Sunday, 1 November 2026 |
শিরোনাম
দুই তরুণী রোগীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ; নিউইয়র্কে বাংলাদেশি-আমেরিকান চিকিৎসক ডা. ফজলুল ইউসুফ গ্রেপ্তার, জামিনে মুক্ত বাংলাদেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধার প্রতিবাদ, ‘শিখা অনির্বাণ’ প্রজ্জ্বলিত রাখার দাবি নিউইয়র্কে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সব পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ জরুরি: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির প্রচার সম্পাদক রিজুর পিতার ইন্তেকাল যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারি ফের স্থগিত, নিম্ন আদালতের আদেশে আপিল আদালতের বাধা যুক্তরাষ্ট্রে ডেলাইট সেভিং টাইমের অবসান, ১ নভেম্বর ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছাবে নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্‌যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ
সব ক্যাটাগরি

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের টাউন হল মিটিংয়ে পুলিশ কমিশনার : সন্দেহজনক আচার আচরণকে লক্ষ্য করেই নজরদারি করা হয়

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 19 বার

প্রকাশিত: June 10, 2017 | 12:44 AM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক,নিউইয়র্ক : নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ (এনওয়াইপিডি) কমিশনার জেমস পি ওনেইল বলেছেন, হেইট ক্রাইমসহ কমিউনিটিতে অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধীদের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য পুলিশ বাহিনী অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করছে নিউইয়র্ক সিটি সব মানুষের নিরাপদ আবাসস্থল। আর এই সিটিতে নিরাপদ রাখা সম্ভব হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সব কমিউনিটির সম্পৃক্ততার কারণে। নিউইয়র্কে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ সদস্যদের সংগঠন বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) দ্বিতীয় বার্ষিক টাউন হল মিটিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। স্থানীয় সময় সোমবার বিকালে নিউইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসের বেলাজিনো পার্টি হলে অনুষ্ঠিত এ টাউন হল মিটিংয়ে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা শ্রেণীপেশার মানুষেরা অংশ নেন। পুলিশ কমিশনার বলেন,এনওয়াইপিডি কখনো কোন ব্যক্তির ইমিগ্রেশন স্ট্র্যাটাস নিয়ে প্রশ্ন করে না। কে বৈধ আর কে অবৈধ তা নির্ধারণের দায়িত্ব নিউইয়র্ক পুলিশের নয়। এমনকি যাদের বৈধ কাগজপত্র নেই তাদের বিষয়ে কোন ধরনের তথ্য ফেডারেল সরকারকে সরবরাহ করতেও বাধ্য নয় নিউইয়র্ক পুলিশ। নিউইয়র্ক সিটির আ্ইনশৃঙ্খলা রক্ষায় শুধু এনওয়াইপিডি নয়, সব ধরনের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কাজ করছে।
বাপা’র এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কে মূলধারা, বিশেষ করে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের সঙ্গে বাংলাদেশি কমিউনিটির এক ধরনের সরাসরি যোগসূত্র স্থাপিত হলো। ইমিগ্রেশন ও হেইট ক্রাইমসহ নানান বিষয়ে প্রবাসীরা পুলিশ কমিশনারের কাছ থেকে সরাসরি তথ্য জানার সুযোগ পেলেন।
বাপা’র প্রেসিডেন্ট সার্জেন্ট সুমন সাঈদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবীরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. শামীম আহসান, ১১৫ প্রিসিঙ্কটের কমান্ডিং অফিসার ইন্সপেক্টর মিশেল ইরিজারি, কুইন্স বরোর (নর্থ) কমান্ডিং অফিসার ও অ্যাসিস্ট্যান্ট চিফ জুয়ানিতা হোমস, কুইন্স বরোর (সাউথ) কমান্ডিং অফিসার ও অ্যাস্ট্যিান্ট চিফ ডেভিড বেরিরি, হেইট ক্রাইম টাস্ক ফোর্সের ক্যাপ্টেন ও ডেপুটি ইন্সপেক্টর মার্ক সি. মলিনারি, বাপা’র ভাইস প্রেসিডেন্ট লে. শামসুল হক প্রমুখ। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাপা’র ভাইস প্রেসিডেন্ট লে. সুজাত খান, মিডিয়া লিয়াঁজো সার্জেন্ট প্রিন্স আলম, ট্রাস্টি ডিটেকটিভ জামিল সারোয়ার জনি, পুলিশ অফিসার সরদার মামুন, পুলিশ অফিসার আব্দুল লতিফ, পুলিশ অফিসার মোল্লা সাঈদ, পুলিশ অফিসার মাহবুব রহমান প্রমুখ।
