Saturday, 31 October 2026 |
শিরোনাম
শান্তি প্রতিষ্ঠায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সব পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ জরুরি: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির প্রচার সম্পাদক রিজুর পিতার ইন্তেকাল যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারি ফের স্থগিত, নিম্ন আদালতের আদেশে আপিল আদালতের বাধা যুক্তরাষ্ট্রে ডেলাইট সেভিং টাইমের অবসান, ১ নভেম্বর ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছাবে নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্‌যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো
সব ক্যাটাগরি

নিউইয়র্কের মহামায়া মন্দিরে পৌষ সংক্রান্তি ও পিঠা উৎসবের বর্ণাঢ্য আয়োজন

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 144 বার

প্রকাশিত: January 16, 2017 | 6:00 AM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্কঃ পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে নিউইয়র্কের জ্যামাইকাস্থ মহামায়া মন্দিরে গত শনিবার ১৪ ই জানুয়ারী অনুষ্ঠিত হয় এক বর্ণাঢ্য পিঠা উৎসব ও পল্লী গানের অনুষ্ঠান। শুভ সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে নানা রঙের বৈদ্যুতিক বাতিতে আলো-ঝলমল সাজানো হয়েছিল মন্দির প্রাঙ্গন। এই উপলক্ষ্যে দুপুরে প্রনবেন্দু চক্রবর্তীর পৌরোহিত্যে এবং ডাঃ অশোক সাহার কীর্তনের মাধ্যমে মহাভোগ নিবেদন করা হয়।

অতঃপর সন্ধ্যার শুরু থেকেই নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকা থেকে মন্দিরের শ্রীঅঙ্গনে অতিথিরা সমবেত হতে থাকেন। অনেক মায়েরা নিজেদের বাড়িতে পিঠা ও আনুষঙ্গিক সামগ্রী তৈরি করে সুশোভিত পাত্রে বা ট্রেতে করে উৎসবের জন্য নিয়ে আসেন। শুভ সংক্রান্তির অনুষ্ঠানের প্রারম্ভেই গোবিন্দ দাস এর পরিচালনায় শুরু হয় সন্ধ্যা আরতি, শ্রীমদ্ভাগবত গীতাধ্যয়ন ও সমবেত কীর্তন। এতে অংশ নেন মৌসুমী চক্রবর্তী, শুক্লা চৌধুরী, আল্পনা লিটন চৌধুরী, গৌর বিশ্বাস ও সহদেব তালুকদার। গীতা পাঠ করেন প্রদীপ ভট্টাচার্য ও সন্ধারতি নিবেদন করেন প্রনব চক্রবর্তী। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুরুতে পূজা, শ্রীনি সাহা, আরও কয়কেজন শিশু কিশোর নৃত্য পরিবেশন করেন । অতঃপর প্রবাসের বিভিন্ন শিল্পীদের সুললিত কণ্ঠে পল্লীগীতি, পিঠা-পুলি নিয়ে গাওয়া বিভিন্ন আঞ্চলিক বা লোকজ সঙ্গীত পরিবেশন উপস্থিত সকলকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে। একের পর এক চলতে থাকে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গান । এতে অংশগ্রহন করে তপতী দে, রুপালী ঘোষ, মৌসুমি চক্রবর্তী, জবা চৌধুরী, শুক্লা চৌধুরী, সহদেব তালুকদার ও রাধিকা ঘোষ। এরপর শুরু হয় পিঠা পুলি আস্বাদন। মন্দির পরিবারের সদস্যরা এবং অতিথিদের অনেকেই সর্ব সাকুল্যে কমপক্ষে পঁচিশ রকমের পিঠার আয়জন করেন। অতিথিরা পরস্পরের সাথে বাঙ্গালী সংস্কৃতি ও আমাদের আবহমান ঐতিহ্যকে নিয়ে প্রান ভরে পরস্পরের সাথে খোশ গল্পে মেতে উঠেন এবং একই সাথে পিঠা ও খিচুরি আস্বাদন করেন। এই পিঠা উৎসবে বাড়তি আমেজ এনে দেয় মেঘলা আকাশ আর সন্ধ্যায় এক পশলা তুষারপাত। বাইরের রাস্তায় কিংবা গাছে গাছে কালো রাতকে ছাপিয়ে শ্বেত-শুভ্র বরফ প্রত্যেকের হৃদয়ে জাগিয়েছিল পৌষ সংক্রান্তির আনন্দের অনিন্দ উদ্বেলতা। আমেরিকায় জন্ম হওয়া ও বেড়ে উঠা বাঙ্গালী প্রজন্মও মহামায়া মন্দিরে প্রবাসের পিঠা উৎসবের বিরল আয়োজন থেকে বাদ পড়েনি। রং বেরং এর সুন্দর সুন্দর জামা-কাপড় পড়ে বন্ধুদের নিয়ে পিঠা খাওয়া, খোশ-গল্প, খেলা-ধুলায় তাদেরও ছিল সরব ও প্রাঞ্জল অংশগ্রহন। পিঠা উৎসবের আনন্দ সম্ভারের পরিচালনা ও সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন মহামায়া মন্দির স্কুলের পরিচালক জয়ন্তী ভট্টাচার্য এবং সহযোগিতায় ছিলেন ময়ূরী ভট্টাচার্য।

