভ্রান্তি হতে পারে। কিন্তু আমার ব্যক্তিস্বার্থ বড় ছিল না।
এমনও অভিযোগ রয়েছেÑ আপনি প্রেসিডেন্ট হতে চেয়েছিলেন, এর বিরোধিতা করেছিলেন, দুই নেত্রীকে গ্রেপ্তারের বিরোধিতা করেছেন, তাদের ব্যাপারে মামলা অনুমোদন দিতে চাননি এই কারণে তাকে সরে যেতে হয়েছে।
তাকে কেন সরে যেতে হয়েছে এটা তিনি ভালো করে জানেন। আমি এটা নিয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। তবে আমি প্রেসিডেন্ট হতেই চাইনি।
যাই হোক, শোনা যায় ওয়ান ইলেভেনের সময় আপনার নাম করে আপনার ভাইয়েরা অনেক টাকা বানিয়েছেন ?
আমার ভাইয়েরা কোনো টাকাই বানায়নি। তাদের ব্যবসা রয়েছে, তারাতো নতুন ব্যবসায়ী নয়। আমার ভাইয়েরা আমার কাছ থেকে ওয়ান ইলেভেনের সুবিধা পায়নি। তা পেলে তারা প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক হতে পারতো। কিন্তু তা পারেনি। নির্বাচনেও দাঁড়িয়ে পরাজিত হয়েছে। আমি ফেভার করলে কি সেটা হতো। সেতো পাস করতো। বিশ্বাস করবেন কিনা, আমার বাসায় তাদের যাওয়াও নিষিদ্ধ ছিল। ওয়ান ইলেভেনের সময় যাতে বদনাম না হয়। তাদের বলেছি, তোমরা আমার এখানে ঘন ঘন আসবে না। এলে বদনাম হবে। আমি চাই না, কোনো বদনাম হোক। এই কারণে তারা আমার বাসায় ওই দুই বছরে আসার সুযোগ তেমন পেত না।
ওয়ান ইলেভেনের সরকারের ভুল কী আপনার দৃষ্টিতে ?
এই মুহূর্তে ভুল চোখে পড়ছে না। আসলে ওই সরকারের সবাই সমালোচনা করে। এখন আবার শুনি কেউ কেউ বলে ওয়ান ইলেভেনের সরকারই ভালো ছিল। কারণ দেশে গুম, হত্যা, অপহরণ অনেক বেড়ে যাওয়ার কারণেই মানুষ হতাশ। তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। দেশের কোনো খারাপ খবর দেখলে, হত্যা-গুমের খবর দেখলে আরো বেশি খারাপ লাগে।আমাদের সময়.কম 

বিডিআর বিদ্রোহে ব্যবস্থা নিলে বিদ্রোহী বলত -সাবেক সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদ

নাশরাত আর্শিয়ানা চৌধুরী : সাবেক সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদ বলেছেন, বিডিআর বিদ্রোহের সময় আমি ব্যবস্থা নিলে আমাকে বিদ্রোহী বলা হতো। এই কারণে ব্যবস্থা নিতে পারিনি। কারণ যখন কোন দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার থাকে সেখানে আমি সেনাবাহিনী প্রধান হিসাবে সরকারের একজন কর্মচারী মাত্র। ওই সময়ে চাইলেও নিজের সিদ্ধান্তে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না। এই জন্য সরকারের সিদ্ধান্তের জন্য আমোকে অপেক্ষা করতে হয়েছে। সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে আমি বার বার তাগিদ দিয়েছি। আমার ওই সময়ের ভূমিকা নিয়ে কেউ কেউ না জেনে অনেক ভুল কথা বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু অনেক কথা না জেনে বলা ঠিক না।
তিনি বলেন, আমি বিডিআর বিদ্রোহের ওই ঘটনা নিয়ে বই লিখছি। ইতোমধ্যে বইয়ের লেখা প্রায় শেষ পর্যায়ে। সেখানে সব ঘটনাই থাকবে। এমন অনেক বিষয় তুলে ধরবো যেই সব বিষয় মানুষ জানেন না। কারণ ওই সব ঘটনাও তুলে ধরা দরকার। এটা নিজের তাগিদ থেকেই লিখবো। এর আগে এই প্রতিবেদককে নিউ ইয়র্কে তার বাসায় দেয়া তার সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হয়েছিল ১৭ জুন । এছাড়াও তার সঙ্গে আরো কয়েক দফা কথা হয়। এখন তুলে ধরা হচেছ সাক্ষাৎকারের আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আপনি বলুনতো ওই ধরনের একটি ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে এমন খবর আপনি আগে থেকে জানতেন না? কোন সতর্কবাণীও ছিল না?
