নিউইয়র্কে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে জবাই করে হত্যা, হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশী ভাড়াটে গ্রেপ্তার
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম :: নিউইয়র্কে বাংলাদেশী অধ্যষিত ব্রুকলিনে মহি উদ্দিন মাহমুদ দুলাল নামে এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের বাংলাদেশি ভাড়াটে রাসেল সিদ্দিকী (৩২) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার রাসেল সিদ্দিকী
হত্যাকান্ডের ৩২ ঘণ্টার মধ্যে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দর থেকে রাসেল সিদ্দিকীকে নগদ ২৪ হাজার ডলার সহ গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ধারনা, রাসেল অর্থের লোভে দুলালকে খুন করে সে অর্থ হাতিয়ে দেশে পালাতে চেয়েছিল। পুলিশ তার সে চেষ্টা ব্যর্থ করে তাকে ধরে ফেলে। রাসেলের কাছে নগদ পাওয়া ২৪ হাজার ডলার দুলালকে খুনের পর রাসেল লুট করেছিলেন বলে পুলিশের ধারনা।
পুলিশ সুত্র জানায়, সোমবার রাতে ব্রুকলিনের ৫৪৬ ম্যাকডোনাল্ড এভিনিউর নিজ বাসভবনের বেসমেন্ট থেকে ৫৭ বছর বয়সী মহি উদ্দিন মাহমুদ দুলালের গলা কাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। তার গায়ে আরো ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। দুলালের বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে। দুলালের লাশ পুলিশ পাহারায় সিটি মেডিক্যাল এক্সামিনারের দপ্তরে নেয়া হয়েছে।
ব্রুকলিনে বাংলাদেশিদের পরিচিত মুখ দুলালের নামাজে জানাজা স্থানীয় সময় ১০ জানুয়ারি শুক্রবার ম্যাকডোনাল্ড এভিনিউতে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তার লাশ দাফনের জন্যে সন্দ্বীপের নিজ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হবে।
দুলালের বাড়ির বেসমেন্টেই ভাড়া থাকতেন গ্রেফতার হওয়া নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের রাসেল সিদ্দিকী। জানা যায়, ঘটনার পর পরই পুলিশ ফোন কল পেয়ে দুলালের বাড়ির সামনে গিয়ে ছিলো। আর ওই বাড়ির সামনেই রাসেলকে পেয়ে পুলিশ কল করার কারণ জানতে চায়। এসময় কেউ কল করেনি বলে রাসেল পুলিশকে ফেরত পাঠিয়ে সে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। তখন থেকে তার কোনো সন্ধান মিলছিল না। ধারণা করা হয়, হত্যাকান্ডের সময় ঘাতকের হাত থেকে বাঁচার জন্য দুলাল নিজ ফোন থেকেই হয়তো পুলিশকে কল করেছিলো।
দুলালের ছোট ভাই ওই এলাকার বাসিন্দা হানিফ মাহমুদ আকবর জানান, ওইদিন রাত ১২টায় খবর পেয়েই গিয়ে বেসমেন্টের সিঁড়ির গোড়ায় দুলালের লাশ দেখতে পান তিনি। এরপর পুলিশ এসে সব সিল করে দেয়।
ওই হত্যাকান্ডের পর আকবর বলেছিলেন, রাসেলের সন্ধান পাওয়া গেলেই খুনের আসল রহস্য জানা যাবে।
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের রহমতপুরের কারগিল গভর্নমেন্ট হাই স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো: হোসেনের বড় ছেলে দুলাল ১৯৯২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। স্ত্রী এবং ৩ সন্তান নিয়ে তিনি বসবাস করছিলেন নিউইয়র্কে। দুলালের বড় ছেলে জিতু থাকেন লংআইল্যান্ডে। তিনি একটি ডানকিন ডোনাটের ম্যানেজার। অন্য দুই ছেলে হামিদ ও কুতুবউদ্দিন এখনো পড়াশোনা করছে।
দুলাল বাড়ির নিচ তলায় দিয়েছিলেন গহনার দোকান। দেড় বছর আগে দোকান তুলে দিয়ে তা ভাড়া দেন ‘পিপল এন টেক’ নামে একটি কম্পিউটার সফটওয়্যার টেস্টিং ট্রেইনিং ইনস্টিটিউটককে। আর এই ইনস্টিটিটিউট দিয়ে যাওয়ার পথ রয়েছে এমন বেসমেন্টে স্থাপন করেছিলেন ‘চেক-ক্যাশ’ করার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সেখানেই ঘাতকের হাতে নির্মমভাবে খুন হলেন দুলাল।
‘পিপল এন টেক’র কর্ণধার প্রকৌশলী আবু হানিপ জানান, ঘটনার দিন রাত ৮টা নাগাদ তাদের লোকজন ছিল সেখানে। তিনি দুঃসংবাদটি শোনার পর থেকে এখনো স্বাভাবিক ভাবে কাজ করতে পারছেন না বলে জানান। তিনি জানান, প্রায় বছরখানেক ধরে দুলালের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে রয়েছেন তিনি। দুলালকে ‘ভালো লোক’ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন ঘটনাটি মর্মান্তিক, হৃদয় বিদারক। আবু হানিফ জানান, মহিউদ্দিন মাহমুদ দুলালের এক ছেলে তার এই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষিণ নিয়েছেন। আবু হানিফ বলেন, তার ইনস্টিটিটিউটে সার্ভিলেন্স ক্যামেরা রয়েছে। সুতরাং হত্যাকান্ডের তথ্য হয়ত সেখান থেকে পাওয়া যেতে পারে। তবে বেসমেন্টে ঢোকার আরেকটি দরজাও রয়েছে। ঘটনার পর পিপল এন টেকের ব্যবস্থাপক মিসবাহকে পুলিশ স্টেশনে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই স্থানটি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতায় থাকায় খুনি হিসেবে রাসেলকে সনাক্ত করা গেছে। এই হত্যাকান্ডে রাসেলের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, পুলিশ তাও খতিয়ে দেখছে।
এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় ব্রুকলিনে বাংলাদেশীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ হৃদয় বিদারক ঘটনা মেনে নিতে পারছেনা তার পরিবার। তাদের আহাজারিতে আকাশ ভারী হয়ে ওঠছে।
এ হত্যাকা-ের পর উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে প্রবাসীরা। দুলাল হত্যাকান্ডের খবর শুনে প্রচন্ড শীতের মধ্যে গভীর রাতেই সেখানে জড়ো হন প্রবাসীরা। এর মধ্যে ছিলেন চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি কাজী আজম, সন্দ্বীপ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি এন আমিন, নিউইয়র্ক ব্রুকলীন আওয়ামীলীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম নজরুল, সন্দ্বীপ সোসাইটি ও নিউইয়র্ক সিটি বিএনপির সভাপতি মাহফুজ মাওলা নান্নু, সন্দ্বীপ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুজিবুল মাওলা এবং সেক্রেটারী মহিউদ্দিন হাসান, সিএমবিবিএর সাবেক সভাপতি আব্দুর রব চৌধুরী, সাবেক সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম পাটোয়ারি, বর্তমান সভাপতি ফখরুল হক এবং সেক্রেটারি এল আলী, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগের সভাপতি আবদুল কাদের মিয়া, ব্রুকলীন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম প্রমুখ। তারা এসময় নিহতের পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান। দুলালের হত্যাকান্ডের বিষয়ে পুলিশকে সহায়তার জন্যও তারা সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
- যুক্তরাষ্ট্রে ঈদুল ফিতর ২০ মার্চ শুক্রবার
- নারীর ক্ষমতায়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ : ড. খলিলুর রহমান
- নিইউয়র্কে টাইমস স্কয়ারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় যোগ দিচ্ছেন ম্যানহাটান বরো প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড হোয়েলম্যান
- নিউইয়র্কে স্ট্রিট ভেন্ডরদের জন্য নতুন আইন কার্যকর; জেল শাস্তি বাতিল, আরোপ করা হবে জরিমানা
- New York Attorney General James Leads Bipartisan Coalition Suing Predatory Lender OneMain for Scheme to Trap Consumers in Debt
- নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট হাউসে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন ২৩ মার্চ : আহ্বায়ক কমিটি গঠন
- বাংলাদেশে আওয়ামীলীগসহ সকল রাজনৈতিক দলের স্বাভাবিক রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টি করার দাবি নিউজার্সি স্টেট আওয়ামী লীগের
- নিউইয়র্কে ‘অল কাউন্টি হেলথকেয়ার গ্রুপ’র বার্ষিক ইন্টারফেইথ ইফতার পার্টি








