Thursday, 19 March 2026 |
শিরোনাম
যুক্তরাষ্ট্রে ঈদুল ফিতর ২০ মার্চ শুক্রবার নারীর ক্ষমতায়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ : ড. খলিলুর রহমান নিইউয়র্কে টাইমস স্কয়ারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় যোগ দিচ্ছেন ম্যানহাটান বরো প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড হোয়েলম্যান নিউইয়র্কে স্ট্রিট ভেন্ডরদের জন্য নতুন আইন কার্যকর; জেল শাস্তি বাতিল, আরোপ করা হবে জরিমানা New York Attorney General James Leads Bipartisan Coalition Suing Predatory Lender OneMain for Scheme to Trap Consumers in Debt নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট হাউসে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন ২৩ মার্চ : আহ্বায়ক কমিটি গঠন বাংলাদেশে আওয়ামীলীগসহ সকল রাজনৈতিক দলের স্বাভাবিক রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টি করার দাবি নিউজার্সি স্টেট আওয়ামী লীগের নিউইয়র্কে ‘অল কাউন্টি হেলথকেয়ার গ্রুপ’র বার্ষিক ইন্টারফেইথ ইফতার পার্টি HUSBAND CHARGED WITH MURDER AND DISMEMBERMENT OF WIFE WHOSE REMAINS WERE FOUND IN SEPARATE LOCATIONS ALONG BROOKVILLE BLVD AND CROSS BAY BLVD নিউইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসের গ্রাফিক্স ওয়ার্ল্ডে মাসব্যাপী ইফতার আয়োজন
সব ক্যাটাগরি

নিউইয়র্কে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে মামুন’স টিউটোরিয়াল

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 74 বার

প্রকাশিত: November 1, 2013 | 6:22 PM

ইউএসএনিউজ অনলাইন.কম : নিউইয়র্কে বাঙালী অধ্যুষিত ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টার নানা কারণে এখন প্রবাসীদের মুখে মুখে। ইতোমধ্যে এলাকাটি বাংলাদেশীদের নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন আবাস ও বাণিজ্যিক স্থল হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। প্রতিনিয়তই বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশীরা এই এলাকায় বসতি গড়ে তুলছেন। সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা, তুলনামূলক কম ভাড়ার বাসস্থান, সুলভ মূল্যে কন্ডোনিয়ামে অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সুযোগ, ছেলে-মেয়েদের শিক্ষার সুব্যবস্থা, নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন আবাসস্থল, বাণিজ্যিক কেন্দ্র সব মিলিয়ে দিন দিন এ এলাকা আকর্ষণীয় হয়ে ওঠছে বাংলাদেশীদের কাছে। এখানে ইতোমধ্যেই গড়ে ওঠেছে সুন্দর বাংলাদেশ কমিউনিটি। বাঙালী মালিকানাধীনে গড়ে ওঠেছে মসজিদ, বাংলা স্কুল, টিউটরিয়াল সেন্টার, গ্রোসারি, বস্ত্র বিপণি, অডিও-ভিডিও স্টোর, ফিশমার্কেট, ফার্মেসি, সেলুনসহ নানা প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশী এ বাণিজ্যিক এলাকাকে স্বীকৃতি দিয়ে সিটি কাউন্সিল ইতোমধ্যে স্টার্লিং এভিনিউয়ের একটি অংশের নামকরণ করেছে বাংলাবাজার। বিশ্বের রাজধানী খ্যাত নিউইয়র্কের মাটিতে