জেনারেল মইন বলেন, একেবারেই না। অন্তত আমার কাছে না। অন্য কারো কাছে থাকলেও সেটা আমার জানা নেই।
আপনার একজন অফিসার নাকি ওই ধরনের আশঙ্কার কথা সরকারকে বলেছিলেন এই জন্যই প্রধানমন্ত্রীর সেখানে ডিনার বাতিল হয়েছিল? তিনি বলেন, দেখুন সেটা আমি জানি না। তবে আমি যতখানি জানি প্রধানমন্ত্রী আগেই ওই ডিনার বাতিল করেছিলেন।
এমনও শোনা যায়, ওই অফিসার নাকি অস্ত্র নিয়ে বিডিআরের সদর দপ্তরের ভেতরে আগের দিন প্রবেশ করেছিলেন, তাকে বাধাও দেয়া হয়েছিল, এটা কি আপনি জানেন, জেনারেল মইন বলেন, এই ঘটনাটি ঠিক আমার জানা নেই। ওই ধরনের কোন অনুষ্ঠানে নিরাপত্তাজনিত দায়িত্বরত অফিসার ছাড়াও কেউ অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করতে পারার কথা নয়।
আপনি আসলে এই ব্যাপারে অনেক কথাই বলতে চাইছেন না, তাই কি? জেনারেল মইন বলেন, দেখুন আমি বইয়ে সব কথাই আমার জানার মধ্যে যা রয়েছে সব লিখবো। আর যদি আমার অফিসারদের মধ্যে ওই সময়ে কারো কাছে কোন তথ্য থাকে তারাও আমাকে দিতে পারেন। আমার কাছে যা আছে লিখবোই। এছাড়াও অন্য কারো কাছে তথ্য থাকলেও আমি সেগুলো আমার কাছে থাকা তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখব।
বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার তদন্ত হয়েছিল একটি সেনাবাহিনীর তরফ থেকে আরো একটি সরকারের তরফ থেকে, ওই দুটি রিপোর্ট কি পুরো প্রকাশ করবেন?
তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর রিপোর্টটি হুবহু প্রকাশ করতে পারবো না, কারণ এটা নিয়মের মধ্যে পরবে না। এই কারণে প্রকাশ করা যাবে না। তবে ওই রিপোর্টের বেশিরভাগ তথ্যই প্রকাশিত হয়েছে।
সরকারী তদন্ত কমিটির রিপোর্টেতো সেনাবাহিনীর একজন অফিসার ছিলেন, তিনি রিপোর্টের সঙ্গে একমত হননি, অনেক ব্যাপারে আপত্তিও করেছেন এই জন্য ওই কর্মকর্তা রিপোর্টে স্বাক্ষর করতে চাননি। কিন্তু পরে বাধ্য হয়েছিলেন নোট অব ডিসেন্ট লিখে স্বাক্ষর করতে, তিনি বলেছিলেন, তদন্ত রিপোর্টে সব তথ্য আসেনি, অধিকতর তদন্ত হওয়া প্রয়োজন, এই ব্যাপারে আপনি কি বলবেন?
জেনারেল মইন বলেন, সরকারি রিপোর্টটি আমার কাছে আসেনি। তাই ওই রিপোর্টের ব্যাপারে পুরোটা বলতে পারবো না। তবে আমাদের যে অফিসার ছিলেন তিনি ওই ঘটনায় তদন্ত করেছিলেন। ওই রিপোর্টটি আমাদের কাছে আসলে আমাদের রিপোর্টের সঙ্গে কতখানি ব্যবধান তা বোঝা যেত। তবে এটাও ঠিক আমাদের রিপোর্টেতো সব দিকে তদন্ত করার সুযোগ ছিল না। সরকারি রিপোর্টে অনেক কাজ তারা করেছেন। আরো করতে পারতেন হয়তো।
বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হয়নি অভিযোগ বিএনপির, শহীদ কর্মকর্তাদের পরিবার পরিজনদের এই জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন এই ঘটনার পুন তদন্ত করার কথাও বলেছেন, বিচার করারও কথাও বলেছেন, তিনি বলেন, এটা তারা চাইলে করতে পারেন।
সেই ক্ষেত্রে আপনাকেও বিচারের মুখোমুখি করা হতে পারে?
তিনি বলেন, আমাকে বিচারের মুখোমুখি করার চেষ্টা করতে পারে। তবে সেই সুযোগ তেমন ভাবে নেই। কারণ আমিতো আর ওই ঘটনার জন্য দায়ী নই। অনেকেই বলার চেষ্টা করেন আমি নাকি চাইলেই ব্যবস্থা নিতে পারতাম। অফিসারদের জীবনও বেঁচে যেতে পারতো। কিন্তু এটা তারা অনেকটাই সাদামাটা হিসাবে ও সাধারন জ্ঞান থেকে বলেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো সেটা পারতাম না। কারণ সরকারের সিদ্ধান্তের বাইরে আমি কোন সিদ্ধান্ত নিলে আমাকে বিদ্রোহী বলা হতো। বলা হতো আমি বিদ্রোহ করেছি। তখন আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হতো। আমাকে অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যে ওই সময় পার করতে হয়েছে।
আপনি সময় মতো অভিযান চালালে, কিংবা নির্দেশ দিলে ৫৭ জন চৌকস সেনা কর্মকর্তাকে প্রাণ দিতে হতো না, এটা সেনাবাহিনীর অনেক কর্মকর্তাই মনে করেন, তারা এই কারণে আপনার উপরও ক্ষুব্ধ?
