বঙ্গবন্ধু নাট্যগ্রন্থ পাঠ্যপুস্তক হিসেবে অন্তর্ভূক্তির অনুরোধ সহ নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রীকে গ্রন্থের কপি প্রদান
নিউইয়র্ক : নিউইয়র্ক সফররত গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ এর সঙ্গে গত ৮ জুন সাক্ষাৎ করেন নাট্যকার খান শওকত। মন্ত্রীর পরামর্শে তিনি একটি আবেদনপত্র এবং বঙ্গবন্ধু নাট্যগ্রন্থের কপি জমা দেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ঘটনা নিয়ে খান শওকত রচনা করেছেন ঐতিহাসিক নাট্য গ্রন্থ: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। এ গ্রন্থখানিকে বাংলাদেশের স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্যপুস্তক হিসেবে অন্তর্ভূত্তির অুনরোধ জানিয়ে তিনি আবেদন পত্র এবং গ্রন্থের কপি মন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।
আবেদনে তিনি বলেন, বাংলা সাহিত্যে প্রায় সকল বিষয় নিয়ে প্রচুর নাট্যগ্রন্থ রয়েছে। কিšুÍ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে তথ্যভিত্তিক নাটক বা ডকুড্রামা একেবারেই অপ্রতুল। মঞ্চে পারমন্সের মাধ্যমে কোমলমতী ছাত্র-ছাত্রীদের মনের ভেতর যেভাবে যত দ্রুত একটি ধারনা গড়ে দেয়া যায়, অন্যকোন মাধ্যমে তা এত দ্রুত এবং স্থায়ীভাবে কাজ করে না। এজন্যে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং বাঙ্গালী জাতির মুক্তিদাতা হিসেবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জীবনী প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মনের ভেতর দৃঢ়ভাবে স্থান করে নিতে নাট্যগ্রন্থ’ প্রকাশের (এবং চলচ্চিত্র নির্মানের) ব্যবস্থা গ্রহন করা প্রয়োজন। এমন একটি উপযোগী নাট্যগ্রন্থ: “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব”।
তিনি বলেন, আমি (খান শওকত) অত্যন্ত আন্তরিকতা দিয়ে ১৯৯৪ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত গবেষনার মাধ্যমে এ নাট্যগ্রন্থ’টি রচনা করেছি। এই গ্রন্থে বঙ্গবন্ধুর বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং ’৭১ উত্তর বাংলাদেশের পরিস্থিতি ছাড়াও তুলে ধরা হয়েছে:- ১৯৭১ এর ২৬ শে মার্চ কে স্বাধীনতার ঘোষনা দেন তার ৫০ টি আšতর্জাতিক প্রমাণ, ১৯৭১-এর ২৫ শে মার্চে বিশ্বসেরা গণহত্যা বিষয়ে সি.আই.এ-র গোপন রিপোর্ট, ১৯৭১ এর ৪ঠা সেপ্টেম্বরে পাকি¯তান সরকারের আদেশে পাক-সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে রাজাকার আলবদর এবং আল শামস বাহিনীতে নিয়োগ প্রসঙ্গ, ১৯৭১ এর ১০ এপ্রিলে গঠিত মুজিবনগর সরকার ও স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র প্রসঙ্গ, ১৯৭২ এর ৪ঠা নভেম্বরে প্রণীত বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান প্রসঙ্গ, ১৯৭২ সালে রেডক্রসের জরীপে মুক্তিযুদ্ধকালীন এদেশের ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান প্রসঙ্গ, সিমলা চুক্তি (১৯৭২) এবং ত্রিদেশীয় চুক্তি (১৯৭৪) মোতাবেক ঃ পরাজিত ৯৩,০০০ পাক-সেনার মুক্তির বিনিময়ে পাকিস্তানে আটক ৭০,০০০ বাঙ্গালী সেনা-সহ মোট ৪ লক্ষ বাঙ্গালীর মুক্তি প্রসঙ্গ, বঙ্গবন্ধু সরকার কর্তৃক ৪৪ জন শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর নাগরিকত্ব বাতিল প্রসঙ্গ, ১৯৭২ সালে যুদ্ধাপরাধী তালিকা থেকে ১৯৫ জন পাকিস্তানীর নাম প্রত্যাহার প্রসঙ্গ, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ১৯৭২ সালের বিশেষ অধ্যাদেশ (নং-৮, ১৯৭২) জারি এবং ১৯৭৩ সালের দালাল আইন (নং-১৯, ১৯৭৩) প্রসঙ্গ, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ষড়যন্ত্র এবং বেনিফিসিয়ারীদের ভুমিকা প্রসঙ্গ, ১৯৭২ সালে রক্ষী বাহিনী গঠন ও ১৯৭৫ সালে বাকশাল প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গ, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাত্র ৯ ঘন্টা পর বংলাদেশকে স্বীকৃতি দিল কোন দেশ এবং কেন? ১৯৭৫ এর ২৪ আগষ্টে খন্দকার মোশতাক কাকে সেনা প্রধান করেন এবং কেন? ১৯৭৫ এর ২৬ সেপ্টেম্বর এ ঘোষিত কুখ্যাত ইনডেমনিটি বিল প্রসঙ্গ, ১৯৭৫ এর ৩রা নভেম্বরে