এ বাংলাবাজার নামকরণের মধ্য দিয়ে অন্যান্য কমিউনিটির কাছে বাংলাদেশীদের মর্যাদার এক অন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে। এ অবস্থানকে আরো সুসংহত করার জন্য প্রয়োজন আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত নতুন প্রজন্ম। এ লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে মামুন’স টিউটোরিয়াল। পার্কচেষ্টার তথা গোটা ব্রঙ্কসে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে এ মামুন’স টিউটোরিয়াল। বাংলাদেশীদেশী কমিউনিটিতে আলোর দ্যূতি ছড়িয়ে তড় তড় করে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে কমিউনিটিকে। একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান হিসেবে মামুন’স টিউটোরিয়ালের সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে ব্রঙ্কসের পার্কচেষ্টার ছাড়িয়ে অন্যান্য শহরেও। বাংলাদেশী কমিউনিটির পাশাপশি অন্যান্য কমিউনিটির কাছেও সমান জনপ্রিয় এ মামুন’স টিউটরিয়ালস। উচ্চতর শিক্ষা প্রদানে মামুন’স টিউটোরিয়ালের ভুমিকার প্রশংসা মিডিয়াতেও এসেছে ফলাও করে। জানা যায়, মামুন’স টিউটরিয়ালস এর আকর্ষণেও অনেকে ব্রঙ্কসে বসতিও গড়ছেন।

নিউইয়র্কে টালিশেড হাইস্কুল ও ব্রঙ্কস কমিউনিটি কলেজে ম্যাথ শিক্ষক হিসেবে কর্মরত বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ শেখ আল মামুনের স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান এই মামুন’স টিউটরিয়াল। যশোরের নড়াইলের ছেলে শেখ আল মামুন খুলনা বিএল কলেজ থেকে এইচ এসসি পাশ করে ১৯৯৬ সালে আমেরিকায় আসেন পড়াশুনার উদ্দেশ্যে। ভর্তি হন ব্রুকলীন কলেজে। নিউইয়র্কের বারুক কলেজ থেকে বিবিএ এবং লিম্যান কলেজ থেকে ম্যাথ এডুকেশন ও পিওর ম্যাথে ডাবল মাস্টার্স করেন। কম্প্যুটার এনালিস্ট হিসাবে কাজ করে ব্রঙ্কসের লিম্যান কলেজে চিটিং ফেলো হিসেবে যোগ দেন। স্টেটের সার্টিফায়েড ম্যাথ টিচার হিসেবে অনুমোদন পান। ২০০৪ সালে ব্রঙ্কসের রুজভেল্ট হাইস্কুলে শিক্ষকতায় যোগ দেন। লিম্যান কলেজ থেকে পিউর ম্যাথে এমএসসি করে ব্রঙ্কস কম্যুনিটি কলেজে ফুলটাইম ম্যাথ টিচার হিসাবে যোগ দেন। কলেজ ও স্কুলে একই সাথে শিক্ষকতার পাশাপাশি মামুন’স টিউটোরিয়ালটি গড়ে তোলেন।
শেখ আল মামুন জানান, প্রথমে খুব ছোট করে শুরু করেছিলেন এই মামুন টিউটরিয়াল। ২০১০ সালের মে মাসে যাত্রা শুরু ৪০-৪৫ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে। আজ যাওয়া-আসার মধ্য দিয়ে গড়ে দু’শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী পড়ছে মামুন’স টিউটোরিয়ালে। এ টিউটোরিয়ালে এস এটি, রিজেন্টস সহ অন্যান্য জরুরী বিষয়ে পড়াশুনার কোর্সও রয়েছে। স্পেশালাইজড হাই স্কুলে ভর্তির পাশাপাশি অনেকের হোমওয়ার্কে সহায়তা দিচ্ছে মামুন’স টিউটোরিয়াল। সিটির বিভিন্ন স্কুলের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকরা এখানে ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান করে থাকেন। শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন আমেরিকান স্কুল ও কলেজের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরাও। প্রিন্সিপাল শেখ আল মামুন নিজেই তত্ত্বাবধান করেন প্রতিটি ক্লাসের, পাশাপাশি নিজেও নেন ক্লাস।