দেখুন, আমার অফিসাররা মারা গেছে যখন জানতে পেরেছি তখন আমার অবস্থা কি হয়েছিল সেটা কাউকে বলে বোঝাতে পারবো না। তিনদিন তিনরাত আমাকে নির্ঘুম কাটাতে হয়েছে। অনেকেই ক্যান্টনমেন্ট থেকে বাইরে বের হয়ে গেছেন। আমাকেও বাইরে বের হয়ে যেতে বলা হয়েছে। না হলে আমার উপরও আক্রমণ হতে পারে তাও বলা হয়েছে তবুও আমি যাইনি। কারণ আমি আমার অন্য অফিসারদের কথাই চিন্তা করেছি। যারা আমার উপর ক্ষুব্ধ তাদের ক্ষোভটাকে আমি উপলব্ধি করি। কিন্তু তখন আমার কোন উপায় ছিল না। তারপরও দেড় ঘন্টার মধ্যে ফোর্স পাঠিয়েছি। বিডিআরের গেটে আমাদের ফোর্স যখন যায় তখন ভেতর থেকে আক্রমণ করে বিদ্রোহীরা। এতে আমাদের দুইজন মারা গেছেন। এরপর আর ওই সময়ে অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। এখন আর্মিতে এমন অবস্থা চাইলেই কোন অভিযান দেড়ঘণ্টার নীচে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। কারণ এগুলো সমন্বয় করার জন্য সময় লাগে। এছাড়াও আরো ——- অনেক বিষয় আছে। সেটা নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রকাশ না করাই ভাল। এখন চাইলেও— অপারেশন চালানো সম্ভব হবে না। আমি এর চেয়ে কম সময়ে ফোর্স পাঠাতে পারতাম না।
আপনি ঘটনাটি কখন জানলেন?
তিনি বলেন, ওই দিন সকালে আমি কনফারেন্সে ছিলাম। ৯টা ২৫ মিনিটে আমার কাছে খবর এল বিডিআরের ভেতরে গোলমাল হয়েছিল। এটা শুনেই পাঁচ মিনিটের মধ্যে কনফারেন্স শেষ করলাম। সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় সব জায়গায় যোগাযোগ করলাম। কাকে কাকে ফোন করেছি সবার লিস্ট আমার কাছে আছে। কোন ফোন থেকে কার কার নম্বরে কথা বলেছি, কতক্ষণ কথা বলেছি, এই সব প্রমাণও পরে সংগ্রহ করেছি। তারা ফোন করার জবাবে কি বলেছেন, তাও আছে।
আমি যাদের ফোন করেছি এরমধ্যে বিডিআরের ডিজি মেজর জেনারেল শাকিলও একজন। তাকেও ফোন করলাম। তখন ৯ টা ৩৫ মিনিট হবে। তিনি আমাকে বললেন, একটু ঝামেলা হয়েছে। কয়েকজন অফিসার বাইরে উঠে গেছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। আমি আপনাকে জানাবো। তখনও তিনি আমার কাছে কোন সাহায্য চাননি। সব ঘটনা খুলেও বললেন না। হয়তো সেই অবস্থায় ছিলেন না। তবে এরপর আমি আর তাকে যোগাযোগ করে পাইনি। ১০ টা ৩৫ মিনিটে তাকে যোগাযোগ করে কথা বলতে পারিনি। আমার ধারণা সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটের মধ্যেই তাকে ও অনান্য অফিসারকে হত্যা করা হয়েছে।
আপনিতো জরুরি ভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যেতে পারতেন?
আমি প্রধানমন্ত্রীর ওখানে গিয়েছি। কিন্তু ওখানে এত মানুষ দেখেতো আমি অবাক। দেখি সবাই চা বিস্কিট খাচ্ছে। তখন আমার মনে হলো এটা ঠিক না। কারণ ওই সময়ে সবাই ঘটনা শুনে সেখানে ছুটে গেছেন এমন হতে পারে। কিন্তু ওই সময়ে প্রধানমন্ত্রীকে একা করে দিলে ভাল হতো। তিনি আরো দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন। নিয়ম হচ্ছে যখন কোন বিপদ হয় তখন যিনি সিদ্ধান্ত নেন তাকে একা করে দিতে হয় চিন্তা করার জন্য। এরপর তিনি সংশ্রিষ্ট মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বাহিনী প্রধানদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন।
আমি প্রধানমন্ত্রীকে পুরো বিষয় জানিয়েছি। সিদ্ধান্ত নিতেও সহায়তা করেছি। তবে একটা কথা কি সেনাবাহিনী কোন জায়গায় ততক্ষণ পর্যন্ত অভিযান চালাতে পারে না যতক্ষণ না সেখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পারেন।
এবার একুট ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি,
ওয়ান ইলেভেনের সরকারের সময়ে আপনি নাকি বিএনপি চেয়ারপারসনকে জোর করে বিদেশে পাঠিয়ে দিতে চেয়েছিলেন? কেন?
