যুক্তরাষ্ট্রে ৭ মুসলিম দেশের অভিবাসী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে বিমানবন্দরে বিক্ষোভ : প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসী নিষেধাজ্ঞা সাময়িক স্থগিত করল আদালত
রাশিদ রিয়াজ: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা ৭ মুসলিম দেশের অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা সাময়িক স্থগিত করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় একটি আদালত। যুক্তরাষ্ট্রের জেলা জজ এ্যান ডোনেলি এ আদেশ দেন। যাদের কাছে বৈধ ভিসা রয়েছে তা কার্যকর রাখার নির্দেশ দেন তিনি।
দি আমেরিকান সিভিল লিবার্টিস ইউনিয়ন ট্রাম্পের অভিবাসী নিয়ে সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মামলা করলে নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালত এ স্থগিতাদেশ দেন। এর ফলে ট্রাম্পের ওই নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়ন আপাতত স্থগিত থাকবে। অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করে এমন একটি প্রতিষ্ঠান ইমিগ্রান্টস রাইটস প্রোজেক্টের ডেপুটি লিগ্যাল ডিরেক্টর লি গেলের্ন্ট আদালতে বিমানবন্দরে আটক শরণার্থীদের ব্যাপারে শুনানিতে অংশ নেন। এসময় আদালতের বাইরে অভিবাসীদের পক্ষে বিক্ষোভকারীরা সেøাগান দিচ্ছিলেন। লি গেলের্ন্ট আদালতকে জানান, বিমানবন্দরে আটকের পর কোনো কোনো শরণার্থীকে পুনরায় বিমানে ফেরতের চেষ্টা চলছে।
৭ মুসলিম দেশের অভিবাসীদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর ট্রাম্প ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, এ নিষেধাজ্ঞা চমৎকারভাবে কাজ করবে। বিমানবন্দর থেকে সবখানেই তা বাস্তবায়িত হবে।
অবশ্য শনিবার ট্রাম্প বলেন, এ নিষেধাজ্ঞা মুসলিমদের বিরুদ্ধে নয়।
আগামী ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে এ বিষয়টি নিয়ে ফের আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে সিরিয়া, ইরান, ইরাক, লিবিয়া, সোমালিয়া, ইয়েমেন ও সুদান -এই সাতটি দেশের নাগরিকদের আগামী তিন মাস কোনো ভিসা না দেওয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে আগমনে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
এধরনের নির্দেশনার নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে ১১ জন শরণার্থীকে আটকের ঘটনা ঘটে। প্রায় ২’শ জন শরণার্থীকে এভাবে আটকের পর আদালত তাদের আটকের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ দেয়। এর পাশাপাশি বিমানবন্দরটির সামনে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়ে আটককৃত শরণার্থীদের মুক্তির দাবিতে সেøাগান দিতে থাকেন। বিভিন্ন বিমানবন্দরে এর প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিক্ষোভকারীরা এসময় শ্লোগান দিতে থাকে, ‘নো হেট নো ফিয়ার, রিফুইজিস আর ওয়েলকাম হেয়ার’।
নিউইয়র্কের বিমানবন্দরে যে এগারোজনকে আটক করা হয়েছে তারা ততক্ষণে ট্রানজিটে পৌঁছে গিয়েছিলেন, এবং সেখানেই তাদের আটক করা হয়। যদিও আটকের সংখ্যাটি খুব বড় নয় কিন্তু এই নির্দেশনার ফলে বহু মানুষের ওপর প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শনিবারই ইরাকের ৫ জন এবং ইয়েমেনের একজন নাগরিককে কায়রোর এক বিমান বন্দরে বৈধ ভিসা থাকা সত্বেও আমেরিকাগামী বিমানে উঠতে দেয়া হয়নি।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই নির্দেশনা আসার পর মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বিরোধিতা ও সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে তাকে।
কয়েকজন মার্কিন আইনজীবী নতুন বিধিনিষেধগুলোর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
মি: ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুসারে, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সিরিয়া থেকে পালানো মানুষদের যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এর ফলে এইসব দেশ থেকে আসা যাদের বৈধ ভিসা রয়েছে তাদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।
যাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে তাদের ক্ষেত্রেও এই কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে।
অর্থাৎ কোনও ব্রিটিশ নাগরিক যদি একই সঙ্গে ইরাকেরও নাগরিক হন, তবে তিনি আমেরিকায় ঢুকতে পারবেন না। মি: ট্রাম্পের ভাষায়, ‘উগ্র ইসলামী সন্ত্রাসীদের আমেরিকায় ঢোকা’ বন্ধ করতেই এ পদক্ষেপ।আমাদের সময়.কম
আমেরিকায় মুসলিম অভিবাসী প্রবেশ নিষিদ্ধ: বিমানবন্দরে বিক্ষোভ
কামরুল আহসান : সাতটি দেশের মুসলিম অভিবাসীদের আমেরিকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই নির্দেশ জারি হওয়ার পর শুক্রবার রাতে দুজন ইরাকি মুসলিম অভিবাসীকে জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হয়। তারপর শনিবার সারাদিন ধরে কেনেডি বিমানবন্দরে বিক্ষোভ শুরু হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেয় শত শত মানুষ। তাদের বিক্ষোভের মুখে বিকেলে আটকে ইরাকি অভিবাসী দুজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু আন্দোলন চলছে। আন্দোলনকারীদের দাবি এই আইন বাতিল করতে হবে। এটা স্পষ্ট বিভাজন রেখা তৈরি করা।
নানা দেশের অধিবাসীদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দিয়েছে নিউইয়র্কের ট্যাক্সি ড্রাইভাররা। কারণ, তারা বেশির ভাগই অভিবাসী। তাদের বক্তব্য, আমাদের বন্ধুদের এখানে ঢুকতে দিন। অভিবাসীদের এখানে স্বাগতম। কোনো ভয় নেই, ঘৃণা নেই। নো ব্যান, নো ওয়াল প্লেকার্ড লিখে বুকে ঝুলিয়ে তারা স্লোগান দিচ্ছেন। নিউইয়র্ক ট্যাক্সি ড্রাইভারদের সংগঠন এফটি এই আন্দোলনের সঙ্গে যোগ দিয়েছে।
সংগঠনের একজন মুখপাত্র জানান, আমাদের সংগঠনের ১৯ হাজার সদস্য নৈতিকভাবে এই আন্দোলনকে সমর্থন করছে। কারণ এখানে যারা ট্যাক্সি চালায় তাদের বেশির ভাগই অভিবাসী মুসলিম। যাই ঘটুক, আমরা এক সঙ্গে থাকবো। কেনেডি বিমানবন্দরের চার নাম্বার টার্মিনাল থেকে সমস্ত ট্যাক্সি ড্রাইভার ত্যাগ করেছে। এই আইন উঠিয়ে নেয়ার আগ পর্যন্ত তারা কোনো যাত্রী বহন করবে না। পিক্স টু নিউজ,
- শান্তি প্রতিষ্ঠায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সব পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ জরুরি: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির প্রচার সম্পাদক রিজুর পিতার ইন্তেকাল
- যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারি ফের স্থগিত, নিম্ন আদালতের আদেশে আপিল আদালতের বাধা
- যুক্তরাষ্ট্রে ডেলাইট সেভিং টাইমের অবসান, ১ নভেম্বর ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছাবে
- নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান
- জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর
- নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত
- নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