Saturday, 31 October 2026 |
শিরোনাম
শান্তি প্রতিষ্ঠায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সব পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ জরুরি: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির প্রচার সম্পাদক রিজুর পিতার ইন্তেকাল যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারি ফের স্থগিত, নিম্ন আদালতের আদেশে আপিল আদালতের বাধা যুক্তরাষ্ট্রে ডেলাইট সেভিং টাইমের অবসান, ১ নভেম্বর ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছাবে নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্‌যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো
সব ক্যাটাগরি

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগামী ১০০দিনে যা করবেন : শুরুতে ওবামা কেয়ার বাতিলে নির্বাহী আদেশে সই

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 143 বার

প্রকাশিত: January 21, 2017 | 7:48 AM

খরাশিদ রিয়াজ: যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার শাসনামল শুরুর ১০০ দিনে ৭টি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিবেন। এ সাতটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মধ্যে ৫ নম্বরটি অর্থাৎ ওবামা কেয়ার বাতিলে ইতিমধ্যে তিনি নির্বাহী আদেশ দিয়ে সই করেছেন। ফলে স্বাস্থ্য খাতে ওবামা প্রশাসন যে বিরাট এক ভর্তুকি দিত তা প্রত্যাহারে মার্কিন নাগরিকদের এখন এখাতে পকেট থেকে প্রায় দ্বিগুণ অর্থ খরচ করতে হবে। একই সঙ্গে ২০২৬ সাল নাগাদ প্রায় ৩২ মিলিয়ন নাগরিক স্বাস্থ্য বিমার বাইরে চলে যাবে। ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড মিরর বলছে যে ৭টি বিষয় ট্রাম্পের কাছে প্রাধান্য পাচ্ছে সেগুলো হচ্ছে, অভিবাসী, বৈদেশিক নীতি, বাণিজ্য, জালানি ও পরিবেশ, ওবামা কেয়ার, গোয়েন্দা সংস্থা ও ওয়াশিংটন রিফর্ম। তুমুল বিতর্ক থাকলেও ইতিমধ্যে ‘প্রথম রাতেই বিড়াল মারার’ মত ওবামা কেয়ার বাতিল করে দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রকে ফের মহান করে তোলার ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প গত ২৯ এপ্রিল শাসনামল শুরুর প্রথম ১০০দিনের যে কর্মসূচি দিয়ে রেখেছেন সেগুলো সম্পর্কে বলা যায়, অভিবাসী প্রসঙ্গ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অনেক বিদেশি নাগরিককে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। ট্রাম্প বলেছেন, প্রথমেই সহজ একটি কাজ শুরু করব এবং তা হচ্ছে মেক্সিকো সীমান্তে ৪০ফুট উঁচু দেওয়াল নির্মাণ। সীমান্ত নিরাপত্তা হিসেবে এটি করবেন তিনি। তবে এ কাজে কংগ্রেসের অনুমোদন সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।

দ্বিতীয় গুরুত্¦পূর্ণ কাজ হিসেবে বৈদেশিক নীতিতে ন্যাটো জোটের সদস্য রাষ্ট্রগুলো যদি তার বাধ্যবাধকতা পূরণ না করে তাহলে সে সব দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় তিনি দায়িত্ব নেবেন না। ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্রগুলো যদি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তায় নিশ্চয়তা না দেয় তাহলে এশিয়া ও ইউরোপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার করে নেবেন ট্রাম্প। আইএস জঙ্গিদের নির্মূলে নরকে বোমা ফেলার অঙ্গীকার করে রেখেছেন তিনি। যদি রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করে তাহলে দেশটির ওপর কোনো অবরোধের প্রয়োজন নেই বলেও আশ্বাস দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প।

তৃতীয়ত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ বাণিজ্য চুক্তি বা টিপিপি বাতিল করবেন ট্রাম্প। যে ১২টি দেশ টিপিপি’এর অধীনে রয়েছে তারা বিশ্ব অর্থনীতির ৪০ ভাগ নিয়ন্ত্রণ করে। এসব দেশে জনসংখ্যা হচ্ছে ৮’শ মিলিয়ন। ইউরোপিয় ইউনিয়নে জনসংখ্যার চেয়ে তা দ্বিগুণ এবং একটি একক বাজার। ‘ব্রেক্সিট’কে দারুণ জিনিষ হিসেবে অভিহিত করে আগামী কয়েক সপ্তাহে দ্রুত কয়েকটি চুক্তি করবেন ট্রাম্প তা স্বাভাবিকভাবে আশা করা যায়। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’এর আমন্ত্রণ অনুযায়ী খুব শীঘ্রই তার সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ট্রাম্প।