তিনি বলেন, আমি সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে জোর করে বিদেশ পাঠিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র ও এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে কোন ভাবে সম্পৃক্ত ছিলাম না। তাকে বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা চলছে এমন খবর যখন আমি পেয়েছি তখন প্রকৃত ঘটনা জানার চেষ্টা করেছি। আমাকে বলা হয়েছে তিনি বিদেশে চলে যেতে চাইছেন। কিন্তু গণমাধ্যমে খবর এল তিনি বিদেশে যেতে চান না এবং সৌদি আরবও তার শরীরে উপস্থিতি ছাড়া ভিসা দিবে না। এটা জানার পর আমি এটাও বলেছি, আপনারা যারা তাকে জোর করে বিদেশে পাঠাতে চাইছেন এটা ঠিক করছেন না। তাকে বিদেশে পাঠাবেন না। তার ইচ্ছের বাইরে কোন কাজ করা যাবে না। তিনি যাতে কোন ধরনের অসম্মানিত না হন।
তার মানে কি ওই সরকারের সব কিছুই আপনি জানতেন না?
আমি একটা গন্ডির মধ্যে ছিলাম। ওই সময়ের সরকার অনেক কিছুই তারা তাদের মতো করেছে। আমাদের সঙ্গে আলোচনারও প্রয়োজন মনে করেননি। তারা যে কাজ করতেন আমরা বাধা দেইনি। পরে জেনেছি ওই সময়ে অনেক কিছুই আমার নাম করে আমার অজান্তে হয়েছে। অর্ডার দেই বা না দেই বলা হতো স্যারের নির্দেশ। কিন্তু বাস্তবতা ছিল, সেটা জানতামই না। শুনেছি আমি করতে বলেছি এমন সব কথা বলেও অনেক কাজ করা হয়েছে। তবে আমি এটা বলতে পারি বিএনপি চেয়ারপারসনকে বিদেশে পাঠানোর জন্য কাউকে নির্দেশ দেইনি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিদেশে থেকে দেশে ফেরত আসতেওতো বাধা দিয়েছিলেন, এটা কেন করেছেন?
দেখুন, তাকে বিদেশ থেকে দেশে ফেরত আসতে না দেয়ার কথা যদি আমি ইংল্যান্ড সরকারকে বলি তাহলে ইংল্যান্ড সরকার আমার কথা শুনবে? নাকি আমাদের সরকারের কেউ তা বললে শুনবে। আমি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত আসতে দিবো না এমন কোন আদেশ দেইনি। যারা কাজটি করেছেন তারা খারাপ করেছেন। বরং তিনি যখন ফিরতে পারছিলেন না তখন আমি বলেছি যত দ্রুত সম্ভব তাকে দেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা করেন। ২৪ ঘন্টার মধ্যে তিনি যাতে দেশে আসতে পারেন সেই জন্য সব ব্যবস্থা করা হয়। সেই হিসাবে প্রয়োজনীয় সবাইকে নির্দেশ দিয়েছি।
আপনি কোন নির্দেশই দেননি এই সব কথা মানুষ বিশ্বাস করবেন না, ভাববেন যে আপনি বেশ গুছিয়ে মিথ্যে কথা বলছেন?
জেনারেল মইন বলেন, কেউ কিছু ভাবলে সেটা নিয়ে আমার বলার কিছুই নেই। সেই ভাবনায় পরিবর্তন আনাও সহজ হবে না। তবে আমি যেটা বলছি সেটাই সত্য। কেউ প্রমাণ করুক যা বলছি তা সত্য নয়।
শোনা যায়, ওয়ান ইলেভেনের সময়ে আপনার সঙ্গে একটি বৈঠক করার মূল্য ছিল কোটি কোটি টাকা?