পুলিশ কমিশনার বলেন, নিউইয়র্ক সিটির সাড়ে ৮ মিলিয়ন বাসিন্দার নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ বাহিনী বরাবরই আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। নিউইয়র্ক পুলিশ সদস্যদের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে অপরাধ দমন করা এবং তা নিয়ন্ত্রণে রাখা। এতো বড় সিটির শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হলে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। এজন্য তাদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। পুলিশ বাহিনী কমিউনিটির সাধারণ মানুষের হয়েই তাদের সেবা নিশ্চিত করতে চায় বলে মন্তব্য করেন পুলিশ কমিশনার জেমস।অনুষ্ঠানে ইমিগ্রেশন ও হেইট ক্রাইম থেকে শুরু করে গৃহবিবাদ সংক্রান্ত নানা প্রশ্ন ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন প্রবাসীরা। পুলিশ কমিশনার জেমস ও’নিল তাদের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেন। নিউইয়র্ক সিটিজুড়ে আরো বেশী বাংলা ভাষাভাষি পুলিশ অফিসার নিয়োগের আহ্বান জানান কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ। পুলিশ কমিশনার এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, আমরা ভবিষ্যতে ভিন্ন ভাষাভাষি পুলিশ অফিসারের সংখ্যা আরো বাড়াবো এবং এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যদি কেউ তার মাতৃভাষার মাধ্যমে সেবা পায়।
অনুষ্ঠানে আনডকুমেন্টেড ইমিগ্র্যান্টদের নিয়ে প্রশ্ন করা হয় পুলিশ কমিশনারকে। যদি বৈধ কাগজপত্রহীন কাউকে গ্রেপ্তার করা হয় তাহলে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে তার ইমিগ্রেশন সার্ভিসকে জানাবে কী না? উত্তরে জেমস ও’নিল বলেন, ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত আইন প্রয়োগ করা নিউইয়র্ক পুলিশের কাজ নয়। অপরাধে জড়িত বা সাক্ষ্য প্রদানকারী কাউকে আমরা তার ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস সম্পর্কে প্রশ্ন করি না।
নিউইয়র্ক সিটিতে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা থেকে রক্ষা করতে পুলিশ বিভাগে কী পদক্ষেপ নিয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কমিশনার বলেন, নিউইয়র্ক পুলিশ, এফবিআই এবং নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত জয়েন্ট টেরোরিজম ট্রাস্কফোর্স প্রতিনিয়ত বিভিন্ন হুমকিগুলো পর্যবেক্ষণ করছে শহরকে সুরক্ষা দেবার জন্য। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে এখনো মুসলমানদের ওপর নজরদারি চালু আছে কী না, এই প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কমিশনার বলেন, মুসলিম সার্ভিলেন্স নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে এখন চালু নেই। বিশেষ কোনো কারণ ছাড়া পুলিশ তদন্ত শুরু করে না। এমনকী পুলিশ কোনো মসজিদকে লক্ষ্য করে না। তবে সন্দেহজনক আচার আচরণকে লক্ষ্য করেই নজরদারি করা হয়।
ধর্মের নামে বিশ্বব্যাপী যে সন্ত্রাসী হামলা হচ্ছে তার কারণে সাধারণ মুসলমানরা হেইট ক্রাইমের শিকার হচ্ছে। অনুষ্ঠানে হেইট ক্রাইম প্রতিরোধেপুলিশ বিভাগের দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা ব্যক্ত করেন পুলিশ কমিশনার। তিনি বলেন, এই শহরে সবাই নিরাপদ।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সার্জেন্ট সুমন সাঈদ বলেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের কমিউনিটিকে অনেক সহায়তা করতে পারবো। কারণ নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের সহায়তা করার মত অনেক উপায় রয়েছে।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. শামীম আহসান নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের সততা ও শান্তিপ্রিয়তার কথা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশিরা এখানে কঠোর পরিশ্রম করছেন। তারা এ দেশের আইন মেনে চলছেন। যা দৃষ্টান স্থাপন করেছে।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