Friday, 5 June 2026 |
শিরোনাম
SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয় A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes নিউইয়র্কে নতুন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘হৃদয় বীণা সংগীতালয়’র যাত্রা শুরু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে নিউইয়র্কে ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’র দোয়া মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

প্রবাসীদের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহের ওপর জোর দিতে এনআরবি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 95 বার

প্রকাশিত: April 7, 2013 | 8:56 AM

কালাম আজাদ : গত ২৫ মার্চ তফসিলভুক্ত করা হয় নতুন তিনটি ব্যাংক। যা গত ৩১ মার্চ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। এ নিয়ে বাংলাদেশের মোট তফসিলি ব্যাংকের সংখ্যা দাঁড়াল ৫০-এ। নতুন আসছে আরও ছয়টি। সবমিলিয়ে দেশে তফসিলি ব্যাংকের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৫৬টিতে। বাজারে নতুন ব্যাংক আসার বিষয়টিকে ব্যাংকাররা ভালো চোখে দেখলেও তা সহ্য করতে পারছেন না পুরনো ব্যাংকের মালিকরা। তবে বিষয়টি নিয়ে তারা খোলামেলাভাবে তেমন কিছু বলছেন না। কিন্তু আকার-ইঙ্গিতে ঠিকই বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে, দেশে নতুন কোনও ব্যাংকের প্রয়োজন ছিল না। এদিকে নতুন ব্যাংকের ব্যাপারে প্রথমে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকেও বিরোধিতা করা হয়। কিন্তু পরে তা সরকারের ‘রাজনৈতিক’ সিদ্ধান্তের কারণে আর টেকেনি। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সুর পাল্টিয়েছে। বলছে, দেশের অর্থনীতি বেড়েছে কয়েকগুণ। বেড়েছে জনসংখ্যাও। তাই দেশে আরও কিছু ব্যাংকের প্রয়োজন। জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্টদের শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ইতোমধ্যে তফসিলিভুক্ত হয়েছে নতুন ইউনিয়ন, এনআরবি কমার্শিয়াল এবং সাউথবাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক লিমিটেড। এ ব্যাংকগুলো প্রধান কার্যালয় উদ্বোধনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক যাত্রাও শুরু করেছে। কিন্তু বাজারে নতুন ব্যাংক আসাকে ভালো চোখে দেখছেন না ব্যাংক মালিকরা। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ ধরনের ইঙ্গিত দেন একটি বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এক উদ্যোক্তা-পরিচালক। ওইদিন ব্যাংকের চেয়ারম্যানদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান ও এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার এনআরবি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন, দেশ থেকে আমানত সংগ্রহের চেয়ে প্রবাসীদের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহের ওপর জোর দিতে। এতে ব্যাংকগুলোর মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা কম হবে। এসময় তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো উচ্চ সুদহারে আমানত সংগ্রহ করছে বলে বেশি সুদহারে ঋণ দিচ্ছে। আর বেশি সুদহারে ঋণ দেওয়ার কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব অর্থনীতিতে পড়ার আশঙ্কা করেন তিনি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন ব্যাংক এলে স্বভাবতই লোভনীয় অফারের মাধ্যমে আমানত সংগ্রহ করবে। এতে আমানত সংগ্রহে সুদহার স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যাবে। এ কারণে বেড়ে যাবে ঋণের সুদহারও। এ বিষয়টিকে পুরনো ব্যাংক মালিকরা বেশি উপস্থাপন করে বুঝাতে চাইছেন, দেশে আসলে নতুন কোনও ব্যাংকের প্রয়োজন ছিল না। কারণ নতুন ব্যাংকগুলো পুরনো ব্যাংকের আমানতের ওপর স্বাভাবিকভাবেই ভাগ বসাবে।

মঙ্গলবার এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নজরুল ইসলাম মজুমদারের সুরে কথা বলেন এক্সিম ব্যাংকের উদ্যোক্তা-পরিচালক শাহিদ রেজা। এছাড়া গত বুধবার সাউথবাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও নজরুল ইসলাম মজুমদার উচ্চ সুদহারের বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে বক্তব্য দেন।