জেলখানার অভ্যšতরে জাতীয় ৪ নেতাকে হত্যার প্রসঙ্গ, খন্দকার মোশতাক কার অনুরোধে এবং কেন এই হত্যাকান্ডে জড়ালো, মেজর নূর কার বুকে গুলি করে এবং কেন, বঙ্গবন্ধুর মৃতদেহে কতটি বুলেটের চিহ্ন ছিল, তাকে ঢাকায় দাফন না করার আসল উদ্দেশ্য প্রসঙ্গ, ১৯৭৫ এর ১৫ই আগষ্ট-এর নারকীয় হত্যাকান্ডের দৃশ্য, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৯৭৫ এর ২৯ ডিসেম্বরে বিশেষ অধ্যাদেশ (ঞযব ইধহমষধফবংয ঈড়ষষধনড়ৎধঃড়ৎং ঝঢ়বপরধষ ঞৎরনঁহধষং- জবঢ়বধষ ঙৎফরহধহপব) জারি করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধের প্রসঙ্গ, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৯৭৬ এর ডিসেম্বরে পাবলিক সার্ভিস অর্ডিন্যান্স (নং-০৩, ১৯৭৬) জারি করে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার প্রসঙ্গ, সংবিধানের ১২২ নং অনুচ্ছেদ তুলে দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেয়ার প্রসঙ্গ, সংবিধানের ৮নং অনুচ্ছেদ সংশোধন করে ধর্ম-নিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র ও বাঙালী জাতীয়তাবাদ বাদ দেয়া এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ, ১৯৭১ এর ৭ মার্চে দেয়া বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, বঙ্গবন্ধুর হত্যার মামলা-বিচার-রায় ১২ খুনীর তালিকা ও তাদের স্থায়ী ঠিকানা, বাংলাদেশ নিয়ে বঙ্গবন্ধুর কি স্বপ্ন ছিল, বঙ্গবন্ধু উত্তর বাংলাদেশ এবং অনেক অজানা তথ্য। এসব বিষয়াদি আজকের প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য জানা খুবই জরুরী।
এবছর (২০১৬ সালে) ঢাকার শিখা প্রকাশনী (৩৮/২ক, বাংলা বাজার, ফোন: ০১৭৭৫৪৮৮৯৪৪) থেকে গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে। এর দৃশ্য সংখ্যা ১০টি, পৃ: ১৫২, ১০ ফর্মা। আমি এটি উৎসর্গ করেছি ডিজিটাল বাংলাদেশের সফল রূপকার সজিব ওয়াজেদ জয়-কে। এ গ্রন্থের মুখবন্ধ লিখেছেন বঙ্গবন্ধু গবেষক, বিদগ্ধ লেখক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্য-ব্যক্তিত্ব জামালউদ্দীন হোসেন এবং বিশিষ্ট নাট্য-ব্যক্তিত্ব ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর (এম.পি)।
আবেদনে তিনি বলেন, আপনাদের পক্ষ থেকে যদি এটি পুণ: প্রকাশ করে:- দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়, সকল মহাবিদ্যালয়, সকল উচ্চ বিদ্যালয়, সকল এন.জি.ও, সকল প্রেসক্লাব, সকল তরুন সংঘ, সকল নাট্য সংগঠন, শিল্পকলা একাডেমির সকল শাখা, সকল জেলা প্রশাসক, সকল উপজেলা প্রশাসক, সকল ইউনিয়ন পরিষদ এবং সাংস্কৃতিক জোটভূক্ত সকল শাখাকে যদি অন্তত ৪/৫ খানা করে বই সৌজন্য কপি হিসেবে বিতরন করা যায়, তাহলে এটি সর্ব-সাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে। এরপর এ গ্রন্থটিকে যদি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তক হিসেবে অন্তর্ভূক্তি করা যায়, তাহলে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জীবনী ও ইতিহাস প্রচারে এটি ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। এত-বই প্রকাশের মত অর্থ আমার নেই, যদি আপনাদের পক্ষে উদ্যোগ নেয়া হয় তাহলেই সম্ভব। তাই ঐতিহাসিক মঞ্চ নাটক- “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব”- গ্রন্থখানিকে প্রকাশের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আপনার সমীপে সবিনয়ে আবেদন করছি।
শিক্ষামন্ত্রী জানান যথাযত কর্তপক্ষের কাছে এ গ্রন্থখানিকে পাঠ্যপুস্তক হিসেবে অন্তর্ভূত্তির বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা হবে।
- নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান
- জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর
- নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত
- নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ
- New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners
- এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ
- নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া