তিনি বলেন, আমাকে কেউ কোনদিন টাকা দিয়ে বৈঠক করেননি। তবে এটা শুনেছি আমার সঙ্গে একটি বৈঠক করার জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করতে চাইতেন যারা দুর্র্নীতি করেছেন তাদের কেউ কেউ। আমি যখন নিউইয়র্কে আসি ওই সময়ে তখন দেশের একজন ব্যবসায়ী আমার সঙ্গে দেখা করার জন্য হন্যে হয়ে চেষ্টা করেছেন। এই জন্য কয়েক কোটি টাকাও খরচ করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তিনি সফল হননি। পরে তার সম্পত্তি ক্রোক হয়েছে, বাড়ি পর্যন্ত ক্রোক হয়েছিল। শাস্তিও হয়েছিল। তারপরও একবারের জন্য দেখা করতে পারেননি তিনি। আরও কেউ কেউ চেষ্টা করেছেন। আমার নীতি ছিল এটাই যে যারা দুর্নীতির জন্য তালিকাভুক্ত ও অভিযুক্ত হয়েছেন তাদের কেউ, তাদের পরিবারের কেউ কিংবা তাদের তরফের কেউ আমার সঙ্গে কোন বৈঠক করতে পারবেন না।
আমার সিনিয়র স্যার কর্নেল অলি আহমেদ নাকি বলেছেন, আমাকে কারা কারা টাকা দিয়েছিলেন, আমি স্যারের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি স্যার যদি এর কোন প্রমাণ দিতে পারেন তাহলে আমি এই ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব। তাছাড়াও আমাকে টাকা দিয়ে গেছেন স্যার যদি প্রমাণ দিতে পারেন তাহলে দ্বিগুণ টাকা ফেরত দিবো। আসলে এই কথাটি আমি এত জোর দিয়ে এই জন্য বলতে পারি যে, আমাকে কেউ কোন টাকা দিতে পারেনি। আমার সঙ্গে কোন দুর্নীতিদায়গ্রস্ত ব্যক্তিদের কেউ দেখা করতে পারেননি। অনেকেই বলে, আমি নাকি কোন কোন দুর্নীতিবাজকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছি। এটা সম্পূর্ণ ভুল। কেবল এটাই নয় অনেকেই বলেন, আমি নাকি দুই নেত্রীকে মাইনাস করতেও বলেছি।
দুই নেত্রীকে মাইনাস করার সিদ্ধান্ত নাকি আপনারই ছিল?
জেনারেল মইন বলেন, দুই নেত্রীকে মাইনাস করার সিদ্ধান্ত আমার ছিল না এটা প্রথম কথা। আর দ্বিতীয় কথা হলো তাদের মতো নেত্রীকে মাইনাস করার কোন ক্ষমতাই আমার নেই। তাদেরকে জনগণ নেতা বানিয়েছেন। সেখানে তাদের দল রয়েছে। তাদের ব্যাপারে তারাই সিদ্ধান্ত নিবেন নেতা কে থাকবেন না থাকবেন। আমি বললে কিংবা আমার বলাতেই কিবা আসে যায়। আর তৃতীয়ত হলো আমি এই ধরনের কোন কথা বলিনি। বিশেষ করে তাদের কোন রাজনীতিবিদ বলতে পারবেন না আমি দুই নেত্রীকে মাইনাস করতে বলেছি। বাংলাদেশে এমন কোন রাজনীতিবিদ নেই যার সঙ্গে আমার এই সব বিষয়ে কথা হয়েছে। বরং এটা শুনেছি যে, উল্টো অনেক নেতাই নাকি আগ বাড়িয়ে তাদের নেত্রীদের বিরুদ্ধে কথা বলতেন। ওই সময়ের সরকারকে বলতেন তাদের নেত্রীদের বিরুদ্বে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য। তারা নিজেরাও দল করতে চাইতেন। তবে এগুলো নিয়ে আমার সঙ্গে কোন কথা হয়নি।
ওই সময়ে আপনার নির্দেশেই অনেকেই পার্টি গঠন করেন দুই নেত্রীকে মাইনাস করার ফর্মুলার অংশ হিসাবে দেশে নতুন নতুন রাজনৈতিক দলের জন্ম হয়?
তিনি বলেন, নতুন নতুন পার্টি হয়েছে এটা সত্য। কিন্তু যারা ওই সময়ে পার্টি করেছেন তাদের একজন বলতে পারবেন না আমি তাদেরকে পার্টি করতে বলেছি। তারা পার্টি করার জন্য উদগ্রীব ছিলেন বরং নিজেরা সুবিধা নেয়ার জন্যই নিজ উদ্যোগে পার্টি করেছেন। তাদের কি উদ্দেশ্য ছিল এটাতো আপনারা সবাই দেখেছেন। যদি তাই হতো তাহলে তারা অনেকেই নির্বাচন করে জয়ী হতে পারতেন। তাদের অবস্থা দেখেই বোঝা উচিত। এটা নিয়ে আমি কিছুই বলতে চাই না।
ওই সময়ের ঘটনাবলী নিয়ে একটি বই লিখেছিলেন, আর কি কোন বই লিখছেন?
এখনও এই ব্যাপারে আগাম বলতে পারছি না। ওই সময়ে আমার বইয়ে অনেক কথাই লিখেছি। এখন বিডিআরের বিদ্রোহের বইটি নিয়েই ব্যস্ত আছি। বেঁেচ থাকতেই বইটি প্রকাশ করতে চাই।
আচ্ছা বলুনতো আপনারতো সেনাবাহিনীতে সেনাপ্রধানের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল এরপর আবার চাকরির মেয়াদ বাড়িয়ে ছিলেন কেন?