পরিবেশ সম্পর্কে নির্বাচনী প্রচারণায় এক্ষেত্রে যে সীমাবদ্ধতা রয়েছে তা হ্রাস করবেন এমন আশ্বাস দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। জালানি খাতে ব্যাপক ভিত্তিক কর্মসংস্থানের সূচনা করবেন ট্রাম্প। ঐতিহাসিক প্যারিস চুক্তি বাতিল করবেন ট্রাম্প যা তার একাধিক নির্বাচনী ওয়াদার অন্যতম।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা হিসেবে এফবিআই ও সিআইএ’তে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও নির্ভরতা কমাবেন ট্রাম্প। ফলে এধরনের গোয়েন্দা সংস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসছে বলেই অনেকে ধারণা করছেন। ভার্জিনিয়ায় সিআইএ’র সদর দফতর থেকে অনেক লোকবল কমিয়ে তা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিয়োগ দেবেন এমন পরিকল্পনা রয়েছে ট্রাম্পের। অফিস অফ দি ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স ‘স্ফীত ও রাজনৈতিক’ বলে সেখানেও পরিবর্তন আনা হবে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালককে পরিবর্তন করা হবে শিগগির।

ওয়াশিংট রিফর্ম বা এধরনের সংস্কারে লবিষ্ট নিয়োগে পরিবর্তন আনতে চান ট্রাম্প। সরকারি কর্মকর্তারা অবসর নেওয়ার পর অন্তত ৫ বছর পর্যন্ত লবিষ্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না এমনটাই পক্ষপাতি তিনি। এধরনের লবিষ্ট নির্ভর প্রশাসনের ব্যাপক পরিবর্তন আনবেন ট্রাম্প।

অভিষেক অনুষ্ঠানে সাবেক কোটিপতি ব্যবসায়ী, সাবেক রিয়ালিটি টিভি স্টার ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি দিন রাত চব্বিশ ঘন্টাই কাজ করবেন ও নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে আমূল পরিবর্তন আনবেন। ‘রিজোলিউট ডেস্ক’ অর্থাৎ সাহসীকতাপূর্ণ ডেস্ক হিসেবে পরিচিত সেই টেবিলে বসে ট্রাম্প তার কাছে দেওয়া সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার একটি চিঠি একাকি পড়ে দেখেন। নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ শুরু করার আগে সাবেক প্রেসিডেন্টের একটি বার্তা পড়ে নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রে ঐতিহ্য হিসেবে অনুকরণীয় হয়ে আছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট অর্থাৎ ৫ মাস বাকি রয়েছে ট্রাম্পের ৭১ বয়সে পা দেওয়ার। যখন অধিকাংশ নেতা শাসনমলের শুরুতে ১’শ দিনের কর্মসূচি প্রণয়নে মনোযোগী হন তখন অভিষেক অনুষ্ঠান শেষে রাতে ঘুমাবার আগেই ‘আত্মম্ভরি’ হিসেবে পরিচিত ট্রাম্পের প্রথম নির্বাহী আদেশ কাজ করতে শুরু করেছে। নির্বাচনের সময় তিনি বলেছিলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই দক্ষিণ সীমান্তে দুর্ভেদ্য দেওয়াল উঠবে এবং অপরাধের সঙ্গে যুক্ত এমন অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়া হবে। আরিজোনায় ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারণায় বলেছিলেন, প্রথম দিন, অফিসে বসার ১ ঘন্টার মধ্যে অপরাধী অভিবাসীরা চলে যেতে শুরু করবে। স্কুল ও সামরিক ঘাঁটিগুলোতে অস্ত্রমুক্ত এলাকা বাতিল করার কথা বলেছিলেন প্রথম দিনেই। অভিষেক অনুষ্ঠানের পরের দিন সকালে উঠে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা অবশ্যই ট্রাম্পের সেই ওয়াদার কতটুকু পূরণ হয়েছে তা খতিয়ে দেখতে শুরু করবে। মিরর/আমাদের সময়.কম

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