নিউইয়র্কের বাফেলো সিটির পরিবর্তন ঘটাচ্ছে বাংলাদেশি অভিবাসীরা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি শহর বাফেলো সিটি। শহরটি ছিল মাদক বিক্রেতা ও বিভিন্ন রকম অপরাধের আখড়া। কিন্তু বাংলাদেশি অভিবাসীরা সেই অবস্থার পরিবর্তন করে ফেলেছেন।
সস্তায় বাড়ির আশায় নিউইয়র্কে থাকা বাংলাদেশি অভিবাসীরা বাফেলো সিটির ওল্টজ, লোপের ও গিবসন স্ট্রিটে আসছেন। সবার অজান্তেই এই জায়গা পরিবর্তন করে ফেলছেন বাংলাদেশিরা। এক দশক আগেও এখানে অভিবাসীরা আসা শুরু করলেও গত এক দশকে সেটা স্রোতে পরিণত হয়েছে।
কতজন বাংলাদেশি এই এলাকায় স্থানান্তরিত হয়েছেন সেটার নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় আদমশুমারির তথ্যানুযায়ী এখানে বাংলাদেশির সংখ্যা ৩১৬, কিন্তু প্রকৃত সংখ্যা তার থেকে অনেক বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুধুমাত্র লিবার্টি ইয়েলো ক্যাবের চালকের সংখ্যা ৩৬৭ জন। একজন স্থানীয় কমিউনিটি লিডার জানিয়েছেন, এখানে ১০০০-১৫০০ বাংলাদেশি পরিবার বাস করছে।
বাংলাদেশিদের আগমনে বিভিন্ন সূচকের উন্নতি হয়েছে। সম্পত্তির দাম বাড়ছে, অপরাধের সংখ্যা কমছে। বিভিন্ন রিটেল শপ খুলছে। আমেরিকায় প্রায় ২ লক্ষ ৮০ হাজার বাংলাদেশি রয়েছে যাদের ৭০ হাজার নিউইয়র্কে বসবাস করে। কিন্তু নিউইয়র্কে থাকা অনেক বেশি ব্যয়বহুল । সেখানে বাংলাদেশি অভিবাসীদের প্রতি তিনজনের একজন দারিদ্রসীমার নিচে বাস করে। নিউইয়র্কের এশিয়ান আমেরিকান ফেডারেশনের করা এক জরিপে দেখা যায় দুই বেডরুমের একটা বাসাই বাংলাদেশি পরিবারের জন্য স্বপ্ন। পরিবারে বাবা বেশির ভাগ সময় অনুপস্থিত থাকে। দীর্ঘসময় ট্যাক্সি চালাচ্ছেন অথবা নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন, অথবা দুটোই।
শুধু তাই নয় দারিদ্র সীমার উপরে বাস করা বাংলাদেশিদের জন্যও নিউইয়র্কে বাস করা কঠিন। নিউইয়র্কের কুইন্সে নিজের দুটি বাড়ি বিক্রি করে বাফেলোতে চলে আসা মজিব রহমান বলেন, আমার বাড়ির বন্ধকী মূল্য পরিশোধ করার জন্য আমাকে দিন রাত দুটি চাকরি করতে হতো। এটা অনেক কঠিন ছিল, এবং আমার পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর কোনো সুযোগ ছিল না।
নিউইয়র্কের ব্রোংক্স থেকে নাজমাল ভুইয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে সবার আগে এসেছিলেন। এক দশক আগে তার এক বন্ধুর মাধ্যমে খবর পেয়ে এসেছিলেন যে এখানে মাত্র ১০০০ ডলারে বাড়ি পাওয়া যায়। পরের দিনই এখানে নিলামে ওল্টজ এভিনিউয়ে মাত্র ৪৫০০ ডলারে একটি বাড়ি কিনে ফেলেন। শূন্য ভগ্নদশার বাড়িটি কেনার পরে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। এটা ছিল একটা স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো। আমি নিউইয়র্কে গিয়ে আমার পরিবার ও বন্ধুদের বাফেলোর কথা বলি।
পাঁচ হাজার ডলারের মধ্যে বাড়ি পাওয়ার প্রতিশ্রুতিতে সবাই নাজমালকে অনুসরণ শুরু করেন। একদশক পরে সেখানে জায়গার দাম বেড়েছে পাঁচগুণ। ২০০৯ সালে এখানে ৮২৬ টি প্রোপার্টি বিক্রি হয়েছিল ৪.৬ মিলিয়ন ডলারে। পাঁচবছর পরে সেখানে ৮০৮ টি প্রোপার্টি বিক্রি হয়েছে ৯.২ মিলিয়ন ডলারে!
নতুন আবাসন সৃষ্টির সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি হয়েছে। হালাল মার্কেট, রেস্টুরেন্ট,স্কুল তৈরি হচ্ছে। বেশিরভাগেরই মালিক নতুন আসা বাংলাদেশিরা। এছাড়া অপরাধের সংখ্যা কমেছে। বাফেলো সিটির রাস্তায় যেখানে অপরাধের সংখ্যা ছিল ৭০ শতাংশ, সেটা কমে এখন ৩০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ইত্তেফাক
সর্বশেষ সংবাদ
- নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান
- জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর
- নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত
- নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ
- New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners
- এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ
- নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া