জেনারেল মইন বলেন, আমি চাকরিতে আমার মেয়াদ বাড়াইনি। এই জন্য প্রেসিডেন্টকে কোন অনুরোধও করিনি। বরং প্রেসিডেন্টই চেয়েছিলেন আমি যাতে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন, গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের কাজটি সম্পন্ন করতে সরকারকে ও তাকে সব ধরনের সহায়তা করি। এই জন্যই তিনি আমার চাকরির মেয়াদ বাড়িয়েছিলেন। আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি। একটি অবাধ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করার ব্যবস্থায় সম্পৃক্ত ছিলাম। ওই নির্বাচনটি ছিল আন্তর্জাতিক মানের একটি নির্বাচন। নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন। এই জন্য বিভিন্ন দেশ থেকেও প্রশংসা মিলেছে।
আপনার ২০০৯ সালের নির্বাচন আন্তর্জাতিক মানের নির্বাচন, আর ২০১৩ সালের নির্বাচনতো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন এটাকে কিভাবে দেখছেন?
তিনি বলেন, আমি মনে করি দেশের যে কোন নির্বাচন অবাধ, সষ্ঠু , নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হওয়া উচিত। জনগনের সম্পৃক্ততা থাকা উচিত। আমাদের নির্বাচন ছিল বিশ্বমানের। ওই নির্বাচন নিয়ে কেউ আপত্তি করেনি। এটা ঠিক। এবার দেশে ছিলাম না তাই দেখতে পারিনি। মিডিয়ার সুবাধে যতটুকু জেনেছি। এই নির্বাচন নিয়ে কে কে বলছে সেটাও দেখছি । আমি আশা করি বাংলাদেশ ২০০৯ সালে যে নির্বাচনের উদাহরণ তৈরি করেছে ওই উদাহরণের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা দরকার।
আপনি যখন ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি, তখন দেশে দশ ট্রাক অস্ত্র আসার ঘটনা ঘটে এই বিষয় আগাম তথ্য পাননি? জেনারেল মইন বলেন, আমি তখন জিওসি ছিলাম। জিওসিরি দায়িত্ব সেনাবাহিনীর ভেতরে। বাইরে কি হচ্ছে না হচ্ছে এই সংক্রান্ত বিষয়ে গোপন খবর রাখা নয়। এই জন্য ওই সময়ে দেশে যে অস্ত্রের চালান আসছে এটা আমি আগাম জানতে পারিনি। তাছাড়াও আমাদের আরো অনেক কাজ আছে। নিয়ম হচ্ছে এই সব ব্যাপারে খবর রাখবেন গোয়েন্দারা, পুলিশ। এছাড়া নদী পথের জন্য কোস্টগার্ড রয়েছে। তাদেরই খবর রাখার কথা। কিন্তু আমি কেন জানলাম না এই জন্য অনেক কথা বলা হয়েছে। অনেকই বলে আমি নাকি ঘটনা আগেই জানতাম। আমাকে জানানো হয়েছিল, এগুলো ঠিক নয়। আমাদের এখতিয়ারের মধ্যে এটা পরে না। তাছাড়া ঘটনা যেখানে ঘটেছে সেখান থেকে আমার অফিস অনেক দূরে। আমরা যদি বাইরে ওই সব ব্যাপারে খবর রাখতে যাই তাহলে বলবে সেনাবাহিনী না জানি কি করছে।
তবে নিয়মের বাইরে গেলে বলতে হয় দেশে যখন এত বড় অস্ত্রের চালান আসে সেটার আগাম তথ্য আমরা কোন কারণে পেলে ব্যবস্থা নিতে পারতাম। একজন সেনাবাহিনীর জিওসির কতখানি কি এখতিয়ার আছে এটাও সবার জানা উচিত। ওই অস্ত্র আসার খবর আমাদের কাছে আসলে সংশ্লিষ্টদের আমরা জানাতে পারতাম। সেটা পারিনি।
আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?