এদিনটি ছিল আমেরিকান বাঙ্গালী হিন্দু ফাউন্ডেশন (মহামায়া মন্দির) এর বার্ষিক সাধারন সভারও দিন। সমবেত ভক্ত ও সদস্য/ সদস্যাদের উদ্দেশ্যে পৌষ সংক্রান্তির শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করে বক্তব্য রাখেন আমেরিকান বাঙ্গালী হিন্দু ফাউন্ডেশন এর প্রেসিডেন্ট শ্যামল চক্রবর্তী ও জেনারেল সেক্রেটারি প্রদীপ দাস। তারা সদস্যদের কাছে মন্দিরের সাংগঠনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং প্রতিষ্ঠানকে আরও অগ্রগামী ও সফল করে তোলার জন্য সকলের পরামর্শ ও সহযোগিতার আহবান জানান। সেই সাথে ডাঃ অশোক সাহার সভাপতিত্বে ও ডঃ দিলীপ নাথ এর পরিচালনায় সকালে অনুষ্ঠিত বোর্ড অফ ট্রাস্টির সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই জানুয়ারী মাসেই মন্দিরের জন্য ব্যাংক থেকে নেয়া সকল মর্গেজ পরিশোধ করার ঘোষণা দেওয়া হয়। বোর্ড অফ ট্রাস্টির সভায় অনুমোদিত একজন নতুন ট্রাস্টি মেম্বার হিসাবে অমর চন্দ্র দাসকে সকলের মাঝে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। বাবু অমর চন্দ্র দাস তার বক্তব্যে বলেন, আজকের দিনটি একটি শুভ পার্বণ দিন এবং আমাদের প্রানপ্রিয় মহামায়া মন্দিরে ধর্ম ও ভাগবতিয় জ্ঞান চর্চার পাশাপাশি আমরা আমাদের ঐতিহ্যের ধারন ও সংস্কৃতিকেও লালন করছি। একজন ট্রাস্টি হিসাবে কাজ করার এই সুযোগ ও সম্মান পেয়ে আমি নিতান্তই গৌরব বোধ করছি এবং প্রত্যাশা করি আপনারা সকলেই মন্দিরের প্রতি আপনাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন। এই পর্যায়ে সংগঠনের কন্ট্রোলার অঞ্জন ভট্টাচার্য এবং ট্রেজারার তাপস মালো উপস্থিত সকলের মাঝে সংগঠনের বিগত অর্থবছরের সকল হিসাব নিকাশ তুলে ধরেন। পরিশেষে, সকলের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে অনুষ্ঠানের শুভ সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