প্রিন্সিপাল শেখ আল মামুন বলেন, অল্প দিনেই এলাকার অভিভাবকদের কাছে যে সাড়া পেয়েছি তাতে আমি অভিভূত। ছাত্র-ছাত্রীদের স্থান সঙ্কুলান না হওয়ায় এখন মামুন টিউটরিয়ালের কলেবর বৃদ্ধি করতে হয়েছে। মামুন’স টিউটোরিয়ালের শাখা বিভিন্ন স্থানে চালুরও দাবি ওঠেছে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে আমার এই প্রতিষ্ঠান থেকে কাচিং শেষ করে অনেক ছেলে-মেয়ে সিটির স্পেশালাইজড হাইস্কুলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। শ শ ছাত্র-ছাত্রী এসএটিতে ভালো স্কোর করে টপ টিয়ারের কলেজে ভর্তি হয়েছে। শ শ ছাত্র-ছাত্রী ক্লাসে ভালো গ্রেড পেয়ে মা-বাবার মুখ উজ্জ্বল করেছে।আর এটা অভিভাবকদের জন্য যেমন আনন্দের তেমনি আমার জন্যও গৌরবের বলে আমি মনে করি।
মামুন বলেন, আমার এখানে যে মানের টিউটরিয়াল করা হয় ঠিক একই মানের বিদেশী টিউটরিয়ালের চেয়ে ফি অনেক কম। ক্ষেত্রবিশেষে ডিসকাউন্টের রেওয়াজও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে। যে অভিভাবকদের ইনকাম কম অথচ সন্তান সম্ভাবনাময় এসব ক্ষেত্রে আমরা টিউশন ফি বিবেচনা করি না। সহায়তার চেষ্টা করে থাকি।
শেখ আল মামুন বলেন, নিত্য নতুন বাংলাদেশীরা ইমিগ্র্যান্ট হয়ে আসছেন এদেশে। এদের সন্তানসন্ততি ভিন দেশের ভিন্ন পরিবেশে নতুন কারিকুলাম বিশেষ করে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়া-শোনা শুরু করতে গিয়ে সমস্যার মুখোমুখি হয়। হোমওয়ার্ক ঠিকমত করতে পারে না। বিভিন্ন বিষয় বুঝতে অসুবিধা হয়। আমার প্রতিষ্ঠানে দক্ষ ও অভিক্ষ শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে ও আন্তরিক মমত্ববোধ নিয়ে তাদের টিউটোরিং করে সে সব সমস্যার সমাধান দিতে চেষ্টা করি। ছেলে-মেয়েরা যে বিষয়ে আটকে যায় তাদের কোচিং দিয়ে ট্র্র্যাকে তুলে দেওয়া হয়। এছাড়াও এখানে ছাত্র-ছাত্রীদের রিজেন্টস, সিটি ওয়াইড টেস্ট, এসএটি, পিএসএটি ছাড়াও স্পেশালাইজড স্কুলে ভর্তি পরিক্ষার জন্য প্রস্তুতিমূলক ক্লাস নেয়া হয়।
তিনি বলেন, আমি হাইস্কুলে ও কলেজে যা পড়াই, টিউটোরিয়ালেও একই বিষয়ে পড়াই। সে কারণে আমাকে বিশেষ কষ্ট করতে হয় না। ছেলে-মেয়েদেও পড়ানোর মধ্যেই আনন্দ খুঁজে পাই।
তিনি বলেন, ম্যাথই সবকিছূর মুলে। প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীর ম্যাথে যদি ধারণা খুব স্বচ্ছ হয়। তাহলে তাকে আটকে রাখা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, আমি নিজে ইমিগ্র্যান্ট। অনেক কষ্ট করে এই জায়গায় পৌঁছেছি। আমি চাই, আমাদের নতুন প্রজন্ম শিক্ষার ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করুক। এর জন্য প্রয়োজন বিশেষ প্রশিক্ষণ। আমরা সেই কাজটি করি। তিনি বলেন, একটি ছাত্র ভালো স্কুলে ভর্তি হলে তার জন্য স্কলারশীপ সহ ভালো কলেজে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়, ভালো কলেজে গেলে ভালো চাকরী পাওয়ায় সুযোগ সৃষ্টি হয়। এই কথাটি প্রতিটি অভিভাবককের মনে রাখা উচিত।
