
বাসে করে দূরের কোনো পথে যারা রওনা হন তাদের অনেকেই একটু ফুরসত পেলে চোখ রাখেন চালকের দিকে। উদ্দেশ্য, ড্রাইভার কি জেগে আছেন না কি ঘুমের ঘোরে গাড়ি চালাচ্ছেন এটা নিশ্চিত হওয়া। কিন্তু আকাশপথে যারা মাইলের পর মাইল পাড়ি দেন তাদের এমন সুযোগ মেলে না। তাই ককপিটে বসা পাইলটের ওপর আস্থা রেখেই বরং নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়েন তারা। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপীয় পাইলটদের উড্ডয়নসূচি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক আর তাতে আগুনে ঘি ঢালার মতো একটি জরিপ আকাশপথের যাত্রীদেরকেও নড়েচড়ে ওঠার তাগিদ দিচ্ছে। ব্রিটিশ পাইলটদের উড্ডয়নসীমা বাড়ানো নিয়ে চলতে থাকা বিতর্কের মাঝে চমকে যাওয়ার মতো এই জরিপটি প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ এয়ারলাইন এসোসিয়েশন বা বেলপা। তাদের দাবি, ৫০০টি বাণিজ্যিক ফ্লাইটের পাইলটদের নিয়ে পরিচালিত এক জরিপে শতকরা ৫৬ ভাগই মধ্যপথে ঘুমিয়ে পড়ার কথা স্বীকার করেছেন। এমনকি বিমানের নিয়ন্ত্রণ স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা অটো-পাইলটের ওপর ন্যস্ত করে এভাবে ঘুমানোর সময় প্রতি তিনজন পাইলটের একজন ঘুম ভাঙার পর তাদের সহকারী পাইলট বা কো-পাইলটকেও ঘুমন্ত অবস্থায় পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু আকাশ নিরাপত্তার পথে আঁতকে ওঠার মতো এই তথ্যের বিপরীতে হেঁটেই ইউরোপীয় পার্লামেন্টে গত সোমবার পাইলটদের নতুন উড্ডয়নসূচি নিয়ে আলোচনা করার কথা ছিল। প্রস্তাবিত এই নিয়ম ব্রিটিশ নিরাপত্তা মানে ‘পানি ঢেলে দেবে’ উল্লেখ করে বেলপা’র সদস্যরা জানিয়েছেন প্রচলিত ৯৫ ঘণ্টা উড্ডয়নসীমা (দুই সপ্তাহে) ভেঙে সেটিকে সর্বোচ্চ ১১০ ঘণ্টায় নির্ধারণ করা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর দিকে গড়াবে। এ ছাড়া এতে করে রাতে একটানা সর্বোচ্চ ১০ ঘণ্টার পরিবর্তে নতুন নিয়মে পা্ইলটদের আরও এক ঘণ্টা অতিরিক্ত উড্ডয়ন করতে হতে পারে। এ ছাড়া বর্তমানে যেখানে পাইলটদেরকে ছুটির দিনে কোনো ধরনের ফ্লাইটের প্রয়োজনেই ডাকা হয় না সেখানে নতুন নিয়মে প্রয়োজনে ছুটি ভেঙেও পাইলটদের তলব করার বিধান রয়েছে। বলা বাহুল্য, এই বিষয়টিতে যারপর নাই ক্ষুদ্ধ বেলপার সদস্যদের প্রতিক্রিয়া উঠে এসেছে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জিম ম্যাকঅসলানের বক্তব্যে। গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে যিনি বলেন, ‘ক্লান্তির বিষয়টি ইতোমধ্যেই পাইলটদের জন্য বড় একটি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রস্তাবিত অবৈজ্ঞানিক নিয়মগুলো শুধুমাত্র ক্লান্তির মাত্রা আরও বাড়িয়েই তুলবে না বরং একইসাথে আকাশ নিরাপত্তার ব্রিটিশ মানকেও প্রশ্নবিদ্ধ করবে। আর পাইলটের ক্লান্তি যে পক্ষান্তরে বিমান দুর্ঘটনার বড় একটি কারণ সেটি ইতোমধ্যেই প্রমাণিত।’ইত্তেফাক