এই যখন ব্যাংক মালিকদের অবস্থা তখন নতুন ব্যাংক আসাকে ভালোভাবেই নিচ্ছেন ব্যাংকাররা। গত মঙ্গল ও বুধবার দুটি নতুন ব্যাংকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ ধরনের সুরই বেজেছে ব্যাংকারদের গলায়। ওই দুটি অনুষ্ঠানে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সভাপতি ও এনসিসি ব্যাংকের এমডি মোহাম্মদ নুরুল আমিন পরিসংখ্যান টেনে বলেন, ভারতেও প্রতি ১৬ হাজার মানুষের জন্য একটি ব্যাংক শাখা রয়েছে। আর আমাদের দেশে প্রতি ২০ হাজার মানুষের জন্য রয়েছে একটি করে ব্যাংক শাখা। তাই আমাদের আরও নতুন ব্যাংকের দরকার ছিল।

বিষয়টির ব্যাপারে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন ব্যাংক এলে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়। এ কারণেই ব্যাংকাররা নতুন ব্যাংক আসাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন।

এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রথমে নতুন ব্যাংকের বিরোধিতা করা হলেও গত দুটি নতুন ব্যাংকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের অর্থনীতির অনুপাতে ব্যাংকের প্রয়োজন ছিল বলেই মন্তব্য করেন গভর্নর ড. আতিউর রহমান।

সূত্র জানায়, সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে নতুন ব্যাংকের অনুমোদন বাধ্য হয়ে দিতে হওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে এসব ব্যাংকের জন্য বেশকিছু কঠিন শর্ত দেওয়া হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑ ৪০০ কোটি টাকার সাদা টাকায় মূলধন দেখানো ছাড়াও গ্রাম ও শহরে শাখার অনুপাত ১:১ (যেখানে পুরনো ব্যাংকের বেলায় গ্রাম ও শহরে শাখার অনুপাত ১:৪), ৫ শতাংশ কৃষিতে বিনিয়োগ এবং নিট মুনাফার শতকরা ১০ শতাংশ সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক (সিএসআর) খাতে ব্যয়।

সূত্রমতে, ১৯৮২ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত উত্তরা ও পূবালী ব্যাংক নিয়ে মোট ৯টি বেসরকারি ব্যাংকের লাইসেন্স প্রদান করা হয়। এরপর ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বেসরকারি খাতে আসে আরও ৮টি ব্যাংক। ১৩টি ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া হয় ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত। এ ৩০টি বেসরকারি ব্যাংকসহ রাষ্ট্রায়ত্ত, বিশেষায়িত ও বিদেশি ব্যাংক মিলে মোট তফসিলি ব্যাংকের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৭-এ। পরে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১১ সালের ২৮ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ২০১১-১২ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘আরও কয়েকটি ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া হবে।’ তখন বিষয়টি নিয়ে তেমন আলোচনা হয়নি। পরে একই বছরের আগস্টের প্রথমৎদিকে ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরামের এক আলোচনায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বেসরকারি খাতে নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি সরকারের একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।’ অর্থমন্ত্রীর ওই মন্তব্যের পর থেকেই আলোচনার ঝড় ওঠে। এ নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন সংশ্লিষ্টরা। কেউ বলেন, দেশে আর কোনও ব্যাংকের প্রয়োজন নেই। কেউবা আবার বলেন, সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার জন্য নতুন ব্যাংকের অবশ্যই প্রয়োজন রয়েছে। তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকেও নতুন ব্যাংকের ব্যাপারে বিরোধিতা করা হয়। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বৈঠকও হয়। কিন্তু সরকারের ‘রাজনৈতিক’ সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক তার অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি। অবশেষে গত বছরের ৪ এপ্রিল প্রথমে প্রবাসী উদ্যোক্তাদের অর্থায়নে তিনটি এবং এর চার দিনের মাথায় ৮ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় দেশীয় উদ্যোক্তাদের অর্থায়নে ছয়টি ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপর ৩০টি শর্ত দিয়ে একই বছরের ১৭ এপ্রিল এসব ব্যাংককে আগ্রহপত্র (লেটার অব ইনটেন্ট) দেওয়া হয়। ৩০টি শর্তের প্রধান শর্ত ছিলÑ সাদা টাকায় ৪০০ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন দেখানো। সম্পাদনা : আলাউদ্দিন/আমাদের সময়.কম

 

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
Situs Streaming JAV