শেখ মামুন বলেন, আমাদের অভিভাবকরা অত্যন্ত সচেতন। তারা তাদের সন্তানদের লেখাপড়া নিয়ে খুবই সিরিয়াস। তবে যারা বাংলাদেশ থেকে নতুন এসেছেন, তারা এদেশের স্কুলে বা কলেজে পড়া-শুনার যে ধারা ও পদ্ধতি সে বিষয়ে অবহিত নন। তাদের আমি সবসময় মোটিভেট করার চেষ্টা করি। তিনি বলেন, আমাদের প্যারেন্টরা অত্যন্ত হার্ডওয়ার্কিং। দীর্ঘ সময় কাজ করেন। সে কারণে তাদের অনেকের পক্ষে স্কুলে প্যারেন্টস-টিচার মিটিংএ যাওযা সম্ভব হয় না। তিনি বলেন, এইসব মিটিংএ যোগদানের গুরুত্ব বোঝানো ছাড়াও আমি তাদের বোঝাতে চেষ্টা করি ছেলে-মেয়েদের কোন বিষয়ে মেজর নিয়ে পড়লে তারা ভালো কাজ পাবে।
শেখ আল মামুন বলেন, পার্কচেষ্টারে বাংলাদেশীরা যে গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরাও একদিন এই এলাকায় বসবাসরত তাদের বাবা-মার মুখ আরো উজ্জ্বল করবে।
ছেলে-মেয়েদের পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে তার পরামর্শ, নিয়মিত পড়া-শোনা, হোমওয়ার্ক করার পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে। ছেলে-মেয়েদের দিকে নজরদারি বাড়াতে হবে। অভিভাবকদের খেয়াল করতে হবে ছেলে-মেয়েরা যেন সময়মতো হোমওয়ার্ক শেষ করে। সন্তানরা কার সাথে মেলামেশা করে বা ফ্রেন্ডস সার্কেলের খোঁজ-খবর রাখতে হবে।
মামুন বলেন, আমি চাই আমাদের ছেলে-মেয়েরা অনেক ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পাক। সেজন্য তাদের যে ধরনের সহায়তার প্রয়োজন তা আমি করবো। তারা নিজে আলোকিত হবে, হয়ে উঠবে আলোকিত বাংলাদেশী আমেরিকানÑ এটাই আমার স্বপ্ন। এর মাধ্যমে সমাজ, রাষ্ট্রের কাছে আমার যে ঋন, যে দায়বদ্ধতা তার কিছুটা হলেও পরিশোধ করতে পারবো বলে আমি মনে করি।
শেখ মামুনের স্ত্রী ডা. নাহিদ খান। তাদের দুই পুত্র। শেখ আল মামুনের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে তার পাশাপাশি কাজ করে যাচ্ছেন তার সহধর্মিণী ডা. নাহিদ খান। তারা মামুন টিউটরিয়ালকে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান রূপে নয়, দেখতে চান একটি সত্যিকার ছাত্র-ছাত্রী সহায়ক কেন্দ্র হিসাবে। আর সে লক্ষ্যকে সামনে নিয়েই সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তারা।
অভিভাবকরা মামুন’স টিউটোরিয়ালের প্রশংসা করে বলেন, আমেরিকান স্বপ্ন পূরণে এ প্রতিষ্ঠানের ভুমিকা অনস্বীকার্য। তারা বলেন, এলাকার ছেলে-মেয়েদের জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত করে তুলতে প্রদীপ হাতে এগিয়ে চলছে প্রতিষ্ঠানটি। এ আলোয় উদ্ভাসিত হচ্ছে প্রবাসে নতুন প্রজন্ম। যারা হবে প্রবাসে বাংলাদেশী আমেরিকানদের আগামী দিনের গৌরব। শিক্ষানুরাগী শেখ আল মামুন যে আলোকবর্তিকা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন সেই আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে ওঠছে প্রবাসে জন্ম নেয়া ও বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্ম।

ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV