নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত
জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি ড.এ.কে আব্দুল মোমেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪৩তম বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে বলেছেন, এবারের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস বাংলাদেশের আপামর জনসাধারন ও বিশ্বের সকল প্রবাসী বাঙালীদের জন্য ছিল ভিন্ন স্বাদের, ভিন্ন মাত্রার আনন্দের। এবার ২ লাখ ৫৪ হাজার ৬শ’৮১ জন বাঙালী ঢাকার জাতীয় প্যারেড স্কোয়াডে সমবেত কন্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে গ্রিনেস বুক অব রেকর্ডে জায়গা করে নিচ্ছে। আরেকবার বিশ্ববিজয়ে বাঙালীর ধারাবাহিকতায় আজ আমরা গর্বিত। আজ আমাদের শপথ হচ্ছে- মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ পুনরুদ্ধার করা। তিনি তাঁর বক্তব্যে বর্তমান সরকারের আমলে সাধারন মানুষের জীবন ধারন মানোন্নয়ন, বৈষম্য হ্রাস ও অর্থনৈতিক মুক্তির প্রপঞ্চে অগ্রযাত্রার বিষয় তুলে ধরে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মূল আকাঙ্খা ছিল শোষন-বৈষম্য, ক্ষুধা-দারিদ্র মুক্ত সমাজ গড়ে তোলা। বর্তমান শেখ হাসিনা প্রশাসনের নেতৃত্বে যেটি আমরা অর্জনের পথে। বাংলাদেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত।
বাংলাদেশের ৪৩তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দিতে গিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতিনিধি সুজানা মালকোরা বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন কিংবা নারীর ক্ষমতায়ন অথবা দারিদ্র বিমোচন এমনকি বিশ্ব শান্তি রক্ষা কার্যক্রম সবক্ষেত্রে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে রোল মডেল। সেদিন খুব বেশি দূরে নয়, যেদিন বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতা সংগ্রামের আশা-আকাঙ্খা পূরন হবে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের ধারাবাহিক অর্জন দেশটির জন্মের লক্ষ্য পূরনের স্বাক্ষ্য বহন করছে। বাংলাদেশের মানুষের সংগ্রামী ঐতিহ্যই তাদের আজন্ম লালিত স্বপ্ন পূরনের সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক কর্ম পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভিশন টুয়েন্টি-টুয়েন্টি ওয়ান অনুযায়ী ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হবে।
নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় ২৬ মার্চ বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টায় জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪৩তম বর্ষ উদযাপন করেছে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন। কেক কেটে দিবসটি উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি ড.এ.কে আব্দুল মোমেন, তাঁর সহধর্মীনী মিসেস সেলিনা মোমেন এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতিনিধি সুজানা মালকোরা। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের সদস্য দেশের বিপুল সংখ্যক স্থায়ী প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাদের স্বাগত অভ্যর্থনা জানান বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ.কে আব্দুল মোমেন। অতিথিদের জন্য নৈশভোজের ব্যবস্থা ছিল। স্বাগত বক্তব্যে ড. এ.কে আব্দুল মোমেন ৭১’র শহীদদের স্মরণ করে বলেন, সেদিনের আত্মাহুতি আর বিজয় এই দুই মিলিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। সববেত কন্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনে দেশব্যাপী গনজাগরন কিংবা শাহবাগের প্রজন্ম জাগরন বলে দেয় বাঙালীর জয়যাত্রা অপ্রতিরোধ্য।
দিবসটি পালন উপলক্ষে এর আগে সকাল এগারটায় মিশনের কূটনীতিক এবং কর্মকর্তাদের নিয়ে মিশনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ.কে আব্দুল মোমেন। এতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। রাষ্ট্রপতির বানী পাঠ করেন মিশনের উপস্থায়ী প্রতিনিধি মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বানী পাঠ করেন ইকনোমিক মিনিস্টার বরুন দেব মিত্র এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বানী পাঠ করেন ডিফেন্স এ্যাডভাইজার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম আখতারুজ্জামান।
৪৩তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে “বাংলাদেশ মাচিং টুওয়ার্ডস প্রগ্রেস” নামক একটি পূর্ণাঙ্গ ম্যাগাজিন প্রকাশ : এ বছর দিবসটি পালন উপলক্ষে বাংলাদেশ মিশন বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরে “বাংলাদেশ মাচিং টুওয়ার্ডস প্রগ্রেস” নামক একটি পূর্ণাঙ্গ ম্যাগাজিন প্রকাশ করে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, প্রকাশিত “বাংলাদেশ মাচিং টুওয়ার্ডস প্রগ্রেস” নামক প্রকাশনাটির মূল বিষয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান, বাংলাদেশের এগিয়ে চলা, বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ-সুবিধাদি, প্রতিটি ক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে উন্নয়নের গতি বৃদ্ধি করা, বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের দেশের উন্নয়নে অবদান রাখা, বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও প্রকৃত ইতিহাসকে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা এবং বাংলাদেশ ভ্রমনে দেশের আকর্ষনীয় ট্যুরিজমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার ফলে প্রকাশনাটি একটি সমৃদ্ধ প্রকাশনা হিসেবে সকলের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।
বাংলাদেশের ৪৩তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ মিশনে বিভিন্ন দেশের শুভেচ্ছা বার্তা : বাংলাদেশের ৪৩তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধের কাঙ্খিত লক্ষ্য ‘সোনার বাংলা বিনির্মানে’ দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ প্রচেস্টার জন্য অভিনন্দন জানিয়ে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন জাতিসংঘে বিভিন্ন দেশের স্থায়ী মিশন। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থা বাংলাদেশ মিশনে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছে। শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানো দেশ ও সংস্থা সমূহের মধ্যে রয়েছে – কমনওয়েলথ স্থায়ী মিশন, কম্বোডিয়া মিশন, ওয়ার্ল্ড টুরিজম অর্গানাইজেশন, আর্জেনটাইন রিপাবলিক, স্লোভেনিয়া মিশন, রোমানিয়া মিশন, শ্রীলঙ্কা মিশন, বলিভিয়া মিশন, কানাডা মিশন, সাউথ আফ্রিকা মিশন, ক্রিশ্চিয়ান মিশন, জাম্বিয়া মিশন, লিথুনিয়া মিশন, মাদাগাসকার মিশন, পানামা মিশন, তুর্কি মিশন, সেনেগাল মিশন, পালাউ মিশন, থাইল্যান্ড মিশন, ফ্রান্স মিশন, নাইরো মিশন।
- SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK
- Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
- যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয়
- A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History
- নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং
- Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency
- New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes
