Saturday, 5 September 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে ‘কল সেন্টার’ চালু নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের নয়া কমিটির বর্ণাঢ্য অভিষেক এবং ১৩তম চার্টার বার্ষিকী উদযাপন New York Attorney General James Warns New Yorkers About Student Loan Scams Justice, equality and human rights essential to building a lasting culture of peace: Irene Khan ন্যায়বিচার, সমতা ও মানবাধিকারই টেকসই শান্তির সংস্কৃতি গড়ার ভিত্তি: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে চায় : স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সারাহ নিউইয়র্কে মুসলিম কমিউনিটি ও আহলে সুন্নাতুল জামাতের ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল New York Attorney General James Sues Amazon for Fraudulently Overcharging Advertisers More Than $20 Billion Irene Khan Takes Office as Bangladesh’s Permanent Representative to the United Nations নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আইরিন খান
সব ক্যাটাগরি

নিউইয়র্কে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাইয়ের বাংলা নববর্ষ উদযাপন

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 129 বার

প্রকাশিত: May 19, 2026 | 12:31 AM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : নিউইয়র্কে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন করেছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ইউ.এস.এ। গত ১৬ মে ২০২৬, শনিবার, নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড এর ওয়ান্টাগ পার্কে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে বৈশাখী উৎসব ১৪৩৩।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অ্যালামনাই ও তাদের পরিবারবর্গের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো অনুষ্ঠানস্থল পরিণত হয় এক উৎসবমুখর মিলনমেলায়। বৈশাখী শাড়িতে সজ্জিত নারীদের স্নিগ্ধ ও ছন্দময় পদচারণায় উৎসব প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে রঙিন ও আনন্দময়। গ্রামীণ বাংলার লোকজ হস্তশিল্প ও ঐতিহ্যবাহী উপকরণ দিয়ে সাজানো হয় পুরো উৎসবস্থল, যা প্রবাসে এক টুকরো বাংলার আবহ তৈরি করে।
উৎসবে আগত অংশগ্রহণকারীরা পাঞ্জাবি, শাড়ি ও বৈশাখী পোশাকে সজ্জিত হয়ে নববর্ষের আয়োজনকে আরও রঙিন ও উৎসবমুখর করে তোলেন। দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, দেশীয় খাবারের আয়োজন এবং বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রম। খাবারের আয়োজনে ছিল পান্তা-ইলিশ, নানান ধরনের বাঙালি ভর্তা, পিঠা-পুলি, ফুচকা, চটপটি এবং বিভিন্ন ধরনের মিষ্টান্ন ও দেশীয় মিষ্টি, যা অংশগ্রহণকারীদের মাঝে বিশেষ আগ্রহ ও আনন্দের সৃষ্টি করে।
অধরা ও মিহিরের সাবলীল উপস্থাপনায় বৈশাখের ঐতিহ্যকে ধারণ করে সাজানো এ অনুষ্ঠানে ছিল আবৃত্তি, সংগীত, লোকজ পরিবেশনা এবং নান্দনিক সাংস্কৃতিক আয়োজনের এক মনোমুগ্ধকর সমাহার। মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানের প্রতিটি পর্বে ফুটে ওঠে বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও শেকড়ের আবেগঘন প্রকাশ, যা প্রবাসের পরিবেশেও এক স্বদেশি আবহ তৈরি করে। উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা প্রতিটি পরিবেশনা উপভোগ করেন গভীর মনোযোগ ও আবেগের সাথে, যা পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে উৎসবের পরিবেশকে আরও সুন্দর ও উপভোগ্য করে তোলে।
সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন নিষাদ, শাওন, পাপীমনা, সজল রায় ও তানভীর শাহীন। শিল্পীদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনায় উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা মুগ্ধ হন এবং পুরো উৎসব প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে আরও প্রাণচঞ্চল ও আনন্দমুখর।
অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল অ্যালামনাইদের “টিকাটুলি” গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশনা এবং সালসাবিল আশরাফের কোরিওগ্রাফিতে ফ্ল্যাশ মবের চমৎকার উপস্থাপনা। এই পরিবেশনা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে এবং পুরো আয়োজনে যোগ করে ভিন্নমাত্রার আনন্দ ও উৎসবের আমেজ।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে কর্নফুলি ট্যাক্স সার্ভিসেস ইনক-এর সিইও মোহাম্মদ হাসেম বলেন, এই ধরনের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কার্যক্রমের সাথে তিনি সবসময় সম্পৃক্ত থাকতে আগ্রহী এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজনকে সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এমন উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে বাঙালি পরিচয় ও সংস্কৃতির চর্চা ছড়িয়ে দিতে এসব আয়োজনের ভূমিকা অনস্বীকার্য। অনুষ্ঠানের স্পন্সরা হলেন – কর্নফুলি ট্যাক্স সার্ভিসেস ইনক, টেকস্পার্কস সলিউশনস্, জেক্স এক্স স্টাফিং, প্রোটেক ওয়ার্ল্ড এবং ট্রিবিউন ট্রেনিং একাডেমি।
অনুষ্ঠানস্থল বৈশাখী আবহে সাজিয়ে তোলেন সৈয়দ ইর্তেজা মোঃ মঈনউদ্দিন, আনিকা তাবাসসুম খান, শাহ ফারহান রাব্বানী, ফারাহ নাজ রাশিদ আরেফিন, রেহনুমা ঝলক এবং নাবিলা তুষ্টি। তাদের সৃজনশীল পরিকল্পনা ও নান্দনিক উপস্থাপনায় পুরো প্রাঙ্গণটি রূপ নেয় এক খাঁটি বৈশাখী উৎসবের পরিবেশে।
প্রাঙ্গণজুড়ে ফুটিয়ে তোলা হয় গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্যবাহী উপাদান—রঙিন আলপনা, বাঁশ-বেতের কারুকাজ এবং লোকজ নকশা। প্রবেশপথ থেকে মঞ্চ পর্যন্ত প্রতিটি অংশেই ছিল বৈশাখের প্রাণচাঞ্চল্য ও লোকজ সংস্কৃতির ছোঁয়া।
রঙিন সাজসজ্জা, আলো-সজ্জা ও শৈল্পিক বিন্যাসের মাধ্যমে পুরো আয়োজনটি হয়ে ওঠে প্রবাসে এক টুকরো বাংলার প্রতিচ্ছবি। এতে অংশগ্রহণকারী দর্শনার্থীরা যেন নিজ দেশের শেকড়ের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হওয়ার অনুভূতি পান।
পুরো আয়োজনটি সুষ্ঠু ও নান্দনিকভাবে সমন্বয় করেন জুলহাস ইউ আহমেদ, তামজিদ আহমেদ, আফজাল চৌধুরী ইমন, নিয়ামুল আরেফিন এবং শিহাবউদ্দিন চৌধুরী। তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও পরিকল্পনায় অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত সুসংগঠিত ও সফল। অনুষ্ঠানে আয়োজকরা উপস্থিত সকল অতিথি, অংশগ্রহণকারী ও স্বেচ্ছাসেবকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি আগামীতে আরও বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ভবিষ্যৎ অনুষ্ঠানের ঘোষণাও দেন তারা।
অনুষ্ঠানে ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফির দায়িত্বে ছিলেন তামিম ঢালী। তার আন্তরিক প্রচেষ্টায় পুরো আয়োজনের বিশেষ মুহূর্তগুলো সুন্দরভাবে ক্যামেরায় ধারণ করা হয়। এছাড়া সাউন্ড সিস্টেমের দায়িত্বে ছিলেন তানভীর শাহীন। তার দক্ষ ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠানের প্রতিটি পরিবেশনা হয়ে ওঠে আরও আকর্ষণীয় ও উপভোগ্য।
উল্লেখ্য, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এই সংগঠন ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অ্যালামনাইদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা ও পেশাগত নেটওয়ার্কিংয়ের এক সুদৃঢ়, সুসংগঠিত ও অর্থবহ বন্ধন গড়ে তুলেছে।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
সর্বশেষ সংবাদ