আমার ভবিষ্যত পরিকল্পনার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে দেশে যাওয়ার বিষয়টি। সেখানে গেলে আবার নতুন করে মানুষের জন্য কিছু করবো। তবে যাওয়া হবে কিনা এটা নিয়ে আমি নিজেই সন্দিহান। এখন চিকিৎসার মধ্যে রয়েছি। যত দিন বেঁেচ আছি ততদিন থাকতে হবে। ছয় বছর পর আবারও বোন মেরু ট্রান্সপ্লানটেশন করা হবে। ওই সময়ে বাঁচার কোন সম্ভাবনা আছে কিনা জানি না। সাধারণত দ্বিতীয় বার এই ধরনের চিকিৎসায় কেউ বাঁেচ না। আমি বেঁেচ গেলে সেটা হবে মিরাকেল। সেই রকম কোন কিছু হলে আবার কিছু করতে পারবো, না হলে না।
দেখুন আমি অসুস্থ এটা নিয়েও কত কথা উঠেছে। বলে আমি নাকি ঢং করছি। ভঙ্গি করছি। আমার অসুখ হয়নি। বিদেশে থাকার জন্য এমন করছি। বিদেশে থাকতে হলেতো এমনিতেই থাকতে পারবো এই জন্য ঢং করার কিংবা ভঙ্গি করার দরকার আছে? সেটারতো কোন প্রয়োজন নেই। তাছাড়া একজন সুস্থ মানুষে কেমন করে চার বছর ধরে টানা ঢং করতে পারে। আরো অনেক কথা অনেকেই বলে। সেই সব কথাও কানে আসে। এখানে আমি খুব ঘনিষ্ঠজন ছাড়া কারো সঙ্গে মিশিনা। কারো দাওয়াতেও যাই না। কোন মিডিয়াতেও কথা বলি না। শান্তিপূর্ন ভাবে থাকতে চাই। কোন আলোচনায় থাকতে চাই না। এই জন্য সবাইকে এড়িয়ে চলি। এটা নিয়ে বলে আমি নাকি বাইরে গেলে আমাকে মানুষ আক্রমণ করবে, মানুষ আমাকে দেখতে পারে না আরো কত কিছু। এই সব নিয়ে এখন আর ভাবি না।
শোনা যায়, আপনার দেশের বাড়ি বিক্রি করে দিয়েছেন?
এই কথাটিও ঠিক নয়। আমার বাড়ি এখনও আছে। সেটা বিক্রি করিনি। দেশে ফিরে যেতে হবেতো। আর বেঁেচ থাকলে বাড়ি যাওয়ার পর সেখানেই উঠবো। বাড়ি বিক্রি করার কোন পরিকল্পনা নেই।
আচ্ছা আপনার বিরুদ্ধে সাবেক এক প্রতিমন্ত্রী মামলা করেছিলেন, সেটার কি অবস্থা?
ওই মামলা চলছে। ওই মামলাটি উচ্চ আদালতে নিস্পত্তির জন্য ছিল। কিন্তু নিম্ম আদালতে চলবে এমন নির্দেশের কারণে এখনও চলছে। তবে ওই মামলায় বাদী যে অভিযোগ করেছেন, সেটা তিনি না করলেই পারতেন। আদালতের বিচারধীন বিষয় বলে কোন কথা বলতে চাই না।
এখনতো একটি মামলা বিএনপি আগামীতে কখনো ক্ষমতায় আসতে পারলে ওয়ান ইলেভেনের ঘটনা ঘটানোর জন্য ও বিএনপি চেয়ারপারসন, তারেক রহমান, বিএনপি নেতাদের উপর নির্যাতন করার কারণে ও দুর্নীতি বিরোধি অভিযানের কারণে মামলা আরো ব্যাপক সংখ্যায় মামলা করবে?
তিনি বলেন, তারা মামলা করলেতো করতে পারেন। তবে সেই সব মামলায় আমাকে আসামি করেও কোন লাভ হবে না। কারণ আমি এই সবের কোনটি নিজে করিনি। যারা করেছেন তাদেরকে দায় নিতে হবে। আমি কি করেছি সেটাতো আমি ওয়ান ইলেভেন নিয়ে লেখা বইয়েই লিখেছি।আমাদের সময়.কম 

আমি প্রেসিডেন্ট হতে চাইনি -সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মঈন উ আহমেদ

ডেস্ক রিপোর্ট: বোনমেরো ক্যান্সারে আক্রান্ত সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মঈন উ আহমেদ এখন অনেকটাই সুস্থ। ক্যান্সার জয়ে যন্ত্রণাময় কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে দুই বছর। এর পর অবস্থার বেশ খানিকটা উন্নতি হওয়ায় দুই মাস আগে থেকে চিকিৎসকরা তাকে ওরাল ওষুধ দিয়েছেন। এখন নিয়ম করে ওষুধ সেবন করছেন প্রতাপশালী সাবেক সেনানায়ক। বাকি জীবনও তাকে ওষুধনির্ভর থাকতে হবে। সম্প্রতি নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত বাংলা সাপ্তাহিক ঠিকানা এবং সংশ্লিষ্ট নানাসূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ঠিকানাকে মঈন উ আহমেদ বলেন, মাঝে অনেক অসুস্থ থাকলেও এখন অনেক ভালো আছি। ক্যান্সার থেকে বেঁচে উঠতে পারব- এটা ভাবতে পারিনি। মঈন বলেন, ২০১১ সালের শেষ দিকে যখন নিউইয়র্কে আসি, তখন সুস্থই ছিলাম। তবে আসার কয়েক দিনের মধ্যে বুঝতে পারলাম, কী ভয়ানক রোগ শরীরে বহন করে চলছি। ক্যান্সারের কথা শুনে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম; তবে ভেঙে পড়িনি। মঈন বলেন, ক্যান্সারকে এখনও পুরোপুরি জয় করতে পারিনি। নিরন্তর লড়াই চলছে। তবে এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো আছি। ক্যান্সার জয়ে দুই বছর নিয়মিত কেমো নিতে হয়েছে। এখনও চিকিৎসা চলছে। এত দিন চিকিৎসা ছিল থেরাপি-নির্ভর। সম্প্রতি চিকিৎসায় ওরাল ওষুধ দিয়েছে। প্রতিদিন অনেক অনেক ওষুধ খেতে হয়। যত দিন বেঁচে আছি, এ ওষুধ খেয়েই যেতে হবে। তবে এর চেয়ে অনেক কঠিন সময় পার করেছি। এখন আর ভয় পাচ্ছি না। বরং আল্লাহর কাছে হাজার শোকর, তিনি আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। সুস্থ করে তুলেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুরোপুরি সুস্থ হওয়া সম্ভব নয়। ছয় বছর পর পর শরীরের ক্ষতিকারক জীবাণুগুলো সরিয়ে ফেলতে হবে। যত দিন বেঁচে আছি, চিকিৎসা নিয়ে যেতে হবে। পুরোপুরি আর সুস্থ হওয়া সম্ভব হবে না। বাংলাদেশে ফিরবেন কিনা- প্রশ্নে জেনারেল মঈন বলেন, কবে চিকিৎসা নেয়া শেষ হবে, সেটাই জানি না। তাই আপাতত দেশে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছি না।
১/১১-এর পর কখনও প্রেসিডেন্ট হওয়ার কথা ভেবেছেন কিনা- প্রশ্নের উত্তরে মঈন বলেন, কখনও ভাবিনি। কোনোদিন প্রেসিডেন্ট হতে চাইনি। তারপরও অনেকেই এসব কথা ছড়িয়েছেন। মানুষের জানার মধ্যে সবচেয়ে বড় ভুল হলো আমি নাকি দেশের প্রেসিডেন্ট হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এর কোনো ভিত্তি ছিল না। এটা শতভাগ মিথ্যা ও বানোয়াট একটা প্রপাগান্ডা ছিল। আমি কোনো দিন দেশের প্রেসিডেন্ট হতে চাইনি। আমি যে প্রেসিডেন্ট হতে চাইনি, সে কথা সাবেক প্রেসিডেন্ট ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ জীবিত থাকতেই একটি জাতীয় দৈনিককে জানিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্ট করেই বলেছিলেন, জেনারেল মঈন কোনোদিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার কথা আমাকে বলেননি। এমনকি তার ইচ্ছের কথাও আমাকে জানাননি। জেনারেল মঈন বলেন, ইয়াজউদ্দিন সাহেব ঠিক কথাটিই বলেছিলেন। আমি প্রেসিডেন্ট হতে চাইলে আর কাউকে না বললেও ড. ইয়াজউদ্দিনকে তো আমার মনের কথাটা বলতে হতো। আসলে ওই ধরনের কোনো পরিকল্পনাই আমার মনের মধ্যে ছিল না। মঈন বলেন, ওই সময় অনেকে তাদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য আমাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, যেন আমি ওই দায়িত্ব নিই। অনেকে আমাকে অনুরোধও করেছেন। কিন্তু যখন দেখেছেন আমি দায়িত্ব নেইনি, তখন তাদের ভালো লাগেনি। তারাই সেসব প্রপাগান্ডা ছড়িয়েছেন।
জেনারেল মঈন বলেন, তখন আমি একটাই পরিকল্পনা করেছি, কীভাবে দ্রুত নির্বাচন করা যায়। আর নির্বাচনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাত থেকে গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা যায়। আমি গণতন্ত্রের বাইরে কোনো চিন্তা কখনও করিনি। প্রকৃত ঘটনা কী, সেটা আমি আমার ‘শান্তির পথে’ বইয়ে লিখেছি। আরও কথা আছে, তা-ও লিখব। আমি কী, কী করেছি, কী করতে চেয়েছি- আল্লাহই ভালো জানেন।
নিউইয়র্ক শহরের প্রাণকেন্দ্রেই থাকেন জেনারেল মঈন। সঙ্গে থাকেন তার স্ত্রী। ছেলে থাকে ফ্লোরিডাতে। এ দুই সিটির মধ্যেই তার আসা-যাওয়া। অনেকটা নীরবেই সময় কাটান তিনি। জেনারেল মঈন কোনো ধরনের আলোচনায় থাকতে চান না। এ কারণে কারও সঙ্গে দেখা করেন না, কথাও বলেন না। জেনারেল মঈন বলেন, আমি চাই না আমাকে নিয়ে কোনো আলোচনা হোক। এজন্য আমি তেমন কোথাও যাই না। গণমাধ্যমকে কোনো সাক্ষাৎকার দিই না। এখানে অনেকেই আমাকে মিডিয়ায় কথা বলার জন্য অনুরোধ করেন, কিন্তু আমি বলি না। কারণ একটা বললে আরেকটা কথা ছড়াবে। এতে সমস্যা আরও বাড়বে। তাই এসব আমি এড়িয়ে চলি। সূত্র: আলোকিত বাংলাদেশ

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
Situs Streaming JAV